Brand logo light

খেলাধুলা

মঠবাড়িয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীর ১২ দিনের ভ্রমণ নিয়ে চাঞ্চল্য

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা মাঠের বাইরেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। তবে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় একটি ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সেখানে ফুটবল-সমর্থনের প্রসঙ্গও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বেতমোর ইউনিয়নের এক প্রবাসীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে এক ব্যক্তির সঙ্গে ১২ দিনের ভ্রমণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, স্বামী বিদেশে অবস্থানকালে ওই নারী এক ব্যক্তির সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আইনগত কোনো সিদ্ধান্ত বা তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিকে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সি পরিহিত অবস্থায় দেখা যায় বলে দাবি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা শুরু হয়। পরে ছবিটি সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট নারী তার সঙ্গে ওই ব্যক্তির সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, পরিবার যদি তাকে স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে বলে, তাহলে তিনি ডিভোর্সের পর ওই ব্যক্তির সঙ্গে সংসার করার বিষয়ে বিবেচনা করবেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ঘটনাটি পারিবারিক ও সামাজিক দুই দিক থেকেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য এবং আইনগত অবস্থান বিবেচনা করা প্রয়োজন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১২, ২০২৬ 0
স্পেনের নকআউট খরা কাটল ১৬ বছর পর, বেলজিয়ামকে হারিয়ে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর নকআউট পর্বে আর জয়ের দেখা পায়নি স্পেন। দীর্ঘ ১৬ বছরের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্প্যানিশরা। লস অ্যাঞ্জেলেসের ইনগেলউডে সোফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে তারা। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্পেন। সেই চাপের ফল আসে ৩১তম মিনিটে। পেদ্রির পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া ফাবিয়ান রুইজ দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন। ডান প্রান্ত দিয়ে লামিন ইয়ামালের কাটব্যাক থেকে বল পান দানি অলমো। তার নেওয়া শট প্রথমে ঠেকিয়ে দেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। তবে ফিরতি বলে বক্সে থাকা রুইজ নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন। গোল হজমের পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় বেলজিয়াম। ৪০তম মিনিটে ডান দিক থেকে আসা একটি ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে সমতাসূচক গোল করেন শার্ল ডি কেটেলারা। আগের ম্যাচেও জোড়া গোল করা এই ফরোয়ার্ড আবারও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের হয়ে অবদান রাখেন। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়। দ্বিতীয়ার্ধে বেলজিয়ামের জন্য বড় ধাক্কা আসে ৭০তম মিনিটে। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। তার পরিবর্তে গোলপোস্টের দায়িত্ব নেন সিন লেমেন্স। এর কিছুক্ষণ পরই গোল হজমের বড় ঝুঁকিতে পড়েছিল স্পেন। গোলরক্ষক উনাই সিমন বক্সের বাইরে চলে আসার সুযোগে অ্যালেক্সান্ডার সালমেকার্স রোমেলু লুকাকুর উদ্দেশে বিপজ্জনক ক্রস বাড়ান। তবে সময়মতো হস্তক্ষেপ করে নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দেন এইমেরিক লাপোর্তে। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই আসে নির্ণায়ক মুহূর্ত। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগে পাউ কুবারসির শট বদলি গোলরক্ষক সিন লেমেন্স ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বলে মিকেল মেরিনো কোনো ভুল করেননি। কাছ থেকে নেওয়া শটে স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। আগের ম্যাচে পর্তুগালের বিদায় নিশ্চিত করা মেরিনো এবারও স্পেনের জয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন। তার গোলেই দীর্ঘদিনের নকআউট হতাশা কাটিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে স্পেন। অন্যদিকে, লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে বেলজিয়ামকে। আর স্পেনের জন্য এই জয় শুধু একটি সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেনি, ২০১০ সালের পর নকআউট পর্বে জমে থাকা দীর্ঘ অপেক্ষারও অবসান ঘটিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১১, ২০২৬ 0
কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা
মিসরকে ৩-২ হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : প্রথমার্ধে এক গোলে পিছিয়ে পড়া, পেনাল্টি থেকে গোলের সুযোগ হাতছাড়া, প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের একের পর এক অসাধারণ সেভ—সব মিলিয়ে শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি গোল হজম করার পর বিদায়ের শঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়। তবে শেষ পর্যন্ত ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের প্রত্যাবর্তনের গল্পই বড় হয়ে ওঠে। শেষ ১৫ মিনিটে নাটকীয়ভাবে ম্যাচে ফিরে এসে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় লিওনেল স্ক্যালোনির দল। শুরু থেকেই ধাক্কা বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও ম্যাচের ১৫ মিনিটেই পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। শর্ট কর্নার থেকে আতিয়ার ক্রসে নিখুঁত হেডে গোল করেন ইব্রাহিম। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে হারের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল হজম করল আর্জেন্টিনা। পেনাল্টি মিস, তবুও থামেনি আক্রমণ ২১ মিনিটে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ আসে আর্জেন্টিনার সামনে। পেনাল্টি আদায় করলেও স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন লিওনেল মেসি। তার শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মিসরের গোলরক্ষক শোবাইর। এরপরও একের পর এক আক্রমণ চালায় আর্জেন্টিনা। ২৮ মিনিটে রদ্রিগো ডি পলের ক্রস থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড এবং ৩৯ মিনিটে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর কাটব্যাক থেকে হুলিয়ান আলভারেজের শট—দুটিই অসাধারণ সেভে রুখে দেন শোবাইর। ফলে ১-০ ব্যবধানের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় মিসর। দ্বিতীয় ধাক্কা, তারপর বদলে যায় ম্যাচ দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিটে জিকোর গোলে ব্যবধান ২-০ হলে আর্জেন্টিনার বিদায় প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু ম্যাচের শেষভাগে বদলে যায় দৃশ্যপট। ৭৯ মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে শক্তিশালী হেডে ব্যবধান কমান ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। সেই গোল নতুন করে আত্মবিশ্বাস জোগায় আর্জেন্টিনাকে। চার মিনিটে মেসি ম্যাজিক ৮৩ মিনিটে মিসরের ডিফেন্ডারদের ভুলের সুযোগ কাজে লাগান মেসি। গনসালো মন্তিয়েলের পাস পেয়ে প্রথম ছোঁয়ায় জোরালো শট নেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। শোবাইর বল স্পর্শ করলেও সেটি ক্রসবারে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। চার মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল শোধ করে ২-২ সমতায় ফেরে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। শেষ হাসি এনসো ফার্নান্দেসের নাটকীয়তার শেষ অধ্যায় লেখা হয় যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে। এনসো ফার্নান্দেসের গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত সেই লিড ধরে রেখে অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।   ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে, বল দখল ও আক্রমণে আর্জেন্টিনা শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করেছিল। তবে প্রথমার্ধে গোলরক্ষক শোবাইরের দুর্দান্ত নৈপুণ্য এবং মেসির পেনাল্টি মিস ম্যাচটিকে ভিন্ন পথে নিয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পরও আর্জেন্টিনার ধৈর্য, আক্রমণাত্মক মানসিকতা এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার ক্ষমতাই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৮, ২০২৬ 0
