ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ ইউনিফাইড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন প্লাস (ইউডিআইএসই+) প্রতিবেদনে দেশটির স্কুল শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা উঠে এসেছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সারাদেশে মোট ৪ হাজার ৭৯১টি স্কুল বন্ধ হয়েছে। অর্থাৎ, গড় হিসেবে প্রতিদিন বন্ধ হয়েছে প্রায় ১৩টি স্কুল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্ধ হওয়া স্কুলের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি রয়েছে মধ্যপ্রদেশে। রাজ্যটিতে এক বছরে ২ হাজার ৪২৬টি স্কুল বন্ধ হয়েছে, যা জাতীয় মোটের সবচেয়ে বড় অংশ। এক বছরে কমেছে দেশের মোট স্কুলের সংখ্যা ইউডিআইএসই+ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভারতে মোট স্কুলের সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ ৭১ হাজার ৪৭৩টি। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৬৬ হাজার ৬৮২টিতে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে দেশের মোট স্কুলের সংখ্যা কমেছে ৪ হাজার ৭৯১টি। কোন কোন রাজ্যে সবচেয়ে বেশি স্কুল বন্ধ হয়েছে মধ্যপ্রদেশের পর সবচেয়ে বেশি স্কুল বন্ধ হয়েছে তেলেঙ্গানায়। বিভিন্ন রাজ্যের চিত্র হলো— মধ্যপ্রদেশ: ২,৪২৬টি তেলেঙ্গানা: ১,৩৯২টি পশ্চিমবঙ্গ: ৫৬৮টি অন্ধ্রপ্রদেশ: ৪৭৪টি তামিলনাড়ু: ৩৬৯টি কর্ণাটক: ২৮১টি হিমাচল প্রদেশ: ২৬৬টি এই পরিসংখ্যান দেখায়, কয়েকটি রাজ্যে স্কুল বন্ধের হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। শিক্ষার্থী কমলেও বেড়েছে স্কুল প্রতিবেদনে আরেকটি উল্লেখযোগ্য প্রবণতা দেখা গেছে। কয়েকটি রাজ্যে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা কমলেও স্কুলের সংখ্যা উল্টো বেড়েছে। এই সময়ে— বিহারে নতুন যুক্ত হয়েছে ৯৪৬টি স্কুল ছত্তিশগড়ে ২৩৪টি দিল্লিতে ৮৭টি অর্থাৎ, শিক্ষার্থী সংখ্যা কমলেও অবকাঠামো সম্প্রসারণের ধারা কিছু রাজ্যে অব্যাহত রয়েছে। ভর্তির সংখ্যায় সবচেয়ে বড় পতন বিহারে নতুন স্কুল যুক্ত হলেও শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে তিনটি রাজ্যেই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী— বিহারে আগের বছরের তুলনায় ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৩৭ জন কম শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। ছত্তিশগড়ে ভর্তি কমেছে ৪৯ হাজার ৪৫৯ জন। দিল্লিতে কমেছে ৪৫ হাজার ২৫০ জন। বিহারেই শিক্ষার্থী ভর্তির পতন সবচেয়ে বেশি। যে প্রশ্নগুলো সামনে আসছে ইউডিআইএসই+ প্রতিবেদনের এই পরিসংখ্যান ভারতের স্কুল শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে, এক বছরে হাজার হাজার স্কুল বন্ধ হওয়ার পেছনে কী কারণ কাজ করেছে, কেন মধ্যপ্রদেশে বন্ধের সংখ্যা অন্য সব রাজ্যের তুলনায় অনেক বেশি, এবং কোথাও শিক্ষার্থী কমলেও নতুন স্কুল কেন যুক্ত হচ্ছে—এসব বিষয় নিয়ে আরও বিশদ নীতিগত বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান স্কুলের সংখ্যা ও শিক্ষার্থী ভর্তির পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরলেও, এসব পরিবর্তনের পেছনের কারণ এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে পৃথক বিশ্লেষণই সামগ্রিক চিত্র স্পষ্ট করতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষককে যৌন হয়রানির মামলায় অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক জিয়াউল হককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পরানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক জিয়াউল হক দীর্ঘদিন ধরে একই বিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষককে আপত্তিকর প্রস্তাব দেওয়া, যৌন হয়রানি এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী শিক্ষক মান্দা থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে অভিযুক্ত শিক্ষক ওই নারী শিক্ষককে বিরক্ত করে আসছিলেন। বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে এলে একটি অভ্যন্তরীণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জিয়াউল হক নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরও একই ধরনের আচরণ অব্যাহত থাকে। মামলার বিবরণে আরও বলা হয়েছে, গত ১০ জুন নবম শ্রেণির একটি ক্লাসে যাওয়ার সময় বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের তৃতীয় তলার বারান্দায় শিক্ষার্থীদের সামনেই ওই নারী শিক্ষকের পথরোধ করেন জিয়াউল হক এবং তাকে হেনস্তা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষককে উদ্ধার করেন। এছাড়া মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে বিদ্যালয়ের সামনেও অভিযুক্ত শিক্ষক ওই নারী শিক্ষককে জুতা দিয়ে মারধরের চেষ্টা করেন। উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয় থেকে সরে যান বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল ওয়াহেদ বলেন, নারী শিক্ষকের দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক জিয়াউল হক আদালতে জামিন চাইলে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তদন্তে যেসব প্রশ্ন সামনে এসেছে ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় এক বছর ধরে হয়রানির অভিযোগ থাকলেও কেন তা প্রাথমিক পর্যায়েই কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি? বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে অভিযুক্তের ক্ষমা চাওয়ার পরও কেন পুনরায় একই ধরনের অভিযোগ ওঠে? