Brand logo light

হাম প্রতিরোধ

টিকাদানে ঘাটতি ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ।
হামের বিরুদ্ধে লড়ছে বাংলাদেশ, বিশ্বের জন্য সতর্কবার্তা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: বাংলাদেশ একসময় টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে হাম নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছিল। নিয়মিত টিকা দেওয়ার ফলে বহু বছর ধরে সংক্রামক এই রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অস্থিরতার প্রভাবে সেই সাফল্য বড় ধরনের ধাক্কা খায়। যেসব শিশু সময়মতো হামের টিকা পায়নি, তাদের অনেককেই এখন চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। দেশজুড়ে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। তাদের জীবন বাঁচাতে লড়াই করছে পরিবার, স্বাস্থ্যকর্মী ও হাসপাতালগুলো। তবে দুর্বল তথ্য ব্যবস্থাপনা, মাঠপর্যায়ে প্রচারের ঘাটতি এবং টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে উঠে এসেছে বিভিন্ন তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, টিকাদানের হার কমে গেলে একটি নিয়ন্ত্রণে থাকা সংক্রামক রোগ কত দ্রুত ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হতে পারে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি তারই সতর্কবার্তা। দুই লাখের বেশি সন্দেহভাজন রোগী, মৃত্যুর ভার শিশুদের ওপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চের মাঝামাঝি থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে হামের দুই লাখ দুই হাজার সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২২ হাজার রোগীর সংক্রমণ পরীক্ষায় নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লিখিত হিসাবে, চলতি বছরে বিশ্বে সন্দেহভাজন হামের রোগীর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ শীর্ষে রয়েছে। অতি সংক্রামক এই রোগে এ পর্যন্ত এক হাজার ১৪৭ জনের মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। মৃতদের ৯৪ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এই পরিসংখ্যান শুধু রোগের বিস্তারের চিত্র তুলে ধরে না; একই সঙ্গে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি তৈরি হলে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সেই প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের মতো সংক্রামক রোগের বিস্তার ঠেকাতে একটি দেশে অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষের টিকাদান কভারেজ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙা এবং সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ হয়। বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি থাকলেও ২০২৫ সালে টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় বড় ধরনের সুরক্ষাশূন্যতা তৈরি হয়েছে। টিকাদানের হার কমল কেন? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের যৌথ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে হামের টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণের হার কমে ৯০ শতাংশে দাঁড়ায়। দ্বিতীয় ডোজের কভারেজ নেমে আসে ৮৬ শতাংশে। অর্থাৎ, প্রথম ডোজের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ৯৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি ছিল পাঁচ শতাংশ পয়েন্ট। দ্বিতীয় ডোজের ক্ষেত্রে সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় নয় শতাংশ পয়েন্টে। সংখ্যার হিসাবে এই ব্যবধান তুলনামূলকভাবে ছোট মনে হলেও, জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এর প্রভাব ব্যাপক হতে পারে। কারণ, টিকা না পাওয়া শিশুদের একটি বড় অংশ একই সময়ে সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ে। কোনো এলাকায় পর্যাপ্তসংখ্যক শিশু টিকাবঞ্চিত থাকলে সেখানে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অস্থিরতার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মবিরতি, টিকা আমদানিতে বিলম্ব এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে তদারকির ঘাটতি নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিকে ব্যাহত করে। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল পাবলিক হেলথ স্কুলের অধ্যাপক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টিকা উপদেষ্টা মার্ক জিৎ এই পরিস্থিতিকে চরম সতর্কবার্তা হিসেবে দেখেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল তাৎপর্য হলো, কোনো দেশে জরুরি ভিত্তিতে মহামারি মোকাবিলার চেয়ে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ করা অনেক সহজ, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি তাই শুধু একটি রোগের প্রাদুর্ভাব নয়; বরং নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান ব্যবস্থাপনা এবং মাঠপর্যায়ের নজরদারির কার্যকারিতা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলছে। জরুরি টিকাদান কর্মসূচিতে তথ্যের গরমিল হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের জরুরি টিকাদান কার্যক্রমের প্রস্তুতি ও বাস্তবায়ন নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। রয়টার্সের অনুসন্ধান অনুযায়ী, এপ্রিলে প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়ার পর সরকার সব শিশুকে কর্মসূচির আওতায় আনার দাবি করেছিল। কিন্তু জুনে পরিচালিত আরেকটি স্বাস্থ্য কার্যক্রমে একই বয়সী আরও ৪০ লাখ শিশুর তথ্য সামনে আসে, যারা আগের তালিকার বাইরে ছিল। এই তথ্যের গরমিল জরুরি টিকাদান কর্মসূচির পরিকল্পনা, উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি এবং মাঠপর্যায়ে শিশু শনাক্ত করার পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, যদি একটি বড় জনগোষ্ঠীর শিশু টিকাদানের তালিকার বাইরে থেকে যায়, তাহলে প্রকৃতপক্ষে