Brand logo light

সংসদ নির্বাচন

তারেক রহমান
বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিলেন তারেক রহমান

বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। গতকাল ইসি সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়েছেন। ঢাকা-১৭ আসন রেখেছেন। তার এ সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছে নির্বাচন কমিশন। একইসঙ্গে বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে ইসি। আইন অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিনটি আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তবে বিজয়ী হলে তিনি কেবল একটি আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারেন। বাকিগুলো ছেড়ে দিতে হয়। সেগুলোতে নিয়ম অনুযায়ী উপনির্বাচনের আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
বাবর, পিন্টু ও আজহার
ফাঁসির মঞ্চ থেকে সংসদে যাচ্ছেন বাবর, পিন্টু ও আজহার

শুধু দীর্ঘ কারাবাস নয়; প্রহসনের বিচারে রীতিমতো মৃত্যুদণ্ড। বলা যায়, মাথার উপরেই ঝুলছিল ফাঁসির দড়ি। কিন্তু নিয়তির পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন। জুলাইয়ের রক্ত বন্যায় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যায়। এরপর আসে বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনের মাহেন্দ্রক্ষণ। স্বৈরাচারের কারাগার থেকে বেরিয়ে জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়ান নেতারা—এবং রায় দেন ভোটাররাই। বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু এবং জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম। বাবর: ১৮ বছরের অন্ধকার শেষে আলোর পথে ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ২০০৭ সালে গ্রেফতার হন। এরপর একদিনের জন্যও জামিন মেলেনি তার। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠেই কেটে যায় দীর্ঘ ১৮ বছর। পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে নেমে মলিন মুখে আদালতে হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য ছিল চিরচেনা। অনেকেই মনে করতেন, বাবর আর কোনোদিন জেল থেকে মুক্তি পাবেন না। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনি প্রক্রিয়ায় সব মামলা থেকে খালাস পান তিনি। গত বছর ১৬ জানুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ফিরে যান নিজের নির্বাচনি এলাকা নেত্রকোনায়। মোহনগঞ্জ, মদন ও খালিয়াজুরি নিয়ে গঠিত আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এক লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পিন্টু: মৃত্যুদণ্ড থেকে সংসদ ভবন বাবরের মতোই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু। দীর্ঘ ১৭ বছরের কারাজীবনের অবসান ঘটে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর। মুক্তির পর তিনি ফিরে যান জন্মস্থান টাঙ্গাইলে। স্থানীয় গোপালপুর-ভূঞাপুর আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন। ভোটযুদ্ধে প্রায় দুই লাখ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। দীর্ঘ কারাবাস ও মৃত্যুদণ্ডের রায় পেরিয়ে তার এই বিজয় স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আজহার: ফাঁসির মঞ্চ থেকে ভোটের মঞ্চে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামও হয়েছেন সংসদ সদস্য। রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করেন তিনি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক বছরের মধ্যে গ্রেফতার হন আজহার। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়। ২০১২ সাল থেকে দীর্ঘ এক যুগ কারাবন্দি ছিলেন তিনি। গত বছর ২৮ মে কারাগার থেকে মুক্তি পান। আর কিছুদিন গেলেই হয়তো তাকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হতো—এমন ধারণা ছিল রাজনৈতিক মহলে। কিন্তু সেই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নেতাই আজ জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ এই তিন নেতার বিজয় শুধু ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন নয়; এটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নাটকীয় পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘ কারাবাস, মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং বিতর্কিত বিচার প্রক্রিয়া—সবকিছুর পর জনগণের ভোটে তাদের জয় রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে বলেই মনে করা হচ্ছে। জনতার রায়ে কারাগার পেরিয়ে সংসদ ভবনে—এই প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে দেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
সংসদ নির্বাচন
প্রথম নির্বাচনেই হোঁচট খেল তরুণদের দল এনসিপি