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে প্রশাসনিক তদারকি ও জবাবদিহি কতটা নিশ্চিত হচ্ছে? মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগ পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের বড় কালীপুরা গ্রামের সরকারবাড়ি-সংলগ্ন খালের ওপর নির্মিত একটি সেতু নির্মাণের মাত্র দুই বছরের মাথায় দেবে যায়। এরপর বন্যার পানির প্রবল স্রোতে সেতুর নিচের মাটি সরে গিয়ে এর একাংশ ধসে পড়ে। প্রায় ছয় বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে সরকারের প্রায় ৩২ লাখ টাকার একটি অবকাঠামো প্রকল্প কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে এবং স্থানীয় কয়েক শ মানুষকে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বড় কালীপুরা-তনু সরকার কান্দী সড়কের বড় কালীপুরা গ্রাম-সংলগ্ন খালের ওপর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ছিল ৩২ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৬ টাকা। সরেজমিনে যা দেখা গেল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির এক প্রান্ত ওপরে উঠে গেছে এবং অপর প্রান্ত নিচের দিকে দেবে গেছে। বিভিন্ন স্থানে কংক্রিট খসে পড়েছে, বেরিয়ে এসেছে লোহার রড। নিরাপত্তাহীন অবস্থার কারণে সেতুটি দিয়ে মানুষের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি দীর্ঘদিন অচল থাকলেও স্থায়ী সমাধানের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। প্রতিদিনের দুর্ভোগ স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, "ছয় বছর আগে বন্যার সময় সেতুটি ভেঙে যায়। এরপর থেকে আমাদের অনেক পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা হলে এ ভোগান্তির অবসান হবে।" স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সেতুটি অচল হয়ে পড়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং দৈনন্দিন যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই বাড়তি সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বড় কালীপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আছমা আক্তার বলে, "সেতু না থাকায় সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। অনেক ঘুরে যেতে হয়। একটি সেতুর অভাবে পুরো এলাকার মানুষ পিছিয়ে পড়ছে।" স্থানীয়দের মতে, একটি মাত্র সেতুর অচলাবস্থা পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, "স্থানীয় জনগণের যাতায়াতের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সেতুটি নদী-সংলগ্ন এলাকায় হওয়ায় পুনর্নির্মাণের জন্য যথাযথ কারিগরি পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।" তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, নির্মাণের মাত্র দুই বছরের মধ্যে একটি সরকারি সেতু কীভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ল এবং দীর্ঘ ছয় বছরেও কেন কার্যকর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই নরসিংদীর একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে গুরুতর প্রশাসনিক ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় একাধিক পরীক্ষার্থীর হাতে চলতি বছরের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। প্রায় ১৫ মিনিট পর ভুলটি ধরা পড়লে নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হলেও পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, হারিয়ে যাওয়া সময়ের কোনো ক্ষতিপূরণ তারা পাননি। ঘটনার পর কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা দুই শিক্ষককে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্তে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের অধীন নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের সাব-সেন্টারের ২০১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ১৫ মিনিট পর ধরা পড়ে ভুল কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর কিছু শিক্ষার্থী প্রশ্নপত্রে অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, তাদের হাতে চলতি বছরের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে। এরপর নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে পরীক্ষা অব্যাহত রাখা হলেও পরীক্ষার্থীদের দাবি, ভুলের কারণে নষ্ট হওয়া সময়ের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়নি। তবে কোনো শিক্ষার্থীই পরিচয় প্রকাশে রাজি হননি। ওই কক্ষে মোট কতজন পরীক্ষার্থী ছিলেন, তাও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। 'বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর' কেন্দ্রসচিব ও নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ নাছিমা আক্তার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "২০১ নম্বর কক্ষে ভুলবশত পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছিল। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি জানতে পেরে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর।" তিনি জানান, ঘটনার প্রাথমিক দায়ে প্রশ্নপত্র আনা-নেওয়া ও কেন্দ্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অলক কুমার পাল এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত কুমার সাহাকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অধ্যক্ষের ভাষ্য, তদন্ত শেষে লিখিত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের তদন্ত এইচএসসি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে। জেলা প্রশাসক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মু. রাসেদুজ্জামানকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি নিজেই কেন্দ্রে গিয়ে ঘটনাটি যাচাই করেছেন। তার ভাষায়, "ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" কত শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন? জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এস এম আব্দুল খালেক জানান, মূল কেন্দ্রের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী সরকারি মহিলা কলেজের সাব-সেন্টারে পরীক্ষায় অংশ নেন। এদিকে জেলা শিক্ষা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর নরসিংদী জেলায় মাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা মিলিয়ে ৩১টি কেন্দ্রে ১৫ হাজার ১৬৮ জন পরীক্ষার্থী প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিলেন ২১৪ জন। তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে ঘটনাটি শুধু মানবিক ভুল, নাকি প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনায় আরও বড় ধরনের ত্রুটির ইঙ্গিত—তা এখন তদন্তের বিষয়। তদন্তে যেসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে— কেন ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র পরীক্ষাকক্ষে পৌঁছালো? প্রশ্নপত্র গ্রহণ, সংরক্ষণ ও বিতরণের দায়িত্বে কারা ছিলেন? ভুল শনাক্ত হওয়ার পর পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিয়েছিলেন? এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়নে কোনো প্রভাব পড়বে কি না? শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পরিচালনা নির্দেশিকা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না? প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এসব প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক উত্তর মিলতে পারে।
ইত্তেহাদনিউজ,অনলাইন : টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার তালুকদার সিরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জান সেলুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও প্রায় ২৩ বছর ধরে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিজ বাসা থেকেই বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের ইতিহাস ও নিয়োগ স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত হয় তালুকদার সিরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার সময় প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান সেলিমুজ্জান সেলু। ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে যান না বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি নিয়মিত বেতন গ্রহণ করতেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দীর্ঘদিন ধরে পালন করছেন তার বড় ভাই শাহ আলম তালুকদার। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভূমিকা সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, সেলিমুজ্জান সেলু ২০০৩ সালে উপজেলা বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। পরে ২০০৯ সালে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৪ সালের পর থেকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন এবং ছয় মাসের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের কথা থাকলেও তা হয়নি। পরে কমিটির মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং নির্বাচন ছাড়াই তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি একসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, তালুকদার সিরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আচরণবিধি নিয়ে প্রশ্ন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রণীত খসড়া আচরণবিধিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, রাজনৈতিক পদ গ্রহণ কিংবা রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রধান শিক্ষক সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিলে তা অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারেন। এ অবস্থায় একজন সক্রিয় রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সেলিমুজ্জান সেলুর দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। শিক্ষকদের অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, বিশেষ অনুষ্ঠান বা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ছাড়া সেলিমুজ্জান সেলুকে বিদ্যালয়ে খুব কমই দেখা যায়। তাদের একজন বলেন, “বিশেষ প্রোগ্রাম ছাড়া তিনি বিদ্যালয়ে আসেন না। অধিকাংশ দাপ্তরিক কাজ বাসা থেকেই পরিচালনা করেন।” প্রশাসনের বক্তব্য ভূঞাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন, “সেলিমুজ্জান সেলু বিগত সরকার এবং বর্তমান সরকার—উভয় সময়েই প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঈদের ছুটির পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্প্রতি খুলেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একাডেমিক সুপারভাইজারকে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিএনপির অবস্থান ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, “কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান যদি রাজনৈতিক দলের নেতাও হন, তবু তাকে নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা করলে তার দায় দল নেবে না।” শিক্ষক সমিতির বক্তব্য মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির জেলা শাখার একাংশের সভাপতি আব্দুল কাদের বলেন, “ভূঞাপুরের অ্যাডহক কমিটি গঠনের বিষয়ে আমাদের কাছ থেকে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।” অন্যদিকে জেলা শাখার আরেক অংশের সভাপতি শামিম আল মামুন জুয়েল বলেন, “প্রথমে ছয় মাসের জন্য অ্যাডহক কমিটি করা হয়েছিল। পরে মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে নির্বাচন কেন অনুষ্ঠিত হয়নি, সেটি প্রশ্নসাপেক্ষ।” অভিযোগ অস্বীকার অভিযোগের বিষয়ে সেলিমুজ্জান সেলু বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।” মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির কমিটি সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ করে কথা বলার অনুরোধ জানান।