ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) শাখা'র নির্বাহী সদস্য মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ-কমিশন বাণিজ্য, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, দরপত্রে অনিয়ম, বেনামে ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন সাকিল আহম্মেদ নামে এক ব্যক্তি।
‘সচেতন নাগরিক’-এর পক্ষে করা ওই আবেদনে শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্বে থেকে ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে কমিশন দাবি এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত মালিকানা, দরপত্র ও কার্যাদেশ, নির্মাণকাজের বাস্তব অগ্রগতি, পরিমাপ বই, বিল-ভাউচার, ব্যাংক লেনদেন এবং নিরাপত্তা জামানতের নথি যাচাই করা হলে অনিয়মের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
দুদকের চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের মদদে মেসার্স মোমিন সিকদার, মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ, ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং মেসার্স রাফিদ ট্রেডার্সের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ বণ্টন, সাবকন্ট্রাক্ট ও ব্যবসায়িক সুবিধা দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
অভিযোগে প্রায় ৩২ কোটি টাকার কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্প এবং বরিশাল নগরীর কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজের দরপত্র ও বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
আবেদনকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্পে কোন প্রতিষ্ঠান কীভাবে কাজ পেয়েছে, কার্যাদেশের সঙ্গে বাস্তব নির্মাণকাজের সামঞ্জস্য কতটা, কাজের পরিমাপ অনুযায়ী বিল দেওয়া হয়েছে কি না এবং অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ ছাড়া ঠিকাদারদের বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে কমিশন দাবি, ঠিকাদারি কাজ বিক্রি, অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে প্রকল্পের সংশোধিত বরাদ্দ বা বিলের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন এবং লাইসেন্স-সংশ্লিষ্ট লেনদেনে অর্থ আদায়ের অভিযোগও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় শহিদুল ইসলাম নিজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা পরিচালনা এবং দরপত্রপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগকারীর ধারণা।
এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত মালিকানা, অংশীদারত্ব, কার্যাদেশ বণ্টন, দরপত্রের নথি, কাজের উপঠিকাদারি চুক্তি এবং আর্থিক লেনদেন যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারীর মতে, সরকারি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের কোনো সংঘাত ছিল কি না, তা নির্ধারণে প্রতিষ্ঠানের নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করা জরুরি।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই এবং আইনানুগ তদন্ত করা প্রয়োজন।

শহিদুল ইসলামের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়েছে আবেদনে। অভিযোগকারীর দাবি, তাঁর এবং তাঁর কয়েকজন বন্ধুর নিয়োগ ঘিরে অতীতে অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছিল এবং পরে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নপত্র ফাঁসের বহুল আলোচিত ঘটনা এবং পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনসহ একটি প্রশ্নফাঁস চক্রের প্রসঙ্গ টেনে শহিদুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতা নিয়েও অভিযোগ করা হয়েছে।
আবেদনকারী মনে করেন, এ বিষয়ে যথাযথ তদন্ত হলে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নিয়োগের নথি, পিএসসির রেকর্ড, তদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নথি যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই প্রাসঙ্গিক।
লিখিত আবেদনে শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বরিশাল ও ঢাকায় অংশীদারত্বের ভিত্তিতে জমি কেনা, ফ্ল্যাট ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং রাজধানীর উত্তরায় নিজস্ব ফ্ল্যাট ও গাড়িসহ বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, ঘুষ, কমিশন, ঠিকাদারি কাজের লেনদেন এবং বিভিন্ন প্রকল্পের বিল-সংক্রান্ত অনিয়মের মাধ্যমে শহিদুল ইসলাম ও তাঁর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁর নামে-বেনামে শত শত কোটি টাকার সম্পদ থাকার কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব সম্পদের পরিমাণ, প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়ের সময়, অর্থের উৎস এবং আয়-ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত হলে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। ।
অভিযোগটির সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পদ বিবরণী, আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, জমি ও ফ্ল্যাটের দলিল, গাড়ির নিবন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করা যেতে পারে।

শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রতিবাদে বরিশালে ঠিকাদারদের একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ওই মানববন্ধনে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হামলা চালিয়ে অংশগ্রহণকারীদের বাধা দেন ও হয়রানি করেন।ঘটনাটি সত্য তা আলাদাভাবে তদন্তের দাবি রাখে।
দুদকের চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া আবেদনে অভিযোগকারী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
অভিযোগের প্রকৃতি বিবেচনায় কয়েকটি বিষয় যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে:
প্রায় ৩২ কোটি টাকার কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্পের দরপত্র, কার্যাদেশ, কাজের পরিমাপ ও বিল পরিশোধের নথি।
বরিশাল কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজের চুক্তি, বাস্তব অগ্রগতি ও আর্থিক হিসাব।
মেসার্স মোমিন সিকদার, মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ, ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং মেসার্স রাফিদ ট্রেডার্সের প্রকৃত মালিকানা ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন।
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি কাজের সাবকন্ট্রাক্ট, সংশোধিত ব্যয়, নিরাপত্তা জামানত ও ব্যাংক লেনদেন।
শহিদুল ইসলামের নিয়োগসংক্রান্ত নথি এবং পিএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রামাণ্য তথ্য আছে কি না।
তাঁর নামে ও বেনামে থাকা বলে অভিযোগ করা জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি, ব্যাংক হিসাব এবং আয়কর নথি।
এসব নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারণ করা সম্ভব হতে পারে।
সাকিল আহম্মেদ বলেন, “আমি সচেতন একজন নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগ এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে দুদকের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আশা করি, দুদকের তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা মিলবে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াই তাঁর আবেদনের উদ্দেশ্য।
সরকারি প্রকল্পের অর্থ ব্যয়, দরপত্রে স্বচ্ছতা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের উৎস যাচাই—এসব বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, নথিভিত্তিক প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। সব মিলিয়ে, অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তিতে নথিভিত্তিক, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তই হবে মূল বিষয়।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ঘুষ-কমিশন, ভুয়া বিল-ভাউচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ; প্রকল্পের দরপত্র ও আর্থিক নথি তদন্তের দাবি- ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) শাখা'র নির্বাহী সদস্য মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ-কমিশন বাণিজ্য, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, দরপত্রে অনিয়ম, বেনামে ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন সাকিল আহম্মেদ নামে এক ব্যক্তি। ‘সচেতন নাগরিক’-এর পক্ষে করা ওই আবেদনে শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্বে থেকে ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে কমিশন দাবি এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত মালিকানা, দরপত্র ও কার্যাদেশ, নির্মাণকাজের বাস্তব অগ্রগতি, পরিমাপ বই, বিল-ভাউচার, ব্যাংক লেনদেন এবং নিরাপত্তা জামানতের নথি যাচাই করা হলে অনিয়মের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ঠিকাদারি কাজ বণ্টন ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ দুদকের চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের মদদে মেসার্স মোমিন সিকদার, মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ, ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং মেসার্স রাফিদ ট্রেডার্সের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ বণ্টন, সাবকন্ট্রাক্ট ও ব্যবসায়িক সুবিধা দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। অভিযোগে প্রায় ৩২ কোটি টাকার কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্প এবং বরিশাল নগরীর কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজের দরপত্র ও বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আরও পড়ুন: বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল যখন ঠিকাদার: ঘুষ দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ আবেদনকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্পে কোন প্রতিষ্ঠান কীভাবে কাজ পেয়েছে, কার্যাদেশের সঙ্গে বাস্তব নির্মাণকাজের সামঞ্জস্য কতটা, কাজের পরিমাপ অনুযায়ী বিল দেওয়া হয়েছে কি না এবং অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ছাড়া ঠিকাদারদের বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে কমিশন দাবি, ঠিকাদারি কাজ বিক্রি, অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে প্রকল্পের সংশোধিত বরাদ্দ বা বিলের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন এবং লাইসেন্স-সংশ্লিষ্ট লেনদেনে অর্থ আদায়ের অভিযোগও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বেনামি ঠিকাদারি ব্যবসা ও দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় শহিদুল ইসলাম নিজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা পরিচালনা এবং দরপত্রপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগকারীর ধারণা। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত মালিকানা, অংশীদারত্ব, কার্যাদেশ বণ্টন, দরপত্রের নথি, কাজের উপঠিকাদারি চুক্তি এবং আর্থিক লেনদেন যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীর মতে, সরকারি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের কোনো সংঘাত ছিল কি না, তা নির্ধারণে প্রতিষ্ঠানের নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করা জরুরি।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই এবং আইনানুগ তদন্ত করা প্রয়োজন। নিয়োগ ও পিএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রসঙ্গেও অভিযোগ শহিদুল ইসলামের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়েছে আবেদনে। অভিযোগকারীর দাবি, তাঁর এবং তাঁর কয়েকজন বন্ধুর নিয়োগ ঘিরে অতীতে অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছিল এবং পরে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নপত্র ফাঁসের বহুল আলোচিত ঘটনা এবং পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনসহ একটি প্রশ্নফাঁস চক্রের প্রসঙ্গ টেনে শহিদুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতা নিয়েও অভিযোগ করা হয়েছে। আবেদনকারী মনে করেন, এ বিষয়ে যথাযথ তদন্ত হলে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নিয়োগের নথি, পিএসসির রেকর্ড, তদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নথি যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই প্রাসঙ্গিক। শত শত কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ লিখিত আবেদনে শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বরিশাল ও ঢাকায় অংশীদারত্বের ভিত্তিতে জমি কেনা, ফ্ল্যাট ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং রাজধানীর উত্তরায় নিজস্ব ফ্ল্যাট ও গাড়িসহ বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ঘুষ, কমিশন, ঠিকাদারি কাজের লেনদেন এবং বিভিন্ন প্রকল্পের বিল-সংক্রান্ত অনিয়মের মাধ্যমে শহিদুল ইসলাম ও তাঁর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁর নামে-বেনামে শত শত কোটি টাকার সম্পদ থাকার কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সম্পদের পরিমাণ, প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়ের সময়, অর্থের উৎস এবং আয়-ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত হলে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। । অভিযোগটির সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পদ বিবরণী, আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, জমি ও ফ্ল্যাটের দলিল, গাড়ির নিবন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করা যেতে পারে। মানববন্ধন ঘিরেও বিরোধের অভিযোগ শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রতিবাদে বরিশালে ঠিকাদারদের একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ওই মানববন্ধনে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হামলা চালিয়ে অংশগ্রহণকারীদের বাধা দেন ও হয়রানি করেন।