Brand logo light
অনুসন্ধানী সংবাদ

বরিশাল সমবায় ব্যাংকের ত্রিশ কোটি টাকার সম্পদ বেদখল: উদ্ধারে নেই কোন তৎপরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
বরিশাল সমবায় ব্যাংকের ত্রিশ কোটি টাকার সম্পদ বেদখল
বরিশাল সমবায় ব্যাংকের ত্রিশ কোটি টাকার সম্পদ বেদখল

* কোটি টাকার সমবায় ব্যাংকের জমি দখল! বরিশালে উপ-নিবন্ধক মোস্তফার বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ

* নেপথ্যে উপ-নিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফা

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল:  সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার এলাকায় বাড়ি হওয়ার সুবাদে দীর্ঘ সময় বরিশাল বিভাগীয় সমবায় অধিদপ্তরে কর্মরত রয়েছেন প্রভাবশালী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা।শেরে বাংলা আঞ্চলিক সমবায় ইনস্টিটিউটে দ্বায়িত্ব পালনের সময় ব্যাপক লুটপাট করেছেন।এছাড়া তার বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারীসহ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে ।

689448c7c5d73145244479

বরিশাল সমবায় ব্যাংকের জমি কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে ব্যক্তি মালিকানায় দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল বিভাগীয় সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফার বিরুদ্ধে।বরিশালে সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের জমিতে স্থায়ী ভবন নির্মাণ করে চলছে ব্যবসা-বাণিজ্য। পুরো বিষয়টি অনিয়মের মাধ্যমে হয়েছে বলে দাবি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার। তদন্ত শেষে অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে বলে জানান তিনি ।

ইতোমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপক্ষে তার একাধিক পোস্ট ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। সম্প্রতি ঐ কর্মকর্তার শাস্তির দাবীতে প্রধান উপদেষ্টা, সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন সমবায় ব্যাংকের সাবেক সদস্যরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘ সময়  বরিশালে কর্মরত আছেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে অধীনস্থদের বদলির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

আরও পড়ুন:

বরিশাল সমবায় ব্যাংক নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে যমুনা টেলিভিশন ও এখন টিভি

 

অভিযোগে বলা হয়, বরিশাল শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক সমবায় ব্যাংকের সম্পত্তি নাজেমস বিরিয়ানীর মালিক ফরিদুর রহমান রেজার কাছে প্রায় ৯০ লাখ টাকার বিনিময়ে জাল কাগজপত্র তৈরি করে হস্তান্তর করা হয়।বর্তমানে সেখানে তিনতলা  রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে।এ বিষয়ে সমবায় ব্যাংকের সাবেক পরিচালক হোসেন জোমাদ্দার বলেন, ‘আমরা লিখিত অভিযোগ করেও কোনো ব্যবস্থা পাইনি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে উপনিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, তৎকালীন বরিশাল সিটি মেয়র সাদেক আব্দুল্লাহর চাপে  ভবন নির্মাণের বাধ্য করেছিলেন। স্বৈরশাসক আওয়ামীলীগ এখন ক্ষমতা নেই তবে কেন সমবায় ব্যাংকের সম্পত্তি ফিরিয়ে আনছেন না? তখন তিনি ফোন কেটে দেন।এদিকে  সমবায় ব্যাংকের  সম্পত্তি দখল করে রাখা হয়েছে, যা ফিরিয়ে আনার দাবি জোরদার করেছেন বরিশালের সর্বস্তরের মানুষ ।

barisal bank 768x402 1 1024x323 1

দখলে সমবায় কর্মকর্তারা জড়িত:

বরিশাল সমবায় ব্যাংকের জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে নাজেমস রেষ্টুরেন্ট।জমি সমবায় অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রনাধীন বরিশাল সমবায় ব্যাংকের। ৩২ শতাংশ জমির আংশিক দখল করে তিন তলা ভবন নির্মান করে নাজেমস বিরিয়ানী নামক রেস্তোঁরার মালিকের কাছে অর্ধকোটি টাকা জামানতে মাসিক ৪৫ হাজার টাকায় ভাড়া দেয়া হয়েছে। সমবায় অধিদপ্তরের নাকের ডগায় দখল হলেও তারা চিঠি চালাচালীতে ব্যস্ত।উদ্ধারে নেই কোন তৎপরতা ।একসময়, উদ্যোক্তা ও কৃষক পর্যায়ে ঋণ দেয়া ‘বরিশাল সমবায় ব্যাংক’ ২৩ বছর ধরে বন্ধ।

ব্যাংকটির জমি ও ভবন দখলে বরিশাল বিভাগীয় সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফা,সমবায় অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় অফিসের সাবেক উপ-নিবন্ধক (বিচার) মোঃ রবিউল ইসলাম,বরিশাল জেলা সমবায় অফিসের সাবেক জেলা সমবায় অফিসার প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জী,সমবায় কর্মকর্তা মাহফুজ ও মোঃ আমিনুল ইসলামের যোগসাজসে এ জমিতে ভবন নির্মান করা হয়।সুত্র জানায় দখলে সহযোগীতা করায় সমবায় কর্মকর্তারা পেয়েছেন প্রায় ঘুষ ।

468368771 8690694300984780 5443077340312207794 n

তদন্ত  প্রতিবেদন, দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেয়নি সমবায় অধিদপ্তর:

সমবায় ব্যাংক বরিশালের অবস্থা সম্পর্কে বরিশাল সদর উপজেলা সমবায় অফিসার লতিফা আকতার একটি তদন্ত  প্রতিবেদন দিয়েছেন।তদন্ত  প্রতিবেদনটি শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিকট পাঠানো হয়।তদন্ত  প্রতিবেদন অনুযায়ী এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি সমবায় অধিদপ্তর। ,বরিশাল বিভাগীয় সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফার অদৃশ্য ইশারায় বেদখল হওয়া সমবায় ব্যাংক বরিশালের বত্রিশ শতাংশ জমি ও ভবন উদ্ধারে  দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেয়নি সমবায় অধিদপ্তর,বরিশাল বিভাগীয় ,জেলা ও উপজেলা সমবায় অফিস।সমবায় ব্যাংকের জমিতে নতুন ভবন নির্মানে সমবায় অধিদপ্তরের কোন অনুমোদন নেই। এ ছাড়া সমবায় ব্যাংকের জমিতে নতুন ভবনে রেস্তোঁরা ভাড়ার বিষয় সমবায় অধিদপ্তর এর কোন অনুমোদন নেই।

barisal s bank

 

রক্ষণাবেক্ষণে নেই কোন কমিটি :

বরিশালে ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সমবায় ব্যাংক। এই ব্যাংকটির নিজস্ব জমির পরিমাণ প্রায় ৩৬ শতাংশ। প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের কেউ এখন বেঁচে নেই। ২০০১ সাল থেকে সমবায় ব্যাংকের ঋণ দেয়াও বন্ধ। নেই কোনো কার্যক্রম। এতবড় একটি প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষক পদে একজন কর্মী ছাড়া আর কেউ নেই। অরক্ষিত এ সম্পদে অনেকেরই লোলুপদৃষ্টি। সমবায় ব্যাংকের হিসাবরক্ষক দেলোয়ার হোসেন বাবুল বলেন, ‘খুব বিপদের মধ্যে আছি। বিভিন্নভাবে আমাকে হেনস্তা করছে।

