Brand logo light

মইনুল ইসলাম

সংস্কারের নামে গণপূর্তে ২২ কোটি টাকার ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ, কাজ না করেই বিল উত্তোলন

ঢাকা মেডিকেল ও গণপূর্ত বিভাগ-৩-এ দুই অর্থবছরে ৫ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ | একই ভবনে একই কাজের একাধিক প্যাকেজ, অর্থবছরের শেষ দিকে তড়িঘড়ি বিল | কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: সরকারি ভবন, হাসপাতাল, পুলিশ ব্যারাক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টার সংস্কারের নামে গণপূর্ত অধিদফতরের ঢাকার একাধিক বিভাগে সরকারি অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ কয়েকটি চিকিৎসা ও নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন সংস্কার এবং ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এর আওতাধীন বিভিন্ন সরকারি স্থাপনার মেরামতকাজ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগে বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনার (এপিপি) আওতায় প্রায় ১২ কোটি টাকা এবং ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এ প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এর আগে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এ আগের অর্থবছরেও সংস্কারের নামে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়। দুই অর্থবছরে বিভাগ-৩-এর মোট ২২ কোটি টাকার ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ৫ কোটি টাকার কাজ না করে বা নামমাত্র কাজ দেখিয়ে অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্রের। অন্যদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের আওতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ এবং দুটি নার্সিং কলেজ ও ছাত্রাবাসের সংস্কারে চার অর্থবছরে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রে কয়েক কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে একই ভবনের একই তলায় একই ধরনের কাজ একাধিক প্যাকেজে ভাগ করা, অর্থবছরের শেষ দিকে তড়িঘড়ি করে কার্যাদেশ ও বিল প্রস্তুত, দরজা-জানালা মেরামত এবং রং করার নামে কাগজে-কলমে কাজ সম্পন্ন দেখানো এবং ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের যোগসাজশে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত, কার্যাদেশ ও মাপবই যাচাই এবং সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র নিশ্চিত করা প্রয়োজন।  একই ভবনে একই কাজ, একাধিক প্যাকেজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কয়েক বছর ধরে একই ধরনের সংস্কারকাজ পুনরাবৃত্তি হওয়া। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, একই ভবনের একই ফ্লোরে একই ধরনের কাজ একাধিক ভাগে দেখিয়ে ব্যয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। দরজা-জানালা মেরামত, ভবনের বিভিন্ন অংশে রং করা এবং অন্যান্য নিয়মিত সংস্কারকাজের নামে প্রতি বছরই অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে কিছু কাজ বাস্তবে না করেই অথবা নামমাত্র কাজ করে সম্পূর্ণ কাজের বিল তোলা হয়েছে। সূত্রের দাবি, অধিকাংশ কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে অর্থবছরের শেষ দুই মাস—মে ও জুনে। অর্থবছরের বরাদ্দ শেষ করার তাগিদে জুন মাসে তড়িঘড়ি করে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, একই ভবনের একই অংশে বারবার সংস্কারের প্রয়োজন কেন তৈরি হচ্ছে, কাজের পরিমাণ কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আগের বছরের সংস্কারকাজের স্থায়িত্ব যাচাই করা হয়েছে কি না।   ৩৫টি ছোট প্যাকেজে প্রায় এক কোটি টাকার কাজ ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এর ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের এপিপি-সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনার দাবি করে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তিন লাখ টাকার মধ্যে ৩৫টি ছোট প্যাকেজে মোট প্রায় এক কোটি টাকার কাজ দেখানো হয়েছে। এসব কাজের মধ্যে কয়েকটির বাস্তব অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। প্যাকেজগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকার তেজগাঁওয়ে বিজি প্রেস অফিস ও স্টাফ কোয়ার্টারের বিশেষ মেরামত, গণপূর্ত অফিস-সংলগ্ন কোয়ার্টারে ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণে আগাছা কাটা, অপসারণ ও পরিষ্কার করা এবং ড্রেন পরিষ্কার ও নবায়ন। এ ছাড়া মিল ব্যারাক পুলিশ লাইন্সের মহিলা ব্যারাক ভবনের সিভিল ও স্যানিটারি মেরামত এবং ড্রেন পরিষ্কার, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের প্রেস ভবনের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের ছাদ মেরামত, ভূমি ভবন ও সেটেলমেন্ট প্রেসের বিভিন্ন ড্রেন সংস্কার এবং ম্যানহোলের ঢাকনা স্থাপনের কাজ তালিকাভুক্ত রয়েছে। তেজগাঁওয়ের ফরম ও প্রকাশনা অফিসের মোজাইক ফ্লোর পরিষ্কারসহ আনুষঙ্গিক মেরামত, বিজি প্রেস স্টাফ কোয়ার্টারের বিভিন্ন ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত ছাদ মেরামত, বিভিন্ন অংশে ম্যানহোলের ঢাকনা স্থাপন এবং ড্রেন পরিষ্কারের কাজও রয়েছে এসব প্যাকেজে। জাতীয় নাক, কান ও গলা হাসপাতালে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় জাতীয় হেড, নেক অ্যান্ড থাইরয়েড কংগ্রেস ২০২৫-এর জন্য জরুরি মেরামতকাজ এবং গভর্নমেন্ট প্রিন্টিং প্রেস স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার ড্রেন মেরামত ও পরিষ্কারের কাজও এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। অন্য প্যাকেজগুলোর মধ্যে রয়েছে সিদ্দিকবাজারে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের তিন নম্বর ভবনের সিভিল ও স্যানিটারি মেরামত এবং ড্রেন পরিষ্কার, বিজি প্রেসের অফসেট শাখার ভেতরে প্রসেস শাখা স্থাপনের জন্য সংস্কার এবং জাতীয় নাক, কান ও গলা হাসপাতালের অডিটোরিয়ামের ছাদ মেরামত। বিজি প্রেস স্টাফ কোয়ার্টারের এ ও ডি ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত ছাদ মেরামত এবং অফিস ও আবাসিক ভবনের বিভিন্ন অংশে বিশেষ মেরামতকাজও তালিকায় রয়েছে। মিল ব্যারাক পুলিশ লাইন্সের মহিলা ব্যারাক ভবনের মেরামত ও ড্রেন পরিষ্কারের কাজও একই ধরনের প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত।   টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে যোগসাজশের অভিযোগ ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আরেকটি অংশ টেন্ডার প্রক্রিয়া ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্বাচনকে ঘিরে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, টেন্ডার ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে গোপনে দরপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে কার্যাদেশ দিয়ে বাস্তবে কাজ না করে অথবা নামমাত্র কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে দাবি অভিযোগকারীদের। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের অনিয়মে নির্বাহী প্রকৌশলীর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের যোগসাজশ থাকতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট চারটি প্রতিষ্ঠানের নাম, দরপত্রের প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি, মালিকানা-সম্পর্ক এবং কার্যাদেশ ও বিলের পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে নেই। ফলে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে দরপত্রের নথি, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং অর্থ পরিশোধের তথ্য পরীক্ষা করা জরুরি। অভিযোগকারীরা কার্যাদেশ, মাপবই, বিল-ভাউচার ও কাজ সমাপ্তির সনদ যাচাইয়ের পাশাপাশি সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কমিশন নেওয়ার অভিযোগ গণপূর্তের সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে কমিশন লেনদেনের অভিযোগও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের এপিপিভুক্ত কাজের বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে নির্বাহী প্রকৌশলী দুই দফায় মোট ১০ শতাংশ কমিশন নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুয়া কাজের ক্ষেত্রে বিলের অর্ধেক অর্থ নেওয়ার অভিযোগও করেছেন সূত্রটি। এ ছাড়া গণপূর্ত সার্কেল-২-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে পাঁচ শতাংশ কমিশন দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, বিল অনুমোদনের প্রক্রিয়া এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু দুটি বিভাগ নয়, আরও কয়েকটি বিভাগ নিয়ে অভিযোগ গণপূর্ত অধিদফতরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগের পরিধি শুধু মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগ ও ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এ সীমাবদ্ধ নয়। ঢাকা নগর গণপূর্ত বিভাগ, মতিঝিল গণপূর্ত বিভাগ, আরবরিকালচার বিভাগ, মিরপুর গণপূর্ত বিভাগ এবং সাভার গণপূর্ত বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধেও সংস্কারকাজে একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।   