Brand logo light

ইইডি অনিয়ম

ঘুষের টাকায় সম্পদের পাহাড় গড়েছেন প্রকৌশলী হাসান শওকত, দুর্নীতির অভিযোগ

 আটতলা ভবনের নবম ও দশম তলার কাজের বিপরীতে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা পরিশোধের অভিযোগ; ঠিকাদারদের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের ভিডিও ভাইরাল, স্ত্রীর নামে বিপুল সম্পদের তথ্য, তদন্ত কমিটি গঠন ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন : সরকারি নথিতে ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন। পরিমাপ বইয়েও উল্লেখ রয়েছে নবম ও দশম তলার ছাদ ঢালাই, রড, ওয়াটারপ্রুফিংসহ বিভিন্ন নির্মাণকাজের হিসাব। সেই হিসাবের ভিত্তিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। কিন্তু সরেজমিনে ভবনটির অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে মাত্র আটতলা পর্যন্ত। নবম ও দশম তলার কোনো অবকাঠামোই দৃশ্যমান নয়। পুরান ঢাকার শেরেবাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ের একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণের এই চিত্র শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) কাজের মান যাচাই, পরিমাপ ও বিল পরিশোধের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের  প্রকৌশলী মো. হাসান শওকত। নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার স্বাক্ষরে অসম্পূর্ণ কাজের বিপরীতে বিল ছাড়, ঠিকাদারদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ এবং সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে তাকে সরকারি দপ্তরের নিজ কক্ষে বসে থাকতে দেখা যায়। তার সামনের টেবিলে বস্তা ও ব্যাগ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা বের করে রাখার দৃশ্যও রয়েছে বলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিডিওতে কয়েকজন ঠিকাদারকে টাকা গুনতেও দেখা যায়। অন্যদিকে, তার স্ত্রী ও স্বজনদের নামে বিপুল পরিমাণ জমি, বাড়ি, রিসোর্ট ও বহুতল ভবনসহ সম্পদের তথ্য পাওয়ার দাবি করা হয়েছে বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।  শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) মো. হাসান শওকত বর্তমানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, সিলেট সার্কেলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন। পূর্বে তিনি ঢাকা মেট্রো সার্কেলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরবর্তীতে সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের অফিস আদেশ অনুযায়ী তাঁর যোগদানপত্র গৃহীত হয় এবং তিনি সিলেট সার্কেলে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।   আটতলা ভবনের বিপরীতে দশতলার বিল পুরান ঢাকার শেরেবাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পটি নিয়ে সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ভবনটির নির্মাণকাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ‘বিল্ডার্স-সিডব্লিউবিডি জেভি’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান হিসেবে লিয়াকত শিকদারের নাম উল্লেখ রয়েছে। ২০২১ সালে ভবনটির ১০ তলা নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল জমা দেয়। পরবর্তী সময়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা ভবনটির গুণগত মান পরিদর্শন করেন। ২০২২ সালের ১৩ জুন বিল পরিশোধের অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের দাবি, ওই দিন ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার সপ্তম চলতি বিল অনুমোদনে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে মো. হাসান শওকত স্বাক্ষর করেন। পরিমাপ বইয়ের ৪৬ থেকে ৯৪ নম্বর পৃষ্ঠায় নবম ও দশম তলার বিভিন্ন নির্মাণকাজের হিসাব উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে ছাদ ঢালাই, রড, সাটারিং, পিলার, লিন্টেল, সিঁড়ি, ওয়াটারপ্রুফিং ও নিরাপত্তা বেষ্টনীর কাজ অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সরেজমিন পরিদর্শনের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তাতে ভবনটি আটতলা পর্যন্ত নির্মিত। নবম ও দশম তলার কোনো অবকাঠামো পাওয়া যায়নি। প্রশ্ন উঠেছে, বাস্তবে নির্মাণ না হওয়া দুই তলার বিভিন্ন কাজের বিপরীতে কীভাবে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হলো? প্রকৃত কাজের পরিমাণ যাচাই না করেই কি বিল অনুমোদন করা হয়েছিল? নাকি পরিমাপ বইয়ে অসংগতিপূর্ণ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল? এ ঘটনায় শুধু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নয়, কাজের পরিমাপ, গুণগত মান যাচাই এবং বিল অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্বও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও কাজের আগেই বিল? অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে রাজধানীর আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্মাণ ও সংস্কারকাজে অসংগতিপূর্ণ বিল পরিশোধের অভিযোগ উঠে এসেছে। ২০২২ সালের ৯ জুন মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংস্কারকাজের জন্য ‘মেসার্স মেড-ইন বাংলাদেশ’ নামের প্রতিষ্ঠানকে ১১ লাখ ৬৮ হাজার টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান হিসেবে তৎকালীন ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান শওকত কাজটি সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে ৮ লাখ টাকা বিল দেওয়ার সুপারিশ করেন। অথচ তখনও