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বগুড়া রোডে সমবায় ব্যাংকটির অবস্থান। এখানে ১১১ বছরের পুরাতন একটি দ্বিতল ভবন রয়েছে। কিন্তু এই সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণে নেই কোন কমিটি ও যোগ্য কর্মকর্তা। এই সুযোগে ব্যাংকের জমিতে স্থায়ী ভবন নির্মাণ করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে একটি পক্ষ। সবকিছু অনিয়মে করা হয়েছে বলে দাবি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার। বরিশাল সদরের উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা লতিফা আক্তার বলেন, ‘সমবায় ব্যাংকের জমিতে যে ভবন করা হয়েছে তা সঠিক নিয়মে করা হয়নি। সব কিছুই অত্র কার্যালয়ের অগোচরে করা হয়েছে।

467966872 8676595882394622 2536837733192557131 n

ভবন ও জমি সরকারের,আয় ভারতীয় নাগরিক টুটুলের :

বরিশাল সমবায় ব্যাংকের জমি সমবায়ের জেলা ও বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সহায়তায় ভারতীয় নাগরিক নিরব হোসেন টুটুল দখলে নিয়ে ভবন নির্মান করে ভাড়া দিয়েছেন নাজেমস বিরিয়ানী নামক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে। জমি সমবায় অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রনাধীন বরিশাল সমবায় ব্যাংকের হলেও ভবনের ভাড়া থেকে বঞ্চিত সরকার।৩২ শতাংশ জমির আংশিক দখল করে তিন তলা ভবন নির্মান করে নাজেমস বিরিয়ানী নামক রেস্তোঁরার মালিকের কাছে প্রায় অর্ধকোটি টাকা জামানতে মাসিক ৪০ হাজার টাকায় ভাড়া দেয়া হয়েছে।

468355483 8676574565730087 6061119607239417377 n

ব্যাংকের পুরাতন ভবনকে নাজেমস প্রতিষ্ঠান রান্নাঘর হিসেবে ব্যবহার করছেন।সমবায় অধিদপ্তরের জেলা ও বিভাগের শীর্ষ কর্তাদের যোগসাজসে দখল হওয়ায় চিঠি আর তদন্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বেদখল হওয়া সমবায় ব্যাংকের জমি ও ভবন উদ্ধারের কাজ।

 

সর্বশেষ  গুরুত্বপূর্ণ  সব  সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে

আমাদের  ফেসবুক পেইজে  লাইক  দিয়ে  অ্যাকটিভ  থাকুন।  ভিজিট করুন : http://www.etihad.news

 

* অনলাইন  নিউজ পোর্টাল  ইত্তেহাদ নিউজে  লিখতে  পারেন  আপনিও।

লেখার বিষয়  ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন  [email protected] ঠিকানায় ।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

অনুসন্ধানী সংবাদ

View more
নাসিমুল গনি ও আব্দুল হান্নানকে ঘিরে ঘুষ, অনিয়ম ও বিভাগীয় শাস্তি নিয়ে প্রশ্ন