ঘটনাটি সত্য তা আলাদাভাবে তদন্তের দাবি রাখে। কোন কোন নথি যাচাইয়ের দাবি দুদকের চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া আবেদনে অভিযোগকারী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। অভিযোগের প্রকৃতি বিবেচনায় কয়েকটি বিষয় যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে: প্রায় ৩২ কোটি টাকার কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্পের দরপত্র, কার্যাদেশ, কাজের পরিমাপ ও বিল পরিশোধের নথি। বরিশাল কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজের চুক্তি, বাস্তব অগ্রগতি ও আর্থিক হিসাব। মেসার্স মোমিন সিকদার, মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ, ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং মেসার্স রাফিদ ট্রেডার্সের প্রকৃত মালিকানা ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি কাজের সাবকন্ট্রাক্ট, সংশোধিত ব্যয়, নিরাপত্তা জামানত ও ব্যাংক লেনদেন। শহিদুল ইসলামের নিয়োগসংক্রান্ত নথি এবং পিএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রামাণ্য তথ্য আছে কি না। তাঁর নামে ও বেনামে থাকা বলে অভিযোগ করা জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি, ব্যাংক হিসাব এবং আয়কর নথি। এসব নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারণ করা সম্ভব হতে পারে। অভিযোগকারীর বক্তব্য সাকিল আহম্মেদ বলেন, “আমি সচেতন একজন নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগ এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে দুদকের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আশা করি, দুদকের তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা মিলবে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াই তাঁর আবেদনের উদ্দেশ্য। তদন্তেই নির্ধারিত হবে অভিযোগের সত্যতা সরকারি প্রকল্পের অর্থ ব্যয়, দরপত্রে স্বচ্ছতা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের উৎস যাচাই—এসব বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, নথিভিত্তিক প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। সব মিলিয়ে, অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তিতে নথিভিত্তিক, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তই হবে মূল বিষয়।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে সৌদি আরবে ২৪ বছর বয়সী এক শ্রীলংকান তরুণের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে।। অনুজান শিবারাস নামের ওই তরুণের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্টের এই রায়কে কেন্দ্র করে তার পরিবার এখন ক্ষমার আবেদন নিয়ে শেষ আশায় দিন কাটাচ্ছে। পরিবারের দাবি, অনুজান মন্তব্যটি করার পর নিজের ভুল বুঝতে পেরে সেটি মুছে ফেলেছিলেন। পরে ক্ষমা চেয়ে একটি ভিডিও বার্তাও প্রকাশ করেন তিনি। কিন্তু ততক্ষণে ওই মন্তব্যের স্ক্রিনশট সৌদি আরবে তার কর্মস্থলে পৌঁছে যায়। এরপরই বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় গড়ায় এবং গত জুলাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার সূত্রপাত শ্রীলংকায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে শুরু হওয়া তীব্র বিতর্ক থেকে। একটি মন্তব্য, তারপর গ্রেপ্তার গত জুনে শ্রীলংকায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। সেই বিতর্কের একপর্যায়ে অনুজান মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে একটি অসম্মানজনক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তিনি মন্তব্যটি মুছে দেন এবং নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা কোনো বক্তব্য মুছে ফেললেও তার কপি অন্য কারও কাছে থেকে যেতে পারে—এই ঘটনাতেও সেটিই ঘটেছে বলে পরিবারের বক্তব্য। অনুজানের করা মন্তব্যের একটি স্ক্রিনশট সংগ্রহ করে কেউ সৌদি আরবে তার কর্মস্থলে পাঠিয়ে দেয়। এর পরপরই বিষয়টি সৌদি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে এবং জুলাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথমে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড মামলাটির বিচার প্রথম পর্যায়ে সৌদি আরবের আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্টে হয়। আদালত শুরুতে অনুজানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা করেন। তবে পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। এরপর মামলাটি সাইবার অপরাধ আইনের পরিবর্তে শরিয়া আইনের আওতায় বিবেচনা করা হয় এবং তার সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থাৎ, একই ঘটনার বিচারপ্রক্রিয়ায় অভিযোগের আইনি কাঠামো পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সাজাও নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়—পাঁচ বছরের কারাদণ্ড থেকে মৃত্যুদণ্ডে। এই পরিবর্তনই এখন অনুজানের পরিবারের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৌদি আইনে ধর্মীয় অবমাননার কঠোর শাস্তি ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অবমাননার অভিযোগ সৌদি আরবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুতর বিষয়। দেশটির