কতজন শিশু টিকা পেয়েছে, কতজন বাদ পড়েছে এবং কোন কোন এলাকায় টিকাদানের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি—তা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা কতটা সম্ভব? জনস্বাস্থ্য কর্মসূচিতে সঠিক তথ্য শুধু প্রশাসনিক প্রয়োজন নয়; এটি রোগের বিস্তার পূর্বাভাস দেওয়া, টিকার সরবরাহ পরিকল্পনা করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে শনাক্ত করার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তালিকায় কোনো শিশু বাদ পড়লে সে টিকা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। আবার একই শিশুর তথ্য একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত হলে প্রকৃত টিকাদানের হার সম্পর্কেও বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি হতে পারে। ফলে তথ্যের নির্ভুলতা যাচাই না করে টিকাদানের সাফল্য দাবি করলে বাস্তব পরিস্থিতি আড়ালে থেকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। প্রস্তুতির ধাপ কমানোয় কি বেড়েছে ঝুঁকি? রয়টার্সের অনুসন্ধানে আরও বলা হয়েছে, স্বাভাবিক সময়ে টিকাদান অভিযান শুরুর আগে চারটি ধাপে প্রস্তুতি যাচাই করা হতো। কিন্তু সময় স্বল্পতার কারণ দেখিয়ে এবার সেই প্রক্রিয়া মাত্র একটি ধাপে সম্পন্ন করা হয়। প্রস্তুতি যাচাইয়ের ধাপ কমিয়ে আনার ফলে মাঠপর্যায়ে শিশু শনাক্তকরণ, টিকাদান কেন্দ্রের প্রস্তুতি এবং বাদ পড়া জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে কী ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে, টিকাদান অভিযানের আগে আক্রান্ত শিশুদের ৮২ শতাংশ টিকাহীন ছিল। অভিযান শেষ হওয়ার পরও এই হার ৮৫ শতাংশে ছিল। এই পরিসংখ্যানের ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে টিকা না নেওয়ার হার বেড়ে যাওয়ার অর্থ হতে পারে, যেসব শিশু সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ছিল, তাদের একটি বড় অংশকে কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। তবে এই তথ্য থেকে এককভাবে বলা যায় না যে অভিযানের কারণে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে; এর জন্য আক্রান্ত শিশুদের বয়স, টিকা গ্রহণের ইতিহাস এবং সংক্রমণের সময়সহ অন্যান্য তথ্যও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী জিয়াউদ্দিন হায়দার সেপ্টেম্বরে রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে অভিভাবকদের অনীহা কিংবা শিশুদের অসুস্থতার কারণে কিছু শিশু টিকা থেকে বাদ পড়ে থাকতে পারে। সরকারের এই বক্তব্যের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই করাও জরুরি। কারণ, টিকা না নেওয়ার পেছনে অভিভাবকদের অনীহা থাকলেও টিকাকেন্দ্রের দূরত্ব, স্বাস্থ্যকর্মীর অনুপস্থিতি, তথ্যের ঘাটতি কিংবা টিকার সরবরাহসংক্রান্ত সমস্যা ভূমিকা রাখতে পারে। তাই টিকাবঞ্চিত শিশুদের দায় শুধু পরিবারগুলোর ওপর চাপিয়ে না দিয়ে, তারা কেন টিকা পায়নি, তা নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। সিলেটে শিশুদের মৃত্যু, সময়মতো পৌঁছায়নি স্বাস্থ্যসেবা? হামের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর অন্যতম উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট বিভাগ। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেখানে ১৮০ শিশুর মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, তাদের গ্রামে সময়মতো কোনো স্বাস্থ্যকর্মী টিকা দিতে আসেননি। শিশুদের মৃত্যুর পরই স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের সেখানে উপস্থিত হতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা শুধু টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা নয়, বরং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও তুলে ধরে। সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আগেই টিকাবঞ্চিত শিশুদের শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হতে পারে। কিন্তু রোগ ছড়িয়ে পড়ার পর স্বাস্থ্যকর্মীদের তৎপরতা বাড়ানো হলে তা দিয়ে সব ক্ষেত্রে আগের ক্ষতি পূরণ করা যায় না। হামের মতো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। সিলেটের পরিবারগুলোর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে স্পষ্ট হতে পারে, কোন এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম পৌঁছায়নি, কোথায় নজরদারির ঘাটতি ছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময়মতো ব্যবস্থা নিয়েছিল কি না। ডেঙ্গুর চাপের মধ্যে হাসপাতালগুলোও সংকটে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালগুলোর ওপরও চাপ বেড়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে দেশে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ১৯৮ জন নতুন হামের রোগী শনাক্ত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ চলতে থাকায় হাসপাতালগুলোতে শয্যাসংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে। ফলে একদিকে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে ডেঙ্গুসহ অন্যান্য রোগের রোগীদের সেবা দেওয়া—দুই ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। সিলেটের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকার তথ্য পরিস্থিতির চাপ তুলে ধরে। শিশুদের ক্ষেত্রে হামের জটিলতা দ্রুত গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। তাই শুধু আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নয়, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় শয্যা, চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ এবং সহায়ক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। একই সময়ে একাধিক সংক্রামক রোগের চাপ তৈরি হলে হাসপাতালের সক্ষমতা, রোগী ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার প্রস্তুতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদেরও টিকার আওতায় আনার পরামর্শ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদেরও টিকাদানের আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ, মোট আক্রান্তের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এই বয়সী শিশু বলে তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান প্রচলিত ধারণার বাইরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আনে। হামের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা অনেক সময় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের কেন্দ্র করে হলেও, বড় বয়সী শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে—বিশেষ করে যারা প্রয়োজনীয় ডোজ পায়নি কিংবা যাদের টিকাদানের ইতিহাস অনিশ্চিত। তবে বয়সভিত্তিক টিকাদানের পরিধি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে রোগের বিস্তার, পূর্ববর্তী টিকাদানের হার, বয়সভিত্তিক সংক্রমণের তথ্য এবং জাতীয় টিকাদান নীতিমালা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, টিকাদানের ক্ষেত্রে শুধু নির্ধারিত বয়সের তালিকার ওপর নির্ভর না করে প্রকৃত ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের শনাক্ত করা জরুরি। যেসব শিশু কোনো ডোজ পায়নি বা অসম্পূর্ণ ডোজ পেয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ছয় মাসের কম বয়সী শিশুর সুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ন সাধারণত ছয় মাসের কম বয়সী শিশুরা মাতৃগর্ভ থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডির মাধ্যমে কিছুটা সুরক্ষা পেতে পারে। তবে এই সুরক্ষা সব শিশুর ক্ষেত্রে সমান নয় এবং সময়ের সঙ্গে তা কমে যেতে পারে। চিকিৎসকেরা এখন অনুসন্ধান করছেন, কেন কিছু শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দ্রুত কমে যাচ্ছে। এ বিষয়ে গবেষণার ফল শিশুদের ঝুঁকি নির্ধারণ এবং টিকাদানের কৌশল পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু নিয়মিত টিকা পাওয়ার বয়সে পৌঁছানোর আগেই সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ে, তাদের সুরক্ষায় জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিকল্প ও সহায়ক কৌশল নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন। তবে এ ধরনের গবেষণার ফল প্রকাশের আগে নির্দিষ্ট কোনো কারণকে দায়ী করা ঠিক হবে না। মাতৃ-অ্যান্টিবডির মাত্রা, শিশুর স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং সংক্রমণের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয় বৈজ্ঞানিকভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি। এখন করণীয় কী? বাংলাদেশের হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে শুধু জরুরি টিকাদান অভিযান চালানো যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে নিয়মিত টিকাদান ব্যবস্থার দুর্বলতা শনাক্ত করে তা দূর করা প্রয়োজন। প্রথমত, টিকা পাওয়া ও না-পাওয়া শিশুদের নির্ভুল তালিকা তৈরি করতে হবে। জাতীয় পর্যায়ের তথ্যের সঙ্গে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও মাঠপর্যায়ের তথ্য মিলিয়ে দেখতে হবে, যাতে কোনো শিশু তালিকার বাইরে না থাকে। দ্বিতীয়ত, প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে টিকাবঞ্চিত শিশুদের শনাক্ত করে তাদের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া জরুরি। তৃতীয়ত, টিকার সরবরাহ ও আমদানির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি টিকাদান অভিযানের আগে প্রস্তুতি যাচাই, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং মাঠপর্যায়ের তদারকি যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হবে। চতুর্থত, অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। টিকার প্রয়োজনীয়তা, নির্ধারিত ডোজ এবং টিকাদান কেন্দ্রের অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সহজ ভাষায় প্রচার করা দরকার। সবশেষে, প্রাদুর্ভাবের কারণ অনুসন্ধানে তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। কতজন শিশু টিকা পেয়েছে, কতজন বাদ পড়েছে, কোথায় টিকার ঘাটতি ছিল এবং কোন পর্যায়ে প্রস্তুতির ব্যর্থতা ঘটেছে—এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা প্রয়োজন। টিকাদানে সাফল্য ধরে রাখাই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা বাংলাদেশ একসময় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে হামের মতো সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব দেখিয়ে দিয়েছে, একবার অর্জিত সাফল্য ধরে রাখতে হলে নিয়মিত টিকাদান, নির্ভুল তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি। টিকাদানের হার কমে গেলে তার প্রভাব কেবল পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর পরিণতি গিয়ে পড়ে পরিবারগুলোর ওপর—যেখানে একটি শিশুর অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি কিংবা মৃত্যু দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত তৈরি করে। বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা তাই স্পষ্ট: সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করাই সবচেয়ে কার্যকর পথ। বাংলাদেশের সামনে এখন দুটি সমান্তরাল দায়িত্ব—বর্তমান প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি যাতে আবার তৈরি না হয়, সে জন্য টিকাদান ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করা। কারণ, হামের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য শুধু আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া নয়; বরং কোনো শিশু যেন প্রয়োজনীয় টিকা থেকে বঞ্চিত না থাকে, তা নিশ্চিত করা।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৮, ২০২৬ 0
Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0