বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ২০ বছর পরও বাস্তবায়ন হয়নি প্রকল্প; জমির মালিকানা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, মামলা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :
বরিশালের ডেফুলিয়া এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ৫০ একর জমি। ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কিন্তু প্রায় দুই দশক পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে সেই জমির একটি বড় অংশ ব্যক্তি মালিকানায় চলে যাওয়া এবং প্লট আকারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি খাসজমি কীভাবে ব্যক্তিমালিকানায় রেকর্ডভুক্ত হলো, কারা এর সুবিধা নিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাদের ভূমিকা কী ছিল—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে। জমির মালিকানা দাবি করা ব্যক্তিদের একাংশ বলছেন, তাঁরা বৈধ কাগজপত্র যাচাই করে জমি কিনেছেন। অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে সরকারি জমির কাগজপত্র তৈরি করে তা বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে জমি বেহাতের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জমি উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং রেকর্ডভুক্ত জমির বিষয়ে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা চলমান রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ডেফুলিয়া মৌজার ওই জমি খাস। সেখানে স্থাপনা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। তবে যিনি সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করছিলেন, সাবেক কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম দাবি করেছেন, রাস্তার পাশের ২৫ শতাংশ জমি তাঁর। সেখানে স্টল নির্মাণের জন্য তিনি সীমানাপ্রাচীর দিচ্ছিলেন। জমিটি খাসজমি নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেছেন, পরিকল্পনা বা অনুমোদনের বাইরে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জমিটি খাস বলে জানিয়েছেন। এ নিয়ে সেখানে উত্তেজনাও তৈরি হয়েছিল। এ কারণে কাজ বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জমির কাগজপত্র দেখাতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রস্তাবিত ২০টি খেলার মাঠের মধ্যে ডেফুলিয়াতেও একটি মাঠ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্প্রতি বিসিসির প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরীন ডেফুলিয়ায় গিয়ে খালেদা জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত ওই স্থান পরিদর্শন করেন। সেখানে একটি খেলার মাঠ ও আধুনিক হাসপাতাল করার প্রস্তাব দেন তিনি। এ বিষয়ে বিলকিস জাহান শিরীন বলেন, ডেফুলিয়ায় স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে বরিশালের ডেফুলিয়া এলাকায় জিয়াউর রহমানের নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ উদ্দেশ্যে ৫০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম আর এগোয়নি। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্যে ওই জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
বর্তমানে জমির বিভিন্ন অংশে একাধিক ব্যক্তি মালিকানা দাবি করছেন। তাঁদের কেউ কেউ জমি কেনাবেচা করছেন এবং প্লট আকারে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ করা জমি ব্যক্তিমালিকানায় নেওয়ার প্রক্রিয়ায় তৎকালীন সময়ে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁদের বক্তব্যে প্রয়াত নাসির উদ্দিনের নাম এসেছে। তিনি আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত আসনের সাবেক এক সংসদ সদস্যের আত্মীয় ছিলেন বলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা দাবি করেছেন।
সদর উপজেলা বিএনপি, বরিশালের আহ্বায়ক নুরুল আমিন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি সরকারি জমিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, “পিস্তল মহিউদ্দিন নামে আওয়ামী লীগের এক লোক ও তার শালা নাসির—তিনি এই সরকারি জমিকে অবৈধভাবে কাগজপত্র তৈরি করে বর্তমানে প্লট আকারে বিক্রি করছেন। এটার আমরা নিন্দা জানাই।”
নুরুল আমিনের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি জমির মালিকানা পরিবর্তনের পেছনে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা ছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা দলিল, রেকর্ড ও জমি হস্তান্তরের ধারাবাহিকতা যাচাই করা জরুরি।সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় রেকর্ডভুক্ত হয়ে থাকলে, সেই প্রক্রিয়ায় কোন দপ্তরের অনুমোদন বা নথি ব্যবহৃত হয়েছে, তা-ও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