শীর্ষনিউজ: ড. নাসিমুল গনি। প্রশাসন ক্যাডারের ’৮২ ব্যাচের এই কর্মকর্তা এক সময় স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারের পিএস (একান্ত সচিব) পদে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় তাঁর হাত দিয়েই জাতীয় সংসদে কর্মচারী নিয়োগ নিয়ে বড় ধরনের এক কেলেঙ্কারি কাণ্ড ঘটে। নাসিমুল গনির সেই দুর্নীতি-অনিয়মের বোঝা এখনও বইতে হচ্ছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়কে। ৫ আগস্ট, ২০২৪-এর পরে ভাগ্য খুলে যায় নাসিমুল গনির। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রথমে সিনিয়র সচিব পদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে নিয়োগ পান। স্বরাষ্ট্র সচিব পদ শূন্য হওয়ার পর এখানে আসেন। এরপরে এখন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। স্বরাষ্ট্র সচিব পদে থাকাকালে দুদকে একাধিক অভিযোগ আসে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগপত্রে তার নিজের, ছেলে এবং পিএস’র নানা অনিয়মের তথ্য তুলে ধরা হয়। এরমধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে, নরসিংদীর সাবেক এসপি, বর্তমানে যিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) পদে আছেন মো. আব্দুল হান্নান, বেপরোয়া ঘুষ লেনদেনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও তাকে অবিশ্বাস্যভাবে ছাড় দিয়েছেন সচিব নাসিমুল গনি। এসপি আব্দুল হান্নানের ঘুষ লেনদেনের ওই ঘটনাটি ছিল ব্যাপক আলোচিত। আব্দুল হান্নান আওয়ামী লীগ আমলের শেষ দিকে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলেকে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন এসপি পদে আকর্ষণীয় পদায়নের জন্য। পরবর্তীতে এই টাকা তুলতে গিয়েও অনেক কেলেঙ্কারি কাণ্ড ঘটান তিনি। আব্দুল হান্নানের ফোন রেকর্ডসহ গণমাধ্যমে এ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। পুরো পুলিশ বিভাগের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয় এতে। আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিভাগীয় মামলার তদন্তে ঘুষ লেনদেনসহ সবগুলো ঘটনা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না কেন, এই মর্মে ১০ দিনের সময় দিয়ে নোটিশও ইস্যু করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির স্বাক্ষরেই চাকরিচ্যুতির নোটিশ ইস্যু করা হয়। কিন্তু এরপরেই দৃশ্যপট ক্রমান্বয়ে পাল্টাতে থাকে। তিন মাস পরে চাকরিচ্যুতির গুরুদণ্ডের পরিবর্তে লঘুদণ্ড ‘তিরস্কার’ করা হয় তাকে। একে বিচারের নামে ‘প্রহসন’ এবং ‘কৌতুক’ বলেই আখ্যায়িত করছেন সংশ্লিষ্টরা। কথা উঠেছে, এসপি (বর্তমানে বরিশাল পুলিশের ডিসি) আব্দুল হান্নানের কাছ থেকে কত টাকা নিয়ে সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি তাকে এত বড় ‘ছাড়’ দিয়েছেন? আব্দুল হান্নানের শুধু ঘুষ প্রদান বা এ সংক্রান্ত অনিয়মই নয়, নরসিংদীর এসপি পদে থাকাকালে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তাদের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ আদায়ের প্রমাণসহ তথ্যও প্রকাশ হয়েছে একই সময়ে। যদিও এ বিষয়ে তদন্ত হয়নি অথবা তদন্ত কমিটি এড়িয়ে গেছে। নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, তদন্ত করলে এসব ঘটনাও হাতেনাতে প্রমাণিত হতো। অত্যন্ত আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, এতগুলো গুরুতর অপরাধের পরও অপরাধী মো. আব্দুল হান্নানের কিছুই হয়নি। চাকরিচ্যুতি বা কারাগারে যাওয়া তো নয়ই- সাসপেন্ড, ওএসডি বা সংযুক্তিতে থাকতে হয়নি এক দিনের জন্যও। অপরাধ প্রকাশ হওয়ার পর বরং তাকে নরসিংদী গোয়েন্দা পুলিশের এসপি থেকে সরাসরি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়েছে। যদিও এটি একেবারেই অবিশ্বাস্য, কিন্তু এই অবিশ্বাস্য কাজগুলো সবই হয়েছে তখনকার স্বরাষ্ট্র সচিব, বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির হাত দিয়েই। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এ ধরনের গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে চাকরিচ্যুতি থেকে ছাড় পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং নজিরও নেই। শুধু চাকরিচ্যুতিই নয়, দেশের প্রচলতি আইনে তার বিরুদ্ধে একাধিক ঘটনার দুর্নীতির মামলা এবং তাতে সাজা হওয়াটা নিশ্চিত ছিল। তাতে আব্দুল হান্নানকে এখন কারাগারেই থাকতে হতো। কিন্তু, এ সবকিছু থেকে আব্দুল হান্নানকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন নাসিমুল গনি। এক্ষেত্রে ‘ডিল’টা আকারে কত ছিল, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ, পুলিশের নৈতিক অধঃপতন এবং সারাদেশে আইন-শঙ্খলার অবনতির পেছনে নাসিমুল গনিদের এসব অপকর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন, অপরাধ বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে পুলিশ বিভাগের ডিআইজি মিজানুর রহমান ওরফে মিজানের ইস্যুটা কারো অজানা নয়। আওয়ামী লীগ আমলের আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত চলাকালে ডিআইজি মিজান দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে দুই দফায় ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেন। ডিআইজি মিজান নিজেই গণমাধ্যমের সামনে এই ঘুষ প্রদানের বিষয়টি ফাঁস করেন। ঘুষ লেনদেনের অডিও রেকর্ডও ডিআইজি মিজান স্বেচ্ছায় সরবরাহ করেন। এবং তিনি ওই ঘুষ প্রদানে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন। দুদক পরিচালক এনামুল বাছির ব্ল্যাকমেইলিং করে বার বার তাঁর কাছ থেকে টাকা আদায় করছিলেন। অবশেষে মিজান অন্য কোনো উপায় না পেয়ে ঘুষের কথা ফাঁস করেন বলে জানান। তবে ‘বাধ্য হয়ে’ ঘুষ প্রদান এবং নিজে এরজন্য ‘দায়ী নন’ দাবি করলেও ঘুষের দায় থেকে ডিআইজি মিজানুর রহমান মোটেই ছাড় পাননি। ঘুষ প্রদানের দায়ে তাকে সঙ্গে সঙ্গেই সাময়িক বরখাস্ত এবং পরবর্তীতে চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপরে গ্রেফতার এবং দুদকের মামলায় তাঁর তিন বছরের কারাদণ্ডও হয়। অথচ, মো. আব্দুল হান্নানের অপরাধ একটি নয়- আকর্ষণীয় পদায়নের জন্য ঘুষ প্রদান, ঘুষের টাকা তুলতে গিয়ে অধঃস্তন কর্মকর্তার ওপর অন্যায়ভাব চাপ সৃষ্টি, অধঃস্তন কর্মকর্তাদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন চালিয়ে তাদের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ আদায় প্রভৃতি অনেকগুলো গুরুতর বিষয় থাকা সত্ত্বেও তাকে সব অপরাধ থেকে অবৈধভাবে বাঁচিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাকে ‘রহস্যজনক’ এবং ‘নজিরবিহীন’ বলছেন সংশ্লিষ্টরা। এসপি পদে পদায়নের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলেকে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ আওয়ামী লীগ আমলে ২০২৩ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে সাফি মুদ্দাসির খান জ্যোতিকে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দেন মো. আব্দুল হান্নান। এসপি পদে পদায়নের জন্য এই ঘুষ দেওয়া হয়। তবে জ্যোতিকে সরাসরি নয়, জনৈক রবিউল মুন্সীর মাধ্যমে এই টাকা ঘুষ দিয়েছেন তিনি। এই টাকা রবিউল মুন্সীর কাছ থেকে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান হয়ে জ্যোতির কাছে গেছে। পেশায় রবিউল মুন্সী একজন প্রকাশনা ব্যবসায়ী হলেও আদতে তিনি পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানের টাকা কালেকশনের দালালদের একজন ছিলেন। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের কারণে পদায়নটি আর হয়নি। তবে আওয়ামী লীগ আমলে বঞ্চিত দাবি করে আব্দুল হান্নান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নরসিংদীর এসপি পদে পদায়ন বাগিয়ে নেন। আর এখানে বসেই শুরু করেন ব্যাপকহারে দুর্নীতি-অপকর্ম, চাঁদাবাজি, এমনকি মাদক ব্যবসায়েও জড়িত হওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ আমলে এসপি পদে পদায়নের জন্য দালাল রবিউল মুন্সীর মাধ্যমে যে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন তা তোলার দায়িত্ব দেন অধীনস্ত নরসিংদীর ডিবি ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক এস এম কামরুজ্জামানকে। বস-এর নির্দেশে কামরুজ্জামান বাধ্য হন ঘুষের টাকা তোলার কাজে লেগে যেতে। ৫ লাখ টাকা তিনি রবিউল মুন্সীর কাছ থেকে আদায় করে দেনও। বাকি ৪৫ লাখ টাকার জন্য এস এম কামরুজ্জামানের ওপর চাপ দিতে থাকেন এসপি আব্দুল হান্নান। এরই ধারাবাহিকতায় ৯ নভেম্বর, ২০২৪ অধীনস্ত কামরুজ্জামানকে নিয়ে ঢাকায় আসেন এসপি আব্দুল হান্নান। রবিউল মুন্সী মনিপুরী পাড়ায় ১৪৭/১ পুরাতন বিমানবন্দর সড়কে গোল্ডেন টাচ পাবলিকেশন্সের মালিক। অবশিষ্ট ৪৫ লাখ টাকা উদ্ধারের জন্য এখানে আসেন তারা। এসপি আব্দুল হান্নানের উপস্থিতিতেই পুলিশ পরিদর্শক এসএম কামরুজ্জামান স্বহস্তে একটি লিখিত ডকুমেন্ট তৈরি করেন। এরপর ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক রবিউল মুন্সীর স্বাক্ষর নেন। ওই ডকুমেন্টে এসপি আব্দুল হান্নানও গ্রহণকারী হিসাবে স্বাক্ষর দেন। পরবর্তীতে গণমাধ্যমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের সময় আব্দুল হান্নান বদলিসংক্রান্ত বিষয়ে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন এবং টাকা উদ্ধারে অধীনস্ত পুলিশ সদস্যকে ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেন। যা পরবর্তীতে তদন্তে সাক্ষ্য-প্রমাণে এবং ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়। অধঃস্তন কর্মকর্তার কাছ থেকে চাপ দিয়ে নিয়মিত ঘুষ গ্রহণ, যা তদন্তই হয়নি ‘ঘুষখেকো’ আব্দুল হান্নানের নানা অপকর্মের অবিশ্বাস্য সব তথ্য সিনেমার কল্পকাহিনিকেও হার মানাবে। অধীনস্থ পুলিশ সদস্য ছাড়াও তিনি মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অনেক ক্ষমতার অপব্যবহারকারী প্রভাবশালীকে শেল্টার দিয়েছেন নরসিংদীতে থাকাকালে। এ ছাড়া নিয়মিত মোটা অঙ্কের কারবার ঠিকঠাক রাখতে একটি নিজস্ব বলয়ও গড়ে তুলেন। গত বছরের এপ্রিলে এ নিয়ে দৈনিক যুগান্তরসহ জাতীয় গণমাধ্যমসমূহে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অধীনস্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে ঘুষ আদায়ের বেশকিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরা হয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে। তাতে দেখা যায়, ১০ মার্চ, ২০২৫ ডিবি ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামানের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েছেন এসপি আব্দুল হান্নান। সেখানে সৈয়দুর রহমান নামে জনৈক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে দুই লাখ টাকা পাঠাতে বলা হয়। ওই ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব (ব্র্যাক ব্যাংক, বরিশাল ব্রাঞ্চ, হিসাব নম্বর ০৫০১১০২৫২৯১৪৮০০১) উল্লেখ করে লেখা হয়, ‘টু লাখ টুমোরো।’ এর আগেও এসপি আব্দুল হান্নান কামরুজ্জামানের মুঠোফোনে দফায় দফায় ব্যাংক হিসাব পাঠিয়ে এভাবে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ রাত ৯টা ৯ মিনিটে মো. নাহিদুজ্জমান নামে একজনের কাছে টাকা পাঠাতে ডিবি ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামানকে ক্ষুদে বার্তা পাঠান। সেখানে ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং (৭০১৭০১৯৬৬৩৫৩৬) নম্বর উল্লেখ করে টাকা পাঠানোর সাংকেতিক শব্দ ‘টু লাখ টুমোরো’ লেখা হয়। এরপর কামরুজ্জামান এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ওই হিসাবে ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে ২ লাখ টাকা পাঠান। ৫ জানুয়ারি, ২০২৫ মো. শাহজাহান আলীর নাম লিখে ইসলামী ব্যাংক ঝিনাইদহ ব্রাঞ্চের হিসাব নম্বর (২০৫০১৭৫০২০২২৪৯১০০) পাঠান। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিয়ে ৪২ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন এসপি। ৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক নরসিংদী শাখা থেকে এসপির পাঠানো ওই হিসাবে ৪২ হাজার টাকা পাঠান ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামান। এর আগে ২৬ নভেম্বর, ২০২৪ শেফালি খাতুনের নাম লিখে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, অগ্রণী ব্যাংক শাখায় ৫০ হাজার টাকা পাঠাতে মেসেজ পাঠান। কামরুজ্জামান ২৬ নভেম্বর, ২০২৪ শেফালির অ্যাকাউন্টে (০২০০০০৭৬৪৭৯৬১) ৫০ হাজার টাকা পাঠান। এছাড়া নুরুজ্জামান নামে আরেকজনের ইসলামী ব্যাংকের আরেকটি হিসাবে ২৬ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে ৩০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। এমনকি বিকাশ নম্বরে ১৫ হাজার টাকাও নিয়েছেন এই এসপি। এভাবে টাকা পাঠাতে এসপি তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেছেন। এ বিষয়ে ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেছেন, “এসপি স্যার প্রায় সময় আমাকে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে টাকা পাঠাতে বলতেন। দিনের পর দিন হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে এই টাকা পাঠাতে আমাকে বাধ্য করতেন। ব্যক্তিগত নম্বর থেকে (০১৭১৬০৫৫১০০) মেসেজ পাঠিয়ে আবার এসপি বলতেন, ‘আমি একটি এসএমএস করেছি দেখেন, এ নম্বরে দুই লাখ টাকা পাঠান।’ এভাবে অসংখ্যবার টাকা পাঠানোর কারণে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। কয়েকদিন আগে বিরক্ত হয়ে তার টাকা পাঠানোর নির্দেশনার বিষয়ে আমি বলেছি, ‘স্যার এ মুহূর্তে আমার কাছে কোনো টাকা নেই। আর কোনো টাকা পাঠাতে পারব না। এভাবে টর্চার করলে আইজি স্যারকে লিখিত অভিযোগ দিতে বাধ্য হব।’ এ কথা বলার পর তিনি ফোন রেখে দেন এবং আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে যান।” গাঁজা বিক্রিতে জড়িত থাকার অভিযোগ নরসিংদীর আদালতের মালখানায় না পাঠিয়ে আটক ৯৬ কেজি গাঁজা বিক্রির ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনা হয়েছিল। ওই ঘটনায় পুলিশের দুই পরিদর্শক এবং এক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। এর পেছনে ছিলেন পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান। কেননা তাকে মাসোহারা দিয়েই মাদক পাচার করেছে চোরাচালানকারীরা। কিন্তু অন্য টিমের হাতে আটকা পড়ে এই চালান। জানা যায়, ৫ ফেব্রুয়ারি নরসিংদীর শিবপুরের সৃষ্টিগড় থেকে ৬ বস্তা গাঁজা উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। প্রতি বস্তায় ১৬ কেজি করে মোট ৯৬ কেজি গাঁজা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে আনা হয়। সেখান থেকে কাগজে কলমে এসব গাঁজা আদালতে পাঠানো হয়েছে দেখানো হলেও তা মালখানায় নেওয়া হয়নি। দুই দিন পর কাগজে কলমে গত ১১ মার্চ এ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করার প্রমাণপত্র তৈরি করা হয়। কিন্তু এই ঘটনার পর উল্টো এমএম কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। তাকে ডিবি থেকে সরিয়ে ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। ঘটনার পরপর কামরুজ্জামান গণমাধ্যমে বলেন, ‘ডিবির ওসিসহ সব ওসি যা কিছু করেন সব এসপির নির্দেশেই করেন।’ তিনজনের টিম করে টাকা কামানো গত বছরের এপ্রিলে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এসআই ও এএসআইদের পোস্টিং করিয়ে টাকা নিয়েছেন এসপি আব্দুল হান্নান। পদপ্রত্যাশীদের জোগাড় করেন সদর থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক। পতিত সরকারের আমলে ডিবিতে কর্মরত এসআই মোস্তাক ও এএসআই হারেছ মিয়াকে সদর থানায় পোস্টিং করে আনা হয়। একই সঙ্গে এসপির এলাকায় বাড়ি পুলিশ সদস্য রবিউলকেও আনা হয় সেখানে। এই তিনজনের সঙ্গে এসপি হান্নানের অত্যন্ত সু-সম্পর্ক। তারাই মূলত জেলা দাপিয়ে বেড়ান। এদের দিয়ে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করে টাকা কামান এসপি হান্নান। আওয়ামী লীগপন্থি ও বিতর্কিত ব্যবসায়ীদের তালিকা করে তাদের কাছে পাঠানো হয় ওই তিনজন। এরপর তালিকাভুক্ত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের পর তা পৌঁছে দেওয়া হয় এসপি হান্নানের কাছে। এমনকি এসপি আব্দুল হান্নান প্রায় সময়ই রেঞ্জ ডিআইজি অফিসের কথা বলে বিভিন্ন থানা থেকে দুই লাখ টাকা করে নিয়েছেন। এছাড়া ডিবিতে মাইক্রোবাস রিকুইজিশনের কথা বলে বিল ভাউচার করে প্রতি মাসে দুই থেকে তিন লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন। অথচ ডিবিতে এ প্রক্রিয়ায় কোনো গাড়িই ব্যবহার হয় না। বিভাগীয় মামলায় ‘গুরুতর’ অপরাধ প্রমাণিত, চাকরিচ্যুতির নোটিশের পর শাস্তি শুধুমাত্র ‘তিস্কার’ জেলায় এসপি হিসাবে পদায়নের জন্য অনৈতিকভাবে ৫০ লাখ টাকা প্রদান ও পরে সেই টাকা আদায়ে ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর প্রমাণ পেয়েছে এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি। বিধি অনুযায়ী আব্দুল হান্নানকে শাস্তিযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাকে কেন চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে না জানতে চেয়ে নোটিশ ইস্যু করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তখনকার সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। ২৫ আগস্ট, ২০২৫ এসপি আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে অভিযোগনামায় স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। ওইদিনই তাকে নরসিংদী থেকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসাবে বদলি করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গুরুতর এমন অভিযোগ গঠনের পর বরিশালে নতুন পদায়নকে তখন ‘নজিরবিহীন’ উল্লেখ করেন পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তাদের অনেকেই। তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর অধীনে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স বিভাগীয় মামলা করে। মামলা নং-১৭/ ২০২৫। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত ওই অভিযোগনামায় বলা হয়, “আব্দুল হান্নান নরসিংদী জেলায় যোগদানের আগে ২০২৩ সালে পুলিশ সুপার হিসাবে জেলায় পদায়ন পেতে রবিউল মুন্সী নামে একজনকে ৫০ লাখ টাকা দেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে রবিউল মুন্সী এসপি হিসাবে পদায়নের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে আব্দুল হান্নান নরসিংদী জেলায় এসপি হিসাবে যোগদানের পর রবিউল মুন্সীর কাছ থেকে উক্ত টাকা উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৯ নভেম্বর এসপির অধীনস্ত ডিবি ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) এসএম কামরুজ্জামান কর্তৃপক্ষের অনুমতি/ছুটি ছাড়াই ঢাকায় আসেন। তিনি রাজধানীর বিজয় সরণিসংলগ্ন মনিপুরী পাড়ায় রবিউল মুন্সীর অফিসে গিয়ে নগদ ৫ লাখ টাকা আদায় করেন। অবশিষ্ট ৪৫ লাখ টাকা উদ্ধারের জন্য পুলিশ পরিদর্শক এসএম কামরুজ্জামান স্বহস্তে একটি লিখিত ডকুমেন্ট তৈরি করেন। এরপর ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক রবিউল মুন্সীর স্বাক্ষর নেন। ওই ডকুমেন্টে এসপি আব্দুল হান্নানও গ্রহণকারী হিসাবে স্বাক্ষর দেন।” স্বরাষ্ট্র সচিবের অভিযোগনামায় এ বিষয়ে আরও বলা হয়, “৫ এপ্রিল দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সাংবাদিক নেসারুল হক খোকনের সঙ্গে মোবাইলে কথোপকথনের সময় আব্দুল হান্নান বদলিসংক্রান্ত বিষয়ে ৫০ লাখ টাকা লেনদেন এবং টাকা উদ্ধারে অধীনস্ত পুলিশ সদস্যকে ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেন। যা সাক্ষ্য-প্রমাণে এবং ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়। পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুগান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এছাড়া সরকারি বিধিবহির্ভূতভাবে অধস্তন পুলিশ সদস্যকে অবৈধ পন্থায় ব্যক্তিগত কাজে নিয়োজিত করেন এসপি। এসব বিষয় অপেশাদার ও অকর্মকর্তাসুলভ কর্মকাণ্ড, কর্তব্য কাজে অবহেলা, বিভাগীয় নিয়মশৃঙ্খলা পরিপন্থি তথা অসদাচরণ এবং দুর্নীতি পরায়ণতার শামিল। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এসপি আব্দুল হান্নানকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর ৩(খ) এবং ৩ (ঘ) অনুযায়ী যথাক্রমে অসদাচরণ (মিসকন্ডাক্ট) এবং দুর্নীতি পরায়ণতার (করাপশন) অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। একই বিধিমালার ৪(৩) এর উপ-বিধি(ঘ) অনুসারে কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে না তার লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে আব্দুল হান্নানকে। কৈফিয়তনামা পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।” অভিযোগ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির পর পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান লিখিত জবাব দাখিল করেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন। ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ অনুষ্ঠিত শুনানিতে উভয়পক্ষের বক্তব্য, নথিপত্র ও অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। কিন্তু এত গুরুতর অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও আব্দুল হান্নানকে চাকরিচ্যুতির পরিবর্তে শুধুমাত্র ‘তিরস্কার’ করা হয়। ২৩ নভেম্বর, ২০২৫ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তখনকার সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির স্বাক্ষরে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১৪, ২০২৬ 0