চার অর্থবছরে ৪৪ কোটি টাকা: নিরীক্ষার দাবি ঢাকা মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের আওতায় চারটি প্রতিষ্ঠানের সংস্কারকাজে চার অর্থবছরে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা ব্যয় দেখানোর তথ্য বিশেষভাবে গুরুত্বের দাবি রাখে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ের মধ্যে কয়েক কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে তুলে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, কয়েক বছরের কাজের বিবরণ তুলনা করলে একই ধরনের সংস্কারকাজ বারবার করার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু এসব কাজের স্থায়িত্ব, প্রকৃত প্রয়োজন এবং ব্যয়ের যৌক্তিকতা যাচাই না করে শুধু বিল ও কাজ সমাপ্তির সনদের ভিত্তিতে অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হলে অনিয়ম শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ: আগের সংস্কারকাজের পর একই স্থানে পুনরায় কাজের প্রয়োজন কেন হয়েছে, প্রতিটি প্যাকেজের ব্যয় নির্ধারণে কী প্রাক্কলন অনুসরণ করা হয়েছে, কাজের পরিমাপ কে যাচাই করেছেন এবং অর্থ পরিশোধের আগে বাস্তব কাজ পরিদর্শন করা হয়েছিল কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে নিয়মিত সংস্কারকাজের আড়ালে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বা ভুয়া বিলের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সহজ হবে। কর্মকর্তাদের বক্তব্য কী অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-২-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু নাসের চৌধুরী এবং মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মইনুল ইসলাম অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কাজ না করে বিল দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং সব নিয়ম মেনেই সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তাঁর এই বক্তব্যের বিপরীতে অভিযোগকারীরা নথি যাচাই ও সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ নথিপত্র, প্রকৃত কাজের পরিমাণ এবং স্বাধীন তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কীভাবে সরকারি অর্থে সংস্কারকাজের ক্ষেত্রে শুধু দরপত্র আহ্বান, কার্যাদেশ প্রদান কিংবা কাজ সমাপ্তির সনদ থাকলেই ব্যয়ের যথার্থতা নিশ্চিত হয় না। বরং প্রকৃত কাজের পরিমাণ, ব্যবহৃত উপকরণ, কাজের মান, নির্ধারিত ব্যয় এবং অর্থ পরিশোধের মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তে অন্তত পাঁচটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে: ১. নথি যাচাই: প্রতিটি প্যাকেজের প্রাক্কলন, দরপত্র, কার্যাদেশ, মাপবই, বিল-ভাউচার ও কাজ সমাপ্তির সনদ পরীক্ষা। ২. সরেজমিন পরিদর্শন: যেসব ভবন, ছাদ, ড্রেন, ফ্লোর ও আবাসিক স্থাপনায় কাজ দেখানো হয়েছে, সেগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং কাজের বাস্তব অস্তিত্ব যাচাই। ৩. একই কাজের পুনরাবৃত্তি পরীক্ষা: একাধিক অর্থবছরের কাজের বিবরণ মিলিয়ে একই স্থানে একই ধরনের সংস্কারের যৌক্তিকতা নির্ধারণ। ৪. দরপত্র ও স্বার্থের সংঘাত যাচাই: সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা, দরপত্রে প্রতিযোগিতা এবং কার্যাদেশ প্রদানের প্রক্রিয়া পরীক্ষা। ৫. আর্থিক নিরীক্ষা: বিল অনুমোদন, অর্থ পরিশোধ এবং কমিশন লেনদেনের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এসব অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও নথিভিত্তিক তদন্ত প্রয়োজন। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও নিশ্চিত করা জরুরি। সংস্কারের নামে ব্যয় দেখানো অর্থে বাস্তবে কতটুকু কাজ হয়েছে, আর কতটুকু ব্যয়ের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে—তার উত্তর শেষ পর্যন্ত নির্ভর করছে নথি যাচাই, সরেজমিন পরিদর্শন এবং স্বাধীন নিরীক্ষার ওপর।   

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0