অন্যদিকে, জমির মালিকানা দাবি করা ব্যক্তিরা অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে কাগজপত্র থাকার কথা জানিয়েছেন।
সাবেক কাউন্সিলর ও জমির মালিকানা দাবিদার নুরুল ইসলাম বলেন, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাঁর দাবি, ওই ৫০ একর জমির মালিকানা বর্তমানে শতাধিক ব্যক্তির নামে রয়েছে।
তিনি বলেন, “এই ৫০ একরের মালিক আছে ১০০ জনের উপরে। কিন্তু তার ভেতরে আমরা ১৫ থেকে ২০ জন মিলে কিনেছি ২০ একরের মতো। আমরা সমস্ত মালিকানা কাগজপত্র দেখে ক্রয় করছি, আমাদের ভেতরে কোনো খাস জমি নেই।”
নুরুল ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁরা জমি কেনার আগে মালিকানাসংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করেছেন। ফলে তাঁদের কেনা জমির কোনো অংশ সরকারি খাসজমি কি না, তা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তিনি নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করছেন।
তবে কাগজপত্র দেখে জমি কেনার দাবি এবং জমির প্রকৃত আইনগত মালিকানা এক বিষয় নয়। কোনো জমি সরকারি খাসজমি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকলে, পরবর্তী সময়ে তা কীভাবে ব্যক্তিমালিকানায় রেকর্ডভুক্ত হয়েছে, সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি করতে মূল বরাদ্দপত্র, খতিয়ান, নামজারি, দলিল এবং সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
সরকারি জমি ব্যক্তিমালিকানায় চলে যাওয়ার অভিযোগের সঙ্গে ভূমি প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা জড়িত থাকতে পারেন বলে দাবি করেছেন বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম রাজন।
তিনি বলেন, “ভূমিদস্যুরা এই খাস জমি দখল করে নিজ আয়ত্তে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা তেমন কোনো জোরালো পদক্ষেপ দেখি নাই। এর সঙ্গে যে সকল চক্র আছে, যে সকল ভূমিদস্যু আছে, তাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করা হোক।”নজরুল ইসলাম রাজনের বক্তব্যে সরকারি জমি রক্ষায় প্রশাসনিক তৎপরতার ঘাটতির অভিযোগও উঠে এসেছে।
তবে ভূমি অফিসের কোনো কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িত ছিলেন কি না, তা এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নির্ধারণে জমির মূল রেকর্ড, রেকর্ড সংশোধনের আবেদন, নামজারি ও দলিল নিবন্ধনের নথি এবং প্রশাসনিক অনুমোদন পরীক্ষা করা জরুরি।
সরকারি খাসজমি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ডভুক্ত হওয়ার অভিযোগের ক্ষেত্রে শুধু বর্তমান মালিকানার নথি নয়, জমির মূল মালিকানা থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রতিটি হস্তান্তরের ধারাবাহিকতা যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ।
জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ এবং সরকারি জমি উদ্ধারের বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার জানিয়েছেন, বিষয়টি জানার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। জমি উদ্ধারের উদ্যোগও চলছে।
তিনি বলেন, “যাই হোক, উদ্ধারে আমরা প্রচেষ্টা নিচ্ছি। পাশাপাশি যাদের নামে রেকর্ড হয়েছে, সেই রেকর্ডভুক্ত জায়গাতে আমরা এরই মধ্যে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছি। মামলার কার্যক্রম চলমান আছে। আমরা আশা করি অচিরেই আমরা এই জায়গাটি উদ্ধার করব।”জেলা প্রশাসকের বক্তব্য অনুযায়ী, জমির রেকর্ডভুক্ত মালিকদের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ডেফুলিয়া এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দকৃত ৫০ একর জমির বর্তমান মালিকানা দাবি করা ব্যক্তিরা তাঁদের মালিকানার পক্ষে কাগজপত্র ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এসব নথি যাচাই করে জমির মূল বরাদ্দ, সরকারি খাসজমির অবস্থান এবং পরবর্তী সময়ে রেকর্ড পরিবর্তনের বৈধতা নির্ধারণ করা এখন প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
ডেফুলিয়ার এই জমি নিয়ে বিরোধ কেবল মালিকানা নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণ, ভূমি রেকর্ডের স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির প্রশ্নও জড়িত।
বিষয়টি নিষ্পত্তিতে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর গুরুত্বপূর্ণ:
২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ৫০ একর জমির সুনির্দিষ্ট সীমানা ও মূল রেকর্ড কী ছিল?
জমির কোন অংশ সরকারি খাসজমি হিসেবে নথিভুক্ত ছিল এবং বর্তমানে কতটুকু জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে?
সরকারি জমি ব্যক্তিমালিকানায় রেকর্ডভুক্ত হয়ে থাকলে, কোন নথি ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা হয়েছে?
জমির দলিল, নামজারি ও খতিয়ান তৈরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস এবং নিবন্ধন দপ্তরের কোনো কর্মকর্তার অনিয়ম ছিল কি না?