ঘুস ছাড়া দলিল রেজিষ্ট্রেশন হয়না সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে

গণপূর্তের প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে টেন্ডার সিন্ডিকেট, অনিয়ম ও সম্পদ নিয়ে নানা অভিযোগ: অনুসন্ধানে যা জানা গেল

বিএডিসি’র প্রকল্প পরিচালক মুজিবর

বিএডিসি’র প্রকল্প পরিচালক মুজিবরের দুনীতি,সার গুদাম প্রকল্পে ৩৫০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

পিরোজপুর এলজিইডির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জিত দে'র বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার ভুয়া বিল ও দুর্নীতির অভিযোগ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পিরোজপুরের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জিত দে-এর বিরুদ্ধে কাজ সম্পন্ন না করেই ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার বিল অনুমোদন, ঠিকাদার সিন্ডিকেট গঠন, ঘুষ-বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক আদেশ উপেক্ষা করে দীর্ঘ সময় একই পদে বহাল থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়মের কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও তিনি এখনও আইনের আওতার বাইরে রয়েছেন। একই সঙ্গে পুনর্বহালের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে তৎপরতাও চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে। যোগদানের পরই অভিযোগের সূত্রপাত অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩০ জুন রঞ্জিত দে পিরোজপুরে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন এবং তার পূর্বসূরি আব্দুস সাত্তারের সময়কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় নির্বাচিত কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না হলেও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ ছাড় করেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, এসব বিলের একটি বড় অংশ বাস্তব কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। প্রধান প্রকৌশলী, মন্ত্রণালয় ও দুদকে লিখিত অভিযোগ মঠবাড়িয়া উপজেলার শিংগা গ্রামের বাসিন্দা হরিদাশ হাওলাদার শিপন রঞ্জিত দে'র বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগপত্র অনুযায়ী— ৬ জানুয়ারি প্রধান প্রকৌশলীর কাছে, ২৬ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিবের কাছে, এবং ৫ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, কাজ বাস্তবে সম্পন্ন না হলেও পছন্দের কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় শত কোটি টাকার বিল প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ইফতি ইটিসিএল নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কোনো কাজ সম্পন্ন না করেই ৮৯ কোটি টাকা বিল দেওয়ার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়। বদলির আদেশ, স্থগিতাদেশ এবং পুনর্বহাল নিয়ে প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১৪ নভেম্বর রঞ্জিত দে-কে কুড়িগ্রামে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। তবে মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই, ২৮ নভেম্বর তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই আদেশ স্থগিত করাতে সক্ষম হন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ৪ ফেব্রুয়ারি পুনরায় তার বদলির নির্দেশ জারি হলেও তিনি দীর্ঘ সময় স্বপদে বহাল ছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলজিইডির ভেতরে ও বাইরে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সাময়িক বরখাস্তের পর নিঃশব্দে পিরোজপুর ত্যাগ একাধিক সূত্র জানায়, দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে পৌঁছানোর পর রঞ্জিত দে-কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তের পর তিনি অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর না করেই রাতের আঁধারে পিরোজপুর ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার অভিযোগ অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পিরোজপুর ছাড়ার পর রঞ্জিত দে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করেছিলেন বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। পরে তিনি আবার বাংলাদেশে ফিরে এসে নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দলটির কয়েকজন নেতার মাধ্যমে চাকরিতে পুনর্বহালের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।   পুনর্বহালের চেষ্টার অভিযোগ বর্তমানে রঞ্জিত দে ঢাকায় এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পুনর্বহালের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।   ঠিকাদারদের অভিযোগ পিরোজপুরের একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, রঞ্জিত দে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ বণ্টন করতেন। স্থানীয় ঠিকাদার মো. মামুন মিয়া বলেন, "নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জিত দে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। বদলির আদেশ হলেও অদৃশ্য শক্তির কারণে তিনি বহাল ছিলেন। এতে সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।" পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ঠিকাদার বলেন, "তার পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ না করলেও শত কোটি টাকার বিল পেয়েছে। আমার বৈধ বিলও দীর্ঘদিন আটকে ছিল। প্রকাশ্যে কিছু বললে সমস্যা হতে পারে।" ১২২ কোটি টাকার বিলের অভিযোগ আরেকটি সূত্রের দাবি, নেছারাবাদ উপজেলার ঠিকাদার শফিক সুমন-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো কাজ সম্পন্ন না হলেও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ১২২ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।   স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল্লাহ বলেন, "কাজ না হলেও ঠিকাদার টাকা পেয়েছেন—এমন অভিযোগ আমরা শুনছি। এসব প্রকল্প শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নিয়েও মানুষের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।" স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে সরকারি অর্থের অপব্যবহার রোধ করা যায়। বক্তব্য পাওয়া যায়নি এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রঞ্জিত দে'র সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৩০, ২০২৬ 0

সিলেট গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইলিয়াস আহম্মেদকে ঘিরে ঘুষ, অবৈধ সম্পদ ও অর্থপাচারের অভিযোগ

প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খান।

গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রকৌশলী বদরুল আলম খানকে ঘিরে ক্ষমতার প্রভাব, বদলি ও টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ

কাজী ওয়াছি উদ্দিন

গুলশানের ৩০০ কোটি টাকার সরকারি প্লট: ৪৭ বছরের পুরোনো রায়, হারানো নথি ও রহস্যজনক সিদ্ধান্তের অনুসন্ধান

রাজশাহীর আরসি ফুড কায়ছার আলীকে খুঁজছেন খাদ্য কর্মকর্তারা, ঘুষের টাকা ফেরত চান

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রামের সাবেক আরসি ফুড (বর্তমানে যিনি রাজশাহীর আরসি ফুড) এস. এম. কায়ছার আলীকে খুঁজছেন খাদ্য কর্মকর্তারা। গত মার্চ মাসের শেষের দিকে চট্টগ্রাম থেকে রিলিজ হওয়ার প্রাক্কালে তড়িঘড়ি করে তিন দিনে ১৪ জন খাদ্য কর্মকর্তাকে বদলি ও নতুন পদায়ন করেন এস. এম. কায়ছার আলী। এদের প্রায় প্রত্যেকের কাছ থেকেই পদায়নের গুরুত্ব অনুযায়ী ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা করে অগ্রিম ঘুষ নেন তিনি। এরপর বদলির আদেশ জারি করেন। যদিও নিয়ম অনুযায়ী নিজের বদলির আদেশ জারির পর কোনো কর্মকর্তা অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ রকমের বদলির আদেশ জারি করতে পারেন না। তাছাড়া মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলির ব্যাপারে তখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর থেকে সবুজ সংকেত ছিল না। এসব নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই বেপরোয়া দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এস. এম. কায়ছার আলী বদলিগুলো করেন। বিনিময়ে হাতিয়ে নেন মোট প্রায় দুই কোটি টাকা ঘুষ।   কিন্তু আরসি ফুড (আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক) কায়ছার আলীর এ অপকর্মের খবর ফাঁস হয়ে গেলে মন্ত্রণালয় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়। অবৈধ এ বদলির আদেশগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বাতিলের জন্য মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব নির্দেশ দেন। মন্ত্রণালয়ের চাপে পড়ে বদলির আদেশগুলো বাতিল করতে বাধ্য হন এস. এম. কায়ছার আলী। পরবর্তী কর্মস্থল খুলনায় যোগ দেন তিনি। তবে চট্টগ্রামের খাদ্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অগ্রিম নেওয়া ঘুষের টাকাগুলো আর ফেরত দেননি। এই খাদ্য কর্মকর্তাদের ‘আশ^াস’ দেন, শিগগিরই আবার চট্টগ্রামে ফিরে আসছেন। যদিও খাদ্য কর্মকর্তারা বুঝতে পারছিলেন এটা অসম্ভব। কিন্তু এটাও ভাবছিলেন, দুর্নীতিবাজ কায়ছার আলীর পক্ষে সবই সম্ভব। কায়ছার আলী ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগ আমলে এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও এ রকমের অনেক অসম্ভব কাজকে সম্ভব করেছেন। এদিকে গত সপ্তায় কায়ছার আলী খুলনা থেকে রাজশাহীর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা পদে পদায়ন নিয়ে চলে গেছেন। এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের খাদ্য কর্মকর্তারা এস. এম. কায়ছার আলীকে খুঁজছেন। বিভিন্ন মাধ্যমে তার কাছ থেকে ঘুষের টাকাগুলো ফেরত চাচ্ছেন। তবে প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারছেন না, যেহেতু ঘুষের বিষয়। তাছাড়া, দুর্নীতিবাজ কায়ছার আলীর হাত অনেক লম্বা- যে কোনো সময়, যে কারো ক্ষতি করতে পারেন তিনি। চট্টগ্রাম থেকে অবমুক্তির আগে তড়িঘড়ি যেভাবে দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেন চলতি বছরের মার্চ মাসে এস. এম. কায়ছার আলীকে চট্টগ্রামের আরসি ফুড (আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক) থেকে খুলনার আরসি ফুড পদে বদলি করা হয়। ১৫ মার্চ এই বদলির আদেশ জারি হয়। কিন্তু তিনি খুলনায় যেতে চাননি, যেহেতু সেখানে অবৈধ আয়ের সুযোগ কম। ব্যাপক দেনদরবার করছিলেন, বড় অংকের ঘুষ নিয়েও ঘুরছিলেন। এর আগেও গত বছরের আগস্টে এক দফায় তাকে চট্টগ্রামের আরসি ফুড থেকে খুলনার আরসি ফুড পদে বদলি করা হয়েছিল। তবে এক দিনের মাথায় সেই বদলির আদেশ বাতিল করিয়েছেন। বিনিময়ে তৎকালীন উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার এবং সচিব মাসুদুল হাসানকে দুই কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন।   এস. এম. কায়ছার আলীর চট্টগ্রামের আরসি ফুড পদে পদায়ন হয়েছিল ২০২৩ সালের মার্চে। ২০২৫ সালের মার্চে দুই বছর পূর্ণ হয় অর্থাৎ নীতিমালা অনুযায়ী নতুন পদায়নের সময় আসে। কিন্তু তখনকার উপদেষ্টা ও সচিবকে ম্যানেজ করে চট্টগ্রামেই থাকার ব্যবস্থা করেন তিনি। বিশেষ প্রয়োজনে কোনো কর্মকর্তাকে আরও এক বছর অতিরিক্ত অর্থাৎ তিন বছর পর্যন্ত একই পদায়নে রাখা যায়। নীতিমালার এই সুযোগটি কায়ছার আলীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। তবে নিম্নমানের ও পঁচাচাল গুদামজাতকরণ-সহ নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর আগস্টে তাকে খুলনায় বদলি করতে বাধ্য হয় মন্ত্রণালয়। ওই সময় চট্টগ্রামের অধীনস্থ খাদ্য কর্মকর্তাদের ওপর ব্যাপকহারে চাঁদাবাজি, ঘুষ বাণিজ্য ছাড়াও বদলি বাণিজের মাধ্যমে তড়িঘড়ি বড় অংকের টাকা যোগাড় করেন তিনি। ঢাকায় এসে উপদেষ্টা ও সচিবের সঙ্গে সাক্ষাত করে বদলির আদেশ বাতিলের ব্যবস্থা করেন। বদলির আদেশ জারি হয়েছিল ১৭ আগস্ট, ২০২৫ এবং পরদিনই তা বাতিল করা হয়। সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজ ও শীর্ষনিউজ ডটকমে তখন এ নিয়ে খবরও প্রকাশিত হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী যেহেতু অতিরিক্ত এক বছর থাকার মেয়াদ শেষ হয় চলতি বছরের মার্চ মাসে। তাই এই সময় পর চট্টগ্রামে পদায়নে থাকার আর কোনো সুযোগ নেই। সেই হিসেবে গত ১৫ মার্চ, ২০২৬ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এস. এম. কায়ছার আলীকে খুলনার আরসি ফুড পদে বদলি করা হয়। কিন্তু কায়ছার আলী খুলনায় যাবেন না। বড় অংকের ঘুষ নিয়ে তিনি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মহলে আবারও তদবির শুরু করেন। আগেরবার খুলনায় বদলি ঠেকিয়েছেন, এবারও ঠেকাবেন- এমন ঘোষণা দেন নিজ দপ্তরে বসে। তবে অনেক চেষ্টা করেও এবার আর বদলি ঠেকাতে পারেননি। মন্ত্রণালয়ের তখনকার সচিব জানিয়ে দেন, বদলিস্থলে যেতেই হবে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শেষ মুহূর্তে বেপরোয়া হয়ে উঠেন কায়ছার আলী। ৩১ মার্চ, ২০২৬ ছিল চট্টগ্রাম থেকে রিলিজ (অবমুক্ত) হওয়ার দিন। চলেই যেহেতু যেতে হবে, তাই রিলিজের আগ মুহূর্তে নেমে পড়েন বেপরোয়া বদলি ও ঘুষ বাণিজ্যে। ২৮ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত এই তিন দিনে মোট ১৪টি স্মারকে ১৪ জন খাদ্য কর্মকর্তাকে ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) পদে নতুন পদায়ন দেন। ২৮ মার্চ, ২০২৬ তারিখে ২৮৬ (ম), ২৮৮ (ম), ২৮৯ (ম), ২৯০(ম), ২৯১(ম) নং স্মারকে, ২৯ মার্চ ২৯৩(ম), ২৯৪ (ম), ২৯৫(ম), ২৯৬(ম), ২৯৭(ম) নং স্মারকে এবং ৩০ মার্চ ৩১৫(ম), ৩১৬ (ম), ৩১৭(ম), ৩১৮ (ম) নং স্মারকে বদলির আদেশগুলো জারি করেন তিনি।   এই পদায়নগুলোর বিনিময়ে হাতিয়ে নেন প্রায় দুই কোটি টাকা। অগ্রিম টাকা আদায়ের পরই আদেশ জারি করা হয়। এসব ঘুষের টাকা লেনদেন হয় চট্টগ্রামস্থ আরসি ফুড অফিসে বসেই। এ সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে তার অফিসের টেবিলে একটি পিস্তলও দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। উক্ত ১৪ জনের বাইরে আরও বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে তিনি অগ্রিম ঘুষের টাকা নিয়েছেন। পরের দিন অর্থাৎ শেষ কর্মদিবসে পেছনের তারিখ দিয়ে এদের পদায়নের আদেশ জারি করার কথা ছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের সচিবের নির্দেশের কারণে তা আর সম্ভব হয়ে উঠেনি। বরং যেসব বদলির আদেশ জারি করেছেন তিনি ২৮, ২৯ এবং ৩০ মার্চ- ওই অবৈধ আদেশগুলো বাতিলের নির্দেশ দেন সচিব। ৩০ মার্চ রাতেই এস. এম কায়ছার আলী বাধ্য হন সবগুলো বদলির আদেশ বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করতে। তখনকার চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস. এম. কায়ছার আলী স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, “অত্র দপ্তরের ২৮/০৩/২০২৬ তারিখের ২৮৬ (ম), ২৮৮ (ম), ২৮৯ (ম), ২৯০(ম), ২৯১(ম) নং স্মারকে, ২৯/০৩/২০২৬ তারিখের ২৯৩(ম), ২৯৪ (ম), ২৯৫(ম), ২৯৬(ম), ২৯৭(ম) নং স্মারকে এবং ৩০/০৩/২০২৬ তারিখের ৩১৫(ম), ৩১৬ (ম), ৩১৭(ম), ৩১৮ (ম) নং স্মারকে জারীকৃত প্রজ্ঞাপন এতদ্বারা বাতিল করা হলো। এ আদেশ জনস্বার্থে জারী করা হলো।” প্রজ্ঞাপনের তারিখ ছিল ৩০ মার্চ, ২০২৬। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলেও ছিলেন ক্ষমতার শীর্ষে ফ্যাসিস্ট-লুটেরা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও এস. এম. কায়ছার আলী ছিলেন অত্যন্ত ক্ষমতাবান। আলোচিত ক্ষমতাবান খাদ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। দুর্নীতিবাজ আওয়ামী মন্ত্রীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুবাদে যখন যেটা ইচ্ছে করেছেন সেটিই হয়েছে, অনিয়মের মধ্যে হলেও। বদলি-পদায়নের নীতিমালায় অতিরিক্ত এক বছরসহ সর্বোচ্চ তিন বছর একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগ আছে। কিন্তু নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এস. এম. কায়ছার আলী কুমিল্লা ডিসি ফুড-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদায়নে একনাগাড়ে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ছিলেন, যারমাধ্যমে অতীতের অনিয়মের সকল রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে। তাঁর টার্গেট ছিল কুমিল্লার ডিসি ফুড থেকে সরাসরি চট্টগ্রামের আরসি ফুড হওয়া, যদিও তার জন্য এটা বৈধ নয়। প্রথমত, কায়ছার আলীর বাড়ি চট্টগ্রাম শহরে। দ্বিতীয়ত, আরসি ফুড পদে প্রথম পদায়ন হয়ে থাকে সাধারণত কম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে। কায়ছার আলীর ক্ষেত্রে এ নিয়মগুলোর তোয়াক্কা করা হয়নি। তাঁর চাহিদা অনুযায়ীই পদায়ন করা হয়েছে।   এখনও ক্ষমতাবান! অবাক ব্যাপার হলো, আওয়ামী লীগ আমলের সুবিধাভোগী এবং ক্ষমতাবান কর্মকর্তা কায়ছার আলী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছিলেন টাকার জোরে, এ মুহূর্তে আবার নতুন করে তার ক্ষমতার নজির সৃষ্টি হয়েছে রাজশাহীর আরসি ফুড পদে পদায়ন বাগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে। কম গুরুত্বপূর্ণ খুলনা বিভাগে যোগদানের মাত্র দুই মাসের মাথায় রাজশাহীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের আরসি ফুড পদ বাগিয়ে নিলেন। অবশ্য: এরজন্য তাকে নগদ দুই কোটি টাকা ঘুষ পরিশোধ করতে হয়েছে বলে চাউর আছে। যদিও কায়ছার আলী নানা নাটকীয় প্রচার-প্রচারনার মাধ্যমে ঘুষের এই অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করেছেন তা সফল হয়নি। মন্ত্রণালয়ের সংস্থা প্রশাসন-২ শাখার উপসচিব মো. আবু নাসার উদ্দিনের স্বাক্ষরিত গত ১৪ মে তারিখের এক প্রজ্ঞাপনে খাদ্য অধিদপ্তরের সংগ্রহ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক (চ.দা.) ইকবাল বাহার চৌধুরীকে রাজশাহীর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক পদে পদায়ন করা হয়েছিল। কিন্তু ওই প্রজ্ঞাপনের পর পরই অত্যন্ত তৎপর হয়ে উঠেন দুর্নীতিবাজ কায়ছার আলী। তিনি এর আগে খুলনায় যোগদানের সময়ই ঘোষণা করেছিলেন, সেখানে থাকবেন না। তাকে খুলনায় রাখা যাবে না। মন্ত্রণালয়সহ প্রভাবশালী মহলে ব্যাপক তদবির চালিয়ে ইকবাল বাহার চৌধুরীর রাজশাহীতে যোগদান ঠেকিয়ে দেন তিনি। এর পরিবর্তে রাজশাহীর আরসি ফুড পদে নিজের পদায়নের ব্যবস্থা করেন। গত ২ জুন মন্ত্রণালয়ের একই উপসচিব আবু নাসার উদ্দিন নতুন প্রজ্ঞাপনে কায়ছার আলীকে আরসি ফুড পদে পদায়ন করেন। এই প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হওয়ার পর পরই কায়ছার আলী সর্বত্র প্রচার করতে থাকেন, তিনি রাজশাহীতে যেতে চান না, খুলনায়ই থাকতে চান। এমনও বলা হয় যে, ডিজি বরাবর দরখাস্ত করেছেন, রাজশাহী যেত চান না। এমনকি তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে, এমন কথাও প্রচার করেছেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে আদৌ এ রকমের কোনো দরখাস্ত বা স্ট্যান্ড রিলিজের হদিস পাওয়া যায়নি। আদতে তিনি যে, দুই কোটি টাকার বিনিময়ে রাজশাহীর আরসি ফুড পদে পদায়ন বাগিয়ে নিয়েছেন তা আর গোপন থাকেনি। অধিদপ্তরের অনেকেই এখন একথা জানেন। তবে এ বিষয়ে চট্টগ্রামের খাদ্য কর্মকর্তাদের বক্তব্য হলো, কায়ছার আলী যা খুশি করুক, তাদের অগ্রিম ঘুষের টাকাটা যাতে ফেরত পাওয়া যায় এই ব্যবস্থা করা হোক। খাদ্য অধিপ্তরের পরিচালক জহিরুল ইসলাম খান একই সঙ্গে স্ত্রী শারমিন আক্তার এবং স্ত্রীর আপন ভাগ্নী দু’জনকেই বিয়ে করেছেন। খালা-ভাগ্নী উভয়ে জহিরুলের স্ত্রী। বিভিন্ন সময়ে দু’জনকেই একাধিকবার তালাকও দিয়েছেন তিনি। তালাকের পরে তাদের নিয়ে আবার সংসারও করছেন। পরিচালক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার এ ধরনের অনাচার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড খাদ্য অধিদপ্তরে মুখরোচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিপীড়ন-নির্যাতনের অভিযোগ এনে শারমিন আক্তার পর পর ৪টি মামলা করেন জহিরুলের বিরুদ্ধে। এরমধ্যে তিনটি মামলায় চার্জশিটও হয়েছে। এ কারণে গত সপ্তায় পরিচালক জহিরুল ইসলামকে সাসপেন্ড করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। স্ত্রীর বড় বোনের মেয়ে শাহানা আক্তার স্বর্ণার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে গোপন পরকীয়া সম্পর্কে জড়ান জহিরুল ইসলাম খান। এক পর্যায়ে শাহানা আক্তার স্বর্ণাকে গোপনে বিয়েও করেন। একই সঙ্গে দু’জনের সঙ্গেই সংসার করছিলেন। ঘটনা ধরা পড়ে গেলে স্ত্রীর সঙ্গে এ নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ হয়। স্ত্রীর ওপর শারীরিক নিপীড়ন-নির্যাতনও চালান। এসব ঘটনা তুলে ধরে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ঢাকার ১৩ নম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন জহিরুল ইসলাম খানের স্ত্রী শারমিন আক্তার। মামলায় মোট চার জনকে আসামী করা হয়। এরমধ্যে এক নম্বর আসামি হলেন জহিরুল ইসলাম খান, ২ নং শাহানা আক্তার স্বর্ণা (বোনের মেয়ে), ৩ নং আসামি সাইদ হাসান শাকিল (আপন বোনের ছেলে) এবং ৪ নং আসামি (আপন বোন) সাইফুন আরা। নির্যাতনসহ বিভিন্ন ঘটনায় পরবর্তীতে একে একে আরও তিনটি মামলা দায়ের করেন শারমিন আক্তার। শারমিন আক্তারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে খাদ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের তদন্তে শারমিন আক্তারের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় এবং অবশেষে গত সপ্তায় তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৬, ২০২৬ 0

গৌরনদীতে খাল পুনঃখনন: অবৈধ স্থাপনা বহাল, সরকারি গাছ কাটার অভিযোগে প্রশ্নের মুখে প্রকল্প

অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় এলজিইডি বরিশাল বিভাগ বরিশাল

বরিশাল এলজিইডির নিয়ন্ত্রক বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতা রহমত-ই-খুদা!

সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) মো. সরোয়ার হোসেন

এনবিআর কর্মকর্তা সরোয়ার হোসেনকে ঘিরে অবৈধ সম্পদ, ঘুষ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0