বিচারব্যবস্থায় শরিয়া আইনের প্রয়োগের কারণে এ ধরনের অভিযোগে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। অনুজানের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পর মামলাটি শরিয়া আইনের আওতায় নেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের রায় আসে। তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়া এবং তা কার্যকর হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে আইনি ও কূটনৈতিকভাবে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। অনুজানের পরিবার এখন সেই পথেই শেষ আশার সন্ধান করছে। সেপ্টেম্বর থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ পরিবারের জন্য পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে অনুজানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর থেকে তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। সৌদি আরবে এ ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো পূর্বঘোষণা দেওয়া হয় না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে অনুজানের পরিবার জানে না, তার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় কখন কার্যকর হতে পারে। ক্ষমার আবেদন নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা ছেলের জীবন রক্ষায় এখন সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে সাধারণ ক্ষমার আবেদন জানাচ্ছে অনুজানের পরিবার। একই সঙ্গে শ্রীলংকা সরকারও কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে। শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়াকসহ দেশটির বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা এ ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া শ্রীলংকার একটি আইনি দল সৌদি আরবে গিয়ে দেশটির আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করছে। লক্ষ্য—মৃত্যুদণ্ডের রায় থেকে অনুজানকে রক্ষা করার সম্ভাব্য আইনি ও কূটনৈতিক পথ খুঁজে বের করা। ভুল স্বীকার ও ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ? এই মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—অভিযোগ অনুযায়ী মন্তব্যটি প্রকাশের পর অনুজান সেটি মুছে ফেলেন এবং ক্ষমা চেয়ে ভিডিও প্রকাশ করেন। তার পরিবারের বক্তব্য, তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছিলেন এবং অনুতপ্ত ছিলেন। এখন পরিবার সেই অনুতাপ ও ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিকেই সামনে এনে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে দয়া ও সাধারণ ক্ষমার আবেদন করছে। ইসলামি ঐতিহ্যে অপরাধের শাস্তির পাশাপাশি তওবা, অনুশোচনা ও ক্ষমার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে পরিবারটি যুক্তি দিচ্ছে। তবে অনুজানের মামলায় শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হবে, তা নির্ভর করছে সৌদি আরবের বিচারিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর। একটি ফেসবুক পোস্ট থেকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ইস্যু অনুজান শিবারাসের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা একটি মন্তব্য কীভাবে একটি ব্যক্তিগত ঘটনার সীমা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে, তার একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। একটি পোস্ট মুছে ফেলা হলেও তার ডিজিটাল কপি থেকে যেতে পারে। সেই কপিই শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবে তার বিরুদ্ধে মামলার সূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। এখন প্রশ্ন—ক্ষমা চেয়ে মন্তব্য প্রত্যাহার করার পরও অনুজানের মৃত্যুদণ্ডের রায় কি পরিবর্তন করা সম্ভব হবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তার পরিবার, শ্রীলংকার সরকার এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। অনুজানের পরিবারের সামনে এখন একটাই লক্ষ্য—সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে সাধারণ ক্ষমা আদায় করে ২৪ বছর বয়সী এই তরুণের জীবন রক্ষা করা।