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জেন-জি নেতৃত্বাধীন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনার পতনের পর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের নিয়ে গঠিত দল ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)। রাজপথে অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া এই দলের প্রার্থীরা ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র ছয়টিতে জয়ী হতে পেরেছেন। অন্যদিকে, ২১২টি আসনে জয়লাভ করে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এনসিপির অনেক সমর্থক মনে করেন, ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্তই দলটিকে মূল প্রতিযোগিতা থেকে কার্যত ছুড়ে ফেলেছে এবং তাঁরা বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন। শুরুর দিকে এনসিপি প্রায় সব আসনেই প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জোটের অংশ হয়ে তারা মাত্র ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। তবে জোটের ব্যাপারে এনসিপি নেতাদের ভাষ্য একটু ভিন্ন। তাঁরা বলেন, জুলাই আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা (ওসমান হাদি) নিহত হওয়ার পর বড় দলের সমর্থন ও প্রভাব তাঁদের জন্য জরুরি ছিল এবং এ জন্যই তাঁরা জোটে যান। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে দল হিসেবে একটা রাজনৈতিক ভিত্তি ও মানুষের পর্যাপ্ত সমর্থন আদায় করতে পারেনি এনসিপি। ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর মানুষ যে স্বপ্ন দেখেছিল, এনসিপি তা পূরণ করতে পারেনি। জামায়াতের সঙ্গে জোট আমাদের কাছে বিশ্বাসভঙ্গের মতো লেগেছে। তাই অনেক তরুণ ভোটার তাদের সমর্থন করেনি।’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপির ছয় বিজয়ীর একজন ৩২ বছর বয়সী আইনজীবী আবদুল্লাহ আল আমিন। তিনি বলেন, দলটি আরও বেশি আসন পাওয়ার আশা করেছিল এবং কয়েকটি আসনে অল্প ব্যবধানে হেরেছে। আল আমিন বলেন, ‘আমরা মাত্র যাত্রা শুরু করেছি। জুলাই আন্দোলনের সময় যখন আমরা রাস্তায় নেমেছিলাম, তখন যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলাম, তা বাস্তবায়নে আমরা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে চাই।’ আল আমিন দাবি করেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট করেই এনসিপি ছয়টি আসন পেয়েছে। জোট না হলে এটা সম্ভব ছিল না। কিন্তু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শাকিল আহমেদ মনে করেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট তরুণ ভোটারদের একাংশকে এনসিপি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তিনি বলেন, অনেকে এটিকে পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে যাওয়া হিসেবে দেখেছেন, নতুন ধারার সূচনা হিসেবে নয়। এনসিপির এই সিদ্ধান্ত তরুণ ভোটারদের বিভক্ত করেছে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির ভাবমূর্তি জোরদার করেছে। তবে এনসিপির লক্ষ্য আগামী বছরের স্থানীয় নির্বাচন। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ জানান, দলটি এখন বিরোধী অবস্থানে থেকে নিজেদের পুনর্গঠন করবে এবং আগামী বছরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেবে। গত বছরের ডিসেম্বরে দলের প্রধান নাহিদ ইসলাম বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছিলেন, দল গঠনের জন্য পর্যাপ্ত সময় তাঁরা পাননি। এ ছাড়া অর্থের সংকট এবং নারী ও সংখ্যালঘু অধিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থানের অভাবও তাঁদের দুর্বল করেছে। কিন্তু অধ্যাপক শাকিল আহমেদ সতর্ক করে বলেন, এনসিপি যদি নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় পুনর্গঠন করতে না পারে এবং এমন জোট থেকে দূরে না সরে, তাহলে তারা গতি হারাবে এবং বড় রাজনৈতিক শক্তির বদলে প্রতীকী প্রতিপক্ষ হিসেবেই রয়ে যাবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে একজন এনসিপির সাবেক নেতা ৩১ বছর বয়সী চিকিৎসক তাসনিম জারা। গত ডিসেম্বরে জোটের প্রতিবাদে এনসিপি ছাড়েন তিনি এবং ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। ৪৪ হাজারের বেশি ভোট পেলেও বড় ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থীর কাছে হেরে যান তিনি। তাসনিম জারা বলেন, ‘আমরা প্রমাণ করেছি যে, পরিচ্ছন্ন ও সৎ প্রচারণার মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করা সম্ভব। তবে আমাদের সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে। এমন রাজনৈতিক পরিবেশ টিকিয়ে রাখতে হলে শক্তিশালী হতে হবে। সুস্থ ধারার রাজনৈতিক পরিবেশ রক্ষা করতে হলে ভয়ভীতি মোকাবিলায় সক্ষম সংগঠন গড়ে তুলতে হবে।’ নির্বাচনে নিজের পাওয়া ভোটের কথা উল্লেখ করে জারা বলেন, আশার জায়গা এখনো আছে এবং তিনি আর যুক্তরাজ্যে ফিরে যাচ্ছেন না। তাসনিম জারা বলেন, ‘আমাদের সেরা দিনগুলো এখনো সামনে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
আলহাজ্ব মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ
বরগুনা-১ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী অলিউল্লাহ বিজয়ী