কাজ সম্পূর্ণ হয়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বাকি ৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। অর্থাৎ কাজের অগ্রগতি ও বিল পরিশোধের সময়কাল নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। এ ছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোহাম্মদপুরের ওয়েস্ট ধানমন্ডি ইউসুফ উচ্চবিদ্যালয়ে ছয়তলা ভবন নির্মাণের জন্য ‘মেসার্স এমএসবি-এমসিবিএল জেভি’কে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, কাজ শুরু না করেই প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ লাখ টাকা বিল দেওয়া হয়েছিল। পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানাধীন আনোয়ারা বেগম মুসলিম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজেও কোনো কাজ না করে ১৯ লাখ টাকা বিল পরিশোধের অভিযোগ রয়েছে। একাধিক প্রতিষ্ঠানের এসব অভিযোগ সত্য হলে সরকারি অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে পরিমাপ, কাজের অগ্রগতি যাচাই এবং তদারকির পুরো ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সরকারি দপ্তরে বস্তাভর্তি টাকা, চার ভিডিও ঘিরে তোলপাড় হাসান শওকতকে ঘিরে বিতর্কের আরেকটি বড় কারণ ২০২২ সালের চারটি ভিডিও ফুটেজ। এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওগুলোতে প্রকৌশলী হাসান শওকতকে তার সরকারি কার্যালয়ের নিজ কক্ষে বসে থাকতে দেখা যায়। তার সামনের টেবিলে বস্তা ও ব্যাগ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা বের করে রাখা হচ্ছে। ভিডিওতে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের প্রচার সম্পাদক রাকিব হোসেন মিরন, ঢালী কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদারসহ কয়েকজনকে টাকা গুনতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের দাবি, ভিডিওগুলোর উৎস, দৃশ্যমান তথ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় আলাদাভাবে যাচাই করা হয়েছে। তবে ভিডিওতে অর্থ লেনদেনের দৃশ্য থাকলেও সেই অর্থের প্রকৃত উৎস, উদ্দেশ্য এবং ঘুষের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ঠিকাদার দাবি করেছেন, ২০২২ সালে কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে হাসান শওকত একজন ঠিকাদারের কাছ থেকে ২ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। মিরন এন্টারপ্রাইজের শতাধিক দরপত্র, কাজের অঙ্ক ৬৯ কোটি টাকা সরকারি নথি ও ই-জিপি তথ্যের বরাত দিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের প্রচার সম্পাদক রাকিব হোসেন মিরন ‘এম/এস মিরন এন্টারপ্রাইজ’ এবং ‘এম/এস মেরন এন্টারপ্রাইজ’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন কাজ করেছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ‘এম/এস মিরন এন্টারপ্রাইজ’ প্রথম দরপত্র পায়। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির নামে সারাদেশে ২৩৩টি কাজ এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১১৯টি দরপত্রের মাধ্যমে ৬৯ কোটি ৩ লাখ টাকার কাজ পাওয়ার তথ্য ই-জিপিতে পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে হাসান শওকত ঢাকা মেট্রো জোনে দায়িত্ব পালনকালে ৯০টি দরপত্রে প্রায় ৪২ কোটি টাকার কাজ পাওয়ার তথ্য উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, ‘এম/এস মেরন এন্টারপ্রাইজ’ নামে আরেকটি লাইসেন্সের মাধ্যমে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ৯৩টি কাজ এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে ১২টি কাজ পাওয়ার তথ্যের কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ঢাকা মেট্রো জোনে ১১টি দরপত্রে প্রায় ৬ কোটি ২৯ লাখ টাকার কাজ পাওয়ার তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। এত বিপুলসংখ্যক কাজ একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি গোষ্ঠীর হাতে যাওয়ার প্রক্রিয়া, দরপত্রে প্রতিযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও অনুসন্ধানের অবকাশ রয়েছে।   স্ত্রীর নামে ১৮৪.৩৩ শতক জমি, দশতলা ভবন ও রিসোর্টের তথ্য হাসান শওকতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তার পারিবারিক সম্পদ। বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সরকারি নথি ও সম্পত্তিসংক্রান্ত তথ্যের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে, তার স্ত্রী ফেরদৌসী খানমের নামে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মোট ১৮৪ দশমিক ৩৩ শতক জমি রয়েছে। সরকারি তথ্যে তাকে গৃহিণী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সম্পত্তির বিবরণে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বিলপাবলা মৌজায় ১২ দশমিক ৫০ শতক, দিঘলিয়া উপজেলার বয়রা মৌজায় ১১ দশমিক ৭২ শতক, মেহেরপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন খতিয়ানে ৬৫ শতক ও ৪০ দশমিক ৩৭ শতকসহ একাধিক জমির উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া মেহেরপুর সদর ও মাগুরা সদর এলাকায়ও জমি থাকার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন বরুয়া এলাকায় জমির ওপর একটি আলিশান বাড়ি এবং দক্ষিণখান এলাকায় হাসান শওকত ও তার স্ত্রীর নামে ১০তলা ভবন থাকার তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া স্ত্রী ও স্বজনদের নামে রিসোর্ট, জমি, ফ্ল্যাট ও প্লটসহ আরও সম্পদের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়ের অর্থের উৎস, অর্জনের