বাসস: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট (সোমবার) ছাত্র-জনতার সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও তীব্র প্রতিরোধের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। এর মাধ্যমে প্রায় ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে। বাংলাদেশ এক ভয়ঙ্কর ফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসনের কবল থেকে মুক্তি পায়। গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। অথচ নিজের দীর্ঘ শাসনামলে বহুবার অহংকার করে উঁচু গলায় বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা পালায় না’। এমনকি ২০২৪ সালের ২২ জুলাই গণআন্দোলন চলাকালেও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চলা এক বৈঠকেও এ কথা পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন হাসিনা। কিন্তু সেই বক্তব্যের দুই সপ্তাহের মধ্যেই জনগণের তীব্র প্রতিরোধ, প্রচণ্ড ঘৃণা ও গণআন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন তিনি।চব্বিশের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের জনগণের জন্য একদিকে যেমন বিজয়ের, অন্যদিকে ততটাই মর্মান্তিক। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তথ্য অনুযায়ী এ বিজয় অর্জনে হাজারো শহীদ, ২৩ হাজারেরও বেশি আহত, সাত শতাধিক মানুষ দৃষ্টিহারা, হাজারো মানুষের পঙ্গুত্ববরণ, হাজারো সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষার্থীর কারাবরণ, নির্যাতন-নিপীড়নের অবর্ণনীয় ত্যাগ রয়েছে এ অর্জনে। রয়েছে প্রিয়জন, স্বজন এবং সন্তান হারানোর করুণ আর্তনাদ। ৫ আগস্ট হাসিনার সরকারের পতনের পরও পুলিশের বর্বর হামলায় অনেক মানুষ প্রাণ হারান। শেখ হাসিনার অনুগত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের হামলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শত শত মানুষ নিহত এবং অসংখ্য মানুষ আহত হন। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারিক কার্যক্রম চলছে। চব্বিশের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৬টি মামলায় রায় ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আলোচিত ৬টি রায়ে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি এসব মামলার অপর আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চলমান বিচারের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের বিচারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে যে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়েছিল, এখন পর্যন্ত দুটি ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ৬টি রায়ের মাধ্যমে সে প্রতিশ্রুতি অনেকাংশে পূরণ হয়েছে। দেশের অন্য কোনো আদালতের চেয়ে অনেক কম সময়ে সেনসিটিভ ৬টি মামলায় যে রায় ঘোষণা করা হয়েছে, তা অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক। এখনো অনেকগুলো মামলা বিচারাধীন রয়েছে, দুটি ট্রাইব্যুনালে সেগুলোর বিচার চলছে এবং সেগুলো বিচারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। আশা করি, আমাদের ট্রাইব্যুনাল চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সব বিচার নিশ্চিত হবে। যেভাবে হাসিনার পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে ৫ আগস্টের কারফিউ উপেক্ষা করে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি সফল করতে হাজার হাজার মানুষ রাজধানী ঢাকার অভিমুখে পদযাত্রা করেন। দেশজুড়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করার পর জনতার উল্লাসে চারদিক মুখরিত হয়ে ওঠে। শেখ হাসিনার ক্ষমতার আধিপত্য এবং আওয়ামী লীগের কথিত রাজনৈতিক দুর্গ যেন মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে। রাজধানীর রাজপথ দখলে নেয় লাখ লাখ মানুষ। তাদের মধ্যে হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা শেখ হাসিনার তৎকালীন বাসভবন গণভবনে প্রবেশ করে বিজয় উদ্যাপন করা শুরু করে। শুধু গণভবন নয়, শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পর অসংখ্য মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জাতীয় সংসদেও প্রবেশ করে। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিশু, বৃদ্ধ, শ্রমজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থী সবাই রাজপথে নেমে দীর্ঘদিনের একনায়কতান্ত্রিক শাসনের পতন উদ্যাপন করে।হাসিনার পতনের আনন্দে রাজপথে অসংখ্য মানুষ শুকরিয়া আদায়ে সেদিন নফল নামাজ আদায় করেন। শেখ হাসিনা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করেন। ৫ আগস্ট রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। দুপুরের দিকে হাজার হাজার মানুষ শাহবাগে জড়ো হতে থাকেন। শেখ হাসিনা হঠাৎ দেশত্যাগ করার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজধানীসহ সারা দেশে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালায়। এতে অনেক মানুষ নিহত ও আহত হন। ২০০৯ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর থেকেই শেখ হাসিনা তার এই ‘নিরঙ্কুশ ক্ষমতা’ ধরে রাখতে চেয়েছেন। এ লক্ষ্যে তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণসহ শাসনব্যবস্থায় নানা অনিয়ম ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি সমালোচনাকেও সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ করে তার অধীনে একের পর এক বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচন করে ক্ষমতা ধরে রাখেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের বর্জনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে ১৫৩ জন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন, যা ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় সৃষ্টি করে। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোটের পাশাপাশি বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটও অংশ নিয়েছিল। শেখ হাসিনা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস দিলেও নির্বাচনের আগের দিন রাতেই সারা দেশের সব ব্যালট বাক্স ভর্তি করে নির্বাচন শেষ করা হয়। ওই নির্বাচনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কর্মীরা মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে। ইতিহাসে ওই নির্বাচন ‘রাতের ভোট’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপিকে মাত্র ৬টি আসনে বিজয়ী দেখানো হয়। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইতিহাসে ‘আমি-ডামি’ নির্বাচন হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ওই নির্বাচন আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগের কর্মী এবং কতিপয় দোসরদের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপির সব শীর্ষ নেতৃত্বসহ জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং হাজার হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে কারাবন্দি করে রাখা হয়। হাসিনা তার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে অসংখ্য গুম, খুন ও ভয়াবহ কারা নির্যাতনের অসংখ্য নজির স্থাপন করেছেন। আয়নাঘরে আটক রেখে অবর্ণনীয় নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ হলে মানুষ আতঙ্কে শিহরিত হয়ে ওঠে। বর্বর এসব ঘটনা পৃথিবীর সব নিষ্ঠুরতাকেও হার মানায়। গুমের শিকার শত শত মানুষের সন্ধান এখনো মেলেনি। হাসিনার শাসনামলে বিএনপিসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো নির্বিঘ্নে কোনো সমাবেশ করতে পারেনি। বিভিন্ন রকম বাধার পাশাপাশি গণগ্রেপ্তার এবং সাজানো মিথ্যা মামলা ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। চব্বিশের দুনিয়া কাঁপানো ৩৬ জুলাইয়ের (১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট) আন্দোলনেও একই ঘটনা ঘটায় হাসিনা সরকার। বিএনপি-জামায়াতসহ গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলসমূহের অধিকাংশ শীর্ষ নেতৃত্বকেই কারারুদ্ধ করে রাখা হয়। চব্বিশের জুলাইয়ের টানা আন্দোলন আগস্টের ৫ আগস্ট সফলতা পায়, এটিই ৩৬ জুলাই আন্দোলন হিসেবে জনগণের কাছ থেকে স্বীকৃতি পায়। সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতি হাসিনার উদাসীনতা এবং দমনমূলক আচরণই শেষ পর্যন্ত এ আন্দোলনকে সফল গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়। দেশের মানুষ কখনো কল্পনাও করতে পারেনি, ১ জুলাই শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলন একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার সম্মিলিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এ রূপ নেবে। শিক্ষার্থীরা শুরুতে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করেই রাজপথে নামেন। ২০১৮ সালে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের আন্দোলনের মুখে সরকার এক প্রজ্ঞাপনে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে দেয়। ২০২৪ সালের জুনে হাইকোর্ট সেই প্রজ্ঞাপনকে অবৈধ ঘোষণা করে কোটা পুনর্বহালের রায় দেন। হাইকোর্টের রায়ে ফের ৫৬ শতাংশ কোটা প্রথা পুনর্বহাল হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। মেধাবী শিক্ষার্থীদের বঞ্চনার প্রতীক হিসেবে এই কোটা পুনর্বহালকে তারা প্রত্যাখ্যান করে এবং তীব্র ছাত্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। সরকার শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন দমন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সমর্থক ক্যাডারদের মাঠে নামিয়ে দেয়, যার ফলে এ আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর আওয়ামী ক্যাডার বাহিনীর হামলার চিত্র মনে হলে এখনো গা শিউরে ওঠে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষ আহত হন। যার ফলে দেশ রক্তাক্ত এক প্রান্তরে পরিণত হয়। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ আগস্ট সকাল থেকেই ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা শাহবাগে আসতে শুরু করেন। তারা যখন কারফিউ ও পুলিশের ব্যারিকেড উপেক্ষা করে রাজধানীতে প্রবেশের চেষ্টা করেন, তখনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা মূলত ৬ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু ৩ ও ৪ আগস্ট আওয়ামী লীগের ‘রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের’ নামে চালানো হামলায় যথাক্রমে অন্তত ৯৩ ও ৬৬ জন নিহত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কর্মসূচির সময় এগিয়ে এনে ৫ আগস্ট নির্ধারণ করেন। আন্দোলন যখন সহিংস হয়ে ওঠে, সমন্বয়করা সারা দেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায় স্বীকার করে শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়াসহ বেশ কয়েকটি দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার তা না করে আন্দোলন দমনে কৌশল অবলম্বন করে। একপর্যায়ে ৯ দফা ঘোষণা করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ছাত্র সমন্বয়করা। এরপর চব্বিশের ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক জনসভায় শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবি তুলে এক দফা ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা। শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণার পর আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন আরও বেড়ে যায়। এরপর আন্দোলনকারীরা ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দিনটিকে তারা ‘৩৬ জুলাই’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাদের মতে, শেখ হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত জুলাই মাস শেষ হবে না। অবশেষে আসে সেই ঐতিহাসিক দিন ৫ আগস্ট। ভোরে আলো ফুটতেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ও শহরতলি থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজধানীর শাহবাগ অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। ঢাকার বাইরে থেকেও হাজার হাজার মানুষ পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে রাজধানীতে আসার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি তখন ছিল চরম উত্তেজনাপূর্ণ ও অস্থির। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হাজার হাজার মানুষ জীবন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। কোনো কিছুই তাদের থামাতে পারেনি। তারা যেকোনো নিরাপত্তাব্যবস্থাকে পদদলিত করে গণভবনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনা উপলব্ধি করেন, বাংলাদেশের মাটিতে এটাই তার শেষ মুহূর্ত। এবার বিদায় নিতে হবে। এরপর শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং তার ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে একটি সামরিক হেলিকপ্টারে করে ভারতের উদ্দেশে দেশত্যাগ করেন। এর মধ্য দিয়ে তার দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে রাজপথ কাঁপানো বিভিন্ন স্লোগান আন্দোলনকে বেগবান করেছিল। সেই স্লোগানগুলো অধিকার আদায়, প্রতিবাদ ও সরকার পতনের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। প্রাথমিক প্রতিবাদ ও মেধার স্লোগান ছিল-‘কোটা না মেধা? মেধা! মেধা!’, ‘চাইলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার!’, ‘আমি কে, তুমি কে? রাজাকার, রাজাকার! কে বলেছে, কে বলেছে? স্বৈরাচার, স্বৈরাচার!’, ‘আপোষ না সংগ্রাম? সংগ্রাম! সংগ্রাম!’ এবং ‘দালালি না রাজপথ? রাজপথ! রাজপথ!’ প্রতিরোধ ও প্রতিবাদের স্লোগান ছিল-‘আমার ভাই মরল কেন? প্রশাসন জবাব চাই!’, ‘আমার খায়, আমার পরে, আমার বুকেই গুলি করে!’, ‘তোর কোটা তুই নে, আমার ভাই ফিরিয়ে দে!’, ‘লাশের ভেতর জীবন দে, নইলে গদি ছাইড়া দে!’ এবং ‘ভয় পেলে শেষ, লড়লে বাংলাদেশ!’ সরকার পতনের চূড়ান্ত স্লোগান ছিল-‘এক দুই তিন চার, শেখ হাসিনা গদি ছাড়!’, ‘দফা এক, দাবি এক, হাসিনা সরকারের পতন!’ এবং ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ!’ লন্ডনে থেকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মুখে উচ্চারিত বিভিন্ন স্লোগান আন্দোলনে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। উল্লেখ্য, বিতর্কিত ১/১১ এর জরুরি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়ে দীর্ঘদিন লন্ডনে নির্বাসিত ছিলেন তিনি। তারেক রহমানের স্লোগানগুলো ছিল: ‘যদি তুমি ভয় পাও, তবে তুমি শেষ; যদি তুমি রুখে দাঁড়াও-তবেই তুমি বাংলাদেশ।’ ‘দফা ১, দাবি ১, খুনি হাসিনার পদত্যাগ।’ তবে স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত করে জনগণের বাংলাদেশ জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার মূল লক্ষ্য নিয়ে ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ স্লোগানটি আন্দোলনকারীদের মাঝে জোরালো প্রচার পায়। কোটা সংস্কার আন্দোলন তীব্র রূপ ধারণ করার পর তারেক রহমান সরাসরি এই এক দফা দাবির স্লোগানটি সামনে নিয়ে আসেন। সেটি হলো-‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ স্বৈরাচার পতন ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের ডাক দিতে গিয়ে তিনি এই স্লোগানটির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেন।