Brand logo light

১১ কলেজে শূন্য পাস

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে ভবন, কাগজে শিক্ষক-শিক্ষার্থী; বাস্তবে কলেজজুড়ে নীরবতা:কোথাও গরু-ছাগলের আস্তানা!

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১১টি কলেজে এ বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সাতজন পরীক্ষায় অংশই নেননি। কোথাও কলেজের ভবন পরিণত হয়েছে গরু-ছাগল রাখার স্থানে, কোথাও শিক্ষক নেই, নেই নিয়মিত পাঠদান। আবার কোথাও কাগজে-কলমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী থাকলেও বাস্তবে কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের পদচারণা নেই। এ চিত্র কেবল পরীক্ষার ফল বিপর্যয়ের নয়; বরং দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি উচ্চ মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব, শিক্ষা কার্যক্রম ও তদারকি ব্যবস্থার গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার হোগলাপাশা কলেজ তার একটি প্রকট উদাহরণ। কলেজ ভবনে শিক্ষার্থীর বদলে গরু-ছাগল পাথরঘাটা উপজেলার হোগলাপাশায় পাকা সড়কের পাশে মাঝারি আকারের একটি মাঠ। মাঠের এক পাশে সাত কক্ষবিশিষ্ট লম্বা আধাপাকা ভবন। বাইরে থেকে দেখলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বলেই মনে হওয়ার কথা। কিন্তু ভবনটির কোথাও নেই কলেজের সাইনবোর্ড। ভবনের সাতটি কক্ষের মধ্যে দুটি ছাড়া অন্যগুলোর দরজা-জানালা খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। দরজাবিহীন কক্ষগুলোতে জমে আছে গরু-ছাগলের বর্জ্য। দরজা আটকানো একটি কক্ষে পড়ে আছে পাঁচটি বেঞ্চ। অন্য কক্ষটিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে কিছু বইপত্র। এটি হোগলাপাশা কলেজ। যে প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা দেওয়া, সেই প্রতিষ্ঠানের ভবন এখন কার্যত পরিত্যক্ত। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কলেজটিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর নিয়মিত উপস্থিতি নেই। স্থানীয় বাসিন্দা জাফর মুন্সী বলেন, দিনের বেলায় মাঠে গরু-ছাগল চরানো হয়। রাতে সেগুলো আধাপাকা ভবনের ভেতরে রাখা হয়। এ বছর এই কলেজ থেকে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের কেউই পাস করতে পারেননি। গত বছরও পরীক্ষার্থী ছিলেন তিনজন। তাঁদের মধ্যে একজন উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। ১১ কলেজে শূন্য পাস, সাতজন অনুপস্থিত গত শনিবার প্রকাশিত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১১টি কলেজে শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৪৪ জন। তাঁদের মধ্যে সাতজন পরীক্ষায় অংশ নেননি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—  বরগুনার পাথরঘাটার হোগলাপাশা কলেজ। ভোলা সদরের মেদুয়া কলেজ। ভোলার লালমোহনের রমাগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ।  ভোলার চরফ্যাসনের চরমনিকা জালাল আহমেদ কলেজ।  বরগুনার বেতাগীর কদভানু মেমোরিয়াল সেকেন্ডারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ।  পটুয়াখালী সদরের আউলিয়াপুর সাবিনা আক্তার স্কুল অ্যান্ড কলেজ।  পটুয়াখালীর মজিদবাড়িয়া কলেজ। পটুয়াখালীর গলাচিপার বিপিসি স্কুল অ্যান্ড কলেজ।  পিরোজপুর সদরের কদমতলা জর্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ। পিরোজপুরের নাজিরপুরের দীঘিরজান স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ঝালকাঠির নলছিটির অ্যাডভোকেট এইচ.আর.কে ফাউন্ডেশন কৃষি প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট অ্যান্ড কলেজ। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের সংকটের ধরন প্রায় একই। কোনোটি এমপিওভুক্ত নয়, কোনোটি শিক্ষকসংকটে ধুঁকছে, আবার কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি ও পাঠদান কার্যক্রম কার্যত বন্ধ। কাগজে-কলমে শিক্ষক থাকলেও নিয়মিত বেতন না থাকায় তাঁদের অনেকেই প্রতিষ্ঠানে যান না। বছরের পর বছর এভাবে চললেও প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক কারণে বন্ধ হোগলাপাশা কলেজের কার্যক্রম? হোগলাপাশা কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০২৩ সালে। রূপালী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. সুনীল চন্দ্র হাওলাদার প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কবির। রাজনৈতিক কারণে তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতার কারণে কলেজটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সোমবার পাথরঘাটা বাজারে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জহিদুল ইসলাম খানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, বেতন না পাওয়ায় শিক্ষকরা কেউ কলেজে যান না। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাগজপত্রে কলেজটিতে সাতজন শিক্ষক ও ১৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তবে বাস্তবে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। প্রশ্ন উঠেছে, প্রতিষ্ঠানের নামে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর তালিকা থাকলেও তাঁদের উপস্থিতি এবং পাঠদান কার্যক্রম নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার? সচল স্কুল, রুগ্‌ণ কলেজ শাখা শূন্য পাস করা ১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শাখা চালু করা হয়েছিল। কিন্তু কলেজ শাখা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকরা অন্যত্র চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা। ফলে মাধ্যমিক শাখার কার্যক্রম কোনোভাবে চললেও উচ্চ মাধ্যমিক শাখা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীরা এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি না হয়ে অন্য কলেজে চলে যাচ্ছেন। পটুয়াখালীর গলাচিপার বিপিসি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মেজবাহউদ্দিন মিলন বলেন, কলেজ শাখায় একজন শিক্ষকও নেই। স্কুল শাখায়ও আটটি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীরা অন্য কলেজে ভর্তি হন। অর্থাৎ, একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমিক শাখা সচল থাকলেও উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় শিক্ষার্থী ধরে রাখার মতো প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও শিক্ষা পরিবেশ নেই। একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে কলেজ! পটুয়াখালী সদরের আউলিয়াপুর সাবিনা আক্তার স্কুলে ২০২৩ সালে কলেজ শাখার কার্যক্রম শুরু হয়। ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো ১৮ জন শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন পাস করেন। পরের বছর পরীক্ষার্থী ছিলেন দুজন। তাঁদের কেউ পাস করেননি। এ বছর মাত্র একজন পরীক্ষায় অংশ নিয়েও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীদের অর্ধেকও কেন কলেজ শাখায় ভর্তি হননি, সে প্রশ্নের জবাবে শিক্ষক আবু তালেব বলেন, কলেজ শাখায় তিনি ছাড়া আর কোনো শিক্ষক নেই। যাঁরা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাঁদেরও তৎপরতা নেই। তিনি বলেন, অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি বিপাকে পড়েছেন। একজন শিক্ষক দিয়ে একটি কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম কতটা পরিচালনা করা সম্ভব, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজেও শিক্ষার্থী সংকট পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় বরিশাল-বরগুনা সড়কের পাশে মজিদবাড়িয়া কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০২ সালে। প্রতিষ্ঠার দুই দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থী সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। লম্বা টিনশেড ভবনের একাংশ বন্যায় বিধ্বস্ত হয়েছে। এ বছর কলেজটি থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেন। তিনিও পাস করতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ফারুক ইকবাল জানান, ফল বিপর্যয়ে তাঁরাও বিব্রত। তবে তাঁর দাবি, কারিগরি শাখার শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ভালো ফল করেছেন। ওই শাখার ১৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনজন পাস করেছেন। প্রতিষ্ঠার এত বছর পরও সাধারণ শিক্ষা শাখায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এক অঙ্কে সীমাবদ্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রমের বাস্তব অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তদারকি কোথায়, জবাবদিহি কার? ১১টি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল এবং শিক্ষা কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র সামনে আসার পর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো বছরের পর বছর শিক্ষকসংকট, শিক্ষার্থী সংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যায় ভুগলেও কেন পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, তা জানতে চাওয়া জরুরি। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক জসিম উদ্দিন বর্তমানে বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে নোটিশ দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মানোন্নয়নের অঙ্গীকারনামা জমা দিয়েছে। এবারও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, ১০ নভেম্বরের মধ্যে জবাব চেয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নোটিশ দেওয়া হবে। তাদের জবাব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তবে শুধু নোটিশ আর অঙ্গীকারনামায় এসব প্রতিষ্ঠানের চিত্র বদলাবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। যেসব প্রতিষ্ঠানের ভবনে শিক্ষার্থীর বদলে গবাদিপশু আশ্রয় নিচ্ছে, যেখানে কাগজে শিক্ষক থাকলেও পাঠদান নেই, যেখানে বছরের পর বছর পরীক্ষার্থী হাতে গোনা—সেসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন, শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার্থী ভর্তি এবং শিক্ষা কার্যক্রমের বাস্তব অবস্থা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন। কারণ, একটি কলেজের অস্তিত্ব কেবল ভবন, সাইনবোর্ড কিংবা কাগজে-কলমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর তালিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। সেখানে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীর উপস্থিতি এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত প্রধান বিবেচনা। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ১১টি কলেজের শূন্য পাসের ফলাফল তাই শুধু পরীক্ষার পরিসংখ্যান নয়; এটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম ও তদারকি ব্যবস্থার বাস্তবতা যাচাইয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।

নিজস্ব প্রতিবেদক নভেম্বর ৮, ২০২৬ 0
Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0