মামুনুর রশীদ নোমানী, বরিশাল: বরিশাল নগরীকে পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আনার চেষ্টা করছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। প্রচারের চেয়ে নগরীর বাস্তব সমস্যা সমাধান, নাগরিক সেবার উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে চান নগর উন্নয়নের পরিকল্পনা।
কীর্তনখোলার তীরে গড়ে ওঠা বরিশাল একসময় দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় নগরী হিসেবে পরিচিত ছিল। ইতিহাস, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ শহরকে আরও পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও নান্দনিক নগরীতে রূপান্তর করার প্রত্যাশা দীর্ঘদিনের। সেই প্রত্যাশা পূরণে নগর ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে সামনে রেখে কাজ করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।
বরিশাল নগরীর প্রধান বিনোদনকেন্দ্র বেলসপার্ক। সবুজে ঘেরা এই পার্ককে নগরবাসীর স্বস্তি ও অবসর কাটানোর জায়গা হিসেবে গড়ে তোলার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অবৈধ স্থাপনা, দখলদারত্ব এবং অনিয়মের অভিযোগ ছিল। একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েও পরিস্থিতির স্থায়ী পরিবর্তন আনা কঠিন হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত বেলসপার্ক অবৈধ দখলমুক্ত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন । প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনের দায়িত্ব গ্রহণের পর নগরীর বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং নাগরিক সমস্যার সমাধানে নতুন করে তৎপরতা দেখা গেছে।
বেলসপার্ক দখলমুক্ত করার উদ্যোগের মধ্য দিয়ে নগর ব্যবস্থাপনার একটি সুন্দর পরিবেশ উপহার দিয়েছেন নগরবাসীকে। নগরীর সুপেয় পানির সংকট, জলাবদ্ধতা, যানজট, মশার উপদ্রব, অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করে যাচ্ছেন প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।
প্রশাসক শিরিন দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখানো নিয়ে ব্যস্ত নয়; বরং নাগরিক সেবাকে নিয়মিত, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সমানতালে। তিলোত্তমা বরিশাল গড়ার প্রত্যাশা বাস্তবায়নে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
কীর্তনখোলার তীরের বরিশাল নগরীতে বেলসপার্ক শুধু একটি বিনোদনকেন্দ্র নয়; এটি নগরবাসীর অবসর, শরীরচর্চা ও পারিবারিক সময় কাটানোর গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। কিন্তু পার্কটির অভ্যন্তরে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় এর স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছিল বলে অভিযোগ ছিল দীর্ঘ দিনের।
নগর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বেলসপার্কসহ নগরীর বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দেন। সে অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে পার্কের অভ্যন্তর থেকে সব স্থাপনা সরিয়ে দিয়েছেন। বেলসপার্কের পুর্ব দিকে কেডিসি সড়কের পাশে স্টল নির্মাণ করে পুনর্বাসন করেছেন।
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যাপারে প্রশাসক শিরিন কঠোর অবস্থান নেন। তার কঠোর অবস্থানের কারনেই নগরজুড়ে অবৈধ স্থাপনা অপসারণে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক,বিবিরপুকুর পাড়,চৌমাথাসহ বিভিন্ন স্থান সম্পূর্ণভাবে অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে বলে সিটি করপোরেশন-সংশ্লিষ্টরা এ তথ্যে জানিয়েছেন।
এদিকে বেলসপার্কসহ বিভিন্ন পার্কের প্রবেশদ্বারগুলোতে নিরাপত্তাকর্মী বাড়ানো এবং তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ফলে বেলসপার্কসহ সকল পার্কগুলোকে আবারও নাগরিকদের স্বাভাবিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পার্কে ঘুরতে আসা নগরবাসীর অনেকে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রশাসকের কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েই দায়িত্ব শেষ হবে না; পার্কটি ভবিষ্যতে যেন আবার দখলদারত্বের শিকার না হয়, সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে।
