Brand logo light
অনুসন্ধানী সংবাদ

বদলি ও পদায়ন ঘিরে প্রভাববলয়ের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

বিআরটিসিতে আশরাফুল আলমের প্রভাববলয়: ডিপোতে শতকোটি টাকার আয়-ব্যয়, যন্ত্রাংশ কেনাকাটা ও বদলি বাণিজ্য নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন:

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) চলতি দায়িত্বে থাকা উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আশরাফুল আলমকে ঘিরে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি নিয়ন্ত্রণ, কথিত সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা, যন্ত্রাংশ ও টায়ার কেনাকাটায় মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি খরচের হিসাব, টোল-ফেরি ও আনলোডিং ব্যয়ের নথি এবং ডিপো পরিচালনায় প্রভাব বিস্তারের বিষয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, ১৯৯৯ সালে ইন্সপেক্টর পদে চাকরিতে যোগ দেওয়া আশরাফুল আলম দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন ডিপো, ওয়ার্কশপ ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ইউনিট প্রধানদের পদায়ন ও বদলি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ডিপোর আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় তাঁর একটি প্রভাববলয় রয়েছে। এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে ঢাকা ট্রাক ডিপোতে তাঁর দায়িত্ব পালনের সময়কার আর্থিক হিসাব নিয়ে। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত যন্ত্রাংশ খাতে প্রায় ৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা এবং টায়ার খাতে ১০ কোটি ৪২ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ের তথ্য তুলে ধরে অভিযোগকারীরা কয়েকটি কেনাকাটার দামের তুলনা করেছেন। একই সঙ্গে জ্বালানি, টোল-ফেরি, আনলোডিং ও অন্যান্য ব্যয়ের নথি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

 

চাকরিজীবনের শুরু থেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মো. আশরাফুল আলম ১৯৯৯ সালে বিআরটিসিতে ইন্সপেক্টর পদে যোগ দেন। ২০০৩ সালে সিনিয়র ইন্সপেক্টর থেকে ম্যানেজার (কারিগরি) পদে আত্মীকরণ হন। পরবর্তী সময়ে নিয়মিত পদোন্নতির সুযোগ সীমিত থাকায় ২০১৭ সালে তিনি চলতি দায়িত্বে ডিজিএম পদে দায়িত্ব পান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

তাঁর কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় গাজীপুরে বিআরটিসির কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানায় দায়িত্ব পালন। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, ওই সময়ে একটি প্রকল্পের কাজ ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিয়মের প্রশ্ন ওঠে।

তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে ভলভো বাস মেরামতের জন্য আট কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। কিন্তু প্রকল্পের আওতায় ভলভো বাসের পরিবর্তে বিআরটিসির অন্য বাস, বিশেষত দ্বিতল বাস মেরামতের কাজে অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এতে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে যাওয়ার পাশাপাশি আর্থিক অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

এ বিষয়ে ২০১৯ সালের ২০ জুন কর্মচারীদের পক্ষে মো. নজরুল ইসলাম একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ২১ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের একটি চিঠি জারি হয়। চিঠির নম্বর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ৩৫.০০.০০০০.০১৩.৯৯.০২৪.১৮-১৫১।

 

একাধিক ডিপো ও কারিগরি ইউনিটে দায়িত্ব

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আশরাফুল আলম গাজীপুর বাস ডিপো, জোয়ারসাহারা বাস ডিপো, মতিঝিল বাস ডিপো, কল্যাণপুর বাস ডিপো, তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানা, কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ঢাকা ট্রাক ডিপোতে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তাঁদের অভিযোগ, এসব কর্মস্থলে ইউনিট প্রধানদের নিয়োগ, বদলি ও দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে তাঁর প্রভাব ছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ের বিআরটিসি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে তিনি নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেছেন বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেন।

সাবেক চেয়ারম্যান মো. জসিম, মো. মিজানুর রহমান, মো. ফরিদ ভূইয়া, এহসানুল এলাহি ও মো. তাজুল ইসলাম এবং বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখিত মো. আব্দুল লতিফ মোল্লার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আট বছরে বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালনকালে কমপক্ষে ২০ কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে, যার সঙ্গে আশরাফুল আলমের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে তাঁরা অভিযোগ করছেন। 

ঢাকা ট্রাক ডিপো: আয়-ব্যয়ের হিসাবেই প্রশ্ন

আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বিস্তারিত আর্থিক অভিযোগগুলো ঢাকা ট্রাক ডিপোতে তাঁর দায়িত্ব পালনকাল, অর্থাৎ ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কে কেন্দ্র করে।

অভিযোগকারীদের সরবরাহ করা হিসাব অনুযায়ী, ওই সময়ে ডিপোটির মোট রাজস্ব আয় ছিল ২৮৩ কোটি ৮৫ লাখ ২২ হাজার টাকা। এর মধ্যে চলাচল বা সংশ্লিষ্ট একটি খাত থেকে আয় ২৪ থেকে ২৫ কোটি টাকা এবং বাকি প্রায় ২৫৮ থেকে ২৬০ কোটি টাকা প্রাতিষ্ঠানিক আয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই হিসাবে মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৪৮ কোটি ৯ লাখ টাকা। উদ্বৃত্ত বা নিট লাভ দেখানো হয়েছে ৩৫ কোটি ৭৬ লাখ ২২ হাজার টাকা। হিসাব অনুযায়ী, মোট আয়ের ৮৭ দশমিক ৪০ শতাংশ ব্যয় এবং ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ উদ্বৃত্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে। মাসিক গড় নিট লাভের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

তবে এই হিসাবের সঙ্গে পরবর্তী সময়ের লাভের তুলনা করে অভিযোগকারীরা ব্যয় ব্যবস্থাপনায় অসংগতি থাকার প্রশ্ন তুলেছেন।

তাঁদের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে পরবর্তী ইউনিট প্রধানের সময়ে নিট লাভ হয়েছে ৮ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫২ টাকা। মাসিক গড় লাভ প্রায় ৭৭ লাখ ৪১ হাজার ৬৯৬ টাকা।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত আট মাসে নিট লাভের পরিমাণ ৭ কোটি ১১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মাসিক গড় লাভ প্রায় ৮৯ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা।

এই পার্থক্যকে ভিত্তি করে অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, আগের সময়ের তুলনায় পরবর্তী সময়ে মাসিক নিট লাভ বাড়ল কেন? তাঁদের দাবি, বেতন ও অন্যান্য ব্যয়ের পরিবর্তন বিবেচনায় নিলেও আগের সময়ের ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনুসন্ধান হওয়া উচিত।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, ঢাকা ট্রাক ডিপোতে বর্তমানে মাসে প্রায় ৫০ লাখ টাকার অনিয়ম ঘটে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট লেনদেন, নিরীক্ষা পর্যবেক্ষণ কিংবা তদন্তের ফলাফল পাওয়া গেলে অভিযোগটির আর্থিক ব্যাপ্তি নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

যন্ত্রাংশ কেনাকাটা: একই পণ্যের দাম বাড়ল কতটা?