ব্রাজিলকে বাদ পড়তে দেখে অবাক হয়নি আর্জেন্টিনা
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ বিদায়ে অবাক নয় আর্জেন্টিনা

ব্রাজিলের বিদায়ে অবাক নয় আর্জেন্টিনা, ‘কোনো ম্যাচই সহজ নয়’: পারেদেস ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গেছে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলের পরাজয়ে। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের মধ্য দিয়ে টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপেও শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল দলটিকে। তবে ব্রাজিলের এই বিদায়ে বিস্মিত নয় আর্জেন্টিনা। দলের মিডফিল্ডার Leandro Paredes মনে করছেন, বর্তমান বিশ্বকাপে কোনো দলকেই সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পারেদেস বলেন, “গতকাল ব্রাজিল বাদ পড়ায় আমরা অবাক হইনি। কারণ আমরা জানি, প্রতিটি জাতীয় দলই এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এই বিশ্বকাপে যে কেউ যে কাউকে হারাতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “ব্রাজিলের বাদ পড়া অবশ্যই বড় খবর। কিন্তু এখানে কোনো ম্যাচই সহজ নয়।” মিশরের বিপক্ষে সতর্ক আর্জেন্টিনা শেষ আটের লড়াইয়ে মঙ্গলবার আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ Egypt national football team। ম্যাচটির আগে প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন পারেদেস। তিনি বলেন, “কেপ ভার্দে আমাদের শিখিয়েছে, কোনো ম্যাচই সহজ হবে না। আমরা এটা আগে থেকেই জানতাম। মিশর নিশ্চিতভাবেই খুব কঠিন প্রতিপক্ষ হবে।” আর্জেন্টিনা মিডফিল্ডারের মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে প্রতিটি ম্যাচেই চাপ থাকে এবং সব সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলা সম্ভব নয়। “আমরা সেরা পারফরম্যান্স দিতে চাই। সব সময় ভালো খেলা যায় না, সব সময় নিজেদের চাওয়া অনুযায়ী সবকিছু হয় না। মাঝেমধ্যে কষ্ট করতে হয়। তবে জয় পাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ, আর এভাবে জেতাটাও গুরুত্বপূর্ণ।” একাদশে থাকার অপেক্ষায় পারেদেস Leandro Paredes কেপ ভার্দের বিপক্ষে ভালো পারফরম্যান্স দেখানোর পর মিশরের বিপক্ষে শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নিজের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, “আমি সব সময় নিজেকে একাদশে দেখতে চাই। প্রতিদিন অনুশীলনে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি, যাতে কোচের বিবেচনায় থাকতে পারি।” তবে দলের সিদ্ধান্তের বিষয়টিও মেনে নিচ্ছেন তিনি। পারেদেস বলেন, “আমরা মোট ২৬ জন খেলোয়াড়। কোচকে ১১ জন বেছে নিতে হয়। তাই অপেক্ষা করাটাই এখন আমার কাজ।” শেষ আটের পথে আর্জেন্টিনা-মিশর লড়াই মঙ্গলবার আটলান্টা স্টেডিয়ামে শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা ও মিশর।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৭, ২০২৬ 0
রোনালদোর হৃদয় ভেঙে কোয়ার্টারে স্পেন
রোনালদোর বিদায়ী বিশ্বকাপের শেষটা হলো হতাশায়, স্পেনের কাছে হেরে বিদায় পর্তুগালের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আগেই জানিয়েছিলেন, এটাই হতে যাচ্ছে তার শেষ বিশ্বকাপ। ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে এসে বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, তা আর পূরণ হলো না। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে রোনালদোর পর্তুগাল। ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন সেই জয়ে জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে দীর্ঘ সময় গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৯০তম মিনিটে মিকেল মেরিনোর করা একমাত্র গোলই নির্ধারণ করে দেয় দুই দলের ভাগ্য। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক স্পেন, সুযোগ নষ্ট পর্তুগালের ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিল স্পেন। অষ্টম মিনিটে দানি অলমোর দুর্দান্ত থ্রু পাস থেকে মিকেল ওইয়ারজাবাল একা গোলরক্ষকের সামনে চলে যান। তবে তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর ১২ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে সুযোগ আসে পর্তুগালের সামনে। বক্সের ডান দিকে বল পেয়ে জোরালো শট নিয়েছিলেন রোনালদো। কিন্তু স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন তা সহজেই রুখে দেন। ১৬ মিনিটে পর্তুগালকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। প্রথমে ইয়ামালের শট ঠেকানোর পর ফিরতি বলে বায়েনার প্রচেষ্টাও প্রতিহত করেন তিনি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে আবারও গোলের কাছাকাছি পৌঁছেছিল পর্তুগাল। জোয়াও ফেলিক্সের পাস থেকে রোনালদোর বাইসাইকেল কিক গোলমুখে যাচ্ছিল। কিন্তু দুর্দান্ত ঝাঁপিয়ে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন উনাই সিমন। গোলশূন্য অবস্থাতেই শেষ হয় প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধে চাপ বাড়ায় স্পেন, চোটে ধাক্কা খায় পর্তুগাল বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়ায় দুই দলই। বক্সের বাইরে থেকে নুনো মেন্দেসের নেওয়া শট গোলের পথে থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ৫৫ মিনিটের দিকে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন নুনো মেন্দেস। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই ঘটনা পর্তুগালের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে। ৭২ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। ইয়ামালের নেওয়া শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন দিয়োগো কস্তা। শেষ মুহূর্তে মেরিনোর গোলে স্বপ্নভঙ্গ রোনালদোর ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে নির্ধারণী মুহূর্ত। ৯০ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগায় স্পেন। ফেরান তরেসের বাড়ানো বল পেয়ে নিচু ও শক্তিশালী শটে জালে পাঠান মিকেল মেরিনো। শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল পর্তুগাল। বের্নার্দো সিলভার হেডার অল্পের জন্য বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় স্পেন। আর বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায় নেয় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে রোনালদোর বিশ্বজয়ের স্বপ্ন শেষ হলো নকআউট পর্বেই।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৭, ২০২৬ 0
নেইমারও নাই, রোনালদোও নাই
নেইমার-রোনালদোর বিদায়ে বিশ্বকাপে শেষ হলো এক যুগের গল্প

নেইমার-রোনালদোর বিদায়ে বিশ্বকাপে শেষ হলো এক যুগের গল্প ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিশ্ব ফুটবলের আকাশে যে দুই নাম গত দুই দশক ধরে আলো ছড়িয়েছে, তাদের একজন ব্রাজিলের নেইমার, অন্যজন পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সময়ের নিয়মে এবার সেই অধ্যায়ের শেষ পৃষ্ঠা লেখা হয়ে গেল। বিশ্বকাপের মঞ্চে এটাই যে তাদের শেষ উপস্থিতি হতে যাচ্ছে, তা আগেই পরিষ্কার ছিল। নেইমার ও রোনালদো—দুজনেই জানতেন, এই আসর হতে পারে জাতীয় দলের জার্সিতে তাদের শেষ বড় সুযোগ। কিন্তু বিদায়ের মঞ্চে দুজনের ভাগ্যই হয়েছে একই রকম। শিরোপা তো দূরের কথা, শেষ বিশ্বকাপ থেকেও খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে তাদের। নেইমারের শেষ অধ্যায়: “সব শেষ” ব্রাজিলের হয়ে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল বিশ্বকাপ ট্রফি জয়। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না নেইমারের। নরওয়ের বিপক্ষে হারের পরই আসে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় ঘোষণা। ম্যাচ শেষে নেইমার জানান, জাতীয় দলের হয়ে তার পথচলা এখানেই শেষ। নেইমার বলেন, “আমি চেষ্টা করেছি। আমি চেষ্টা করেছি। মেট লাইফ স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ হলো। এখন সব শেষ।” এই কথার মধ্য দিয়ে যেন শেষ হয়ে গেল ব্রাজিলের এক প্রজন্মের প্রতীকী অধ্যায়। যিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের প্রধান ভরসা ছিলেন, সেই নেইমার বিদায় নিলেন অপূর্ণতা নিয়েই। রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপেও অপূর্ণতা নেইমারের বিদায়ের পর নজর ছিল আরেক কিংবদন্তির দিকে—ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আগেই জানিয়েছিলেন, এটাই হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ। ৪১ বছর বয়সে বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে আসাটাই ছিল এক অনন্য অধ্যায়। কিন্তু শেষবারের মতো বিশ্বকাপের আলোয় দাঁড়িয়েও নিজের দলকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিতে পারেননি তিনি। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোলে বিদায় নেয় পর্তুগাল। মিকেল মেরিনোর গোল শেষ করে দেয় পর্তুগালের লড়াই। তবে ম্যাচে নিজের ছাপ রেখেছিলেন রোনালদো। দুর্দান্ত এক বাইসাইকেল কিক দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনের অসাধারণ দক্ষতায় সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। মেসি-নেইমার-রোনালদো যুগের সমাপ্তি এক সময় বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তিনটি নাম—লিওনেল মেসি, নেইমার ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এই তিন তারকাকে ঘিরেই গড়ে উঠেছিল আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় গল্পগুলোর একটি। তারা শুধু ম্যাচ জেতাননি, বদলে দিয়েছেন ফুটবল দেখার ধরন। কোটি কোটি সমর্থকের আবেগ, প্রত্যাশা ও স্বপ্নের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিল তাদের নাম। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই যুগও এখন শেষের পথে। নতুন তারকাদের হাতে ভবিষ্যতের ফুটবল নেইমার ও রোনালদোর বিদায়ের পর বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চ এখন নতুন প্রজন্মের দিকে তাকিয়ে আছে। তরুণ প্রতিভাদের মধ্যে লামিন ইয়ামাল, আর্লিং হালান্ডের মতো খেলোয়াড়রা ইতোমধ্যে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। তাদের ঘিরেই তৈরি হচ্ছে ভবিষ্যতের নতুন গল্প। নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা, নতুন নায়ক এবং নতুন ফুটবল দর্শনের অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ব। বিশ্বকাপের বাকি গল্প হবে নতুন মুখদের নিয়ে নেইমার ও রোনালদো ছাড়া বিশ্বকাপের পরবর্তী পথ কেমন হবে—এটাই এখন বড় প্রশ্ন। যে দুই তারকা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিলেন, তাদের অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে তৈরি করবে এক ধরনের শূন্যতা। তবে ফুটবলের ইতিহাস বলে, একজন কিংবদন্তির বিদায়ের পরই জন্ম নেয় নতুন কোনো তারকার গল্প। বিশ্বকাপের পরবর্তী অধ্যায় এখন অপেক্ষা করছে নতুন মুখদের হাতে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৭, ২০২৬ 0
আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে জিতবে কে
আর্জেন্টিনা-মিশর: সুপার কম্পিউটারের চোখে কার এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা?

আর্জেন্টিনা-মিশর: পরিসংখ্যানের হিসাবে এগিয়ে কে? ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিশ্বকাপের তৃতীয় রাউন্ডের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আজ রাতে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে মোহামেদ সালাহর মিশর, যারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এর মঞ্চে খেলতে এসেছে। ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে অপ্টা সুপার কম্পিউটার। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। ২৫ হাজারটি সিমুলেশন চালিয়ে তৈরি করা এই পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে, মিশরের জয়ের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে অনেক কম—মাত্র ১২ দশমিক ৩ শতাংশ। আর নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ অমীমাংসিত থেকে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। পরিসংখ্যানের বাইরে বড় প্রশ্ন ক্লান্তি ও চোট যদিও পরিসংখ্যানের বিচারে আর্জেন্টিনা স্পষ্ট এগিয়ে, তবে মাঠের বাস্তবতা হতে পারে ভিন্ন। দুই দলের জন্যই এটি বিশ্বকাপের সবচেয়ে কম বিরতির ম্যাচগুলোর একটি। আগের রাউন্ডে আর্জেন্টিনা ও মিশর—দুই দলকেই খেলতে হয়েছে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট। ফলে খেলোয়াড়দের শারীরিক চাপ এখন বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা ম্যাচ, অতিরিক্ত সময়ের ধকল এবং সম্ভাব্য চোট এই ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সালাহর মিশরের সামনে বড় পরীক্ষা মোহামেদ সালাহকে ঘিরে মিশরের আক্রমণভাগ বিশ্বকাপে নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রথমবার শেষ ১৬-এ উঠে আসা দলটি এখন শক্তিশালী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্যের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা চাইবে অভিজ্ঞতা, দলীয় ভারসাম্য এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে পরের ধাপে এগিয়ে যেতে। ম্যাচের আগে মূল তথ্য ম্যাচ: আর্জেন্টিনা বনাম মিশর পর্যায়: বিশ্বকাপ তৃতীয় রাউন্ড আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা: ৬৯.১% মিশরের জয়ের সম্ভাবনা: ১২.৩% অতিরিক্ত সময়ে যাওয়ার সম্ভাবনা: ১৮.৫% বিশ্লেষণ ভিত্তি: অপ্টা সুপার কম্পিউটারের ২৫ হাজার সিমুলেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৭, ২০২৬ 0
ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী রেকডালের, ১৯৯৮ বিশ্বকাপের ইতিহাস ফেরার ইঙ্গিত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচকে ঘিরে ব্রাজিল–নরওয়ে লড়াইয়ের আগে আলোচনায় উঠে এসেছে ২৬ বছর আগের এক স্মরণীয় অধ্যায়। নরওয়ের সাবেক ফুটবলার ক্যেতিল রেকডাল, যিনি ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে দলের ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক ছিলেন, মনে করছেন—এবারও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেকডাল বলেন, রোববারের ম্যাচে সবচেয়ে বেশি চাপ থাকবে ব্রাজিলের ওপর। তার মতে, নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়াই নরওয়ের জন্য বড় অর্জন। বিপরীতে, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দল ব্রাজিলের জন্য জয় ছাড়া অন্য কোনো ফলই হতাশাজনক হিসেবে বিবেচিত হবে। অতীতের পরিসংখ্যান কী বলছে? দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসও নরওয়ের সমর্থকদের আশাবাদী হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। এ পর্যন্ত চারবারের সাক্ষাতে ব্রাজিল একবারও নরওয়েকে হারাতে পারেনি। সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচটি ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে, যেখানে ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে ক্যেতিল রেকডালের পেনাল্টি গোলে ২–১ ব্যবধানে জয় পায় নরওয়ে এবং নিশ্চিত করে শেষ ষোলোতে ওঠা। রেকডালের বিশ্বাস, সেই ম্যাচের স্মৃতি এখনো ব্রাজিলের বিপক্ষে মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। "নরওয়ের বিপক্ষে আবারও হোঁচট খাওয়ার ভয় ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের মনে থেকে যেতে পারে।" বর্তমান নরওয়েকে কেন বেশি শক্তিশালী মনে করছেন? রেকডালের মূল্যায়নে, বর্তমান নরওয়ে দল ১৯৯৮ সালের দলের তুলনায় আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিণত। তার মতে, আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড এবং আন্তোনিও নুসা—এই তিন ফুটবলারের উপস্থিতি দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বড় ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সক্ষমতা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্ম নিজেদের পরিচয় গড়তে অতীতের সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে না; বরং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সই তাদের আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি। ব্রাজিল এগিয়ে, তবু কেন সতর্ক থাকার পরামর্শ? রেকডালের মতে, কাগজে-কলমে ব্রাজিলই ফেবারিট। তবে নরওয়ের আক্রমণভাগ যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তার বিশ্লেষণে— হালান্ডের গোল করার অসাধারণ দক্ষতা, ওডেগার্ডের সৃজনশীল পাসিং, নুসার গতি ও ড্রিবলিং —ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্কোরলাইনেও আত্মবিশ্বাস বর্তমানে নরওয়ের শীর্ষ লিগের ক্লাব আলেসুন্দ এফকে-এর কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রেকডাল নিজের পূর্বাভাসে অটল। তার ভাষায়, "নরওয়ে ২-১ গোলে জিতবে। ফুটবলে ইতিহাস প্রায়ই নিজের পুনরাবৃত্তি ঘটায়।" যদিও ব্রাজিলকে এখনও ম্যাচের ফেভারিট ধরা হচ্ছে, তবু নরওয়ের সাম্প্রতিক দলীয় শক্তি, অতীতের পরিসংখ্যান এবং রেকডালের আত্মবিশ্বাস—সব মিলিয়ে ম্যাচটি বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৪, ২০২৬ 0
অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ৯২ বছর পর শেষ ষোলোতে মিশর
টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ হারিয়ে শেষ ১৬-এ মিশর: সালাহর পানেনকা, এক শতাব্দীর অপেক্ষার অবসান

ডালাস স্টেডিয়াম, মেক্সিকো: ১২০ মিনিটের লড়াইয়েও যখন দুই দলের মধ্যে ব্যবধান তৈরি করা সম্ভব হয়নি, তখন ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে পেনাল্টি শুটআউট। সেখানেই স্নায়ুর পরীক্ষায় অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এ জায়গা করে নেয় মিশর। এটি শুধু একটি জয় নয়; মিশরের ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘ প্রতীক্ষারও অবসান। ১৯৩৪ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদ এনে দেয় এই ম্যাচ, যা দেশটির ফুটবল ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। শুরুতেই এগিয়ে যায় মিশর ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় মিশরকে। ১৩তম মিনিটে অধিনায়ক মোহামেদ সালাহর ছোট পাস থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে বক্সে ভেসে আসা ক্রসে ইমাম আশুর দূরের পোস্টে দারুণ এক হেডে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। আত্মঘাতী গোলে ম্যাচে ফেরে অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি বদলে যায়। ৫৫তম মিনিটে মিশরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানির আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। এরপর দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও ম্যাচে আর গোল হয়নি। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে মিশরের হাইসেম হাসানের জোরালো শট গোললাইন থেকে হাঁটু দিয়ে ঠেকিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার হ্যারি সুটার। সেই গুরুত্বপূর্ণ ব্লকই ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায়। অতিরিক্ত সময়েও অমীমাংসিত অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে দুই দলই তুলনামূলক সতর্ক কৌশলে খেলায় মনোযোগ দেয়। আক্রমণের চেয়ে রক্ষণেই বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। শুটআউটে বদলে যায় সবকিছু পেনাল্টি শুটআটের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সুটার বল উড়িয়ে মারেন গোলবারের ওপর দিয়ে। অন্যদিকে মাহমুদ সাবের ও রামি রাবিয়া নিজেদের শট থেকে গোল করেন। এরপর আসে ম্যাচের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত। প্রবল চাপের মধ্যে মোহামেদ সালাহ নেন দুর্দান্ত একটি 'পানেনকা' শট। গোলরক্ষক ম্যাটি রায়ান একদিকে ঝাঁপ দিলেও বল ধীরগতিতে পোস্টের মাঝখান দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ার তরুণ হেরিংটনের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে ম্যাচ কার্যত মিশরের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। শেষ শটে ইনজুরির শঙ্কা নিয়েই মাঠে নামা ডিফেন্ডার হোসাম আবদেলমাজিদ গোল করে নিশ্চিত করেন মিশরের জয়। গোলের পর জার্সি খুলে সতীর্থদের সঙ্গে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন তিনি। ইতিহাসের নতুন অধ্যায় টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় শুধু মিশরকে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ১৬-তে তুলেই দেয়নি, বরং দীর্ঘদিনের নকআউট পর্বের হতাশাও মুছে দিয়েছে। অন্যদিকে এই পরাজয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। সালাহর শান্ত মাথার পানেনকা, গোলরক্ষকের সামনে মিশরীয় খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস এবং শুটআউটে স্নায়ু নিয়ন্ত্রণ—সব মিলিয়ে ডালাসের রাতটি মিশরের ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৪, ২০২৬ 0
শিরোপার স্বপ্ন বাঁচালো আর্জেন্টিনা
কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ ভেঙে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়, শেষ ষোলো নিশ্চিত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে বিদায়ের মুখে ঠেলে দেওয়ার মতো সাহসী প্রতিরোধ গড়ে তুলবে কেপ ভার্দে—এমন দৃশ্য সম্ভবত লিওনেল মেসি কিংবা লিওনেল স্ক্যালোনির পরিকল্পনাতেও ছিল না। কিন্তু ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে আফ্রিকার ছোট্ট দেশটি এমন এক লড়াই উপহার দিয়েছে, যা দীর্ঘদিন বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ হিসেবে আলোচিত হতে পারে। নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতা। অতিরিক্ত সময়েও দুই দল সমানে সমান। শেষ পর্যন্ত ১১১ মিনিটে একটি আত্মঘাতী গোলই পার্থক্য গড়ে দেয়। তাতে ৩-২ ব্যবধানে কষ্টার্জিত জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে শেষ হয় কেপ ভার্দের রূপকথার বিশ্বকাপ অভিযান। রূপকথার শেষ, কিন্তু মাথা নত নয় গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচেই ড্র করে অপরাজিত অবস্থায় নকআউটে ওঠে কেপ ভার্দে। এরপর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত লড়াই করে বিদায় নেয় তারা। ফলাফল তাদের বিপক্ষে গেলেও পারফরম্যান্সে ফুটবলবিশ্বের শ্রদ্ধা অর্জন করেছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। গোছানো রক্ষণ, আত্মবিশ্বাসী বল দখল এবং সীমিত সুযোগ থেকেও কার্যকর আক্রমণ গড়ে তোলার সক্ষমতা পুরো ম্যাচেই আর্জেন্টিনাকে অস্বস্তিতে রেখেছিল। মেসির ইতিহাস, তবুও ম্যাচ ছিল কঠিন ম্যাচের ২৯তম মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের দীর্ঘ পাস অসাধারণ দক্ষতায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষক ভোজিনহাকে পরাস্ত করেন লিওনেল মেসি। বাঁ পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে নেওয়া নিখুঁত ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা আট ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে নতুন ইতিহাসও গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। কিন্তু সেই ইতিহাসও ম্যাচকে সহজ করে দিতে পারেনি। কেপ ভার্দের জবাব ৫৯ মিনিটে নিচু শটে সমতা ফেরান ডেরয় দুয়ার্তে। গোলটি শুধু ম্যাচে সমতা ফেরায়নি, বরং আর্জেন্টিনার ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। এরপর একাধিকবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করলেও কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে হতাশ হতে হয় আর্জেন্টিনাকে। পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাবে খেলা ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক মেসির ডান পায়ের শট, ফ্রি-কিক এবং অতিরিক্ত সময়ের আরও একটি নিশ্চিত সুযোগ ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচের অন্যতম সেরা পারফর্মার হয়ে ওঠেন। অতিরিক্ত সময়ে নাটক অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই মেসির কর্নার থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের দুর্দান্ত ভলিতে আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু কেপ ভার্দে হাল ছাড়েনি। ১০৩ মিনিটে সিডনি লোপেস কাবরালের অসাধারণ বাঁকানো শট জড়িয়ে যায় জালে। বিশ্বকাপের সেরা গোলগুলোর আলোচনায় জায়গা করে নেওয়ার মতো সেই গোল আবারও সমতায় ফেরায় ম্যাচ। টাইব্রেকারের সম্ভাবনা তখন ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছিল। ১১১ মিনিটে ভাগ্য বদল ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় ১১১ মিনিটে। লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে কেপ ভার্দের দিনেই বোর্হেস দুর্ভাগ্যজনকভাবে বল নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন। আত্মঘাতী সেই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্তে কেপ ভার্দে আরেকবার সমতায় ফেরার খুব কাছাকাছি পৌঁছালেও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রক্ষা করে। পরিসংখ্যানের ভাষায় সম্ভাব্য অঘটন ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা আর্জেন্টিনা এবং ৬৭তম স্থানে থাকা কেপ ভার্দের এই লড়াই বিশ্বকাপ নকআউট ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনে পরিণত হতে পারত। কিন্তু বড় দলের সবচেয়ে বড় শক্তি সংকটের মুহূর্তে ফল বের করে আনা। সেটিই করেছে লিওনেল স্ক্যালোনির দল। কেপ ভার্দে বিদায় নিলেও তাদের সংগঠিত ফুটবল, সাহসী মানসিকতা এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত গল্প হয়ে থাকবে। অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন বাঁচিয়ে শেষ ষোলোতে উঠেছে আর্জেন্টিনা। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মিসর।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৪, ২০২৬ 0
এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা
এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই আবারও লিড নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটেই গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। ম্যাচের ২৮তম মিনিটে লিওনেল মেসির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। রক্ষণভাগ থেকে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের নিখুঁত লংবল ধরে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বিশ্বকাপে নিজের ২০তম গোল করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় কেপ ভার্দে। ৫৯তম মিনিটে সমতা ফেরায় আফ্রিকার দলটি। এরপর নির্ধারিত ৯০ মিনিটে দুই দলই বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও আর কোনো গোল করতে পারেনি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। অতিরিক্ত সময় শুরু হওয়ার পরই আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় আর্জেন্টিনা। প্রথম মিনিটে আক্রমণে উঠে গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। তার এই গোলে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পথে বড় সুবিধা পেয়ে যায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৪, ২০২৬ 0
লিওনেল মেসি
নকআউট নিশ্চিত, এবার বেঞ্চের শক্তি যাচাই—জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনায় বড় রদবদলের ইঙ্গিত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  দুই ম্যাচে টানা জয়ে ‘জে’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে Argentina national football team। ফলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে চাপমুক্ত অবস্থানে রয়েছে দলটি। এই বাস্তবতায় কোচ Lionel Scaloni এখন নজর দিচ্ছেন স্কোয়াডের গভীরতা যাচাই এবং নকআউট পর্বের জন্য মূল খেলোয়াড়দের সতেজ রাখার দিকে। টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী শনিবার (২৭ জুন) গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনার একাদশে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। কানসাসে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ অনুশীলন সেশনেই সেই পরিকল্পনার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। অনুশীলনে আলাদা বার্তা, কারা পাচ্ছেন সুযোগ? মঙ্গলবারের অনুশীলনে আর্জেন্টিনা দলকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে যারা শুরুর একাদশে ছিলেন, তারা মাঠে অনুশীলন না করে জিমনেসিয়ামে হালকা ফিটনেস সেশন সম্পন্ন করেন। অন্যদিকে যারা কম সময় খেলেছেন বা মাঠে নামার সুযোগ পাননি, তারা পূর্ণমাত্রার অনুশীলনে অংশ নেন। এ তালিকায় ছিলেন Julián Álvarez, Nicolás González, Leandro Paredes, Nicolás Tagliafico এবং Nicolás Otamendi। দলের ভেতরের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জর্ডানের বিপক্ষে এই ফুটবলারদের অধিকাংশই শুরুর একাদশে সুযোগ পেতে পারেন। স্কালোনির কৌশল: ফল নয়, প্রস্তুতিই এখন অগ্রাধিকার ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গ্রুপ টেবিলের অবস্থান এখন আর তার দলের জন্য কোনো চাপ তৈরি করছে না। তিনি বলেন, প্রথম দুটি ম্যাচ জিতে নেওয়াই ছিল দলের প্রধান লক্ষ্য এবং সেটি অর্জিত হয়েছে। ফলে এখন স্কোয়াডের অপেক্ষমাণ ও যোগ্য খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু রোটেশন নয়; বরং নকআউটের আগে আর্জেন্টিনার বিকল্প পরিকল্পনা কতটা কার্যকর, সেটি যাচাইয়েরও সুযোগ। রোমেরোর চোটে উদ্বেগ, বাড়ছে রক্ষণভাগের হিসাব তবে সবকিছু ইতিবাচক নয়। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে হাঁটুতে আঘাত পাওয়া ডিফেন্ডার Cristian Romero-কে নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। তার চোটের মাত্রা নির্ধারণে মেডিকেল পরীক্ষা করা হবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জর্ডানের বিপক্ষে তার মাঠে নামা প্রায় অসম্ভব। নকআউট পর্বের আগে রোমেরোর শারীরিক অবস্থা আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেসিকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অনুশীলনের শেষদিকে অধিনায়ক Lionel Messi এবং Rodrigo De Paul-কে ট্র্যাকস্যুট পরে মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের অনুশীলন পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তিনি সাধারণত ম্যাচের গুরুত্ব নির্বিশেষে মাঠে থাকতে পছন্দ করেন। তবে সামনে নকআউট পর্বের উচ্চঝুঁকির লড়াই থাকায় তাকে বিশ্রাম দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদি মেসি বিশ্রামে থাকেন, তাহলে তরুণ Nicolás Paz-এর জন্য শুরুর একাদশে জায়গা তৈরি হতে পারে। গোলপোস্টেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা শুধু আক্রমণভাগ নয়, গোলরক্ষকের অবস্থানেও পরিবর্তনের আভাস মিলছে। নিয়মিত প্রথম পছন্দ Emiliano Martínez-এর পরিবর্তে সুযোগ পেতে পারেন Gerónimo Rulli। এতে করে নকআউটের আগে স্কোয়াডের দ্বিতীয় সারির খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফিটনেস ও প্রস্তুতি যাচাই করার সুযোগ পাবে কোচিং স্টাফ।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৫, ২০২৬ 0
নেইমার
বিশ্বকাপে পেলে-রিভালদোর রেকর্ড ছোঁয়ার দ্বারপ্রান্তে নেইমার, স্কটল্যান্ড ম্যাচেই হতে পারে ইতিহাস

