Brand logo light

শেয়ার বিক্রি

কুয়াকাটায়মাসুদ সাঈদীর ইস্তানবুল রিসোর্টের অনুমোদন না থাকায় নির্মাণকাজ বন্ধ করল প্রশাসন

মামুনুর রশীদ নোমানী | ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ‘ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ প্রকল্পের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না থাকা এবং কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যানে প্রকল্পের জমি রেলওয়ের স্থাপনার জন্য বরাদ্দ থাকার বিষয়টি সামনে এনে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে নির্মাণকাজ বন্ধের ঘটনাটি কেবল অনুমোদনের প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রকল্পের জমির পরিমাণ, মালিকানা, বায়না দলিল, বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে আগে থেকেই নানা প্রশ্ন রয়েছে। প্রকল্পটির প্রচারণায় ৩০ বিঘা জমির ওপর হোটেল ও রিসোর্ট গড়ে তোলার কথা বলা হলেও অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হোটেল নির্মাণের জন্য কুয়াকাটা পৌরসভা থেকে প্রাথমিক অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল প্রায় ছয় বিঘা জমির বিপরীতে। অন্যদিকে, জমির একটি অংশ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। কিছু জমির বায়না দলিলের ক্ষেত্রে জমি হস্তান্তরের আগে বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদনের শর্তও রয়েছে। প্রকল্পটির সঙ্গে পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর নাম যুক্ত। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে তাঁকে চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিনিয়োগের প্রচারণায় প্রকল্পটিকে ‘হালাল ট্যুরিজম’ হিসেবে তুলে ধরে পাঁচ লাখ টাকা থেকে শেয়ার কেনার সুযোগের কথাও বলা হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, জমির মালিকানা ও অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতা নিষ্পত্তির আগেই কীভাবে প্রকল্পের বিস্তৃত পরিসর তুলে ধরে শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে? আর প্রকল্পের জমি নিয়ে চলমান বিরোধের নিষ্পত্তি কীভাবে হবে?   অনুমোদন না থাকায় নির্মাণকাজ বন্ধ মঙ্গলবার দুপুরে কুয়াকাটা পৌরসভা ও কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। পরে নির্মাণস্থলে নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত একটি ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়। ব্যানারে উল্লেখ করা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ করায় নির্দেশক্রমে এর কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান এবং কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক।পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ করা আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। তা ছাড়া কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যানে ওই জমি রেলওয়ের স্থাপনার জন্য বরাদ্দ রয়েছে। এসব কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিএস জরিপ অনুযায়ী জায়গাটি কুয়াকাটা পৌরসভার আওতাধীন। ছয় বিঘার অনুমোদন, প্রচারণায় ৩০ বিঘার প্রকল্প ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের প্রকল্পের আয়তন নিয়ে অনুসন্ধানে অসংগতি পাওয়া গেছে।নথিপত্র বিশ্লেষণ করে জানা যায়, হোটেল নির্মাণের জন্য কুয়াকাটা পৌরসভায় জমা দেওয়া তফসিলে প্রকল্পের জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ১ দশমিক ৯২ একর, যা প্রায় ৫ দশমিক ৭৪ বিঘার সমান। গত ৭ জানুয়ারি পৌরসভা থেকে এ জমির বিপরীতে প্রাথমিক অনুমোদন নেওয়া হয়। অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানটির প্রচারণায় ৩০ বিঘা জমির ওপর প্রকল্প গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়ার ছয় মাস আগেই ৩০ বিঘার প্রকল্পের কথা বলে শেয়ার বিক্রি শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত জমির বাইরে আরও কিছু জমি কেনার জন্য বায়না করা হয়েছে। তবে বায়না করা জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ এবং হস্তান্তরে আইনি শর্ত থাকায় প্রকল্পের জমির প্রকৃত পরিমাণ ও মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের প্রকল্পের জন্য ২১ বিঘা জমি কেনা হয়েছে এবং বাকি নয় বিঘার বায়না করা হয়েছে। তবে এ দাবির সমর্থনে জমির দলিল দেখতে চাওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের কর্মকর্তা তা দেখাতে পারেননি বলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ৪৩ হাজার ৬০০ শেয়ার, ২৬ হাজার প্যাকেজের পরিকল্পনা প্রকল্পের জমি কেনা ও অনুমোদনসংক্রান্ত বিষয়গুলো পুরোপুরি নিষ্পত্তির আগেই ৩০ বিঘা জমির হিসাব ধরে শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটিকে ৪৩ হাজার ৬০০ শেয়ারে ভাগ করা হয়েছে। এসব শেয়ার বিক্রির জন্য ২৬ হাজার প্যাকেজ তৈরি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রায় ১০ হাজার প্যাকেজে অন্তত ২২ হাজার শেয়ার ইতিমধ্যে বিক্রি হয়েছে।