ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে পদায়ন ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দুটি হত্যা মামলার আসামি থাকা সত্ত্বেও তার এই পদায়নকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী পরিবার, মানবাধিকারকর্মী এবং রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—গুরুতর অভিযোগের মুখে থাকা একজন কর্মকর্তাকে কীভাবে জেলার শীর্ষ পুলিশ পদে নিয়োগ দেওয়া হলো? গত ৫ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে ফেনীর এসপি হিসেবে পদায়ন করা হয়। এর একদিন পর, ৬ মে, তার পদায়ন বাতিল এবং আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেন নিহত যুবদল নেতার পরিবারের সদস্য সেতাউর রহমান। দীর্ঘদিনের অভিযোগ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মাহবুব আলম খান দীর্ঘদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় বিএনপি-জামায়াতের কর্মসূচিতে বাধা, বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন এবং একাধিক গুম-হত্যার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বদলি হন। সর্বশেষ তিনি সিএমপির ডিবি পশ্চিম জোনের উপ-কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো নতুন করে সামনে আসে। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদালত ও থানায় তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। “বন্দুকযুদ্ধের” আড়ালে হত্যা? দুটি মামলার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিতটি যুবদল কর্মী মিজানুর রহমান হত্যা মামলা। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট ছাত্রদল নেতা সেতাউর রহমানকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে আইনাল হকের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেতাউরকে না পেয়ে তার ভাই মিজানুর রহমানকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুলিশ তাকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে। পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, তারা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি “খোঁজ নেওয়ার” আশ্বাস দেন। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মিজানুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। এজাহারে আরও বলা হয়, মিজানুরকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহযোগিতায় পরিবার ৯ লাখ টাকা জোগাড় করে পুলিশের হাতে দেয়। কিন্তু এরপরও আরও ১১ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ঘটনার মধ্যে ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর মিজানুরের আরেক ভাই রেজাউল করিমকেও রাজশাহী নগরী থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর দীর্ঘ সময় দুই ভাইয়ের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল শিবগঞ্জে পুলিশের কথিত “বন্দুকযুদ্ধে” মিজানুর নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়। তবে পরিবারের দাবি, এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অন্যদিকে রেজাউল করিম আজও নিখোঁজ। আট বছর পরও নিখোঁজ এক ভাই সরকার পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট সংবাদ সম্মেলন করেন মিজানুর ও রেজাউলের পরিবারের সদস্যরা। তারা অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পর আট বছরেও রেজাউলের সন্ধান মেলেনি। একই ঘটনায় থানায় মামলা করার পাশাপাশি গুম কমিশনেও অভিযোগ জমা দিয়েছেন তারা। গত ফেব্রুয়ারিতে গুম কমিশন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটররা ঘটনাটি তদন্ত করতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যান। মিজান হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক মাহমুদ বলেন, মামলায় ৬ থেকে ৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। দ্বিতীয় হত্যা মামলাও মাহবুব আলম খানের বিরুদ্ধে আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের হয় ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর। ফিরোজ আহমেদ নামে এক ব্যক্তি শিবগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। ওই মামলায় ১২ জন আসামির মধ্যে মাহবুব আলম খানকে তিন নম্বর আসামি করা হয়। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইমরান হোসেন জানান, “প্রাথমিক তদন্তে তার নাম বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এখনো জমা দেওয়া হয়নি।” “আমাদের পরিবার ধ্বংস করে দিয়েছেন” মাহবুব আলম খানের পদায়ন বাতিলের আবেদনকারী সেতাউর রহমান বলেন, “তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় আট বছর চাকরি করেছেন। এমন কোনো অপরাধ নেই, যা তিনি করেননি। আমাদের পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। মামলা থাকার পরও কীভাবে তাকে এসপি করা হলো—আমরা এর বিচার চাই।” মাহবুব আলম যা বলছেন অভিযোগ অস্বীকার করে মাহবুব আলম খান বলেন, দুটি হত্যা মামলার একটিতে তাকে ইতোমধ্যে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অন্য মামলার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি প্রশিক্ষণে ছিলেন এবং এ সংক্রান্ত প্রমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিয়েছেন। তার ভাষায়, “আইনাল হকের মামলার ঘটনার সময় আমি ট্রেনিংয়ে ছিলাম। প্রমাণ দিয়েছি। আশা করছি, ওই মামলাতেও আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।” পুলিশ সদর দপ্তরের নীরবতা বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (এডমিন) আবু সালেহ রায়হান বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। বিস্তারিত খোঁজ না নিয়ে কিছু বলতে পারছি না।” “এসপি পদে এমন নিয়োগ উদ্বেগজনক” মানবাধিকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বলছেন, ফৌজদারি মামলার আসামি হয়ে জামিন না নেওয়া মানে কার্যত পলাতক থাকা। তার মতে, “এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ থাকা ব্যক্তিকে জেলার শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উদ্বেগজনক। এতে বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।” তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিতর্কিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলে জনআস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে। তদন্তের আগেই পুরস্কার? মাহবুব আলম খানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনো বিচারাধীন। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের প্রশ্ন—তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কেন তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হলো? বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অভিযোগ বহু বছর ধরেই বিতর্কের বিষয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পদায়ন বা পদোন্নতি রাষ্ট্রের জবাবদিহি ও মানবাধিকার প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।
বরিশাল অফিস : বরিশাল নগরীর একটি আবাসিক হোটেলে এক নারীর সঙ্গে সময় কাটাতে গিয়ে সুজন দালাল (৩০) নামে দুই সন্তানের এক জনকের মৃত্যু হয়েছে। অতিরিক্ত মাত্রায় যৌনউত্তেজক ওষুধ সেবনের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যেতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক নারীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার (৯ মে) মধ্যরাতে বন্ধু মারুফ আকনের সঙ্গে বরিশাল নগরীর চকবাজার এলাকার বিউটি রোডের ‘হোটেল নছিব’-এ যান সুজন দালাল। পরে তিনি এক নারীর সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য একটি কক্ষে প্রবেশ করেন। কিছু সময় পর সুজন তার বন্ধু মারুফকে ফোন করে অসুস্থতার কথা জানান। পরে মারুফ তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সুজন দালাল বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের ভেদুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় বাল্কহেড কর্মচারী ছিলেন এবং দুই সন্তানের জনক। খবর পেয়ে রোববার (১০ মে) সকালে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে নিহতের বন্ধু মারুফ, হোটেল ম্যানেজার জাকির এবং লিমা নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতের বড় ভাই রুবেল দালালের অভিযোগ, সুজনকে পরিকল্পিতভাবে নেশাজাতীয় বা অতিরিক্ত মাত্রার যৌনউত্তেজক কিছু খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পরে আটক তিনজনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন উল ইসলাম বলেন, সুজনের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ফোরকান মিয়াকে (৪০) প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আরও তিন থেকে চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিহত শারমিন খানমের বাবা মো. সাহাদৎ মোল্লা কাপাসিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে শুক্রবার রাতে উপজেলার রাউতকোনা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পরে শনিবার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহতরা কারা নিহতরা হলেন— গোপালগঞ্জ সদর থানার মেরী গোপীনাথপুর এলাকার ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন খানম (৩৫), তাদের তিন মেয়ে মিম খানম (১৪), উম্মে হাবিবা ওরফে মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শারমিনের ভাই রসুল মিয়া (১৮)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, প্রায় ১৬ বছর আগে ফোরকানের সঙ্গে শারমিনের বিয়ে হয়। পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে কাপাসিয়ার রাউতকোনা এলাকায় মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকত। ফোরকান পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন। যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, শুক্রবার রাতে খাবারের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের চেতনানাশক জাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়। পরে গভীর রাতে স্ত্রী শারমিনকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে হাত-মুখ বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর ঘুমন্ত অবস্থায় তিন মেয়ে ও শ্যালক রসুল মিয়াকেও একইভাবে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া একটি