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের শেষ ম্যাচে মাঠে নামতে পারলেই তিনি দেশটির দুই কিংবদন্তি ফুটবলার পেলে-রিভালদোর একটি ঐতিহাসিক রেকর্ডে ভাগ বসাবেন। দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় পর জাতীয় দলের জার্সিতে ফেরার অপেক্ষায় থাকা নেইমারকে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে দেখা যেতে পারে। যদিও তাকে শুরুর একাদশে রাখা হবে কি না, তা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, তিনি বদলি খেলোয়াড় হিসেবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামতে পারেন। তবে ব্রাজিলের প্রধান কোচ আনচেলত্তির জানিয়েছেন, নেইমার পুরো ম্যাচ খেলার মতোই শারীরিকভাবে প্রস্তুত আছেন। বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সির বিশেষ রেকর্ড ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে ১০ নম্বর জার্সি কেবল একটি সংখ্যা নয়; এটি দেশটির ফুটবল ঐতিহ্যের প্রতীক। এই জার্সি পরে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৪টি ম্যাচ খেলার রেকর্ড বর্তমানে যৌথভাবে ধরে রেখেছেন পেলে ও রিভালদো। চারটি বিশ্বকাপ আসরে অংশ নিয়ে পেলে এবং দুটি বিশ্বকাপে খেলেই রিভালদো এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। অন্যদিকে, নেইমার এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সি পরে ১৩টি ম্যাচ খেলেছেন। ফলে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামলেই তিনি ১৪ ম্যাচে পৌঁছে পেলে ও রিভালদোর পাশে নিজের নাম লেখাবেন। আরেকটি ঐতিহাসিক অর্জনের পথে বিশ্বকাপের রেকর্ডের পাশাপাশি জাতীয় দলের জার্সিতেও আরেকটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলকের দিকে এগোচ্ছেন নেইমার। ব্রাজিলের হয়ে ১০ নম্বর জার্সি পরে এখন পর্যন্ত ৯৭টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি, যা দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ফুটবল সম্রাট পেলে, যার ১০ নম্বর জার্সিতে ম্যাচ সংখ্যা ১০৫। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারলে নেইমারের ৯৮তম ম্যাচ পূর্ণ হবে। সে ক্ষেত্রে চলমান বিশ্বকাপেই ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সিতে ১০০ ম্যাচ খেলার বিরল কীর্তি গড়ার সুযোগ তৈরি হবে তার সামনে। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে বাড়তি নজর চোট ও ফিটনেসজনিত কারণে দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর নেইমারের প্রত্যাবর্তন এমনিতেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তার ওপর পেলে ও রিভালদোর মতো কিংবদন্তিদের রেকর্ড স্পর্শ করার সম্ভাবনা এই ম্যাচকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি মাঠে নামলে সেটি শুধু ব্রাজিলের জন্য একটি কৌশলগত শক্তি ফেরার ঘটনা হবে না; একই সঙ্গে দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ জার্সিকে ঘিরে নতুন একটি অধ্যায়েরও সূচনা হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৫, ২০২৬ 0
আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল র_্যালি ও আনন্দ মিছিল
বিশ্বকাপের আগে নওগাঁর পত্নীতলায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ৫০০ মোটরসাইকেলের র‍্যালি, মেসি বাহিনীর জন্য শুভকামনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিশ্বকাপ ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ঘিরে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যখন ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস বাড়ছে, তখন নওগাঁর পত্নীতলায় দেখা গেছে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ব্যতিক্রমী আয়োজন। প্রিয় দলকে সমর্থন ও অনুপ্রেরণা জানাতে উপজেলার নজিপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃহৎ মোটরসাইকেল র‍্যালি ও আনন্দ মিছিল। মঙ্গলবার (১৬ জুন) নজিপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সহস্রাধিক আর্জেন্টিনা সমর্থক। আয়োজকদের দাবি, র‍্যালিতে প্রায় ৫০০ মোটরসাইকেল অংশ নেয়। পরে র‍্যালিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবারও নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এসে শেষ হয়। স্থানীয় সূত্র বলছে, নজিপুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এ জেড মিজানের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও উদ্যোগে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশের পরনে ছিল আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি। অনেকেই মুখে এঁকেছিলেন আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার প্রতীক। আয়োজক এ জেড মিজান বলেন, “আর্জেন্টিনা শুধু একটি ফুটবল দল নয়, এটি কোটি কোটি সমর্থকের আবেগের প্রতীক। আগামী ম্যাচে মেসি বাহিনী যেন তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য নিয়ে মাঠে নামতে পারে, সেই প্রত্যাশা থেকেই আমাদের এই আয়োজন। নওগাঁর পত্নীতলা থেকে আমরা প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা ও শুভকামনা জানাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্সে সমর্থকরা আশাবাদী। তাদের প্রত্যাশা, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপেও লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দলটি শিরোপা ধরে রাখতে সক্ষম হবে। র‍্যালিতে অংশ নেওয়া সমর্থকদের মধ্যে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। শিশু থেকে প্রবীণ—বিভিন্ন বয়সী ফুটবলপ্রেমীদের উপস্থিতি স্থানীয়ভাবে এক ধরনের উৎসবের আবহ তৈরি করে। অনেকেই বিশ্বাস করেন, দেশের মাটি থেকে পাঠানো এই সমর্থন ও ভালোবাসা প্রতীকী হলেও প্রিয় দলের প্রতি ভক্তদের গভীর আবেগের বহিঃপ্রকাশ। বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার জনপ্রিয়তা নতুন নয়। বিশেষ করে লিওনেল মেসিকে ঘিরে গত এক দশকে সমর্থকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্বকাপ এলেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পতাকা উত্তোলন, শোভাযাত্রা ও সমর্থক সমাবেশের দৃশ্য দেখা যায়। পত্নীতলার এই আয়োজনও সেই ধারাবাহিকতারই আরেকটি উদাহরণ, যেখানে ফুটবল শুধুমাত্র একটি খেলা নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আবেগের প্রকাশ হিসেবে সামনে এসেছে। স্থানীয় সমর্থকদের দৃঢ় বিশ্বাস, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারও তাদের শিরোপা ধরে রাখতে পারবে। আর সেই প্রত্যাশার প্রতিফলনই দেখা গেছে নজিপুরের রাজপথে শত শত মোটরসাইকেল ও সহস্রাধিক সমর্থকের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী র‍্যালিতে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৭, ২০২৬ 0
ক্রিকেট বোর্ড
বিসিবি নির্বাচনে বিএনপি নেতাদের আত্মীয়দের প্রভাব, একাধিক পরিচালক হচ্ছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন ঘিরে আবারও সামনে এসেছে দেশের ক্রীড়া প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাবের প্রশ্ন। এবারের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীদের একটি বড় অংশই বর্তমান সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্য, মন্ত্রী কিংবা শীর্ষ নেতাদের আত্মীয়স্বজন—যাদের কেউ কেউ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হতে যাচ্ছেন। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নথি, প্রার্থীদের পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট সূত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিসিবির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কাঠামোতে রাজনৈতিক বলয়ের প্রভাব আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। একক প্রার্থী, নিশ্চিত পরিচালক বিসিবি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান শুক্রবার (২২ মে) জানান, তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ৩৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে নির্বাচন শুরুর আগেই কয়েকটি বিভাগে ফল কার্যত নির্ধারিত হয়ে গেছে। রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগে পরিচালক পদের বিপরীতে মাত্র একজন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ফলে তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে। রংপুর বিভাগ থেকে একমাত্র প্রার্থী বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাই মির্জা ফয়সল আমীন। রাজশাহী বিভাগে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও বগুড়া–২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলমের ছেলে মীর শাকরুল আলম। সিলেট বিভাগে একমাত্র প্রার্থী আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের সরকার নিযুক্ত প্রশাসক এবং জেলা বিএনপির সভাপতি। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই পরিচালক হওয়ার এই প্রবণতা নির্বাচনী প্রতিযোগিতার সীমাবদ্ধতা এবং ক্ষমতাকেন্দ্রিক প্রভাবের ইঙ্গিত বহন করে। বাকি বিভাগেও রাজনৈতিক বলয়ের আধিপত্য যেসব বিভাগে নির্বাচন হচ্ছে, সেখানেও রাজনৈতিক পরিচয় বা পারিবারিক সংযোগ বড় ফ্যাক্টর হিসেবে দেখা যাচ্ছে। ঢাকা বিভাগে প্রার্থী হয়েছেন বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতের ছেলে সাইদ বিন জামান। চট্টগ্রাম বিভাগে রয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও লক্ষ্মীপুর–৩ আসনের সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরীর চাচা মাঈন উদ্দিন চৌধুরী। খুলনা বিভাগে পরিচালক পদে লড়ছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এবং যশোর–৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলামের ভাই শান্তনু ইসলাম। ক্রিকেট প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও পারিবারিক নেটওয়ার্ক এখানে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্লাব ক্যাটাগরিতেও প্রভাবশালী পরিবারের উপস্থিতি রিটার্নিং কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাব ক্যাটাগরির প্রার্থীদের নাম প্রকাশ না করলেও বিভিন্ন সূত্রে কয়েকজনের পরিচয় জানা গেছে। এই ক্যাটাগরিতে রয়েছেন বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ এবং মির্জা ইয়াসির আব্বাস। তাদের পারিবারিক পরিচয়ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসরাফিল খসরু অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা–১০ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের ছেলে এ ছাড়া ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব থেকে কাউন্সিলর হওয়া ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সালও মনোনয়নপত্র তুলেছেন। তার বাবা আবুল কালাম কুমিল্লা–৯ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য। ক্রিকেট প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব কতটা গভীর? বাংলাদেশের ক্রীড়া অঙ্গনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নতুন নয়। ফুটবল, ক্রিকেটসহ বড় ফেডারেশনগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক পরিচয়, ক্ষমতাকেন্দ্রিক সমর্থন এবং ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে বিসিবির মতো আর্থিকভাবে শক্তিশালী এবং আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক পরিবারের প্রভাব বাড়তে থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা, জবাবদিহি ও পেশাদারিত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে জেলা ও বিভাগীয় কাউন্সিলর কাঠামো, ক্লাব রাজনীতি এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনয়ন ব্যবস্থা মিলিয়ে বিসিবির নির্বাচনকে অনেকেই “নিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার সমীকরণ” হিসেবেও দেখছেন। সামনে কী? আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হবে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন। ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন ২৩ জন পরিচালক। পরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) মনোনীত করবে আরও দুই পরিচালক। সব মিলিয়ে ২৫ সদস্যের বোর্ডই পরবর্তীতে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত করবে বিসিবির নতুন সভাপতি। ফলে এবারের নির্বাচন শুধু পরিচালক বাছাই নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের পরবর্তী ক্ষমতার মানচিত্র নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬ 0
কাঁঠালিয়ায় বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ
কাঁঠালিয়ায় প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচে লিজেন্ড অফ কাঁঠালিয়ার জয়

ইত্তেহাদ  নিউজ,ঝালকাঠি: ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া এলাকায় পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উপলক্ষে এক প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে আয়োজিত এই খেলায় অংশ নেয় “লিজেন্ড অফ কাঁঠালিয়া” বনাম “লিজেন্ড অফ আমুয়া” দল। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে জয় লাভ করে লিজেন্ড অফ কাঁঠালিয়া এবং রানার্সআপ হয় লিজেন্ড অফ আমুয়া। বিজয়ী দলের হয়ে দারুণ ব্যাটিং প্রদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মকবুল হোসেন, যিনি দর্শকদের মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করেন। লিজেন্ড অফ কাঁঠালিয়া দলের অধিনায়ক ছিলেন স্থানীয়ভাবে পরিচিত প্রিয় হাছিব ভুট্টো আকন। খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কাঁঠালিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আখতার হোসেন নিজাম মিরবহর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আমুয়া ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ এলাকার অসংখ্য ক্রিকেটপ্রেমী দর্শক। নববর্ষের আনন্দকে ঘিরে আয়োজিত এই প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
নিউজিল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারিয়ে সবার আগে সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকা
নিউজিল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারিয়ে সবার আগে সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চলমান আসরে সবার আগে সুপার এইটে জায়গা নিশ্চিত করল দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল। ডি গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ৩ ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে পরের পর্বে উঠেছে প্রোটিয়ারা। শনিবার ভারতের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড ৭ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৭৫ রান। নিউজিল্যান্ডের লড়াকু সংগ্রহ কিউইদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন Mark Chapman। এছাড়া ৩২ রান যোগ করেন Daryl Mitchell। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় বড় সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি তাদের। মার্করামের ব্যাটে জয়ের বন্দনা ১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা কিছুটা সতর্ক ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। কিন্তু অধিনায়ক Aiden Markram ক্রিজে সেট হওয়ার পরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় প্রোটিয়াদের হাতে। ৪৪ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৮৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মার্করাম। তার ব্যাটিং নৈপুণ্যে ১৭ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের বড় জয় নিশ্চিত করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচে রানের রেকর্ড এই ম্যাচে দুই দল মিলে মোট ৩৫৩ রান করে, যা চলতি আসরের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মিলিত রান। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে গড়ে ওঠে আরও একটি ব্যক্তিগত রেকর্ড। ডি ককের নতুন মাইলফলক দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান Quinton de Kock টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড গড়েন। তিনি ছাড়িয়ে যান ভারতের কিংবদন্তি অধিনায়ক MS Dhoniকে। ডি ককের ডিসমিসালের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৩-এ। ডি গ্রুপ থেকে টানা তিন জয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা এখন সুপার এইট পর্বের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেবে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের জন্য সামনে অপেক্ষা করছে বাঁচা-মরার লড়াই।  

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
রাদারফোর্ড-মোতি
রাদারফোর্ড-মোতির নৈপুণ্যে টানা দ্বিতীয় জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের

ব্যাটার শেরফানে রাদারফোর্ড ও স্পিনার গুদাকেশ মোতির কল্যাণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।  গতরাতে ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩০ রানে হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে। ব্যাট হাতে রাদারফোর্ড ৪২ বলে অনবদ্য ৭৬ এবং স্পিনার মোতি ৩ উইকেট নেন।  মুম্বাইয়ে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৮ রানে দুই ওপেনারকে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয় উইকেটে ২৮ বলে ৪৭ রান যোগ করে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন শিমরোন হেটমায়ার ও রোস্টন চেজ। দলীয় ৭৭ রানের মধ্যে বিদায় নেন তারা। হেটমায়ার ২৩ ও চেজ ৩৪ রান করেন।  এরপর রোভম্যান পাওয়েলকে নিয়ে ২৯ বলে ৫১ এবং জেসন হোল্ডারের সাথে ৩২ বলে ৬১ রানের জুটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯৬ রানের সংগ্রহ এনে দেন রাদারফোর্ড। পাওয়েল ১৪ ও হোল্ডার ১৭ বলে ৩৩ রান করেন। ২টি চার ও ৭টি ছক্কায় ৪২ বলে ৭৬ রানে অপরাজিত থাকেন রাদারফোর্ড।  জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিংয়ের সামনে বড় ইনিংস খেলতে পারেনি ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা। ১৯ ওভারে ১৬৬ রানে গুটিয়ে যায় তারা। দলের হয়ে স্যাম কারান ৪৩, জ্যাকব বেথেল ৩৩ ও ফিল সল্ট ৩০ রান করেন।  মোতি ৩৩ রানে ৩টি ও চেজ ২৯ রানে ২ উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন রাদারফোর্ড।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
Japan aims to make 'new history' at Women's Asian Cup
নারী এশিয়ান কাপে ‘নতুন ইতিহাস’ গড়ার লক্ষ্য জাপানের

আগামী মাসের নারী এশিয়ান কাপের শিরোপা জিতে “নতুন ইতিহাস” গড়তে চায় জাপান, এমনটাই জানিয়েছেন দলের কোচ নিলস নিয়েলসেন। বৃহস্পতিবার ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন নিয়েলসেন। যেখানে তিনি ইংল্যান্ডভিত্তিক ১৬ জন খেলোয়াড়কে দলে রেখেছেন। জাপান এশিয়ার একমাত্র দেশ যারা নারী বিশ্বকাপ জিতেছে, তবে এ পর্যন্ত খেলা ২০ আসরের এশিয়ান কাপে তারা মাত্র দু’বার শিরোপা জিতেছে। সর্বশেষ শিরোপা আসে ২০১৮ সালে। জাপান নারী দলের প্রথম বিদেশী কোচ গ্রিনল্যান্ডে জন্ম নেওয়া নিয়েলসেন মনে করেন, আগামী ১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হওয়া টুর্নামেন্টে এবারই জাপানের সামনে সেরা সুযোগ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেয়া ৫৪ বছর বয়সী এই কোচ বলেন, “ঐতিহাসিকভাবে এই টুর্নামেন্ট জাপানের জন্য সহজ ছিল না। আমরা নতুন ইতিহাস গড়তে চাই। আমাদের এমন একটি দল আছে যারা শিরোপা জিততে সক্ষম। তাই ট্রফি না জেতা পর্যন্ত আমরা সন্তুষ্ট হতে পারছি না।” ২৬ সদস্যের দলে জায়গা পেয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হিনাতা মিয়াজাওয়া, যিনি ২০২৩ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন। এছাড়া ম্যানচেস্টার সিটির ইউই হাসেগাওয়া ও আওবা ফুজিনোও রয়েছেন। ২০১১ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য এবং ১৬৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ডিফেন্ডার সাকি কুমাগাই এখনও দলে আছেন। জাপানের ঘরোয়া ডব্লিউই লিগ থেকে মাত্র চারজন খেলোয়াড় দলে সুযোগ পেয়েছেন। নিয়েলসেন জানান, চোট-আঘাতের সমস্যা না থাকায় চূড়ান্ত দল নির্বাচন খুব কঠিন ছিল না। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি দল পেয়েছি যেখানে সব ধরনের বৈচিত্র্য আছে। প্রায় সব পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুত। একই ধরনের অনেক খেলোয়াড় আমরা নেইনি। কারণ মাঠে কাউকে বদলি করলে আমরা ভিন্ন কিছু যোগ করতে চাই।” প্রথম রাউন্ডে তাইওয়ান, ভিয়েতনাম ও ভারতের সঙ্গে একই গ্রুপে থাকা জাপান ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামবে। নিয়েলসেন বলেন, “প্রতিপক্ষ যে কৌশল নিয়ে আসুক না কেন, আমাদের স্কোয়াডে তার জবাব দেওয়ার মতো সমাধান আছে বলেই আমি বিশ্বাস করি।”

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
তামিম
জীবনে প্রথম ভোট দিয়ে উচ্ছসিত তামিম

উৎসবমুখর পরিবেশে জীবনের প্রথমবারের মত ভোট দিতে পেরে উচ্ছসিত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও দেশ সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। আজ বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের একটি বুথে ভোট প্রদান করেন তামিম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের তামিম ইকবাল বলেন, ‘জীবনের প্রথম ভোট দিলাম। খুবই এক্সাইটেড। পরিবেশ খুবই ভাল লাগছে। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি।’ পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের ভেরিফাইড পেজে ভোট দেওয়ার ছবি দিয়ে তামিম লিখেন, ‘ভোট আমার নাগরিক অধিকার। নিজে ভোট দিলাম এবং দেখলাম স্বতস্ফূর্ত উৎসাহে অনেকেই ভোট দিচ্ছেন। সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সবাইকে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনীকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’ যে কেন্দ্রে তামিম ভোট দিয়েছেন, সেটি চট্টগ্রাম-৯ আসন। কোতোয়ালি থানার এ আসনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, ১১ দলীয় জোটের এ কে এম ফজলুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুস শুক্কুর, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ, বাসদের মো. শফি উদ্দিন কবির, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন, নাগরিক ঐক্যের মো. নুরুল আবছার মজুমদার, জনতার দলের মো. হায়দার আলী চৌধুরী ও জেএসডির আবদুল মোমেন চৌধুরী।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
Ashraful-Akbar-Saifuddin
ভোট দিলেন আশরাফুল-আকবর-সাইফুদ্দিনরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের ভেরিফাইড পেজে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ক্রিকেটাররা।  ঢাকা-৯ আসনে দক্ষিণ বনশ্রী মডেল হাই স্কুলে ভোট দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও জাতীয় দলের বর্তমান ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। ভোট দেওয়ার ছবি আপলোড করে ফেসুবকে আশরাফুল লিখেছেন, ‘সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আজ ভোট দিলাম। দায়িত্ববোধ শেখানো শুরু ঘর থেকেই।’ রংপুরে নিজ এলাকায় প্রথমবার ভোট দিয়েছেন ২০২০ সালে আইসিসি যুব বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলি। নিজ এলাকার মানুষদের সাথে ভোট দেওয়ার ছবি আপলোড করেছেন তিনি। ছবির ক্যাপশনে আকবর লিখেছেন, ‘প্রথম ভোট।’ আকবরের মত প্রথমবার ভোট দিয়েছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার উইকেটরক্ষক-ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান। নিজ এলাকা দৌলতপুরে ভোট দিয়েছেন তিনি। ভোট কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে তোলা ছবি ফেসবুকে দিয়েছেন সোহান। ছবির ক্যাপশনে সোহান লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, প্রথমবার ভোট দিলাম।’ জীবনের প্রথম ভোট দিয়ে আনন্দিত জাতীয় দলের ব্যাটার মাহমুদুল হাসান জয়। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘দিয়ে আসলাম, জীবনের প্রথম ভোট।’ ফেনিতে ভোট দিয়েছেন জাতীয় দলের পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। ভোট দেওয়ার ছবি ফেসবুকে আপলোড করে সাইফুদ্দিন লিখেছেন, ‘অবশেষে  ভোট দিলাম। যেখানে আমার শৈশব কেটেছে, মাটির গন্ধে বড় হওয়া সেই চেনা জায়গাতেই। এটা শুধু একটা ভোট নয়, এটা নিজের শিকড়কে ছুঁয়ে দেখার অনুভূতি, নিজের দায়িত্বকে অনুভব করার এক নীরব গর্ব। ছোটবেলার স্মৃতি, আজকের সিদ্ধান্ত- এই দুটো একসাথে মিলেই আজকের দিনটা আমার কাছে আলাদা।’ ভোট দিয়েছেন জাতীয় দলের হার্ডহিটার ব্যাটার সাব্বির রহমানও। ফেসবুকে এই ডান-হাতি ব্যাটার লিখেছেন, ‘আমার ভোটটা কিন্তু দিয়ে দিলাম।’ সবমিলিয়ে এবার সারাদেশে ভোটার রয়েছেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন এবং নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0