বেলপার্কের পাশাপাশি নগরীর আরও কয়েকটি বিনোদনকেন্দ্র ও জনপরিসর থেকে অবৈধ দখলদারদের সরানোর বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে নগর ভবন।এসব স্থানের মধ্যে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, আমতলা মোড়ের স্বাধীনতা পার্ক,লঞ্চঘাট ও রুপাতলী-নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে বলে জানা গেছে।নগরবাসীর প্রত্যাশা, এসব স্থানেও উচ্ছেদ কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, প্রবেশপথের নিরাপত্তা এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে বলে জানা গেছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর নগরীর বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা প্রত্যক্ষ করার কথা জানিয়েছেন বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।
মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের ব্যাপারে বলেন, প্রশাসক হওয়ার পর তিনি সব ওয়ার্ডে নিয়মিত মশার ওষুধ প্রয়োগ নিশ্চিত করেছি। প্রশাসক শিরিন বলেন,নগরীর মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের নিয়মিততা ও কার্যকারিতা নিয়ে আমি যথেষ্ট তৎপর। প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিকল্পিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা, নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ এবং প্রয়োগ করা ওষুধের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণে বেশি গুরুত্বপূর্ণ দেয়া হয়েছে।ফলে বরিশালে ডেঙ্গুর প্রভাব নেই বললেই চলে।
শহরের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অসন্তোষ ছিল নগরবাসীর মাঝে। নগরীতে ময়লা-আবর্জনায় ভরা থাকতো; ঠিকভাবে পরিষ্কার করা হতোনা। পরিষ্কারের পরও ময়লা পড়ে থাকতো। আমি দ্বায়িত্ব নেয়ার পরে নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যাপারটি গুরুত্ব দিয়ে মৌলিক দুর্বলতা খুজে বের করে সমাধান করেছি। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজ, বর্জ্য সংগ্রহের সময়সূচি, পরিবহন, নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য অপসারণ এবং তদারকি—প্রতিটি ধাপের মধ্যে সমন্বয় করার ফলে নগরী আজ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সহজ হয়েছে।
প্রশাসক জানিয়েছেন, নগরবাসীর সহযোগিতা নিয়ে বরিশালকে বসবাসের উপযোগী শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চান। সুপেয় পানির সংকট, জলাবদ্ধতা, যানজট, নিরাপত্তা ও অন্যান্য নাগরিক সমস্যা সমাধানকে তিনি অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন বলেও জানান প্রশাসক শিরিন।
একটি শহর কতটা আধুনিক, তা শুধু সড়ক বা স্থাপনার সৌন্দর্য দিয়ে নির্ধারিত হয় না। বাসিন্দারা নিরাপদ পানি পাচ্ছেন কি না, বৃষ্টির সময় রাস্তায় পানি জমছে কি না, যানজটে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে কি না এবং রাতে চলাচল কতটা নিরাপদ—এসব বিষয়কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে সমাধানের জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন প্রশাসক শিরিন।
বরিশালে এসব সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশা দীর্ঘদিনের। সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলায় সরবরাহব্যবস্থার সক্ষমতা, পানির মান, সরবরাহের নিয়মিততা এবং সমস্যাগ্রস্ত এলাকা চিহ্নিতকরণে কাজ করা হয়েছে ইতিমধ্যে। একইভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন পরিষ্কার, পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ সচল রাখা, খাল ও জলাধার সংরক্ষণ এবং অপরিকল্পিত স্থাপনা নিয়ন্ত্রণে নগর ভবন সোচ্চার রয়েছে। যানজট কমাতে সড়কের শৃঙ্খলা, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে বিসিসি।
সমস্যাগুলোকে অগ্রাধিকারভিত্তিক তালিকায় এনে প্রতিটির জন্য বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেছেন। কোন এলাকায় কী সমস্যা, সমাধান এবং কাজের অগ্রগতি নিয়ে রাত দিন সমানে কাজ করে যাচ্ছেন নিরবে প্রশাসক শিরিন।
কীর্তনখোলার তীরে গড়ে ওঠা বরিশাল দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী নগরীগুলোর একটি। শিক্ষা, সংস্কৃতি, নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রা ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের কারণে শহরটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই ঐতিহ্যকে ধরে রেখে আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলার প্রত্যাশা দীর্ঘদিনের।