হাতে লেখা ‘অভিযোগপত্র’ রেখে পালিয়ে যান। অভিযোগপত্রে যা বলা হয়েছে ঘটনাস্থলে পাওয়া ওই লেখায় ফোরকান দাবি করেন, তার স্ত্রী কয়েকজনের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন। এছাড়া স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে জমি কিনে আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। লেখাটিতে আরও দাবি করা হয়, গত ৩ মে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তাকে হাত-পা বেঁধে মারধর করেছিলেন। তবে গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লেখা ওই অভিযোগপত্রে কোনো স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি। এছাড়া এ ধরনের কোনো অভিযোগ থানায় জমা পড়েনি বলেও জানা গেছে। পুলিশের বক্তব্য কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুর আলম বলেন, “শারমিন খানম ও রসুল মিয়ার বাবা মো. সাহাদৎ মোল্লা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ফোরকান মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।” তিনি জানান, ঘটনাটির তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসের ভয়াবহ ট্র্যাজেডির পর ১৩ বছর পেরিয়ে গেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শিল্প দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১৩৬ জন শ্রমজীবী মানুষ প্রাণ হারান। আহত হন প্রায় দুই হাজার মানুষ, যাদের অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। এই ঘটনায় দায়ের হওয়া ছয়টি মামলার মধ্যে এখনো অধিকাংশের বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলাগুলো ধীরগতিতে এগোচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্র জানিয়েছে। মামলার অগ্রগতি রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দায়ের হওয়া ছয়টি মামলার মধ্যে একটি দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলা ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। ২০১৭ সালে ওই মামলায় ভবন মালিক সোহেল রানাকে তিন বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়। বাকি মামলাগুলোর মধ্যে— ভবন নির্মাণে দুর্নীতির মামলা যুক্তিতর্ক পর্যায়ে রয়েছে অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের দুটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে রাজউকের দায়ের করা ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের মামলার কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি বা পুনরায় নিম্ন আদালতে পাঠানো হয়েছে হত্যা মামলাটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে হত্যা মামলার সর্বশেষ অবস্থা হত্যা মামলায় মোট ৫৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৪৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। নতুন করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার পর আদালত ধীরে ধীরে অগ্রগতি পাচ্ছে। আদালত আগামী ৩০ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, চলতি বছরের মধ্যেই রায় ঘোষণা সম্ভব হতে পারে যদি সাক্ষ্যগ্রহণ দ্রুত শেষ হয়। অন্যদিকে আসামিপক্ষ দাবি করছে, ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা থেকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়েছে, যা আইনগতভাবে সঠিক নয়। আসামি ও বিচার প্রক্রিয়া মোট ৪১ জন আসামির মধ্যে— সোহেল রানা কারাগারে আছেন ১৩ জন পলাতক ২৫ জন জামিনে আছেন ২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন দুদকের মামলা ও অন্যান্য বিচার দুদকের করা ভবন নির্মাণ দুর্নীতি মামলাটি বর্তমানে যুক্তিতর্ক পর্যায়ে রয়েছে। প্রায় সব সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের দুটি মামলাও বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে, যেখানে সোহেল রানাই একমাত্র আসামি। রাজউকের করা ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের মামলাটি দীর্ঘ সময় ধরে স্থবির অবস্থায় ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সেটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিচারিক কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হয়নি। ট্র্যাজেডির ভয়াবহতা রানা প্লাজা ধসের ঘটনায়— নিহত: ১,১৩৬ জন আহত: প্রায় ২,৪৩৮ জন উদ্ধার গুরুতর আহত ও পঙ্গু: ১,৫২৪ জন অশনাক্ত লাশ দাফন: ২৯১ জন (ডিএনএ সংরক্ষণসহ) ঘটনার পর ২০১৩ সালের ২৯ এপ্রিল বেনাপোল সীমান্ত থেকে ভবন মালিক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে র্যাব।