বরগুনা-১ (সদর, আমতলী, তালতলী) আসনে বিজয়ী হয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আলহাজ্ব মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মোল্লার থেকে ৪ হাজার ১৪৬ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ হাতপাখা প্রতীকে ১ লাখ ৪০ হাজার ২৯১টি ভোট পেয়েছেন। নজরুল ইসলাম মোল্লা ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৬ হাজার ১৪৫টি ভোট পেয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
বিএনপি
বিএনপির ভূমিধস বিজয়: ২০৭ আসনে জয়, জামায়াত জোট ৭৭ | ইতিহাসসেরা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন

দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়ে এককভাবে সরকার গঠনের যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচন কমিশন সূত্রে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ঘোষিত ২৯৬টি আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ২০৭টি আসন। অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন, যার মধ্যে এনসিপি পেয়েছে ৬টি আসন। স্বতন্ত্রসহ অন্যান্য প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন ১২টি আসনে। শেরপুর-২, চট্টগ্রাম-৪ ও চট্টগ্রাম-৬ আসনের ফলাফল মামলার কারণে স্থগিত রয়েছে। এছাড়া প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বড় জয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত সংস্কারবিষয়ক গণভোটেও বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে ‘হ্যাঁ’। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, গণভোটে ৭৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে। সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৬১ শতাংশ। প্রথমবারের মতো ব্যাপক পরিসরে পোস্টাল ব্যালটে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৭ জন পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রবাসী ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৭১ হাজার ৯৭৩ জন এবং দেশের অভ্যন্তরে ৬ লাখ ১ হাজার ৫২৪ জন। তারেক রহমানের দ্বৈত আসনে জয় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবারের মতো দুটি আসনে নির্বাচন করে দুটিতেই জয়লাভ করেছেন। তিনি বগুড়া-৬ আসনে বিপুল ভোটে জয় পান এবং ঢাকা-১৭ আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও সামান্য ব্যবধানে বিজয়ী হন বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। জামায়াতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসন জামায়াতে ইসলামী এবারের নির্বাচনে তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন লাভ করে সংসদের প্রধান বিরোধী দল হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। রাজধানী ঢাকায় তুলনামূলকভাবে ভালো ফলাফল করে দলটি। ঢাকা-১৫ আসনে দলটির আমির জয়লাভ করেছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। ঢাকা-১৬ আসনে জামায়াতের প্রার্থী কর্নেল (অব.) আবদুল বাতেন বিজয়ী হয়েছেন। ঢাকা-৮ আসনে রাতভর উত্তেজনার পর বিএনপির মির্জা আব্বাস ৪ হাজার ৯৮০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। শান্তিপূর্ণ ভোটে ‘ঈদ উৎসব’ আমেজ জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী মুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনকে ভোটাররা ‘ঈদ উৎসব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভোট প্রদান শেষে সবাইকে ‘ঈদ মোবারক’ জানান এবং বলেন, “এ নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন। এর মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু হলো।” সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রেই ভোট গণনা করা হয় এবং রিটার্নিং কর্মকর্তারা বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। সারাদেশে উল্লেখযোগ্য ফলাফল বগুড়া, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিএনপি ও জামায়াত জোটের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। রাজধানী ঢাকায় কয়েকটি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা গেছে এবং কয়েকটি আসনে ফলাফল নিয়ে আপত্তিও উত্থাপিত হয়েছে। রাতভর বিতর্ক ও চরম উত্তেজনার পর ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির মির্জা আব্বাসকে রিটার্নিং কর্মকর্তা বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর চেয়ে ৪ হাজার ৯৮০ ভোট বেশি পেয়েছেন। মির্জা আব্বাস পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৫৫২, পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫১ হাজার ৫৭২ ভোট। ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপির আমিনুল হক হেরে গেছেন। এ আসনে জামায়াতের কর্নেল (অব.) আবদুল বাতেনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা-১৩ আসনে মাওলানা মামুনুল হকের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ববি হাজ্জাজকে বিজয়ী ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশিনে গিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে মামুনুল হক। জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অবস্থান করছিল। ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে নীলফামারী-১ আসনে জামায়াতের মাওলানা আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী-২ (সদর) আসনে জামায়াতের আল ফারুক আব্দুল লতিফ, নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে জামায়াতের ওবায়দুল্লাহ সালাফী, নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ) আসনে জামায়াতের আব্দুল মুনতাকিম, কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুরা) আসনে জামায়াতের মাহবুবুল আলম সালেহী, কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জামায়াতের মোস্তাফিজুর রহমান, রংপুর-২ আসনে জামায়াতের এটিএম আজহারুল ইসলাম, রংপুর-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আখতার হোসেন, বগুড়া-১ আসনে বিএনপির কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-২ আসনে বিএনপির মীর শাহে আলম, বগুড়া-৩ আসনে বিএনপির আবদুল মহিত তালুকদার, বগুড়া-৫ আসনে বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৬ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বগুড়া-৭ আসনে (গাবতলী ও শাজাহানপুর) বিএনপির মোরশেদ মিল্টন, পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনে জামায়াতের নাজিবুর রহমান মোমেন, মাগুরা-১ আসনে বিএনপির মনোয়ার হোসেন, মাগুরা-২ আসনে বিএনপির নিতাই রায় চৌধুরী, ঝিনাইদহ-১ আসনে বিএনপির মো. আসাদুজ্জামান, খুলনা-৩ আসনে (সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড, যোগীপোল ও আড়ংঘাটা ইউনিয়ন) বিএনপির রকিবুল ইসলাম (বকুল), খুলনা-৪ আসনে বিএনপির আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ (ফুলতলা, ডুমুরিয়া ও গিলাতলা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা) বিএনপির আলী আসগার (লবি), বরিশাল-৫ আসনে মজিবর রহমান সরওয়ার, নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির কায়সার কামাল, নেত্রকোনা-৪ আসনে বিএনপির লুৎফুজ্জামান বাবর, জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনে এম রশিদুজ্জামান (মিল্লাত), জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনে সুলতান মাহমুদ (বাবু), জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনে মোস্তাফিজুর রহমান (বাবুল), জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনে ফরিদুল কবীর তালুকদার (শামীম), জামালপুর-৫ (সদর) আসনে শাহ্ মোহাম্মদ ওয়ারেছ আলী (মামুন), ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে বিএনপির তমিজ উদ্দিন, মুন্সীগঞ্জ-১ (শ্রীনগর-সিরাজদিখান) আসনে বিএনপির মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মুন্সীগঞ্জ-২ (টঙ্গীবাড়ী-লৌহজং) আসনে বিএনপির আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর ও গজারিয়া) আসনে বিএনপির মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, নরসিংদী-৩ আসনে মনজুর এলাহী, সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির নাছির চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে (জগন্নাপুর ও শান্তিগঞ্জ) বিএনপির মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) বিএনপির নূরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ-৫ আসনে (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) বিএনপির কলিম উদ্দিন আহমেদ, সিলেট-২ আসনে বিএনপির ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর (লুনা), সিলেট-৩ আসনে বিএনপির এমএ মালিক, সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর) আসনে বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপির রেজা কিবরিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএনপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে বিএনপির নুরুল আমিন, ঢাকা-২ আসনে বিএনপির আমানউল্লাহ আমান, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে জামায়াতের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।   প্রথমবারের মতো এবার সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা বড় পরিসরে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এর আগে আইনে পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের সুযোগ থাকলেও এর প্রচলন ছিল না। ইসির তথ্যানুযায়ী, ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৭ জন পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রবাসী চার লাখ ৭১ হাজার ৯৭৩ জন এবং দেশের ছয় লাখ এক হাজার ৫২৪ জন। প্রায় ১ শতাংশ ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। কৃতজ্ঞতা ও প্রতিক্রিয়া নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় বিএনপি নির্বাচন কমিশন, সশস্ত্র বাহিনী, অন্তর্বর্তী সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী বলেছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে অনন্য এক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উভয় দলই গণতন্ত্রের উত্তরণে জনগণের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0