ঢাকা ট্রাক ডিপোতে যন্ত্রাংশ কেনাকাটার হিসাবেও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেরামত ও যন্ত্রাংশ খাতে ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি ৪৯ লাখ ১ হাজার ৮১১ টাকা। এর মধ্যে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের আগের সময়ের ব্যয় ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৮৯ হাজার ৭১১ টাকা। ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ১১ লাখ ১২ হাজার ১০০ টাকা। এ সময়ে পরিশোধের পরিমাণ ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৬১ হাজার ৬২৭ টাকা এবং ভ্যাট-ট্যাক্স ৭৬ লাখ ৫০ হাজার ৪৭৩ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেনাকাটার মূল্য তুলনায় একটি ক্লাচ প্লেটের উদাহরণ তুলে ধরেছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১০ মার্চ ঢাকার বাংলাবাজারের আইচার মটরস থেকে একটি ক্লাচ প্লেট কেনা হয় ৮ হাজার ৫০০ টাকায়। একই বছরের ২৭ মার্চ বাংলাবাজারের মিজান মটরস থেকে একই যন্ত্রাংশ কেনা হয় ১৩ হাজার ৩০০ টাকায়। দ্বিতীয় কেনাকাটিটি টেন্ডার ছাড়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের ১৪ জুন একই যন্ত্রাংশের দাম দেখানো হয় ১৬ হাজার ৩৫০ টাকা। অভিযোগকারীদের তথ্য অনুযায়ী, এবার মিজান মটরসের কাছ থেকেই টেন্ডারের মাধ্যমে কেনা হয়েছিল।

অভিযোগকারীদের দাবি, আশরাফুল আলমের দায়িত্বকালে যন্ত্রাংশ খাতের মোট ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ অনিয়মের মাধ্যমে ব্যয় হয়ে থাকতে পারে। তাঁদের আরও দাবি, বর্তমানে নগদে ভালো মানের একটি ক্লাচ প্লেট ৭ থেকে ৮ হাজার টাকায় কেনা সম্ভব।এ ক্ষেত্রে ক্রয়াদেশ, দরপত্র, সরবরাহকারীর বিল, পণ্য গ্রহণের প্রতিবেদন এবং বাজারদরের তুলনামূলক তথ্য যাচাই করলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

টায়ার কেনাকাটায় মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ

যন্ত্রাংশের পাশাপাশি টায়ার কেনাকাটার হিসাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা ট্রাক ডিপোতে টায়ার খাতে ব্যয় হয়েছে ১০ কোটি ৪২ লাখ ৫১ হাজার ৯৮৮ টাকা। এর মধ্যে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের আগের সময়ের ব্যয় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৩৬ হাজার ৯০০ টাকা। ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ৭৯ লাখ ১৫ হাজার ৮৮ টাকা।

তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৫ মার্চ বাংলাবাজারের নোমান এন্টারপ্রাইজ থেকে ১০.০০-২০ মাপের একটি এমআরএফ টায়ার কেনা হয় ২৭ হাজার টাকায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই কেনাকাটা টেন্ডার ছাড়াই হয়েছিল।

২০২৩ সালের ২২ জুন একই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে একই মাপের টায়ার কেনা হয় ৩৩ হাজার ৫০০ টাকায়। পরে ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮ হাজার ১৫০ টাকা। শেষের কেনাকাটিটি টেন্ডারের মাধ্যমে হয়েছিল বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

তাঁদের দাবি, প্রায় আড়াই বছরের ব্যবধানে প্রতিটি টায়ারের দাম ১১ হাজার ১৫০ টাকা বেড়েছে। এ মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা, দরপত্রে প্রতিযোগিতা এবং সরবরাহকারীর সঙ্গে ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীদের মতে, যন্ত্রাংশ ও টায়ারের মতো বড় ব্যয়ের খাতগুলোতে ক্রয়প্রক্রিয়া ও বাজারদর যাচাই করা হলে সম্ভাব্য অনিয়ম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

জ্বালানি ব্যয়ে কিলোমিটারের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন

ঢাকা ট্রাক ডিপোর জ্বালানি খাতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত জ্বালানি খাতে ব্যয় হয়েছে ১০৭ কোটি ৪৫ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৯ টাকা, যা ওই সময়ের মোট আয়ের প্রায় ৩৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাঁদের অভিযোগ, বাসের রক্ষণাবেক্ষণ লগবুক এবং ট্রাফিক বিভাগের জ্বালানি লগবুকে উল্লেখ করা কিলোমিটারের মধ্যে পার্থক্য দেখিয়ে জ্বালানি খরচের হিসাবে অনিয়ম করা হয়েছে। এভাবে চার বছরে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও করেছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, ডিপোর রেকর্ড বইয়ে এ-সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে।

এই অভিযোগ যাচাই করতে গাড়ির দৈনিক চলাচলের রেকর্ড, ওডোমিটারের পাঠ, জ্বালানি উত্তোলন ও বিতরণ রেজিস্টার, যানবাহনের মেরামত নথি এবং সংশ্লিষ্ট বিল একসঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। কোনো গাড়ি কত কিলোমিটার চলেছে, সেই অনুপাতে কত জ্বালানি বরাদ্দ ও ব্যবহার হয়েছে এবং হিসাবের পার্থক্যের ব্যাখ্যা কী—স্বাধীন তদন্তে এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

টোল-ফেরি ও আনলোডিং ব্যয়ের নথি কোথায়?

জ্বালানি, যন্ত্রাংশ ও টায়ারের বাইরে টোল-ফেরি, আনলোডিং, ভ্যাট-ট্যাক্সসহ অন্যান্য ব্যয় নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, টোল ও ফেরি খাতে মাসে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় দেখানো হতো। কিন্তু এ ব্যয়ের পক্ষে প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট রেকর্ড পাওয়া যায় না বলে তাঁরা অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, এসব খাতে ব্যাংক থেকে নগদ অর্থ উত্তোলনের পর তার যথাযথ হিসাব রাখা হয়নি।

আনলোডিং খাতেও মাসে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের অভিযোগ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোর আনলোডিং ব্যয়ও ঢাকা ট্রাক ডিপো থেকে পরিশোধ করা হতো বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

তাঁদের দাবি, আনলোডিং ব্যয়ের বিবরণী ও প্রকৃত হিসাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে এবং আশরাফুল আলমের দায়িত্বকালীন সময়ে এ খাতে কয়েক কোটি টাকার অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে।

এ ছাড়া ভ্যাট-ট্যাক্স, টোল-ফেরি, আনলোডিং ও অন্যান্য খাতে ব্যয়ের নামে নগদ অর্থ উত্তোলন এবং খাতবহির্ভূত চেকের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

 

বদলি ও পদায়ন ঘিরে প্রভাববলয়ের অভিযোগ

আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি বিআরটিসির বিভিন্ন ডিপোতে ইউনিট প্রধানদের বদলি ও পদায়ন নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি ঢাকার বিভিন্ন ডিপো, ওয়ার্কশপ ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করলেও ঢাকার বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ইউনিটে পদায়িত হননি। একই সঙ্গে তাঁর আনুষ্ঠানিক কর্মস্থল যেখানেই থাকুক, তিনি প্রায়ই প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তাঁদের ভাষ্য, ডিপো প্রধানদের বদলি ও দায়িত্ব বণ্টনে একটি গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে আশরাফুল আলমের যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাদের পারস্পরিক সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিআরটিসির চেয়ারম্যানের পিএস মো. মোহাইমিন সজিব; বরিশাল ডিপোর ম্যানেজার মো. জুলফিকার, ; খুলনা ডিপোর ম্যানেজার মো. কামরুজ্জামান; টুঙ্গিপাড়া ডিপোর ম্যানেজার মো. জামসেদ আলী; রংপুর ডিপোর ম্যানেজার মো. জুলফিকার আল ভুঁইয়া; মতিঝিল ডিপোর ম্যানেজার মো. শাহিদুল; দিনাজপুর ডিপোর ম্যানেজার মো. মোস্তাফিজুর; ময়মনসিংহ ডিপোর ম্যানেজার মো. এনামুল; গাজীপুর ডিপোর ম্যানেজার মো. মোশাররফ; সোনাপুর ডিপোর ম্যানেজার মো. রাজু মোল্লা; কুমিল্লা ডিপোর ম্যানেজার মো. আব্দুল কাদের জিলানি; নরসিংদী ডিপোর ম্যানেজার মো. নূর এ আলম; সিলেট ডিপোর ম্যানেজার মো. রুকনুজ্জামান; মিরপুর ডিপোর ম্যানেজার মো. ওমর ফারুক মেহেদী; কল্যাণপুর ডিপোর ম্যানেজার মো. শাহরিয়ার বুলবুল; গাবতলী ডিপোর ম্যানেজার মো. নায়েব আলী এবং ঢাকা ট্রাক ডিপোর ম্যানেজার মো. মোশাররফ হোসেন সিদ্দিকি।

এ ছাড়া প্রধান কার্যালয়ের আরও ১০ থেকে ১২ জন কর্মকর্তার একটি অংশ ওই বলয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম মো. মনিরুজ্জামানের নামও উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারীরা।

 

মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ

অভিযোগকারীদের দাবি, বিআরটিসির বিভিন্ন ইউনিট থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের একটি ব্যবস্থা রয়েছে, যা তাঁরা মাসোহারা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ অর্থ আদায়ের সঙ্গে চেয়ারম্যানের নাম ব্যবহার করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে আশরাফুল আলমের একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত মো. মাসুদ তালুকদার বর্তমানে জোয়ারসাহারা বাস ডিপোর ইউনিট প্রধান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, মাসুদ তালুকদার একটি পৃথক গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং ইউনিটগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও অর্থ আদায়ের সমন্বয়ে ভূমিকা রাখছেন।

এ ছাড়া তেজগাঁওয়ের দপ্তরে বিভিন্ন কর্মকর্তার নিয়মিত যাতায়াতের বিষয়টিও অভিযোগকারীরা সামনে এনেছেন। তাঁদের দাবি, প্রধান কার্যালয়ের মো. মনিরুজ্জামান, মো. ফারুক, মো. নায়েব আলী এবং চেয়ারম্যানের পিএস মো. মোহাইমিন সজিব সেখানে যাতায়াত করেন।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, জোয়ারসাহারা ও চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোর ইউনিট প্রধান বদলির কয়েকটি ঘটনায় আশরাফুল আলমের পছন্দের প্রার্থীদের পদায়ন নিশ্চিত করা যায়নি। মো. সুলতান নামের এক কর্মকর্তার বদলির আদেশ দুইবার জারি হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।

 

নারী কর্মীদের নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে নারী কর্মীদের ব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করার অভিযোগও তুলেছেন অভিযোগকারীদের কয়েকজন। তাঁদের দাবি, ২০১৭ সালে চেয়ারম্যান মো. ফরিদ এবং ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলামের দায়িত্বকালেও এ ধরনের অভিযোগের চর্চা ছিল। এ-সংক্রান্ত কয়েকটি ঘটনার নিষ্পত্তি তাঁর দপ্তরে হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বজায় রেখে নিরপেক্ষ তদন্ত করা জরুরি।

শ্রমিক-কর্মচারীদের হয়রানি ও অসন্তোষের অভিযোগ

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আশরাফুল আলমের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলে কোনো কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী হয়রানির শিকার হন। ব্যক্তিগত বিষয়ে আপত্তি তোলার কারণে হেলাল নামের এক কর্মীকে ঢাকা ট্রাক ডিপোতে বদলি করা হলেও পরে তাঁকে আবার আশরাফুল আলমের দপ্তরে কাজ করানো হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা ট্রাক ডিপোতে ইয়ার্ডের উন্নয়নকাজ চলার সময় ডিএলআই পরিদর্শন এবং নির্ধারিত কাজের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণে এক কর্মীকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার সুনির্দিষ্ট সময়, সংশ্লিষ্ট আদেশ ও কর্মীর বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, প্রায় আট থেকে নয় মাস আগে ঢাকা ট্রাক ডিপোতে শ্রমিক ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে বিরোধের জেরে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। ওই পরিস্থিতি তৈরিতে আশরাফুল আলমের ভূমিকা ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

শ্রমিক অসন্তোষের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে শ্রমিকদের লিখিত অভিযোগ, ব্যবস্থাপনার বক্তব্য, বৈঠকের কার্যবিবরণী, বদলির আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

বর্তমান দায়িত্ব ও তদন্তের দাবি

বর্তমানে আশরাফুল আলম কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানার ডিজিএম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি প্রায় প্রতিদিন প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও বদলি-সংক্রান্ত বিষয়ে যোগাযোগ রাখেন।

তাঁদের মতে, বিআরটিসির মতো রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে জ্বালানি, যন্ত্রাংশ, টায়ার, পরিবহন ব্যয়, মেরামত এবং ইউনিট পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ এসব খাতে অনিয়ম হলে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা ও জনসেবার মান—দুই ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অভিযোগকারীরা আশরাফুল আলমের দায়িত্বকালীন সব ডিপো ও ওয়ার্কশপের আয়-ব্যয়, প্রকল্পের অর্থ ব্যবহার, জ্বালানি ও যন্ত্রাংশ কেনাকাটা, টায়ারের দরপত্র, টোল-ফেরি ও আনলোডিং ব্যয়, নগদ অর্থ উত্তোলন, খাতবহির্ভূত চেক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি-সংক্রান্ত নথি স্বাধীনভাবে নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

তাঁদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ক্রয়প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, সরবরাহকারী এবং অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের ভূমিকা পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

বিআরটিসির আর্থিক হিসাব ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এখন কয়েকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ: ঢাকা ট্রাক ডিপোর চার বছরের ব্যয় ও লাভের হিসাব কি স্বাধীনভাবে নিরীক্ষা করা হয়েছে? যন্ত্রাংশ ও টায়ারের ক্রয়মূল্য নির্ধারণে কী পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল? জ্বালানি, টোল-ফেরি ও আনলোডিং ব্যয়ের পক্ষে পর্যাপ্ত নথি রয়েছে কি? আর কর্মকর্তা বদলি ও পদায়নের সিদ্ধান্তগুলো কি নির্ধারিত বিধি অনুসারে নেওয়া হয়েছে?

রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থার সম্পদ ও রাজস্ব রক্ষা, কর্মক্ষেত্রে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এ অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ দাবি হয়ে উঠেছে।

 

Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

অনুসন্ধানী সংবাদ

View more
উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল বাশার
ধানমন্ডি ৩২ থেকে ভোলা গণপূর্ত: আবুল বাশারের সম্পদ, রাজনৈতিক পরিচয় ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, জমি দখল, বিপুল সম্পদ অর্জন এবং নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অভিযোগ—গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আবুল বাশারকে ঘিরে সামনে এসেছে এমন একাধিক গুরুতর প্রশ্ন। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল কাজের দায়িত্বে থাকার সময় তিনি রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখল ও সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলাও হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার পরিচয় দেওয়া আবুল বাশার ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপস্থিত হতে শুরু করেন। এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ছবি তোলা এবং অর্থায়নের মাধ্যমে নিজের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা আড়াল করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ধানমন্ডি ৩২-এ প্রায় এক দশকের দায়িত্ব প্রাপ্ত তথ্য ও অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, আবুল বাশার ২০১৫ সালের শুরুর দিক থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল জাদুঘর ও সংশ্লিষ্ট সুদাসদনের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল কাজের দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সুবাদে তিনি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই পরিচয়কে কেন্দ্র করে নিজ এলাকা বরিশালের বাকেরগঞ্জেও তাঁর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৭ নম্বর কবাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার কথা অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মিছিল, সমাবেশ ও জনসভায় তিনি বিপুল অঙ্কের অর্থ সহায়তা দিতেন এবং এলাকায় দলটির একজন অর্থদাতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।  সরকারি দায়িত্বে অনুপস্থিতি ও নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের নথি আবুল বাশারকে ঘিরে অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তাঁর কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অভিযোগ। একটি দাপ্তরিক চিঠির বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম ২ নম্বর বিভাগের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম আবুল বাশারের কাছে কৈফিয়ত তলব করেন। এর জবাবে ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে দেওয়া একটি লিখিত ব্যাখ্যায় আবুল বাশার নির্বাচনী কার্যক্রমে নিজের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেন বলে সরবরাহ করা তথ্যে দাবি করা হয়েছে। ওই চিঠিতে তাঁর বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ রয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি-সংক্রান্ত নির্দেশনার প্রেক্ষাপটে তিনি নিজ এলাকায় ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। নির্বাচনের পর বিজয়ী প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আবদুল হাফিজ মল্লিকের বিজয় সংবর্ধনা ও বিজয় র‌্যালিসহ একটি অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমন্ত্রিত হয়ে উপস্থিত থাকার কথাও তিনি লিখেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।   সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন আবুল বাশারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো তাঁর নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা। অভিযোগকারীদের দাবি, রাজধানীর জুরাইনে পাঁচতলা বাড়ি, নিউ মার্কেট এলাকায় স্বর্ণের দোকান, বরিশাল শহরে বাড়ি, বাকেরগঞ্জের হানুয়া গ্রামে ইটভাটা এবং কয়েকশ বিঘা জমিসহ তাঁর বিপুল সম্পদ রয়েছে। অভিযোগকারীদের কেউ কেউ এসব সম্পদের সম্মিলিত মূল্য অর্ধশত কোটি টাকার বেশি বলে দাবি করেছেন।  অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তাঁর আয়কর নথি, বার্ষিক সম্পদ বিবরণী, জমির দলিল, ব্যাংক লেনদেন, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব এবং পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। সরকারি চাকরির আয় ও ঘোষিত সম্পদের মধ্যে অসংগতি থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের বিষয় হতে পারে। আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপি—রাজনৈতিক অবস্থান বদলের অভিযোগ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আবুল বাশারের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলটির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অর্থ সহায়তা দেওয়া আবুল বাশার পরবর্তী সময়ে বিএনপির বিভিন্ন সভা-সমাবেশে উপস্থিত হতে শুরু করেন। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, বিএনপির কিছু নেতার সঙ্গে ছবি তুলে এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে অর্থ সহায়তা দিয়ে তিনি নিজেকে বিএনপির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন। এ ছাড়া  দুর্নীতির অভিযোগ আড়াল করতে তিনি কিছু সাংবাদিককে অর্থ দিয়ে নিজের পক্ষে প্রতিবেদন প্রকাশ করিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।    দুদকের চিঠি: অনুসন্ধানের নথি কোথায় দাঁড়িয়ে? আবুল বাশারের সম্পদ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) যোগাযোগের কথাও সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে দুদক তাঁর বিষয়ে তথ্য চেয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে একটি চিঠি পাঠায়। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে অধিদপ্তরের সংস্থাপন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মাহাবুব হাসান আবুল বাশারের জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি, পাসপোর্ট, টিআইএন, চাকরির বেতন ও অন্যান্য সুবিধা, চাকরির বিবরণী এবং ঝিগাতলা অফিসার্স কোয়ার্টার নির্মাণ প্রকল্প-সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করেন বলে দাবি করা হয়েছে। এই তথ্য থেকে দুদক তাঁর বিষয়ে তথ্য চেয়েছিল বলে অভিযোগের একটি দিক সামনে আসে।  অভিযোগকারীদের আরও দাবি, অর্থের বিনিময়ে দুদকের অনুসন্ধান প্রভাবিত বা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। এ অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট লেনদেনের প্রমাণ বা কমিশনের কোনো আনুষ্ঠানিক নথি সরবরাহ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই না করে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়। জমি দখলের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন ও মামলা ২০২৫ সালের মার্চে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আবুল বাশারের বিরুদ্ধে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে লিখিত বক্তব্যে কুদ্দুস মিয়া নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ২০১৫ সাল থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় দায়িত্ব পালনের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে আবুল বাশার তাঁর এবং তাঁর বোনের ৭০ শতাংশ জমি ও অন্য প্রতিবেশীদের জমি অবৈধভাবে দখল করেছেন। কুদ্দুস মিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় তিনি গত ১২ মার্চ বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালত তথা স্পেশাল জজ আদালতে আবুল বাশারসহ চারজনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেন। এ ছাড়া হানুয়া গ্রামের বাসিন্দা খালেক মিয়ার ছেলে জামাল হোসেন মিয়া গত জানুয়ারিতে বরিশাল অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবুল বাশারসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেছেন বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।   ইটভাটা ও বেনামি ব্যবসার অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে কুদ্দুস মিয়ার বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়, আবুল বাশার তাঁর বাবার নামে বাকেরগঞ্জের হানুয়া গ্রামে একটি ইটভাটা চালু করেন। প্রতিষ্ঠানটি আগে সূর্য ইটভাটা নামে পরিচিত ছিল এবং বর্তমানে এএইচ ব্রিকস নামে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে বেনামে ঠিকাদারি ব্যবসা, সুদে টাকা বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও তোলা হয়েছে।    রাজনৈতিক পরিচয় নয়, প্রয়োজন নথিভিত্তিক জবাবদিহি আবুল বাশারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে: দীর্ঘদিন একই গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের পেছনে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কী ছিল? নির্বাচনী সময়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়ে দপ্তরের ব্যবস্থা কী? তাঁর ঘোষিত আয় ও সম্পদের মধ্যে কোনো অসংগতি রয়েছে কি না? জমি নিয়ে দায়ের করা মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা কী? আর দুদক তাঁর বিষয়ে তথ্য চাওয়ার পর অনুসন্ধান কোন পর্যায়ে রয়েছে? এসব প্রশ্নের উত্তর রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি কিংবা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়ে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সরকারি চাকরির নথি, সম্পদ বিবরণী, ভূমি রেকর্ড, ব্যবসায়িক মালিকানা, ব্যাংক লেনদেন এবং আদালত ও দুদকের নথির সমন্বিত যাচাই। অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্ন আসতে পারে। আর অভিযোগ অসত্য বা অতিরঞ্জিত হলে সেটিও নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। জনস্বার্থে অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান, প্রমাণভিত্তিক প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য প্রকাশই হতে পারে জবাবদিহি নিশ্চিত করার কার্যকর পথ।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0

বিআরটিসিতে আশরাফুল আলমের প্রভাববলয়: ডিপোতে শতকোটি টাকার আয়-ব্যয়, যন্ত্রাংশ কেনাকাটা ও বদলি বাণিজ্য নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ফিরোজ হাসানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের এআরও গোলাম হাসনাইনের বিরুদ্ধে কোটি টাকার ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের এআরও গোলাম হাসনাইনের বিরুদ্ধে কোটি টাকার ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ

ঘুষ বাণিজ্যে ২০ কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ, কর কর্মকর্তা সাইফুলকে ঘিরে তোলপাড়
কর বিভাগের উচ্চমান সহকারী সাইফুলের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও ১৩ কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: সরকারি চাকরিতে এক যুগের মতো সময়। অথচ অভিযোগে উঠে এসেছে জমি, বাড়ি, গরুর খামারসহ প্রায় ১৩ কোটি ৭ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব। এর বাইরে স্ত্রী ও নিকটজনদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর, সঞ্চয়পত্র ও নগদ অর্থ মিলিয়ে আরও প্রায় ৫ কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে করদাতাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়, ঘুষ বাণিজ্য এবং জমি দখলের অভিযোগও উঠেছে। সব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ঢাকা কর অঞ্চল-৫-এর সার্কেল-৯৯-এ কর্মরত উচ্চমান সহকারী সাইফুল ইসলাম। অভিযোগকারীদের দাবি, করদাতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে কর বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অজুহাত তৈরি করা হয়। কখনো করসংক্রান্ত জটিলতা, কখনো নথিপত্রের সমস্যা—এ ধরনের পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।  প্রশ্ন উঠেছে, একজন সরকারি কর্মচারীর চাকরিজীবনের আয় ও ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে অভিযোগে উঠে আসা বিপুল সম্পদের সামঞ্জস্য কতটা? এসব সম্পদ তাঁর নিজের, পরিবারের সদস্যদের, নাকি অন্য কারও নামে রয়েছে? ব্যাংক হিসাব, আয়কর রিটার্ন, জমির দলিল ও সম্পদ অর্জনের সময়কাল যাচাই করা হলে কি মিলবে অভিযোগের প্রমাণ? অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। করদাতাদের জিম্মি করে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ ঢাকা কর অঞ্চল-৫-এর সার্কেল-৯৯-এ কর্মরত সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে করদাতাদের ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কর কমিশনার ও ডেপুটি কর কমিশনারের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অজুহাত সৃষ্টি করা হয়। এর মাধ্যমে করদাতাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে দাবি অভিযোগকারীদের। সরকারি রাজস্ব আদায় ও করদাতাদের সেবা দেওয়ার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে তা শুধু ব্যক্তিগত অনিয়মের প্রশ্ন নয়; বরং কর প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়ও সামনে আসে। এক যুগের চাকরিতে ১৩ কোটি টাকার সম্পদ? প্রাপ্ত অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার পলশিয়া পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম (৪৫)। তাঁর বাবা মো. ছোবহান। অভিযোগকারীদের দাবি, চাকরিজীবনে প্রায় এক যুগের মধ্যে তিনি জমি, বাড়ি ও গরুর খামারসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগে তাঁর নিজের, পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা এবং কথিত বেনামি সম্পদ মিলিয়ে প্রায় ১৩ কোটি ৭ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি স্ত্রী ও নিকটজনদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর, সঞ্চয়পত্র ও নগদ অর্থ মিলিয়ে আরও প্রায় ৫ কোটি টাকার সম্পদ থাকার দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে, সম্পদগুলো কখন কেনা হয়েছে, কোন অর্থে কেনা হয়েছে, সেগুলো আয়কর রিটার্নে দেখানো হয়েছে কি না এবং পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের প্রকৃত অর্থদাতা কে—এসব প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান ছাড়া সম্পদের উৎস সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ১১ শতাংশ জমিতে গরুর খামার অভিযোগ অনুযায়ী, সাইফুল ইসলামের নিজ বাড়ির পাশে প্রায় ১১ শতাংশ জমিতে একটি গরুর খামার রয়েছে। ওই জমির আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। খামারটিতে চারজন কর্মচারী কাজ করেন এবং তাঁদের বেতনসহ মাসে প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয় হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।খামারের জমির মালিকানা, গবাদিপশুর সংখ্যা, বিনিয়োগের পরিমাণ, পরিচালন ব্যয় এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব যাচাই করা হলে এটি থেকে অর্জিত আয়ের প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে খামারটি কবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর মূলধন কোথা থেকে এসেছে, তা-ও গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানের বিষয়। প্রায় দুই কোটি টাকার বাড়ি সাইফুল ইসলামের একটি বাড়ির মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাড়িটির জমির দলিল, নির্মাণকাল, নির্মাণ ব্যয় এবং বর্তমান বাজারমূল্য সম্পর্কে বিস্তারিত নথি প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে নেই। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর চাকরিজীবনের আয় ও ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে বাড়িটির মূল্য এবং নির্মাণ ব্যয়ের হিসাব মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বাড়ির জমি কেনার দলিল, নির্মাণসামগ্রী ও ঠিকাদারি ব্যয়ের নথি, অর্থ পরিশোধের রেকর্ড এবং আয়কর বিবরণী যাচাই করলে সম্পদ অর্জনের উৎস সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ভারারিয়া, মাইজবাড়ী ও পলশিয়ায় জমির হিসাব অভিযোগপত্রে সাইফুল ইসলামের নামে বা তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা বিভিন্ন এলাকার জমির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। ভারারিয়া: এখানে প্রায় এক বিঘা জমি রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জমিটির আনুমানিক মূল্য ৫০ লাখ টাকা। মাইজবাড়ী: এলাকায় প্রায় দুই বিঘা জমি থাকার অভিযোগ রয়েছে। এর মূল্যও প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাড়ির আশপাশে: প্রায় ২০ শতাংশ জমির তথ্য দেওয়া হয়েছে। কবরস্থানসংলগ্ন এলাকা: এখানে প্রায় ১০ শতাংশ জমি থাকার অভিযোগ রয়েছে। পলশিয়া বাজারের প্রধান সড়কের পাশে: প্রায় ১৬ শতাংশ জমির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে এসব জমির মূল্য ও মালিকানা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দেওয়া হলেও সব সম্পদের মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি স্পষ্ট নয়। ফলে জমির দলিল, খতিয়ান, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রকৃত বাজারমূল্য যাচাই করা জরুরি।