জমির বর্তমান দাবিদারদের কাছে থাকা দলিল ও রেকর্ড মূল বরাদ্দের নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না?
এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি ভূমি রেকর্ড, দলিল ও আদালতের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে বরাদ্দ দেওয়া জমি যদি অবৈধভাবে দখল বা হস্তান্তর হয়ে থাকে, তাহলে তা শুধু ভূমি ব্যবস্থাপনার অনিয়ম নয়; সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণ এবং জনস্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
ডেফুলিয়ার ৫০ একর জমির বিরোধে তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—মূল বরাদ্দের নথি থেকে শুরু করে বর্তমান রেকর্ড পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের স্বচ্ছ তদন্ত। এতে সরকারি জমির প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণের পাশাপাশি অনিয়ম হয়ে থাকলে দায়ীদের শনাক্ত করাও সম্ভব হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া জমির বর্তমান অবস্থা, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক দায় নির্ধারণের বিষয়টি এখন জেলা প্রশাসনের চলমান আইনি কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।
বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষন পরিষদ’র সভাপতি এ্যডভোকেট নজরুল ইসলাম রাজন শহিদ জিয়াউর রহমান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়’র নির্দিষ্টস্থানে অবিলম্বে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবী জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
মোবাইল নম্বর ব্লক করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ; নিরাপত্তা চেয়ে ইউএনওর কাছে লিখিত আবেদন, অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্ত পক্ষের ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশালের মুলাদী সরকারি কলেজে মোবাইল ফোন নম্বর ব্লক করাকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে মারধর ও জুতাপেটা করার অভিযোগ উঠেছে তাঁদের এক সহপাঠী ও কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে কলেজ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার (১৭ অক্টোবর) নিরাপত্তা চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটি তদন্তে দুই শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তবে অভিযুক্ত পক্ষ হামলা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, দুই ছাত্রীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। ঘটনাটি ঘিরে কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, বিরোধ নিষ্পত্তিতে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে দুই পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী হওয়ায় ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে তদন্ত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সত্যতা যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নম্বর ব্লক করা নিয়ে বিরোধ, এরপর মারধরের অভিযোগ ভুক্তভোগী দুই ছাত্রীর লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের সঙ্গে কলেজের এক সহপাঠীর বন্ধুত্ব ছিল। তাঁরা একসঙ্গে কলেজে যাতায়াতও করতেন। কয়েক দিন আগে তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে দুই ছাত্রী ওই সহপাঠীর মোবাইল ফোন নম্বর ব্লক করে দেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, নম্বর ব্লক করার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই সহপাঠী বৃহস্পতিবার সকালে অন্য এক সহপাঠীর মাধ্যমে তাঁদের শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে নেন। পরে ওই সহপাঠীর বড় বোন নাসরিন আক্তারসহ কয়েকজন বহিরাগত তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন দুই ছাত্রী। লিখিত অভিযোগে তাঁরা দাবি করেন, হামলাকারীরা তাঁদের চুল ধরে টানাটানি করেন, পেটে লাথি মারেন এবং কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় দেন। এ ছাড়া জুতাপেটা, পোশাক ধরে টানাটানি এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘটনার সময় তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কলেজে আসা এবং পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেছেন। নিরাপত্তা চেয়ে ইউএনওর কাছে আবেদন ঘটনার পর নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শনিবার ইউএনওর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন দুই ছাত্রী। তাঁরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী এক ছাত্রী বলেন, তাঁরা নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে কলেজে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান। অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, তাঁদের আশঙ্কা শুধু ঘটনার সময়কার শারীরিক নির্যাতনেই সীমাবদ্ধ নয়; কলেজে যাতায়াত ও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁরা নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন। তবে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য কী? অভিযুক্ত সহপাঠীর বড় বোন নাসরিন আক্তার তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বহিরাগতদের নিয়ে দুই ছাত্রীকে পরিকল্পিতভাবে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগও তিনি নাকচ করেন। নাসরিনের দাবি, তাঁর ছোট বোনের নামে বদনাম করায় ওই দুই ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এ সময় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।