Brand logo light

ঢাকা কর অঞ্চল-৫

ঘুষ বাণিজ্যে ২০ কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ, কর কর্মকর্তা সাইফুলকে ঘিরে তোলপাড়
কর বিভাগের উচ্চমান সহকারী সাইফুলের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও ১৩ কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: সরকারি চাকরিতে এক যুগের মতো সময়। অথচ অভিযোগে উঠে এসেছে জমি, বাড়ি, গরুর খামারসহ প্রায় ১৩ কোটি ৭ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব। এর বাইরে স্ত্রী ও নিকটজনদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর, সঞ্চয়পত্র ও নগদ অর্থ মিলিয়ে আরও প্রায় ৫ কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে করদাতাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়, ঘুষ বাণিজ্য এবং জমি দখলের অভিযোগও উঠেছে। সব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ঢাকা কর অঞ্চল-৫-এর সার্কেল-৯৯-এ কর্মরত উচ্চমান সহকারী সাইফুল ইসলাম। অভিযোগকারীদের দাবি, করদাতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে কর বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অজুহাত তৈরি করা হয়। কখনো করসংক্রান্ত জটিলতা, কখনো নথিপত্রের সমস্যা—এ ধরনের পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।  প্রশ্ন উঠেছে, একজন সরকারি কর্মচারীর চাকরিজীবনের আয় ও ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে অভিযোগে উঠে আসা বিপুল সম্পদের সামঞ্জস্য কতটা? এসব সম্পদ তাঁর নিজের, পরিবারের সদস্যদের, নাকি অন্য কারও নামে রয়েছে? ব্যাংক হিসাব, আয়কর রিটার্ন, জমির দলিল ও সম্পদ অর্জনের সময়কাল যাচাই করা হলে কি মিলবে অভিযোগের প্রমাণ? অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। করদাতাদের জিম্মি করে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ ঢাকা কর অঞ্চল-৫-এর সার্কেল-৯৯-এ কর্মরত সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে করদাতাদের ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কর কমিশনার ও ডেপুটি কর কমিশনারের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অজুহাত সৃষ্টি করা হয়। এর মাধ্যমে করদাতাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে দাবি অভিযোগকারীদের। সরকারি রাজস্ব আদায় ও করদাতাদের সেবা দেওয়ার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে তা শুধু ব্যক্তিগত অনিয়মের প্রশ্ন নয়; বরং কর প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়ও সামনে আসে। এক যুগের চাকরিতে ১৩ কোটি টাকার সম্পদ? প্রাপ্ত অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার পলশিয়া পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম (৪৫)। তাঁর বাবা মো. ছোবহান। অভিযোগকারীদের দাবি, চাকরিজীবনে প্রায় এক যুগের মধ্যে তিনি জমি, বাড়ি ও গরুর খামারসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগে তাঁর নিজের, পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা এবং কথিত বেনামি সম্পদ মিলিয়ে প্রায় ১৩ কোটি ৭ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি স্ত্রী ও নিকটজনদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর, সঞ্চয়পত্র ও নগদ অর্থ মিলিয়ে আরও প্রায় ৫ কোটি টাকার সম্পদ থাকার দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে, সম্পদগুলো কখন কেনা হয়েছে, কোন অর্থে কেনা হয়েছে, সেগুলো আয়কর রিটার্নে দেখানো হয়েছে কি না এবং পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের প্রকৃত অর্থদাতা কে—এসব প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান ছাড়া সম্পদের উৎস সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ১১ শতাংশ জমিতে গরুর খামার অভিযোগ অনুযায়ী, সাইফুল ইসলামের নিজ বাড়ির পাশে প্রায় ১১ শতাংশ জমিতে একটি গরুর খামার রয়েছে। ওই জমির আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। খামারটিতে চারজন কর্মচারী কাজ করেন এবং তাঁদের বেতনসহ মাসে প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয় হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।খামারের জমির মালিকানা, গবাদিপশুর সংখ্যা, বিনিয়োগের পরিমাণ, পরিচালন ব্যয় এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব যাচাই করা হলে এটি থেকে অর্জিত আয়ের প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে খামারটি কবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর মূলধন কোথা থেকে এসেছে, তা-ও গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানের বিষয়। প্রায় দুই কোটি টাকার বাড়ি সাইফুল ইসলামের একটি বাড়ির মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাড়িটির জমির দলিল, নির্মাণকাল, নির্মাণ ব্যয় এবং বর্তমান বাজারমূল্য সম্পর্কে বিস্তারিত নথি প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে নেই। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর চাকরিজীবনের আয় ও ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে বাড়িটির মূল্য এবং নির্মাণ ব্যয়ের হিসাব মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বাড়ির জমি কেনার দলিল, নির্মাণসামগ্রী ও ঠিকাদারি ব্যয়ের নথি, অর্থ পরিশোধের রেকর্ড এবং আয়কর বিবরণী যাচাই করলে সম্পদ অর্জনের উৎস সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ভারারিয়া, মাইজবাড়ী ও পলশিয়ায় জমির হিসাব অভিযোগপত্রে সাইফুল ইসলামের নামে বা তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা বিভিন্ন এলাকার জমির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। ভারারিয়া: এখানে প্রায় এক বিঘা জমি রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জমিটির আনুমানিক মূল্য ৫০ লাখ টাকা। মাইজবাড়ী: এলাকায় প্রায় দুই বিঘা জমি থাকার অভিযোগ রয়েছে। এর মূল্যও প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাড়ির আশপাশে: প্রায় ২০ শতাংশ জমির তথ্য দেওয়া হয়েছে। কবরস্থানসংলগ্ন এলাকা: এখানে প্রায় ১০ শতাংশ জমি থাকার অভিযোগ রয়েছে। পলশিয়া বাজারের প্রধান সড়কের পাশে: প্রায় ১৬ শতাংশ জমির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে এসব জমির মূল্য ও মালিকানা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দেওয়া হলেও সব সম্পদের মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি স্পষ্ট নয়। ফলে জমির দলিল, খতিয়ান, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রকৃত বাজারমূল্য যাচাই করা জরুরি।একই জমি একাধিকবার সম্পদের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না, জমিগুলোর প্রকৃত মালিক কে এবং সেগুলো কেনার অর্থ কোথা থেকে এসেছে—এ বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। সম্পদের অভিযোগের পাশাপাশি জমি দখলের মামলা সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগের পাশাপাশি জমি দখল ও জোরপূর্বক জমি নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, কবরস্থানের পাশে থাকা একটি জমি জোরপূর্বক নেওয়ার দাবি রয়েছে। অন্য একটি ঘটনায় তিন ভাইকে বঞ্চিত করে তাঁদের বাবার কাছ থেকে জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।এ ছাড়া মৃত ছামান আলীর ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেনের প্রায় ছয় শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল বা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। মাইজবাড়ীর ১৪ শতাংশ জমি নিয়ে আদালতে বিরোধ জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধের একটি ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গোপালপুর থানার আমলি আদালতে মো. হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে সাইফুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অন্য অভিযুক্তরা হলেন রুহুল আমিন, আবু বকর মিয়া ও শাহজাহান। মামলার নথিতে মাইজবাড়ীর ১৪ শতাংশ জমির মালিকানা ও দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের কথা উল্লেখ রয়েছে। বিরোধের পর আদালতের নোটিশে উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নালিশি ভূমিতে যে যার দখল বজায় রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং গোপালপুর থানা আমলি আদালতে পৃথক দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।  বাদী হাফিজুর রহমানের অভিযোগ, সাইফুল ইসলাম নিজের সরকারি পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে মামলাগুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি এবং অভিযুক্তের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। স্ত্রী ও নিকটজনদের নামে অর্থ: অনুসন্ধানের আরেক ক্ষেত্র অভিযোগে সাইফুল ইসলামের স্ত্রী ও নিকটজনদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর, পোস্ট অফিসে সঞ্চয়পত্র এবং নগদ অর্থ থাকার দাবি করা হয়েছে। এসব সম্পদের মোট মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তাঁদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব, আমানতের অর্থের উৎস এবং আয়কর নথি যাচাই করলে সম্পদ অর্জনের