একই জমি একাধিকবার সম্পদের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না, জমিগুলোর প্রকৃত মালিক কে এবং সেগুলো কেনার অর্থ কোথা থেকে এসেছে—এ বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। সম্পদের অভিযোগের পাশাপাশি জমি দখলের মামলা সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগের পাশাপাশি জমি দখল ও জোরপূর্বক জমি নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, কবরস্থানের পাশে থাকা একটি জমি জোরপূর্বক নেওয়ার দাবি রয়েছে। অন্য একটি ঘটনায় তিন ভাইকে বঞ্চিত করে তাঁদের বাবার কাছ থেকে জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।এ ছাড়া মৃত ছামান আলীর ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেনের প্রায় ছয় শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল বা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। মাইজবাড়ীর ১৪ শতাংশ জমি নিয়ে আদালতে বিরোধ জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধের একটি ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গোপালপুর থানার আমলি আদালতে মো. হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে সাইফুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অন্য অভিযুক্তরা হলেন রুহুল আমিন, আবু বকর মিয়া ও শাহজাহান। মামলার নথিতে মাইজবাড়ীর ১৪ শতাংশ জমির মালিকানা ও দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের কথা উল্লেখ রয়েছে। বিরোধের পর আদালতের নোটিশে উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নালিশি ভূমিতে যে যার দখল বজায় রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং গোপালপুর থানা আমলি আদালতে পৃথক দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।  বাদী হাফিজুর রহমানের অভিযোগ, সাইফুল ইসলাম নিজের সরকারি পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে মামলাগুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি এবং অভিযুক্তের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। স্ত্রী ও নিকটজনদের নামে অর্থ: অনুসন্ধানের আরেক ক্ষেত্র অভিযোগে সাইফুল ইসলামের স্ত্রী ও নিকটজনদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর, পোস্ট অফিসে সঞ্চয়পত্র এবং নগদ অর্থ থাকার দাবি করা হয়েছে। এসব সম্পদের মোট মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তাঁদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব, আমানতের অর্থের উৎস এবং আয়কর নথি যাচাই করলে সম্পদ অর্জনের প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে। তবে পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদ থাকা নিজে থেকেই কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়। এসব অর্থের প্রকৃত মালিকানা, বৈধ আয়ের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় অনুসন্ধান করতে হবে। অভিযোগে স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে আমানত শনাক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত ক্ষমতা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরিচালিত হওয়া উচিত। আয়কর রিটার্ন ও সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ের দাবি সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হলো—তাঁর চাকরিজীবনের আয় এবং কথিত সম্পদের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না। এ প্রশ্নের উত্তর পেতে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন: চাকরিতে যোগদানের সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত বেতন, ভাতা ও অন্যান্য বৈধ আয়ের হিসাব। দাখিল করা আয়কর রিটার্ন এবং তাতে প্রদর্শিত সম্পদ ও দায়ের বিবরণ। নিজের ও সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা জমি, বাড়ি ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তির দলিল। ব্যাংক আমানত, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র এবং অর্থের উৎসের প্রাসঙ্গিক নথি। গরুর খামারের বিনিয়োগ, পরিচালন ব্যয় এবং আয়ের হিসাব। জমি কেনা ও বাড়ি নির্মাণের সময়কাল এবং অর্থ পরিশোধের রেকর্ড। এসব নথি পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলেই সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ, মালিকানা ও অর্থের উৎস সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ধারণা পাওয়া সম্ভব। দুদক ও এনবিআরের তদন্ত দাবি সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কর গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, শুধু সম্পদের আনুমানিক মূল্য নির্ধারণ করলেই হবে না; সম্পদ অর্জনের অর্থের উৎস, কর নথিতে তার প্রতিফলন এবং অভিযোগে উল্লিখিত ঘুষ লেনদেনের বিষয়ও অনুসন্ধান করতে হবে। ঘুষ গ্রহণ বা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করার আগে প্রমাণ সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রয়োজন সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর এখনো গুরুত্বপূর্ণ: ১. অভিযোগে উল্লেখ করা প্রায় ১৩ কোটি ৭ লাখ টাকার সম্পদের পূর্ণাঙ্গ দলিল ও মূল্যায়ন কোথায়? ২. স্ত্রী ও নিকটজনদের নামে আরও প্রায় পাঁচ কোটি টাকার আমানত থাকার দাবির পক্ষে কী ধরনের নথি রয়েছে? ৩. এসব সম্পদ তাঁর চাকরিজীবনের আয় ও দাখিল করা আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না? ৪. করদাতাদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট লেনদেন, সাক্ষ্য বা দাপ্তরিক নথি রয়েছে কি না? ৫. জমি নিয়ে বিচারাধীন মামলাগুলোর সর্বশেষ অবস্থা কী এবং সংশ্লিষ্ট আদালত কী আদেশ দিয়েছেন? ৬. অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোনো বিভাগীয় তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করেছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ সহজ হবে।  অভিযোগ নয়, নথিভিত্তিক তদন্তই হোক সিদ্ধান্তের ভিত্তি একজন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, করদাতাদের হয়রানি এবং বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে, অভিযোগে উল্লিখিত সম্পদের পরিমাণ যদি তাঁর বৈধ আয় ও ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে তা যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে অনুমান, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা সম্পদের আনুমানিক মূল্যকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। জমির দলিল, ব্যাংক নথি, আয়কর রিটার্ন, অর্থের উৎস এবং আদালতের নথি যাচাই করেই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে। সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে দুদক, এনবিআর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান হলে একদিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাই হবে, অন্যদিকে কোনো ভিত্তিহীন অভিযোগ থাকলেও তা স্পষ্ট হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা বজায় রাখতে প্রয়োজন স্বচ্ছ তদন্ত, জবাবদিহি এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা।  

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0

বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল যখন ঠিকাদার: ঘুষ দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ

সংস্কারের নামে গণপূর্তে ২২ কোটি টাকার ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ, কাজ না করেই বিল উত্তোলন

ইব্রাহিম খলিল ও মাহমুদুল আলম

বিএডিসির দুই প্রকল্পে শতকোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর: বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের নেতা ও সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি সরোয়ার এখনো ঢাকা মেট্রোতে বহাল থাকা নিয়ে প্রশ্ন

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, ঠিকাদারি কাজে প্রভাব বিস্তার ও প্রশাসনিক সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ: দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি:সরকারি তথ্য ফাঁসের রয়েছে অভিযোগ- ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) ঢাকা মেট্রোতে কর্মরত সহকারী প্রকৌশলী মো. সরোয়ার হোসেনকে ঘিরে  কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, ঠিকাদারি কাজে প্রভাব বিস্তার এবং প্রশাসনিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের ইইডি শাখার আহ্বায়ক কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকা এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি হিসেবে তাঁর পরিচয়ের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি ঢাকা মেট্রোতে কর্মরত থাকায় ১৭ বছরের বঞ্চিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ। তারা দ্রুত মো. সরোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের ইইডি শাখার একই কমিটির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। ফলে একই কমিটিতে থাকা কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রশাসনের সিদ্ধান্তে পার্থক্য কেন—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অভ্যান্তরে।সরোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ, কাজ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার এবং অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  ২০২২ সালের বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের কমিটিতে সরোয়ারের নাম:  প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৭ জুলাই বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর শাখার ১৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই কমিটির তালিকার ১৪ নম্বর সদস্য হিসেবে প্রকৌশলী মো. সরোয়ার হোসেনের নাম রয়েছে। সেখানে তাঁর পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে ‘ঢাকা মেট্রোর সহকারী প্রকৌশলী’ হিসেবে। কমিটি অনুমোদনের নথিতে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির তৎকালীন সভাপতি অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামানের নাম ও স্বাক্ষর রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সরোয়ার হোসেন ২০২২ সালের জানুয়ারিতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রোতে যোগ দেন।  বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের শাখা কমিটি গঠনের সময় তিনি সেখানে কর্মরত ছিলেন। একজন সরকারি কর্মকর্তার রাজনৈতিক পরিচয় বা কোনো সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রকৃতি, কর্মকর্তার ভূমিকা, প্রযোজ্য সরকারি চাকরিবিধি এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট বিধিভঙ্গের প্রমাণ রয়েছে কি না। সরোয়ার হোসেনের ক্ষেত্রে এসব বিষয় পর্যালোচনা করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেয়ার দাবি করেছেন সাধারন কর্মকর্তারা। তাঁর নিয়োগ, পদায়ন ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের বিষয়ে  প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেয়া হলে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে বলে সুত্র জানায়।   ঢাকা মেট্রোর দায়িত্ব পালন ও ঠিকাদারি কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ:  সরোয়ার হোসেন ঢাকা মেট্রোতে যোগ দেওয়ার সময় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন হাসান শওকত। পরবর্তী সময়ে ঢাকা মেট্রোর বিভিন্ন কাজ, প্রকল্প ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে নানা অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি হাসান শওকতের অফিসকক্ষে অর্থ লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচনায় আসে। ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে।  এদিকে, হাসান শওকতের দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা মেট্রোর বিভিন্ন উন্নয়নকাজ ও ঠিকাদারি কার্যক্রমে সরোয়ার হোসেনের প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন ঠিকাদারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল এবং কাজ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি প্রভাব বিস্তার করতেন। এ প্রক্রিয়ায় অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। একই কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, সরোয়ারের ক্ষেত্রে কী হয়েছে?:  প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বৈষম্য বা অসংগতি রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের ওই আহ্বায়ক কমিটির কয়েকজন সদস্যকে পরবর্তী সময়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কমিটির ৩ নম্বর সদস্য রায়হান বাদশা, ৪ নম্বর সদস্য আফরোজা বেগম এবং ৫ নম্বর সদস্য সমীর কুমার রজক দাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, একই কমিটির ১৪ নম্বর সদস্য সরোয়ার হোসেন এখনো ঢাকা মেট্রোতে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। এখানেই দেখা দিয়েছে কয়েকটি প্রশ্ন। একই কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে যদি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা কিংবা সাংগঠনিক ভূমিকার কারণে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সরোয়ার হোসেনের ক্ষেত্রে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন? আবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রকৃত কারণ যদি ভিন্ন হয়ে থাকে, তাহলে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ভিত্তি কী?  ‘টাকা দিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ’ করার অভিযোগ:  সরোয়ার হোসেনের ঢাকা মেট্রোতে অবস্থান বজায় থাকার পেছনে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রশাসনের ভেতরে প্রভাব কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা।নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রধান কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে তিনি ঢাকা মেট্রোতে বহাল রয়েছেন।অভিযোগটি সত্য হলে তা সরকারি প্রতিষ্ঠানে বদলি ও পদায়নের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলতে পারে। তাই তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি বলে মনে করেন কর্মকর্তারা। কুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:  সরোয়ার হোসেন কুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন । এ ছাড়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।তাদের সাথে ছবিও রয়েছে সরোয়ারের। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলন দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার এবং বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের হত্যার ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও তদন্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে আদালত ও তদন্তসংশ্লিষ্ট পর্যায়ে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।  তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। আর সেই আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের ঘনিষ্ট হিসেবে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সহকারী প্রকৌশলী মো. সরোয়ার হোসেন। অন্যদিকে, জাহাঙ্গীর কবির নানকের বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলন দমন ও গুলিবর্ষণের অভিযোগে মামলা ও বিচারপ্রক্রিয়াধীন। সেই জাহাঙ্গীর কবির নানকের ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে পরিচিত সহকারী প্রকৌশলী মো. সরোয়ার হোসেন। সরোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সহিংসতায় উস্কানি ও অর্থ দিয়ে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে।   সরোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি:  ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, দায়িত্ব পালন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ক্ষেত্রেও কর্মকর্তাদের সাংগঠনিক পরিচয় ও পদায়নের বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি উঠেছে। সরোয়ার হোসেনের ক্ষেত্রে মূলত দুটি বিষয় স্পষ্ট। প্রথমত, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের ইইডি শাখার কমিটিতে তাঁর অন্তর্ভুক্তির সময় সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী বিধিনিষেধ প্রযোজ্য থাকার পরেও তিনি বিধি বিদান অমান্য করে সংগঠন করেছেন।সংগঠনে ছিল তার জোড়ালো  সাংগঠনিক ভূমিকা। দ্বিতীয়ত, ৫ আগস্টের পরেও তাঁর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও ঠিকাদারি কাজে প্রভাবের কারনে ক্ষুব্ধ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাধারন কর্মকর্তারা।   ঢাকা মেট্রোতে বহাল থাকায় সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথি ও  প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ফাঁসের আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ঠিকাদারি কাজে প্রভাব বিস্তার ও অর্থের বিনিময়ে প্রশাসনিক সুবিধা পাওয়ার অভিযোগেরও তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রকল্পের নথি, দরপত্র ও কার্যাদেশ, ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ, বিল অনুমোদনের প্রক্রিয়া এবং প্রাসঙ্গিক আর্থিক রেকর্ড পর্যালোচনা করারও দাবী জোড়ালো হচ্ছে। প্রধান প্রকৌশলীর আশ্বাস: তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে:  সরোয়ার হোসেনের ঢাকা মেট্রোতে বহাল থাকা এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্তের পরিধি, সময়সীমা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কিংবা কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না—এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।        শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) ঢাকা মেট্রোতে কর্মরত সহকারী প্রকৌশলী মো. সরোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে অফিসে না পাওয়ায় তার বক্তব্য গ্রহন করা সম্ভব হয়নি। এখন দেখার বিষয়, প্রধান প্রকৌশলীর আশ্বাসের পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয় কি না এবং তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে পদায়ন, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ঠিকাদারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের ইইডি শাখার কমিটিতে ছিলেন সহকারী প্রকৌশলী মো. সরোয়ার হোসেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, একই কমিটির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তিনি এখনো ঢাকা মেট্রোতে কর্মরত। তাঁর বিরুদ্ধে ঠিকাদারি কাজে প্রভাব বিস্তার ও প্রশাসনিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে  তদন্ত কতটা এগোয়, এখন সেদিকেই নজর।  

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১০, ২০২৬ 0

বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ সিন্ডিকেটের ড্রেজিং প্রকল্পে শতকোটি টাকা লুটপাটের মহোৎসব : নদী খননে শত শত কোটি টাকা, তবু নাব্যতা ফেরে না: বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং ঘিরে গুরুতর অভিযোগ

আশিক চৌধুরী,  আঁখি বেগম

বরিশালের ‘বিউটি সিনেমা হল’ জমি ঘিরে কোটি টাকার বিরোধ:ভবনে অগ্নিসংযোগ, দখলচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি

ইইডির শীর্ষ পদ দখলের দৌড়: পদোন্নতি, সিন্ডিকেট ও বিতর্কের অভিযোগে অস্থিরতা

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0