Brand logo light

খাদ্য সুরক্ষা

বিমানের ক্যাটারিং বিভাগে জহিরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের দীর্ঘ তালিকা

সহকর্মীকে মারধরের ঘটনায় বিভাগীয় তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও প্রত্যাহার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ; ২০১২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অন্তত ৯টি বিষয়ে ১৯টি নোটিশ, সতর্কপত্র ও প্রশাসনিক আদেশের তথ্য- ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টারের (বিএফসিসি) জুনিয়র শেফ মো. জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সহকর্মীকে মারধর, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে অসদাচরণ, দায়িত্বে অবহেলা এবং খাদ্য সুরক্ষাসংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের কয়েকটি ঘটনায় অতীতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ সহকর্মীকে মারধরের ঘটনায় বিভাগীয় তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও তাঁর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে কাজে পুনর্বহাল করেছে কর্তৃপক্ষ। শাস্তি হিসেবে দেওয়া হয়েছে তিরস্কার এবং দুটি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধের আদেশ। বিএফসিসির প্রশাসন শাখার সাম্প্রতিক এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এর আগে গত ২ মার্চ জহিরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। একই কর্মীর বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে অভিযোগ ওঠা, বিভিন্ন সময়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও সতর্কপত্র জারি, সাময়িক বরখাস্ত এবং পরে তুলনামূলক লঘু শাস্তিতে কাজে ফেরার এই ধারাবাহিকতা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।প্রশ্ন উঠেছে, বারবার অভিযোগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার পরও কর্মস্থলে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পেরেছে? সিসিটিভিতে মারধরের দৃশ্য, এরপর বিভাগীয় তদন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুটি সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজে ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট বিএফসিসির কিচেন চত্বরের ভেতরে এক সহকর্মীকে মারধরের ঘটনা দেখা যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন জহিরুল ইসলাম তাঁর এক সহকর্মীকে পরপর চড়-থাপ্পড় মারেন। ভিডিও দুটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রধান কার্যালয় বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে। তদন্ত শেষে জহিরুলের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্তে ঠিক কোন কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তার বিস্তারিত সাম্প্রতিক অফিস আদেশে প্রকাশ করা হয়নি। বিভাগীয় তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও কেন সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে তুলনামূলক লঘু শাস্তি দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মারধরের শিকার এক বিএফসিসি কর্মী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিমানের প্রশাসন সব সময়ই প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবানদের পক্ষে অবস্থান নেয়। কর্মস্থলে বারবার সহকর্মীদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটার পরও, এমনকি তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরেও নামমাত্র শাস্তি দিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলো। এর মাধ্যমে বিমানে অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করা হচ্ছে।” ভুক্তভোগী কর্মীর এই বক্তব্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষের চিত্র তুলে ধরে। তবে প্রশাসন প্রভাবশালীদের পক্ষ নেয়—এমন অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া না গেলে এটিকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। ১৪ বছরে অন্তত ৯টি বিষয়ে ১৯টি নোটিশ ও প্রশাসনিক আদেশ প্রাপ্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৪ বছরে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে শৃঙ্খলাভঙ্গ, মারধর, খাদ্য সুরক্ষায় অবহেলা এবং অসদাচরণসহ অন্তত ৯টি পৃথক বিষয়ে ১৯টি কারণ দর্শানোর নোটিশ, সতর্কপত্র ও প্রশাসনিক আদেশ জারি করা হয়েছে। নথিতে উঠে আসা ঘটনাগুলোর সময়ক্রম নিম্নরূপ: ২০১২: যাত্রীর খাবারে সিনথেটিক ফাইবার ফ্লাইটের এক যাত্রীর খাবারে সিনথেটিক ফাইবার পাওয়ার ঘটনায় জহিরুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সতর্কপত্রও জারি করা হয়েছিল। ২০১৩: অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিতি বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ২০১৪–২০১৫: নিরাপত্তাকর্মীকে মারধরের অভিযোগ কর্তব্যরত এক নিরাপত্তাকর্মীকে মারধরের অভিযোগে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এ ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়। পরে তাঁকে তিরস্কার করা হয়। ২০১৭: ঊর্ধ্বতন সহকর্মীর সঙ্গে অসদাচরণ একজন ঊর্ধ্বতন সহকর্মীর সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে জহিরুলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে তাঁকে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। ২০১৯: অনুমতি ছাড়া বিএফসিসির বাইরে যাওয়া প্রাতিষ্ঠানিক পাস বা অনুমতি ছাড়া বিএফসিসির বাইরে যাওয়ার অভিযোগে তাঁর কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়। ২০২৩: ফ্লাইটের খাবারে পোকা পাওয়ার ঘটনা ফ্লাইটের খাবারে পোকা পাওয়ার ঘটনায় তাঁর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয় এবং সতর্ক করা হয়। ২০২৪: নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার নিরাপত্তা তল্লাশির সময় সিকিউরিটি স্টাফদের সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণের অভিযোগে তাঁকে নোটিশ দেওয়া হয়। ২০২৫: সহকর্মীকে প্রকাশ্যে থাপ্পড় এক সহকর্মীকে প্রকাশ্যে পরপর দুটি থাপ্পড় মারার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। একই ঘটনায় তাঁর পদোন্নতি দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ২০২৬: ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগে জহিরুলকে আবারও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সর্বশেষ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তাঁর বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে কাজে পুনর্বহাল করা হয়েছে। এ ঘটনাগুলোর সব কটিতে অভিযোগের প্রকৃতি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ এক নয়। কোনো ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশ, কোনো ঘটনায় সতর্কীকরণ, আবার কোনো ঘটনায় সাময়িক বরখাস্তের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে নথিতে অভিযোগ ও আদেশের উপস্থিতি থেকে প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা বা অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সিদ্ধান্ত টানা যায় না। তবে এত দীর্ঘ সময়ে একাধিকবার প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য কর্মস্থলের শৃঙ্খলা রক্ষার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ভিত্তি তৈরি করে। সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহার, শাস্তি তিরস্কার ও ইনক্রিমেন্ট বন্ধ বিএফসিসির প্রশাসন শাখা থেকে সম্প্রতি জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে জহিরুল ইসলামকে তিরস্কার এবং দুটি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধের দণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গত ২ মার্চ জারি করা তাঁর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে পুনঃপদায়ন করা হয়েছে। অর্থাৎ, বিভাগীয় তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও তাঁকে চাকরির দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শাস্তির অংশ হিসেবে দুটি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধের কথা বলা হলেও, আদেশে কোন কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা মূল্যায়নের জন্য তদন্ত প্রতিবেদনের বিস্তারিত, প্রমাণিত অভিযোগের প্রকৃতি, শাস্তি নির্ধারণের মানদণ্ড এবং একই ধরনের ঘটনায় অন্য কর্মীদের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্য ছাড়া শাস্তি যথাযথ হয়েছে কি না, কিংবা কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। অভিযোগগুলো নিয়ে জহিরুলের বক্তব্য কী? জহিরুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে বরাবরই ‘ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করে আসছেন। তবে সর্বশেষ বিভাগীয় তদন্তে কোন কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং সে বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য কী, তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তাঁর অভিযোগ-সংক্রান্ত বক্তব্যের পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হলে বিষয়টি আরও নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। এদিকে, শাস্তির বিষয়ে জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের নতুন মহাব্যবস্থাপক শাহনুর আহমেদ জানান, তিনি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় এ বিষয়ে বিস্তারিত অবগত নন। ফলে সাম্প্রতিক শাস্তি নির্ধারণের যুক্তি, তদন্তের সুপারিশ এবং সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহারের প্রশাসনিক ভিত্তি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিমানের শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থায় প্রশ্ন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস দেশের জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা। এ প্রতিষ্ঠানের ফ্লাইট ক্যাটারিং বিভাগে খাবারের মান, খাদ্য সুরক্ষা, কর্মীদের আচরণ এবং কর্মস্থলের শৃঙ্খলা—সবকিছুরই সরাসরি গুরুত্ব রয়েছে। একই কর্মীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠা এবং একাধিকবার প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও নতুন অভিযোগের সৃষ্টি হওয়া প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। বিমানের অভ্যন্তরীণ কর্মীদের অভিযোগ, বারবার সতর্ক করা বা তুলনামূলক লঘু শাস্তি দেওয়ার কারণে শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। তাঁদের কারও কারও মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত কর্মীদের মধ্যে বৈষম্যের ধারণা তৈরি করতে পারে এবং কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা দুর্বল করতে পারে। তবে প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ যাচাই করতে হলে শাস্তির নথি, তদন্তের সুপারিশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের যুক্তি এবং একই ধরনের ঘটনায় নেওয়া ব্যবস্থার তুলনামূলক তথ্য প্রয়োজন। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রয়োজন জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক বছরে অভিযোগ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের তথ্য সামনে আসার পর কয়েকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথমত, ২০২৫ সালের মারধরের ঘটনায় বিভাগীয় তদন্তে ঠিক কোন কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে? দ্বিতীয়ত, তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে কী যুক্তি ছিল? তৃতীয়ত, তদন্ত কমিটি কি কোনো নির্দিষ্ট শাস্তির সুপারিশ করেছিল? চতুর্থত, পূর্ববর্তী অভিযোগগুলোর পর নেওয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থাগুলো কতটা কার্যকর ছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন, শাস্তির আদেশ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মী ও কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে, জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের দীর্ঘ ইতিহাস এবং সর্বশেষ বিভাগীয় সিদ্ধান্ত কেবল একজন কর্মীর শাস্তির বিষয় নয়; এটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কর্মস্থলের শৃঙ্খলা, অভিযোগ নিষ্পত্তির পদ্ধতি এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির কার্যকারিতা যাচাইয়েরও একটি সুযোগ। অভিযোগের যথাযথ তদন্ত, প্রমাণের ভিত্তিতে শাস্তি নির্ধারণ এবং সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা সম্পর্কে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা—এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করা গেলে কর্মীদের আস্থা রক্ষা এবং প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৯, ২০২৬ 0
Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0