অর্থাৎ, ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে কিছুটা মিল থাকলেও শারীরিক নির্যাতনের ধরন, ঘটনার পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ভিডিওতে মারামারির দৃশ্য ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে কলেজ চত্বরে কয়েকজন তরুণী ও ছাত্রীকে বাগ্বিতণ্ডায় জড়াতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। ভিডিওতে কয়েকজনকে দুই ছাত্রীর চুল ধরে টানতে, চড়-থাপ্পড় মারতে এবং জুতাপেটা করতে দেখা যায় বলে বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটি কলেজের অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, অভিযোগ তদন্তে দুই শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে ইউএনও ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, মুলাদীর ইউএনও মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, ঘটনাটি কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঘটেছে। বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব কলেজের অধ্যক্ষকে দেওয়া হয়েছে। অধ্যক্ষ এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তবে তদন্ত কমিটি কবে প্রতিবেদন দেবে, কমিটির কার্যপরিধি কী এবং তদন্তে কার কার বক্তব্য নেওয়া হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। থানায় মামলা হয়েছে কি? ঘটনার বিষয়ে থানায় মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত পুলিশের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ফলে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত শুরু করেছে কি না, সে বিষয়টিও স্পষ্ট নয়। বর্তমানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ ইউএনওর কার্যালয়ে জমা হয়েছে এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগের সত্যতা, জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং ঘটনার পরবর্তী আইনি পরিণতি এখনো নির্ধারিত হয়নি। তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে কয়েকটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। প্রথমত, দুই ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে নেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন এবং তাঁদের কলেজ চত্বরের বাইরে থেকে কেউ সেখানে এসেছিলেন কি না। দ্বিতীয়ত, ভিডিওতে দেখা ব্যক্তিদের পরিচয় ও ভূমিকা কী এবং ভিডিওটি ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপট তুলে ধরে কি না। তৃতীয়ত, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পক্ষে প্রত্যক্ষদর্শী বা অন্য কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না। পাশাপাশি, দুই ছাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কলেজ কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত তদন্ত-সিদ্ধান্ত বা আইনি দায় নির্ধারণের তথ্য পাওয়া যায়নি। দুই পক্ষের বক্তব্যের পার্থক্য বিবেচনায় অভিযোগের প্রতিটি দিক যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। মোবাইল ফোন নম্বর ব্লক করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হলেও অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও নির্যাতনের অভিযোগ মোকাবিলার প্রশ্নও সামনে আসবে। এখন নজর কলেজের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকে। তদন্তে কী উঠে আসে এবং ভুক্তভোগী দুই ছাত্রীর নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয়, তার ওপরই পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকাংশে নির্ভর করছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিচালক মো. রেজাউল বারীকে ঘিরে ৬০ কোটি টাকার কথিত ঋণচুক্তি, ২৪ মাসে সার্ভিস চার্জসহ ১৬৮ কোটি টাকা পরিশোধের শর্ত এবং তাঁর সরকারি পদায়নের সঙ্গে সম্ভাব্য আর্থিক যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা নথিপত্রে উল্লেখ রয়েছে, একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ৬০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন রেজাউল বারী। কথিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ২৪ মাসের মধ্যে সার্ভিস চার্জসহ মোট ১৬৮ কোটি টাকা পরিশোধের বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়। এ জন্য সোনালী ব্যাংকের কয়েকটি ফাঁকা চেক দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ৬০ কোটি টাকার ঋণ, পরিশোধের অঙ্ক ১৬৮ কোটি অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ৬০ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে ২৪ মাসে মোট ১৬৮ কোটি টাকা পরিশোধের কথিত শর্ত। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই অর্থ পরিশোধের মধ্যে সার্ভিস চার্জ অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং চুক্তির বিপরীতে সোনালী ব্যাংকের কয়েকটি ফাঁকা চেক দেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে উত্থাপিত অঙ্ক অনুযায়ী, ঋণের মূল অর্থ ৬০ কোটি টাকা এবং প্রস্তাবিত মোট পরিশোধের অঙ্ক ১৬৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মূল ঋণের তুলনায় পরিশোধের পরিমাণ ১০৮ কোটি টাকা বেশি। এখানে চুক্তিতে উল্লিখিত সার্ভিস চার্জের হার, হিসাবের পদ্ধতি, ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় এবং অর্থ পরিশোধের শর্তাবলি স্বাধীনভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। পদায়নের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র আছে কি? দুদকে জমা দেওয়া আবেদনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলা হয়েছে—কথিত ঋণচুক্তির সঙ্গে রাজউকের পরিচালক পদে রেজাউল বারীর পদায়নের কোনো যোগসূত্র ছিল কি না।এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে তাঁর পদায়নসংক্রান্ত সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, সময়কাল এবং কথিত আর্থিক লেনদেনের সময়ের মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে, ঋণচুক্তি যদি বাস্তবে সম্পাদিত হয়ে থাকে, তাহলে সেটি ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেন হিসেবে সংঘটিত হয়েছিল, নাকি এর সঙ্গে কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত বা দাপ্তরিক সুবিধার সম্পর্ক ছিল—তা পৃথকভাবে যাচাই করা দরকার। দুদকের কাছে যেসব বিষয়ে অনুসন্ধানের আবেদন দুদকে জমা দেওয়া লিখিত আবেদনে মূলত পাঁচটি বিষয়ে অনুসন্ধানের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১. ঋণচুক্তির সত্যতা যাচাই: চুক্তির মূল কপি, স্বাক্ষর, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং চুক্তিতে উল্লেখিত পক্ষগুলোর পরিচয় পরীক্ষা করা। ২. অর্থের উৎস ও লেনদেনের প্রকৃতি: ৬০ কোটি টাকার কথিত ঋণের অর্থ কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে লেনদেন হয়েছে এবং সার্ভিস চার্জের হিসাব কীভাবে নির্ধারিত হয়েছে, তা যাচাই করা। ৩. ফাঁকা চেক দেওয়ার অভিযোগ: সোনালী ব্যাংকের কথিত চেকগুলোর অস্তিত্ব, মালিকানা, নম্বর, ব্যবহার এবং চুক্তির সঙ্গে সেগুলোর সম্পর্ক পরীক্ষা করা। ৪. পদায়নে অনিয়মের সম্ভাবনা: রাজউকে পরিচালক পদে পদায়নের প্রক্রিয়ার সঙ্গে কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করা। ৫. আইনগত ব্যবস্থা: অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। আবেদনটিতে জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দুদক চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। নথি যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ঘিরে বিপুল অঙ্কের ঋণচুক্তি এবং সরকারি পদায়নের সম্ভাব্য যোগসূত্রের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার পরিবর্তে প্রমাণ, নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে চুক্তির সত্যতা, ব্যাংকিং নথি, অর্থের উৎস, সার্ভিস চার্জের হিসাব এবং পদায়নসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা যেতে পারে। জনস্বার্থে এখন মূল প্রশ্ন হলো—কথিত ৬০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি বাস্তবে হয়েছিল কি না, ১৬৮ কোটি টাকা পরিশোধের শর্তের ভিত্তি কী এবং এর সঙ্গে সরকারি পদায়নের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না। নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক অনুসন্ধানই এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।
শ্রেণিকক্ষে অশোভন মন্তব্য ও সম্পদের বড়াই করার অভিযোগ অভিভাবকদের; অভিযোগ অস্বীকার করে ‘শিক্ষকদের অসন্তোষকে’ দায়ী করলেন শিক্ষক ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: ঝালকাঠির রাজাপুর সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য যোগদানকৃত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল্লাহ খানের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ, অশোভন ও অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিকার চেয়ে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অন্তত ১০ জন ছাত্রীর অভিভাবক। অভিভাবকদের অভিযোগ, গত ১২ অক্টোবর সোমবার বেলা ১১টার দিকে দশম শ্রেণির একটি ক্লাসে শিক্ষক ছাত্রীদের উদ্দেশে অশোভন ও সম্মানহানিকর কথাবার্তা বলেন। একই সঙ্গে নিজের পারিবারিক সম্পদ ও দামি সামগ্রী নিয়ে গর্ব করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিবর্তে ওই শিক্ষক নিজের সম্পদের বিবরণ এবং ছাত্রীদের চারিত্রিক বিষয় নিয়ে অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা করেন। তাঁর এমন আচরণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে বলে দাবি অভিভাবকদের। শ্রেণিকক্ষে কী ঘটেছিল, তদন্তের দাবি অভিভাবকদের অভিযোগপত্রের বরাতে জানা গেছে, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের কথাবার্তার ধরন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন অভিভাবক। তাঁদের ভাষ্য, শিক্ষক নিয়মিত ক্লাসে একই ধরনের আচরণ করেন। এসব বক্তব্যের কিছু অংশ বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে পাওয়া যেতে পারে বলেও তাঁরা দাবি করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, ক্লাসে এসে শিক্ষক তাঁর রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেল, আইফোন, স্যামসাং মোবাইল ফোন ও গাড়ি থাকার কথা বলেন। বরিশালে ফ্ল্যাট থাকার কথাও উল্লেখ করেন বলে শিক্ষার্থীদের দাবি। তাদের আরও অভিযোগ, অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আচরণ কিংবা এমন কিছু বিষয় নিয়ে শ্রেণিকক্ষে অশোভন আলোচনা করা হয়, যা তাদের কাছে বিব্রতকর বলে মনে হয়েছে। লিখিত অভিযোগে কী দাবি জানানো হয়েছে অভিভাবকদের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, একটি বালিকা বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে এ ধরনের আচরণ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত করতে পারে। এতে তারা মানসিকভাবে অস্বস্তিতে পড়তে পারে এবং বিদ্যালয়ে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে অভিযোগকারীরা কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে— অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা। অভিযুক্ত শিক্ষককে দ্রুত অন্যত্র বদলির বিষয়টি বিবেচনা করা। অভিযোগপত্রে দশম শ্রেণির অন্তত ১০ জন ছাত্রীর অভিভাবকের স্বাক্ষর রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বরিশালের উপপরিচালক এবং জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁরা। অভিযোগ অস্বীকার শিক্ষকের, দায় দিলেন অভ্যন্তরীণ অসন্তোষকে অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল্লাহ খান অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, বিদ্যালয়ে যোগদানের পর তিনি নবম ও দশম শ্রেণির নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হয়েছেন। তিনি বলেন, আগে গাইড বই অনুসরণ করে প্রশ্নপত্র তৈরি করা হতো; বর্তমানে বিদ্যালয়ের ভেতরেই প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগে ক্লাস নিয়মিত হতো না, কিন্তু এখন নিয়মিত পাঠদান হচ্ছে এবং ছাত্রীদের উপস্থিতিও বেড়েছে। শহিদুল্লাহ খানের দাবি, বিদ্যালয়ে যোগদানের আগে স্বজনপ্রীতিসহ বিভিন্ন সমস্যা ছিল। শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে তিনি সেসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, এসব পরিবর্তনের কারণে কিছু শিক্ষক অসন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করানোর পেছনে তাঁদের ভূমিকা থাকতে পারে।তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তদন্তের আশ্বাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্তের জন্য কোনো কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না, কিংবা তদন্তের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আগের কর্মস্থল নিয়েও অভিযোগের দাবি মো. শহিদুল্লাহ খানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ আগেও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। বরিশালের জিলা স্কুল, সদর গার্লস ও আরজুমনিতে কর্মরত থাকার সময়ও তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠেছিল ।অভিযোগকারীদের বক্তব্যে আরও কিছু ব্যক্তিগত আচরণ ও পেশাগত সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মো:শহিদুল্লাহ খান এর বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের সাথে অসদাচরণের অভিযোগ নতুন নয়।তিনি বরিশালের জিলা স্কুল, সদর গার্লস ও আরজুমনিতে থাকাকালীন সময়েও ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের সাথে অসদাচরণ করার অভিযোগ ছিল।ইংরেজীর শিক্ষক হওয়ায় তার কদর ছিল বরিশাল শহরজুড়ে। সেই কদরকে কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্নজনকে প্রেম নিবেদন করা,অনৈতিক কাজে জড়ানো,বাসায় গিয়ে প্রাইভেট পড়ানো,নির্জন স্থানে নারীদের নিয়ে আড্ডাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।এ ছাগা তিনি বিয়েও করেছেন দুটি।তার গল্পে রয়েছে জিম করা,আইফোন ও গাড়ির।নতুন নতুন পোষাক আর স্টাইল করে নারীদের দষ্টি আকর্ষন করাই যেন তার নিত্যদিনের কর্মছিল বরিশালে।এ আই দিয়ে ছবি বানিয়ে ছড়িয়ে দিত। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কীভাবে? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের আচরণ শুধু পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষার্থীদের মর্যাদা, মানসিক স্বস্তি ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও তাঁদের দায়িত্বের অংশ। বিশেষ করে বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথাবার্তা ও আচরণের ক্ষেত্রে পেশাগত শিষ্টাচার বজায় রাখা জরুরি। রাজাপুর সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ঘটনাটিতে অভিযোগ যেমন গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।এখন দেখার বিষয়, উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ কত দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেয়।