কিন্তু নগর উন্নয়ন কেবল সৌন্দর্যবর্ধন কিংবা বিচ্ছিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। সড়ক, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতি, নিরাপদ ফুটপাত, সবুজায়ন এবং উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনার জন্য বিসিসি বদ্ধপরিকর।বিশেষ করে নগরীর খাল ও জলাশয় সংরক্ষণ, পানি নিষ্কাশনের পথ সচল রাখা এবং জনসাধারণের ব্যবহারযোগ্য উন্মুক্ত স্থান রক্ষা করার জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন প্রশাসক।
শিরিন বলেন,এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। জেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ব্যবসায়ী সমাজ এবং নাগরিকদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।সকলের সহযোগীতা পেলে একটি আধুনিক নগরীতে পরিনত হবে বরিশাল নগরী
নগর প্রশাসনের সাফল্য নির্ধারণে দৃশ্যমান উদ্যোগের পাশাপাশি তার স্থায়িত্ব ও বাস্তব ফলাফল বিবেচনা করা জরুরি। একটি পার্ক দখলমুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ; কিন্তু সেটি আবার দখল হয়ে যাচ্ছে কি না, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন থাকছে কি না এবং নাগরিকেরা নিরাপদে ব্যবহার করতে পারছেন কি না সেদিকেও নজর রাখছেন প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।
একইভাবে মশা নিয়ন্ত্রণে কতবার ওষুধ ছিটানো হয়েছে, সব ওয়ার্ডে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না এবং মশার উপদ্রব কমছে কি না। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কতটি পরিচ্ছন্নতা অভিযান হয়েছে, প্রতিদিনের পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকছে কি না।এসবের দিকে দৃষ্টি রাখছেন প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।
নাগরিক অভিযোগ গ্রহণ, দ্রুত নিষ্পত্তি এবং অভিযোগের অগ্রগতি জানার ব্যবস্থাও কার্যকর করার জন্য ফেসবুকে পেজ, গ্রুপ ও হটলাইন নম্বর খুলেছেন প্রশাসক। ফলে সমস্যার সমাধান যেমন দ্রুত হচ্ছে, তেমনি প্রশাসনের কাজের মূল্যায়নও সহজ হচ্ছে।
অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ব্রজমোহন কলেজে পড়াশোনার সময় ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দেন তিনি।
১৯৮৭ সালে বিএম কলেজ ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক এবং ১৯৯০ সালে এজিএস নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯১ সালে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্ব পান।
১৯৯৬ সালে বরিশাল জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পাশাপাশি জেলা বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হন শিরিন। একই বছর জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনোনীত হন। পরবর্তী সময়ে মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অষ্টম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন থেকেও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রেও যুক্ত ছিলেন শিরিন। কর্মজীবনের শুরুতে বরিশাল সিটি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রায় এক দশক অধ্যাপনা করেন। পেশাগতভাবে তিনি একজন আইনজীবী।দীর্ঘ রাজনৈতিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতার পর নগর প্রশাসনের দায়িত্ব তাঁর জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, তেমনি নগরীর দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে কাজ করার সুযোগও।
বরিশালকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নিরাপদ ও আধুনিক নগরীতে রূপান্তরের প্রত্যাশা শুধু একজন প্রশাসকের নয়; এটি নগরবাসীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা। বেলসপার্ক দখলমুক্ত করার উদ্যোগ সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি দৃশ্যমান পদক্ষেপ।
নগরীর সামগ্রিক পরিবর্তন নিশ্চিত করতে উচ্ছেদ অভিযানের পাশাপাশি সুপেয় পানি, জলাবদ্ধতা, যানজট, মশা নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার মতো মৌলিক নাগরিক সমস্যারও কার্যকর সমাধানে কাজ করে যাচ্ছেন শিরিন।
প্রশাসক শিরিন দায়িত্ব নেয়ার পরে নগর উন্নয়নে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছেন। উদ্যোগগুলো সফল ও বাস্তবায়নের জন্য ধারাবাহিকতা, কাজের মান এবং নগরবাসীর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডকে সমান গুরুত্ব দেওয়া, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে যাচ্ছেন।
তিলোত্তমা বরিশাল গড়ার প্রত্যাশা তাই শুধু একজন প্রশাসকের নয়; এটি পুরো নগরবাসীর স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
মামুনুর রশীদ নোমানী, বরিশাল: বরিশাল নগরীকে পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আনার চেষ্টা করছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। প্রচারের চেয়ে নগরীর বাস্তব সমস্যা সমাধান, নাগরিক সেবার উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে চান নগর উন্নয়নের পরিকল্পনা। কীর্তনখোলার তীরে গড়ে ওঠা বরিশাল একসময় দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় নগরী হিসেবে পরিচিত ছিল। ইতিহাস, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ শহরকে আরও পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও নান্দনিক নগরীতে রূপান্তর করার প্রত্যাশা দীর্ঘদিনের। সেই প্রত্যাশা পূরণে নগর ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে সামনে রেখে কাজ করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। বরিশাল নগরীর প্রধান বিনোদনকেন্দ্র বেলসপার্ক। সবুজে ঘেরা এই পার্ককে নগরবাসীর স্বস্তি ও অবসর কাটানোর জায়গা হিসেবে গড়ে তোলার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অবৈধ স্থাপনা, দখলদারত্ব এবং অনিয়মের অভিযোগ ছিল। একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েও পরিস্থিতির স্থায়ী পরিবর্তন আনা কঠিন হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত বেলসপার্ক অবৈধ দখলমুক্ত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন । প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনের দায়িত্ব গ্রহণের পর নগরীর বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং নাগরিক সমস্যার সমাধানে নতুন করে তৎপরতা দেখা গেছে। বেলসপার্ক দখলমুক্ত করার উদ্যোগের মধ্য দিয়ে নগর ব্যবস্থাপনার একটি সুন্দর পরিবেশ উপহার দিয়েছেন নগরবাসীকে। নগরীর সুপেয় পানির সংকট, জলাবদ্ধতা, যানজট, মশার উপদ্রব, অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করে যাচ্ছেন প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। প্রশাসক শিরিন দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখানো নিয়ে ব্যস্ত নয়; বরং নাগরিক সেবাকে নিয়মিত, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সমানতালে। তিলোত্তমা বরিশাল গড়ার প্রত্যাশা বাস্তবায়নে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বেলসপার্কে উচ্ছেদ অভিযান, স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত : কীর্তনখোলার তীরের বরিশাল নগরীতে বেলসপার্ক শুধু একটি বিনোদনকেন্দ্র নয়; এটি নগরবাসীর অবসর, শরীরচর্চা ও পারিবারিক সময় কাটানোর গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। কিন্তু পার্কটির অভ্যন্তরে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় এর স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছিল বলে অভিযোগ ছিল দীর্ঘ দিনের। নগর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বেলসপার্কসহ নগরীর বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দেন। সে অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে পার্কের অভ্যন্তর থেকে সব স্থাপনা সরিয়ে দিয়েছেন। বেলসপার্কের পুর্ব দিকে কেডিসি সড়কের পাশে স্টল নির্মাণ করে পুনর্বাসন করেছেন। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যাপারে প্রশাসক শিরিন কঠোর অবস্থান নেন। তার কঠোর অবস্থানের কারনেই নগরজুড়ে অবৈধ স্থাপনা অপসারণে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক,বিবিরপুকুর পাড়,চৌমাথাসহ বিভিন্ন স্থান সম্পূর্ণভাবে অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে বলে সিটি করপোরেশন-সংশ্লিষ্টরা এ তথ্যে জানিয়েছেন। এদিকে বেলসপার্কসহ বিভিন্ন পার্কের প্রবেশদ্বারগুলোতে নিরাপত্তাকর্মী বাড়ানো এবং তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ফলে বেলসপার্কসহ সকল পার্কগুলোকে আবারও নাগরিকদের স্বাভাবিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পার্কে ঘুরতে আসা নগরবাসীর অনেকে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রশাসকের কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েই দায়িত্ব শেষ হবে না; পার্কটি ভবিষ্যতে যেন আবার দখলদারত্বের শিকার না হয়, সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে। সকল বিনোদনকেন্দ্রেও উচ্ছেদের দাবি বেলপার্কের পাশাপাশি নগরীর আরও কয়েকটি বিনোদনকেন্দ্র ও জনপরিসর থেকে অবৈধ দখলদারদের সরানোর বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে নগর ভবন।এসব স্থানের মধ্যে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, আমতলা মোড়ের স্বাধীনতা পার্ক,লঞ্চঘাট ও রুপাতলী-নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে বলে জানা গেছে।নগরবাসীর প্রত্যাশা, এসব স্থানেও উচ্ছেদ কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, প্রবেশপথের নিরাপত্তা এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে বলে জানা গেছে। যে সমস্যাগুলো দেখেছেন প্রশাসক: বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর নগরীর বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা প্রত্যক্ষ করার কথা জানিয়েছেন বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের ব্যাপারে বলেন, প্রশাসক হওয়ার পর তিনি সব ওয়ার্ডে নিয়মিত মশার ওষুধ প্রয়োগ নিশ্চিত করেছি। প্রশাসক শিরিন বলেন,নগরীর মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের নিয়মিততা ও কার্যকারিতা নিয়ে আমি যথেষ্ট তৎপর। প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিকল্পিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা, নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ এবং প্রয়োগ করা ওষুধের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণে বেশি গুরুত্বপূর্ণ দেয়া হয়েছে।ফলে বরিশালে ডেঙ্গুর প্রভাব নেই বললেই চলে। শহরের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অসন্তোষ ছিল নগরবাসীর মাঝে। নগরীতে ময়লা-আবর্জনায় ভরা থাকতো; ঠিকভাবে পরিষ্কার করা হতোনা। পরিষ্কারের পরও ময়লা পড়ে থাকতো। আমি দ্বায়িত্ব নেয়ার পরে নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যাপারটি গুরুত্ব দিয়ে মৌলিক দুর্বলতা খুজে বের করে সমাধান করেছি। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজ, বর্জ্য সংগ্রহের সময়সূচি, পরিবহন, নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য অপসারণ এবং তদারকি—প্রতিটি ধাপের মধ্যে সমন্বয় করার ফলে নগরী আজ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সহজ হয়েছে। প্রশাসক জানিয়েছেন, নগরবাসীর সহযোগিতা নিয়ে বরিশালকে বসবাসের উপযোগী শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চান। সুপেয় পানির সংকট, জলাবদ্ধতা, যানজট, নিরাপত্তা ও অন্যান্য নাগরিক সমস্যা সমাধানকে তিনি অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন বলেও জানান প্রশাসক শিরিন। সুপেয় পানি, জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনের উদ্যোগ একটি শহর কতটা আধুনিক, তা শুধু সড়ক বা স্থাপনার সৌন্দর্য দিয়ে নির্ধারিত হয় না। বাসিন্দারা নিরাপদ পানি পাচ্ছেন কি না, বৃষ্টির সময় রাস্তায় পানি জমছে কি না, যানজটে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে কি না এবং রাতে চলাচল কতটা নিরাপদ—এসব বিষয়কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে সমাধানের জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন প্রশাসক শিরিন। বরিশালে এসব সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশা দীর্ঘদিনের। সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলায় সরবরাহব্যবস্থার সক্ষমতা, পানির মান, সরবরাহের নিয়মিততা এবং সমস্যাগ্রস্ত এলাকা চিহ্নিতকরণে কাজ করা হয়েছে ইতিমধ্যে। একইভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন পরিষ্কার, পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ সচল রাখা, খাল ও জলাধার সংরক্ষণ এবং অপরিকল্পিত স্থাপনা নিয়ন্ত্রণে নগর ভবন সোচ্চার রয়েছে। যানজট কমাতে সড়কের শৃঙ্খলা, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে বিসিসি। সমস্যাগুলোকে অগ্রাধিকারভিত্তিক তালিকায় এনে প্রতিটির জন্য বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেছেন। কোন এলাকায় কী সমস্যা, সমাধান এবং কাজের অগ্রগতি নিয়ে রাত দিন সমানে কাজ করে যাচ্ছেন নিরবে প্রশাসক শিরিন। পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক নগরী গড়তে সমন্বিত পরিকল্পনা কীর্তনখোলার তীরে গড়ে ওঠা বরিশাল দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী নগরীগুলোর একটি। শিক্ষা, সংস্কৃতি, নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রা ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের কারণে শহরটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই ঐতিহ্যকে ধরে রেখে আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলার প্রত্যাশা দীর্ঘদিনের। কিন্তু নগর উন্নয়ন কেবল সৌন্দর্যবর্ধন কিংবা বিচ্ছিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। সড়ক, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতি, নিরাপদ ফুটপাত, সবুজায়ন এবং উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনার জন্য বিসিসি বদ্ধপরিকর।বিশেষ করে নগরীর খাল ও জলাশয় সংরক্ষণ, পানি নিষ্কাশনের পথ সচল রাখা এবং জনসাধারণের ব্যবহারযোগ্য উন্মুক্ত স্থান রক্ষা করার জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন প্রশাসক। শিরিন বলেন,এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। জেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ব্যবসায়ী সমাজ এবং নাগরিকদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।সকলের সহযোগীতা পেলে একটি আধুনিক নগরীতে পরিনত হবে বরিশাল নগরী প্রচারণা নয়, উন্নয়নের ফলাফলেই প্রসংশিত শিরিন নগর প্রশাসনের সাফল্য নির্ধারণে দৃশ্যমান উদ্যোগের পাশাপাশি তার স্থায়িত্ব ও বাস্তব ফলাফল বিবেচনা করা জরুরি। একটি পার্ক দখলমুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ; কিন্তু সেটি আবার দখল হয়ে যাচ্ছে কি না, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন থাকছে কি না এবং নাগরিকেরা নিরাপদে ব্যবহার করতে পারছেন কি না সেদিকেও নজর রাখছেন প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। একইভাবে মশা নিয়ন্ত্রণে কতবার ওষুধ ছিটানো হয়েছে, সব ওয়ার্ডে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না এবং মশার উপদ্রব কমছে কি না। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কতটি পরিচ্ছন্নতা অভিযান হয়েছে, প্রতিদিনের পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকছে কি না।এসবের দিকে দৃষ্টি রাখছেন প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। নাগরিক অভিযোগ গ্রহণে হটলাইন চালু: নাগরিক অভিযোগ গ্রহণ, দ্রুত নিষ্পত্তি এবং অভিযোগের অগ্রগতি জানার ব্যবস্থাও কার্যকর করার জন্য ফেসবুকে পেজ, গ্রুপ ও হটলাইন নম্বর খুলেছেন প্রশাসক। ফলে সমস্যার সমাধান যেমন দ্রুত হচ্ছে, তেমনি প্রশাসনের কাজের মূল্যায়নও সহজ হচ্ছে। ছাত্ররাজনীতি থেকে নগর প্রশাসন: শিরিনের রাজনৈতিক পথচলা অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ব্রজমোহন কলেজে পড়াশোনার সময় ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৭ সালে বিএম কলেজ ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক এবং ১৯৯০ সালে এজিএস নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯১ সালে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্ব পান। ১৯৯৬ সালে বরিশাল জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পাশাপাশি জেলা বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হন শিরিন। একই বছর জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনোনীত হন। পরবর্তী সময়ে মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অষ্টম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন থেকেও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রেও যুক্ত ছিলেন শিরিন। কর্মজীবনের শুরুতে বরিশাল সিটি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রায় এক দশক অধ্যাপনা করেন। পেশাগতভাবে তিনি একজন আইনজীবী।দীর্ঘ রাজনৈতিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতার পর নগর প্রশাসনের দায়িত্ব তাঁর জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, তেমনি নগরীর দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে কাজ করার সুযোগও। নগরবাসীর প্রত্যাশা: উদ্যোগের ধারাবাহিকতা : বরিশালকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নিরাপদ ও আধুনিক নগরীতে রূপান্তরের প্রত্যাশা শুধু একজন প্রশাসকের নয়; এটি নগরবাসীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা। বেলসপার্ক দখলমুক্ত করার উদ্যোগ সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি দৃশ্যমান পদক্ষেপ। নগরীর সামগ্রিক পরিবর্তন নিশ্চিত করতে উচ্ছেদ অভিযানের পাশাপাশি সুপেয় পানি, জলাবদ্ধতা, যানজট, মশা নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার মতো মৌলিক নাগরিক সমস্যারও কার্যকর সমাধানে কাজ করে যাচ্ছেন শিরিন। প্রশাসক শিরিন দায়িত্ব নেয়ার পরে নগর উন্নয়নে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছেন। উদ্যোগগুলো সফল ও বাস্তবায়নের জন্য ধারাবাহিকতা, কাজের মান এবং নগরবাসীর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডকে সমান গুরুত্ব দেওয়া, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে যাচ্ছেন। তিলোত্তমা বরিশাল গড়ার প্রত্যাশা তাই শুধু একজন প্রশাসকের নয়; এটি পুরো নগরবাসীর স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য, ভাষণ, সাক্ষাৎকার বা যেকোনো ধরনের বিবৃতি প্রচারের ক্ষেত্রে আদালতের নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে মেনে চলতে দেশের গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে সরকার। শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত এক সরকারি তথ্যবিবরণীতে দেশের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদেরও আদালতের নির্দেশনা অনুসরণের অনুরোধ জানানো হয়। সরকারের বক্তব্য কী? তথ্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুসারে আদালতের সাজাপ্রাপ্ত কোনো পলাতক অপরাধীর বক্তব্য, সাক্ষাৎকার, অডিও কিংবা ভিডিও ভাষণ গণমাধ্যমে প্রচারের ক্ষেত্রে স্পষ্ট আইনগত বিধিনিষেধ রয়েছে। কী প্রচার না করার অনুরোধ? সরকার বলেছে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং আদালতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের স্বার্থে শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য—তা সরাসরি (লাইভ) কিংবা ধারণকৃত (রেকর্ডেড)—কোনো মাধ্যমে প্রচার বা প্রকাশ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। এই আহ্বানের আওতায় রয়েছে— টেলিভিশন বেতার সংবাদপত্র অনলাইন নিউজ পোর্টাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম সরকারের প্রত্যাশা তথ্যবিবরণীতে সরকার আশা প্রকাশ করেছে, দেশের সকল গণমাধ্যম, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং সাধারণ নাগরিক প্রচলিত আইন ও আদালতের নির্দেশনার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন এবং এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। সরকারি তথ্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বরের আদেশের পর শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। সর্বশেষ তথ্যবিবরণীর মাধ্যমে সরকার সেই নির্দেশনা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে তা অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।
বেইজিং, চীন: চীনের দালিয়ান থেকে হাই-স্পিড ট্রেনে রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত এই সফরকে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে বেইজিংয়ের চাউমিং রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিদল। স্টেশনে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান চীনের ‘জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস’ (জিএসিসি)-এর মন্ত্রী এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কমিটির সেক্রেটারি সুন মেইজুন। এ সময় শিশু-কিশোররা প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেয়। কূটনৈতিক সৌজন্যের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রায় তাঁকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন দিয়াওইউতাই গেস্ট হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালীন সময় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা সেখানেই অবস্থান করবেন। দালিয়ান থেকে বেইজিং: উচ্চগতির রেলযাত্রা এর আগে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৫৮ মিনিটে দালিয়ান উত্তর রেলওয়ে স্টেশন থেকে হাই-স্পিড বা বুলেট ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি। গ্রীষ্মকালীন দাভোসে অংশগ্রহণ বেইজিংয়ে পৌঁছানোর আগে দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ফোরামে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, নীতিনির্ধারক এবং ব্যবসায়িক নেতারা অংশ নেন। প্রথম বিদেশ সফরের কূটনৈতিক গুরুত্ব গত সোমবার মালয়েশিয়া সফর শেষ করে চীনের দালিয়ানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়া ও চীন সফর তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ার দুই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশ মালয়েশিয়া ও চীনকে প্রথম সফরের গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়া বাংলাদেশের নতুন সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের অগ্রাধিকারের ইঙ্গিত বহন করে।