গোপালগঞ্জ: ভারতে স্ত্রী-সন্তানের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি-জমি বিক্রি করে রওনা হয়েছিলেন গোপালগঞ্জের রথিকান্ত জয়ধর (৪৬)। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে তার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মহেশপুর উপজেলার পুলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতি নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাঠানো হয়েছে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে। রথিকান্ত জয়ধর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের পলোটানা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চার সন্তানের জনক। পরিবার ভারতে, একা রথিকান্ত পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে রথিকান্তের স্ত্রী উজ্জলী জয়ধর চার সন্তানকে নিয়ে ভারতের কলকাতায় চলে যান। এরপর কয়েকবার তিনি সেখানে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) জমিজমা ও বসতবাড়ি বিক্রি করে টাকা নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন রথিকান্ত। তবে তিনি কোন পথে বা কার সহায়তায় সীমান্ত পাড়ি দেবেন, তা পরিবারের কাউকে জানাননি। যেভাবে জানা গেল মৃত্যুর খবর রথিকান্তের ছোট ভাই রণজিৎ জয়ধর জানান, “ভাই কলকাতায় যাবে বলে বের হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ থেকে তার মৃত্যুর খবর পাই। পরে গিয়ে লাশ শনাক্ত করি।” পুলিশের বক্তব্য মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, “ইছামতি নদী থেকে লাশ উদ্ধারের সময় তার সঙ্গে একটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়া যায়। এতে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।” তিনি জানান, মরদেহে গুলির চিহ্ন রয়েছে, বিশেষ করে বুকে। তবে কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। দালাল চক্রের ঝুঁকি মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খান চমন-ই-এলাহী বলেন, অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের ক্ষেত্রে দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রতারণা ও হত্যার ঘটনা নতুন নয়। তার ভাষায়, “অনেকেই সর্বস্ব বিক্রি করে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পথে প্রতারণা বা সহিংসতার শিকার হয়ে প্রাণ হারান। এই বিষয়ে কঠোর নজরদারি জরুরি।” তিনি রথিকান্তের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে দ্রুত তদন্তের দাবি জানান।
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও প্রায় ২০০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা দায়েরের সময় নিহতের আরও দুই ভাই থানায় উপস্থিত ছিলেন। মামলার এজাহারে উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা কাঠমিস্ত্রি রাজীব দফাদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া এজাহারভুক্ত চারজনসহ মোট ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, “এজাহারভুক্ত চারজনসহ অজ্ঞাত আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” ঘটনার পর থেকে ফিলিপনগর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে গত শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় ‘কালান্দার বাবা শ্রী শামীম জাহাঙ্গীর দরবার শরীফে’ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীদের অভিযোগ ছিল, ওই আস্তানায় ইসলাম ধর্ম বিকৃতি করা হচ্ছিল। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ একটি দল দরবারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এ সময় হামলাকারীদের আঘাতে গুরুতর আহত হন পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীর। পরে তিনি মারা যান। রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আস্তানার পাশের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি সেতাফুর রহমান বাবুকে এবার দেখা গেল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলের মঞ্চে। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের এ নেতার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের পর হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা হয়েছে এবং এতদিন তিনি পলাতক ছিলেন। সোমবার (৯ মার্চ) রাজশাহীর গোদাগাড়ী জামায়াতের উদ্যোগে একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানের মঞ্চে এমপির ঠিক পেছনের সারিতে বসে থাকতে দেখা যায় সেতাফুর রহমান বাবুকে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবুর বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার রেলগেট এলাকায়। একসময় তিনি পাওয়ার টিলারের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরে হেরোইন ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হন। এরপর তিনি মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-২ থেকে প্রকাশিত মাদক কারবারিদের এক তালিকায় সেতাফুর রহমান বাবুর নাম ৯ নম্বরে ছিল। ওই প্রতিবেদনে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীকে মাদকের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজশাহীর উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কিছু অসাধু রাজনীতিক ফেনসিডিল, হেরোইন ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বাবুর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তিনি মাটিকাটা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতি ছিলেন এবং সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তার নেতৃত্ব থাকার অভিযোগ রয়েছে। ওই হামলায় স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম নিহত হন। গণঅভ্যুত্থানের পর নিহত নজরুল ইসলামের বড় ছেলে মাসুম সরকার বাদী হয়ে সেতাফুর রহমান বাবুকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের আমলে ওই এলাকায় জিয়া পরিষদের কার্যালয় দখলের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সাব্বির রহমান জানান, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তার হন তৎকালীন ইউপি সদস্য সেতাফুর রহমান বাবু। পরে তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় জেলা প্রশাসনের সুপারিশে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে ইউপি সদস্য পদ থেকে বরখাস্ত করে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গণঅভ্যুত্থানের পর গোদাগাড়ী ও রাজশাহী নগরের বোয়ালিয়া থানায় একাধিক মামলা হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। কয়েকদিন আগে এলাকায় ফিরে এসে তাকে জামায়াতের ইফতার মাহফিলের মঞ্চে দেখতে পাওয়ায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের অভিযোগ, এতদিন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর আশীর্বাদে থাকা এ মাদক কারবারি এখন জামায়াতের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছে। নিহত নজরুল ইসলামের ছেলে এবং জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম অরণ্য কুসুম অভিযোগ করে বলেন, জামায়াতের ওই ইফতার মাহফিল আয়োজনের পুরো খরচই নাকি বহন করেছে সেতাফুর রহমান বাবু। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ভোটকেন্দ্র দখল করতে গিয়ে আমার বাবাকে হত্যা করেছে। সেই আসামিকেই এখন জামায়াতের মঞ্চে এমপির পাশে বসতে দেখা যাচ্ছে। এটি খুবই দুঃখজনক।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান ভালো বলতে পারবে। জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. কামরুজ্জামান জানান, সেতাফুর রহমান বাবু যে একজন মাদক কারবারি এবং যুবলীগের নেতা— এটি তিনি জানেন। তবে তাকে অনুষ্ঠানে দাওয়াত করা হয়নি এবং মঞ্চে বসার বিষয়টি পরে শুনেছেন বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সেতাফুর রহমান বাবুর দুটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। গোদাগাড়ী থানার কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির বলেন, সেতাফুর রহমান বাবুর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে কি না তা যাচাই করে বলতে হবে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে অবশ্যই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। তিনি বলেন, মাদক কারবারি হলে কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দিলেও আইনের বাইরে থাকার সুযোগ নেই।
কলাপাড়া প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার সবজি ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিস (৪৫) হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১১টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উপজেলা কার্যালয় থেকে উপজেলা আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা প্রশাসন মাঠে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক মৌলভী মাহবুবুল আলম, সদস্য সচিব মাওলানা মনিরুল ইসলামসহ উপজেলা ও ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। সভায় বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশের জেরে একজন নিরীহ মানুষকে মারধর করে হত্যা করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। নিহত ইদ্রিসকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কর্মী দাবি করে উপজেলা আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “নিহত ইদ্রিস ঈদের সময় ছেলে-মেয়ে ও পরিবার নিয়ে বাড়িতে আসার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি বাড়িতে ফিরেছেন লাশ হয়ে। ভালো ও সৎ মানুষ জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত না হওয়ায় সমাজে গুম, খুন ও সহিংসতা বেড়েছে। বর্তমানে সাধারণ মানুষ জনপ্রতিনিধিদের হাতেই নিরাপদ নয়।” এদিকে ইদ্রিসের মৃত্যুর ঘটনায় নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে ইদ্রিস খান ফেসবুকে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গরু চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে পোস্ট ও মন্তব্য করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পাখিমারা বাজার থেকে তাকে স্থানীয় যুবদল কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রথমে পানির জগ ছুড়ে মারা হয় এবং পরে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। পরে সোমবার (২ মার্চ) রাত ১০টার দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। মঙ্গলবার সকালে নিহতের স্বজনরা মরদেহ কলাপাড়া থানায় নিয়ে আসেন। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে। পরে তার মরদেহ নিজ গ্রাম দক্ষিণ দৌলতপুরের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বজন আবু বকর খান বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় জহিরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে আরও ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫–৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।