সময়কাল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য নির্ধারণে ভূমি রেকর্ড, দলিল, আয়কর নথি ও আর্থিক লেনদেন যাচাই প্রয়োজন। রাজনৈতিক পরিচয় বদলে পদায়ন ও প্রভাব ধরে রাখার অভিযোগ হাসান শওকতের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে সুবিধাজনক পদায়ন ও প্রভাব ধরে রাখার অভিযোগও উঠেছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করেন। ওই সময়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং অগ্রিম বিল পরিশোধের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার বৃত্ত পরিবর্তন করে নতুন করে প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করেন। কিছু সূত্র তার ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে। এমনকি ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি তহবিলে অর্থ দেওয়ার অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।   তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি, সামনে একাধিক প্রশ্ন ভিডিও ছড়িয়ে পড়া এবং দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) কেরামত আলীকে। অন্য দুই সদস্য হলেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব (উন্নয়ন-৩)। তদন্ত কমিটির কাছে এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সুযোগ রয়েছে। প্রথমত, শেরেবাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ের ভবনের নবম ও দশম তলার কাজ বাস্তবে না হলে সেই কাজের বিপরীতে কীভাবে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ছাড় হলো? দ্বিতীয়ত, পরিমাপ বইয়ে উল্লেখিত কাজের পরিমাণ কে যাচাই করেছিলেন এবং কোন ভিত্তিতে বিল অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল? তৃতীয়ত, মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, ওয়েস্ট ধানমন্ডি ইউসুফ উচ্চবিদ্যালয় ও আনোয়ারা বেগম মুসলিম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিল পরিশোধের অভিযোগ কতটা সত্য? চতুর্থত, সরকারি কার্যালয়ে ধারণ করা ভিডিওতে প্রদর্শিত অর্থের উৎস ও উদ্দেশ্য কী ছিল? সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের প্রকৃত কারণই বা কী? পঞ্চমত, হাসান শওকত ও তার পরিবারের নামে থাকা সম্পদের উৎস কী এবং তা বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না? হাসান শওকতের বক্তব্যে প্রশ্নের পুরো উত্তর মেলেনি ভিডিওতে অর্থ লেনদেনের দৃশ্য সম্পর্কে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রোপলিটন সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাসান শওকত বলেছেন, ঠিকাদাররা নিজেদের মধ্যে টাকা বিনিময় করছিলেন। একটি ভিডিওতে একজনকে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ঠিকাদাররা নিজেদের মধ্যে টাকা বিনিময় করছিলেন এবং এর মধ্যে তাকে ওই পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। তবে ঠিকাদাররা কেন তার সরকারি কক্ষে বসে টাকা লেনদেন করছিলেন এবং তাকে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার কারণ কী—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি অভিযোগগুলোকে ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন এবং স্ত্রীর নামে সম্পদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এসব বিষয়ে কোনো উত্তর দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। শেরেবাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রোজিনা শাহীন এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল্ডার্স-সিডব্লিউবিডি জেভির প্রধান লিয়াকত শিকদারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাকিব হোসেন মিরনের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদী বলেছেন, “এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সরকারি অর্থের দায় কার? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্পে সরকারি অর্থ ব্যয়ের প্রতিটি ধাপে রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়ম। কার্যাদেশ, নির্মাণকাজের অগ্রগতি, পরিমাপ বই, গুণগত মান যাচাই এবং বিল অনুমোদনের মধ্য দিয়ে অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু একটি ভবনের বাস্তব নির্মাণের সঙ্গে নথিতে উল্লেখিত কাজের পরিমাণের পার্থক্য, একাধিক প্রতিষ্ঠানে অসম্পূর্ণ কাজের বিপরীতে বিল পরিশোধের অভিযোগ এবং সরকারি কার্যালয়ে নগদ অর্থ লেনদেনের ভিডিও—সব মিলিয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত কমিটি শুধু অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করেই দায়িত্ব শেষ করে, নাকি সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের মূল নথি, পরিমাপ বই, বিল-ভাউচার, ই-জিপি তথ্য, ব্যাংক লেনদেন এবং সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরে। কারণ সরকারি অর্থের প্রতিটি টাকার হিসাব জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। কাজ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ সত্য হলে এর দায় শুধু ঠিকাদারের নয়, বরং যাচাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় যুক্ত প্রত্যেক দায়িত্বশীল ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ, সরকারি অর্থের সম্ভাব্য ক্ষতি চিহ্নিত করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মধ্য দিয়েই এই বিতর্কের প্রকৃত নিষ্পত্তি হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ৩১, ২০২৬ 0
Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0