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকারি অফিসে ঘুস নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর। তিনি বলেছেন, কোনো অফিসে টাকা/ঘুস দেবেন না। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী টাকা/ঘুস চাইলে তার জায়গা এখানে হবে না। শুক্রবার (৮ মে) বেলা ১১টায় পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় উপজেলার নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দাখিল ও আলিম মাদ্রাসা এবং কলেজের প্রধানরা অংশ নেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিসি সম্মেলনে আমি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ওসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বলেছি, শিক্ষকরা জাতি গঠনের কারিগর। মন্ত্রী-এমপিরাও কোনো না কোনো শিক্ষকের ছাত্র। তাই শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার বিষয়ে প্রশাসনকে আরও সচেতন হতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমার স্ত্রীর অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, ছুটির আবেদন কিংবা বেতন উত্তোলনের মতো সাধারণ কাজেও অনেক সময় কেরানিদের টাকা দিতে হয়। এখন থেকে কোনো অফিসে টাকা দেবেন না। কেউ টাকা চাইলে অভিযোগ করবেন। যে কর্মকর্তা ঘুস চাইবে, তার জায়গা এখানে হবে না। সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- গলাচিপা সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফোরকান কবির, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাফর রানা, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান এবং জেলা যুব অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি মহিবুল্লাহ এনিম।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: এসএসসি পরীক্ষা চলমান।বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারনে জ্বালানী ও বিদ্যুত সংকটের মাঝে বরিশালের জিলা স্কুলের পশ্চিম পাশ্বের মাঠে বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের মেলা পরিপত্র উপেক্ষা করে অবৈধভাবে শুরু হতে যাচ্ছে এ বানিজ্য মেলা। বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের রপ্তানী -৭ শাখা থেকে ২০২৪ সালের ২৩ জুন "মেলা পরিপত্র " জারি করে। মেলা পরিপত্রের ৫ নম্বরে মেলা আয়োজনের শর্তাবলীর অন্যতম হল - কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজন করা যাবেনা। অথচ এস এস সি পরীক্ষার মাঝেই স্কুল মাঠে অবৈধ ভাবে বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের মেলা পরিপত্র উপেক্ষা করে শুরু হতে যাচ্ছে বানিজ্য মেলা। সমাজ সচেতন ও ছাত্র -জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে অবৈধ মেলার আয়োজন দেখে। বরিশালে বানিজ্য মেলার আয়োজক কমিটির নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলাকারী তাদের বিতর্কিত ও সহিংস ভূমিকা রাখা ও জুলাই বিপ্লবের সময় মিরপুরে ছাত্র-জনতার ওপর বর্বরোচিত হামলা পরিচালনাকারী সবুজ হোসেন। মেলার আয়োজক কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য সবুজ হোসেন ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক বিতর্কিত এমপি এবং যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী। জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে মিরপুর-১০ এলাকায় মাইনুল হোসেন নিখিলের প্রত্যক্ষ নির্দেশে সবুজের নেতৃত্বেই ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, শুধু মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থাকাই নয়, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের নিয়মিত অস্ত্র, খাবার ও অর্থের জোগানদাতা হিসেবে সবুজের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা বরিশালে চলমান এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে বাণিজ্য মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের একাংশ অভিযোগ করছেন—সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে এই আয়োজন করা হচ্ছে, যা পরীক্ষার্থীদের জন্য বিরূপ পরিবেশ তৈরি করতে পারে। মাঠ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক মেলার জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বরিশাল জিলা স্কুলের পশ্চিম পাশের মাঠ। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ২৩ জুন জারি করা ‘মেলা পরিপত্র’-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে—কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে বাণিজ্য মেলা আয়োজন করা যাবে না। স্থানীয়দের প্রশ্ন, এই নির্দেশনা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও কীভাবে স্কুল প্রাঙ্গণে মেলার প্রস্তুতি শুরু হলো, বিশেষ করে যখন একই সময়ে এসএসসি পরীক্ষা চলছে। একজন অভিভাবক বলেন, “পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের জন্য শান্ত পরিবেশ সবচেয়ে জরুরি। সেখানে মেলা হলে শব্দ, ভিড়—সবকিছুই তাদের ক্ষতির কারণ হতে পারে।” অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন পরিপত্র অনুযায়ী, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ছাড়া দেশের অন্য কোনো স্থানে মেলা আয়োজন করতে হলে অন্তত দুই মাস আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয়। জেলা পর্যায়ে আয়োজনের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের অনাপত্তিপত্রও বাধ্যতামূলক। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এই প্রক্রিয়াগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ফলে অনুমোদনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আয়োজকদের পরিচয় ও অতীত নিয়ে অভিযোগ মেলার আয়োজক কমিটির পেছনে থাকা সবুজ হোসেন'র ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে মেলার আয়োজক কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য সবুজ হোসেন ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক বিতর্কিত এমপি এবং যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী। জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে মিরপুর-১০ এলাকায় মাইনুল হোসেন নিখিলের প্রত্যক্ষ নির্দেশে সবুজের নেতৃত্বেই ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, শুধু মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থাকাই নয়, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের নিয়মিত অস্ত্র, খাবার ও অর্থের জোগানদাতা হিসেবে সবুজের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন—এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। চেম্বার অব কমার্সের নাম ব্যবহারের অভিযোগ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সবুজ হোসেন দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে ছিলেন। বর্তমানে তিনি ভোল পাল্টে বরিশালে এসে ঘাঁটি গেড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, বরিশাল চেম্বার অব কমার্স এর শীর্ষ কর্তাদের কাছে নিজের পরিচয় গোপন করে সবুজ কৌশল করে বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের নাম ব্যবহার করে বানিজ্য মেলা আয়োজন করতে যাচ্ছে। বরিশালের জিলা স্কুলের মাঠে এই মেলার আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি, একটি শিক্ষাবান্ধব এলাকায় ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের এই চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।। সংশ্লিষ্ট সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না আসায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রতিবাদ মেলার প্রস্তুতি শুরু হওয়ার পর থেকেই এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। কিছু ছাত্র সংগঠন ও স্থানীয় নাগরিক মেলার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একজন ছাত্র প্রতিনিধি বলেন, “যদি নিয়ম ভেঙে এই আয়োজন চালানো হয়, তাহলে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে এর প্রতিবাদ করব।” সরকারি নির্দেশনায় কী আছে ‘মেলা পরিপত্র ২০২৪’-এ আরও যেসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজন নিষিদ্ধ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া বিদেশি শিল্পী অংশ নিতে পারবেন না অবৈধ বা আমদানিনিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি করা যাবে না অশালীন বা অসামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা নিষিদ্ধ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এমন কিছু প্রচার করা যাবে না এছাড়া মেলার ধরন ও সময় অনুযায়ী নির্ধারিত ফি সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা। বিশেষ করে— অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না স্থান নির্বাচন নিয়মসম্মত কি না আয়োজকদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এসব বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। একদিকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, অন্যদিকে সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ—এই দুইয়ের মাঝে পড়ে বরিশালের পরিস্থিতি এখন স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন এখন একটাই: নিয়ম ভেঙে মেলা আয়োজনের অভিযোগ কতটা সত্য, আর প্রশাসন কীভাবে এ পরিস্থিতি সামাল দেয়—সেটিই নির্ধারণ করবে পরবর্তী পরিস্থিতির গতিপথ। বাণিজ্য মেলা করা যাবে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে বাণিজ্য মেলা নিষিদ্ধ ১ জুলাই ২০২৪ থেকে কার্যকর 'মেলা পরিপত্র ২০২৪' অনুযায়ী, দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে বাণিজ্য মেলা বা কোনো ধরনের বাণিজ্যিক প্রদর্শনী আয়োজন করা যাবে না । শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, পড়াশোনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে । তবে, স্থানীয় কৃষ্টি ও সংস্কৃতিভিত্তিক মেলা (যেমন: বইমেলা, বৈশাখী মেলা) এর আওতামুক্ত । মূল নির্দেশনাসমূহ: নিষিদ্ধ স্থান: স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ । সাংস্কৃতিক অনুমতি: কোনো মেলায় বিদেশি শিল্পী বা মডেলের অংশগ্রহণ করতে হলে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগবে । পণ্য ও পরিবেশ: মেলায় কোনো ধরনের অবৈধ, আমদানিনিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি বা অসামাজিক, অশালীন কার্যক্রম চালানো যাবে না । মাশুল (ফি): স্থানীয় পর্যায়ে মেলা আয়োজনের মাশুল দিনভেদে ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত ।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।