প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে। তবে পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদ থাকা নিজে থেকেই কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়। এসব অর্থের প্রকৃত মালিকানা, বৈধ আয়ের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় অনুসন্ধান করতে হবে। অভিযোগে স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে আমানত শনাক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত ক্ষমতা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরিচালিত হওয়া উচিত। আয়কর রিটার্ন ও সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ের দাবি সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হলো—তাঁর চাকরিজীবনের আয় এবং কথিত সম্পদের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না। এ প্রশ্নের উত্তর পেতে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন: চাকরিতে যোগদানের সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত বেতন, ভাতা ও অন্যান্য বৈধ আয়ের হিসাব। দাখিল করা আয়কর রিটার্ন এবং তাতে প্রদর্শিত সম্পদ ও দায়ের বিবরণ। নিজের ও সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা জমি, বাড়ি ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তির দলিল। ব্যাংক আমানত, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র এবং অর্থের উৎসের প্রাসঙ্গিক নথি। গরুর খামারের বিনিয়োগ, পরিচালন ব্যয় এবং আয়ের হিসাব। জমি কেনা ও বাড়ি নির্মাণের সময়কাল এবং অর্থ পরিশোধের রেকর্ড। এসব নথি পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলেই সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ, মালিকানা ও অর্থের উৎস সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ধারণা পাওয়া সম্ভব। দুদক ও এনবিআরের তদন্ত দাবি সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কর গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, শুধু সম্পদের আনুমানিক মূল্য নির্ধারণ করলেই হবে না; সম্পদ অর্জনের অর্থের উৎস, কর নথিতে তার প্রতিফলন এবং অভিযোগে উল্লিখিত ঘুষ লেনদেনের বিষয়ও অনুসন্ধান করতে হবে। ঘুষ গ্রহণ বা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করার আগে প্রমাণ সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রয়োজন সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর এখনো গুরুত্বপূর্ণ: ১. অভিযোগে উল্লেখ করা প্রায় ১৩ কোটি ৭ লাখ টাকার সম্পদের পূর্ণাঙ্গ দলিল ও মূল্যায়ন কোথায়? ২. স্ত্রী ও নিকটজনদের নামে আরও প্রায় পাঁচ কোটি টাকার আমানত থাকার দাবির পক্ষে কী ধরনের নথি রয়েছে? ৩. এসব সম্পদ তাঁর চাকরিজীবনের আয় ও দাখিল করা আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না? ৪. করদাতাদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট লেনদেন, সাক্ষ্য বা দাপ্তরিক নথি রয়েছে কি না? ৫. জমি নিয়ে বিচারাধীন মামলাগুলোর সর্বশেষ অবস্থা কী এবং সংশ্লিষ্ট আদালত কী আদেশ দিয়েছেন? ৬. অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোনো বিভাগীয় তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করেছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ সহজ হবে।  অভিযোগ নয়, নথিভিত্তিক তদন্তই হোক সিদ্ধান্তের ভিত্তি একজন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, করদাতাদের হয়রানি এবং বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে, অভিযোগে উল্লিখিত সম্পদের পরিমাণ যদি তাঁর বৈধ আয় ও ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে তা যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে অনুমান, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা সম্পদের আনুমানিক মূল্যকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। জমির দলিল, ব্যাংক নথি, আয়কর রিটার্ন, অর্থের উৎস এবং আদালতের নথি যাচাই করেই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে। সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে দুদক, এনবিআর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান হলে একদিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাই হবে, অন্যদিকে কোনো ভিত্তিহীন অভিযোগ থাকলেও তা স্পষ্ট হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা বজায় রাখতে প্রয়োজন স্বচ্ছ তদন্ত, জবাবদিহি এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা।  

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0