এই হিসাবের ভিত্তিতে প্রশ্ন উঠেছে, প্রকল্পের জমির পরিমাণ ও মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকা অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রকল্পের সম্পূর্ণ পরিসর কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।   দলিল দেখাতে পারেননি বিক্রয় কর্মকর্তা ক্রেতা সেজে যোগাযোগ করা হলে ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং ম্যানেজার মো. রাকিবুল ইসলাম দাবি করেন, ২১ বিঘা জমি কেনা হয়েছে এবং বাকি নয় বিঘা জমির বায়না করা হয়েছে। তবে এ-সংক্রান্ত দলিল দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।রাকিবুল ইসলাম বলেন, “কয়টি শেয়ার কিনবেন? এক-দুটি শেয়ার কিনলে জমি বায়নার কাগজপত্র দেখাতে পারব না। যারা নিচ্ছে বিশ্বাস করেই বুকিং মানি ও ডাউনপেমেন্ট দিচ্ছে।” প্রতিষ্ঠানটির অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার মিজানুর রহমান তুহিনও একই ধরনের বক্তব্য দেন। তাঁর ভাষ্য, বিনিয়োগকারীদের কেউই পূর্ণাঙ্গ দলিলপত্র কিংবা অনুমোদন দেখতে চান না; বরং প্রয়াত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে ও সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর বক্তব্যে বিশ্বাস করে তাঁরা বিনিয়োগ করছেন। তবে বিনিয়োগকারীরা নথিপত্র দেখতে চাইছেন কি না, সেটি জমির মালিকানা, প্রকল্পের অনুমোদন কিংবা বিনিয়োগসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের প্রয়োজনীয়তার বিকল্প হতে পারে না। বিশেষ করে প্রকল্পের আয়তন ও মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থেই গুরুত্বপূর্ণ। বায়না করা জমির হস্তান্তরে শর্ত অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডি এম এমদাদুল হক কুয়াকাটায় ১৬ জনের কাছ থেকে ১৭ দশমিক ৫৫৯ বিঘা জমির বায়না দলিল করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।এসব জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। এ কারণে পটুয়াখালীর খেপুপাড়া সাবরেজিস্ট্রি অফিস বায়না দলিলের ক্ষেত্রে শর্ত আরোপ করেছে।শর্ত অনুযায়ী, বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে অনুমতি পাওয়ার পর জমি হস্তান্তর করা যাবে। অন্যথায় বায়না চুক্তির মেয়াদ বাড়বে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জমির বায়না দলিল হওয়া এবং জমির চূড়ান্ত মালিকানা আইনগতভাবে হস্তান্তরিত হওয়া এক বিষয় নয়। ফলে বায়না করা জমিকে প্রকল্পের নিশ্চিত মালিকানাধীন জমি হিসেবে উপস্থাপনের আগে দলিলের শর্ত, আদালতের আদেশ এবং হস্তান্তরের অবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন।   জমির মালিকানা নিয়ে একাধিক পক্ষের দাবি ইস্তানবুল হোটেল প্রকল্পের জমি নিয়ে একাধিক পক্ষ মালিকানা দাবি করেছে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাধিকারসূত্রে জমির মালিকানা দাবি করে পটুয়াখালীর যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা করেছেন স্থানীয় চার বাসিন্দা—কাজলী বেগম, নাজমুন নাহার, মো. আসলাম ও মো. লিটন মিয়া। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমির ওপর তাঁদের উত্তরাধিকারসূত্রে অধিকার রয়েছে। এ ছাড়া কুয়াকাটার বালিয়াতলীর হাড়িপাড়া রাখাইন পল্লির বাসিন্দারাও জমির মালিকানা দাবি করেছেন। চলতি বছরের ২১ এপ্রিল কুয়াকাটা কলাপাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে রাখাইন সম্প্রদায়ের পক্ষে জমির মালিকানা দাবি করেন বোচান। তাঁর অভিযোগ, ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের জন্য নির্ধারিত জমির রেকর্ড সিএস, আরএস ও এসএ খতিয়ানে তাঁদের পূর্বপুরুষদের নামে ছিল। কিন্তু সেখানে প্রভাবশালীরা সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করছেন। জমির অধিকার ফিরে পেতে রাখাইন সম্প্রদায়ের পক্ষে বোচান ২০২৪ সালের নভেম্বরে পটুয়াখালীর যুগ্ম জেলা জজ আদালত ও ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন বলে অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই মামলায় আব্দুল জব্বার হাওলাদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তিনি নিজেকে জমির দাতা দাবি করে ইস্তানবুল হোটেলের সঙ্গে ১৭ দশমিক ৫৫৯ বিঘা জমি বিক্রির বায়না করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলায় মোট ৮৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে, হোটেল কর্তৃপক্ষ রাখাইন সম্প্রদায়ের মালিকানা দাবি নাকচ করেছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: ‘আমরা ১৯ একর জমি কিনেছি’ জমি নিয়ে বিরোধ ও প্রকল্পের আয়তন সম্পর্কে জানতে চাইলে ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডি এম এমদাদুল হক বলেন, “আমরা এ পর্যন্ত ১৯ একর জমি কিনেছি। তার মধ্যে অধিকাংশ সাবকবলা মূলে দলিল হয়েছে। কিছু আছে বায়না রেজিস্ট্রি।” ছয় বিঘার জমির বিপরীতে প্রাথমিক অনুমোদন নিয়ে আরও বেশি জমির কথা বলে প্রকল্প পরিচালনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা প্রথমে ১০ একরের ওপর পরিকল্পনা করেছিলাম। এখন সেটি এক্সটেনশন (বর্ধিত) হবে। এজন্য ২১ একর জমি নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।” রাখাইন সম্প্রদায়ের মালিকানা দাবির বিষয়ে এমদাদুল হক বলেন, “এটি একদম ভুয়া, ভিত্তিহীন। তার কাছে ডকুমেন্ট চান, আমি চ্যালেঞ্জ করছি সে আপনাকে দিতে পারবে না। কারণ বিএস, আরএস, এসএ কোনোটাই তাদের কাছে নেই।” প্রকল্পের সঙ্গে মাসুদ সাঈদীর সংশ্লিষ্টতা ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি জামায়াতের প্রয়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটেও চেয়ারম্যান হিসেবে মাসুদ সাঈদীর নাম ও ছবি রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সেখানে একে বাংলাদেশের ‘হালাল ট্যুরিজম’ প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরা হয় এবং পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে শেয়ারের মালিক হওয়ার সুযোগের কথা বলা হয়। তবে প্রকল্পের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা থাকলেই কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয় না। একইভাবে, প্রচারণায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য জমির মালিকানা, অনুমোদন ও বিনিয়োগসংক্রান্ত নথির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে মাসুদ সাঈদীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এখন সামনে যেসব প্রশ্ন প্রশাসনের নির্মাণকাজ বন্ধের সিদ্ধান্তের পর ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট প্রকল্পের অনুমোদন, জমির মালিকানা এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত বিষয়গুলো আরও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন। প্রথমত, পৌরসভার প্রাথমিক অনুমোদনের শর্তগুলো পূরণ করা হয়েছে কি না এবং মাস্টারপ্ল্যানে রেলওয়ের স্থাপনার জন্য বরাদ্দ জমিতে প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়ার আইনগত সুযোগ আছে কি না, তা স্পষ্ট হওয়া দরকার। দ্বিতীয়ত, প্রকল্পের জন্য কেনা জমির দলিল, বায়না করা জমির অবস্থা, আদালতে চলমান মামলাগুলো এবং বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদনসংক্রান্ত শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, ৩০ বিঘা জমির প্রকল্প হিসেবে শেয়ার ও প্যাকেজ বিক্রির ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের কী তথ্য দেওয়া হয়েছে, কত অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং শেয়ারগুলোর বিপরীতে কী ধরনের আইনগত অধিকার সৃষ্টি হয়েছে, তা প্রকাশ করা জরুরি। চতুর্থত, জমির মালিকানা নিয়ে দাবিদার পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের পাল্টা বক্তব্য নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করে বিরোধের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কুয়াকাটা একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র। সেখানে বড় বিনিয়োগের প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনগত অনুমোদন, জমির মালিকানা ও বিনিয়োগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা শুধু উদ্যোক্তাদের দায়িত্ব নয়; এটি বিনিয়োগকারী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং জনস্বার্থের সঙ্গেও সম্পর্কিত। ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ও জমির বিরোধের নিষ্পত্তি, আইনগত শর্ত পূরণ এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত তথ্যের স্বচ্ছতার ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২৮, ২০২৬ 0
Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0