Brand logo light
ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

অমাবস্যার অন্ধকারে ইরানে হামলার ছক? ট্রাম্পের বৈঠক ঘিরে বাড়ছে যুদ্ধের শঙ্কা: পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি তেহরানের

নিজস্ব প্রতিবেদক নভেম্বর ৭, ২০২৬ 0

ইত্তেহাদ নিউজ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আলোচনায় উঠে এসেছে ইরানে আবারও হামলা চালানোর সম্ভাবনা। একই সময়ে আগামী ৯ নভেম্বরের অমাবস্যাকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান শুরুর অনুকূল সময় হিসেবে বিবেচনা করার তথ্য সামনে এসেছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে তার জবাব আরও ব্যাপক ও বিস্তৃত হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি শুধু যুক্তরাষ্ট্রকেই নয়, বরং সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক অভিযানে সহযোগিতাকারী দেশগুলোকেও সতর্ক করেছেন। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) পক্ষ থেকেও একই ধরনের কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ওয়াশিংটন কি সত্যিই নতুন যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে, নাকি সামরিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে নতুন কোনো কৌশলগত সমঝোতায় বাধ্য করতে চাইছে?

অমাবস্যার রাতকে কেন গুরুত্ব দিচ্ছে ওয়াশিংটন?

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেশটির প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ৯ নভেম্বর মধ্যপ্রাচ্যে অমাবস্যা শুরু হবে। ফলে রাতের আকাশে চাঁদের আলো খুব কম থাকবে, এমনকি কোনো কোনো এলাকায় একেবারেই থাকবে না।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের অন্ধকারকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান শুরুর অনুকূল পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সামরিক অভিযানে রাতের অন্ধকার কখনো কখনো কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে আকাশপথে অভিযান, নজরদারি এবং বিভিন্ন সামরিক তৎপরতায় প্রাকৃতিক আলোর উপস্থিতি একটি বিবেচ্য বিষয়। তবে শুধু অমাবস্যার সময়কে কেন্দ্র করে হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন ট্রাম্প। সেখানে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করা হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ আবার শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে ওয়াশিংটন।

তিনি বলেন, ‘সম্ভব হলে আমি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চাই না, তবে হয়তো আমাকে তা করতে হতে পারে। আপনারা খুব দ্রুতই তা জানতে পারবেন।’

সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাকে আরও স্পষ্ট করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা যাবে, যাতে ভবিষ্যতে একই ঘটনা আর না ঘটে।

ইরানের সম্ভাব্য পুনর্গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশটি পুনর্নির্মাণ করতে তাদের ২৫ বছর সময় লাগতে পারে।

ট্রাম্পের এসব বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ইরান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প এখনো বিবেচনায় রয়েছে। তবে নতুন হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

হামলা হলে জবাব হবে আরও ব্যাপক: খামেনির হুঁশিয়ারি

ওয়াশিংটনে যখন নতুন সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন তেহরানও বসে নেই। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে তার জবাব আরও ব্যাপক মাত্রায় দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।

বিশ্বব্যাপী আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা ওয়াশিংটনের সামরিক পদক্ষেপের পাল্টা জবাব।

খামেনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হলে ইরানের পাল্টা জবাবের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।

তার বক্তব্যে শুধু সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের বিষয়টি নয়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকাও গুরুত্ব পেয়েছে।

তিনি ফিলিস্তিন, লেবানন, ইরাক ও ইয়েমেনের বিভিন্ন গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। এসব গোষ্ঠীর পদক্ষেপকে তিনি ‘বিচক্ষণ ও শক্তিশালী বীরত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেন।

খামেনির মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছে।

একই সঙ্গে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিপূর্ণ প্রতিরোধ নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হলো সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী ইরান গড়ার কৌশল অব্যাহত রাখা।’

যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করলেও বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে অন্য দেশ

ইরানের হুঁশিয়ারি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। নতুন কোনো যুদ্ধে ওয়াশিংটনকে সহায়তা করা দেশগুলোকেও সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করার কথা জানিয়েছে আইআরজিসি।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি বেলালি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা প্রদানকারী যেকোনো দেশ ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হবে।

ইরানের আরবি ভাষার সংবাদমাধ্যম আল-আলমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনে সহযোগিতা ও সমন্বয়কারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেলালি আরও জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি শত্রুপক্ষের যেকোনো ধরনের হুমকির জবাব ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তেহরান কার্যত সম্ভাব্য সংঘাতের ভৌগোলিক পরিসর আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। অর্থাৎ নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তা কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না—এমন আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।

ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা নিয়ে ইরানের দাবি

ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি বেলালি।

তার দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এখন অনেকাংশে নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভর। দেশজুড়ে বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি থেকে ইসরাইল-অধিকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে ইরানের।

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত হামলা কৌশলের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

তার ভাষ্য, ইরানের অস্ত্রের আওতায় থাকা কোনো এলাকাকেই মার্কিন সেনাদের জন্য নিরাপদ বলা যায় না।

এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বেলালির দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উৎপাদিত অস্ত্র সংরক্ষণের জন্য দেশটির আরও স্থাপনার প্রয়োজন হচ্ছে।

তবে এসব সামরিক সক্ষমতা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ইরানের বক্তব্য দেশটির নিজস্ব দাবি। স্বাধীনভাবে এসব দাবির পূর্ণাঙ্গ সত্যতা যাচাইয়ের তথ্য এখানে পাওয়া যায়নি।

নতুন যুদ্ধ কি আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে?

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ এবং ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি—দুই পক্ষের অবস্থানই মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বড় কারণ। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্ববাজারে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।

অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সামরিক স্থাপনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতিও সম্ভাব্য সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

এ পরিস্থিতিতে ৯ নভেম্বরের অমাবস্যাকে ঘিরে প্রকাশিত তথ্য, ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক এবং ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কঠোর হুঁশিয়ারি—সবকিছুই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

তবে অমাবস্যার রাতকে সম্ভাব্য অভিযানের অনুকূল সময় হিসেবে বিবেচনার তথ্য সামনে এলেও এটিকে হামলার চূড়ান্ত সময়সূচি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো নতুন সামরিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

 

এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তিনটি—যুক্তরাষ্ট্র কি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করবে? হামলা হলে ইরান কি সরাসরি মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে? আর সংঘাত শুরু হলে তা কি ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সীমা ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়বে?

ট্রাম্পের বক্তব্যে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, ইরানও আগাম জানিয়ে দিয়েছে, নতুন হামলা হলে তার জবাব হবে আরও বিস্তৃত এবং প্রয়োজনে ভৌগোলিক সীমা অতিক্রম করবে।

ফলে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিশ্চিত সামরিক পরিস্থিতির মুখোমুখি। ৯ নভেম্বরের অমাবস্যা ঘিরে সামরিক জল্পনা যতই বাড়ুক, শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত এবং তেহরানের প্রতিক্রিয়াই নির্ধারণ করবে এই উত্তেজনা নতুন যুদ্ধের দিকে যাবে, নাকি কূটনৈতিক সমাধানের কোনো পথ তৈরি হবে।

Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

View more
ইসরাইলি হামলায় নিহত ৭৪ হাজার ৬১৮ ফিলিস্তিনি,হতাহত আড়াই লাখ ছাড়াল

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন : ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরুর পর দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু থামেনি ফিলিস্তিনিদের মৃত্যু ও দুর্ভোগ। ২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় গাজায় ৭৪ হাজার ৬১৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯২৫ জন। নিহত ও আহত মিলিয়ে মোট হতাহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৫৪৩ জনে। আলজাজিরার প্রকাশিত এক ইনফোগ্রাফিকে উঠে এসেছে গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের এই চিত্র। এতে বলা হয়েছে, নিহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবে ৭৪ হাজার ছাড়ালেও প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ, এখনো বহু মানুষের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে রয়েছে। উদ্ধারকাজ ও নিখোঁজদের শনাক্ত করার সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁদের সবাইকে সরকারি মৃত্যুর হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। যুদ্ধবিরতির পরও থামেনি মৃত্যু গাজায় ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও প্রাণহানি বন্ধ হয়নি। আলজাজিরার ইনফোগ্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর পর্যন্ত গাজায় আরও ১ হাজার ৬০২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৭৯৯ জন। যুদ্ধবিরতির পরও এত বিপুলসংখ্যক মানুষের হতাহত হওয়ার ঘটনা গাজায় নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে সামনে এনেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সাধারণ মানুষের জীবন কতটা ঝুঁকিমুক্ত হয়েছে, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে। পাঁচ অঞ্চলে ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র আলজাজিরার প্রকাশিত ইনফোগ্রাফিকে গাজার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। অঞ্চলগুলো হলো উত্তর গাজা, গাজা সিটি, দেইর আল-বালাহ, খান ইউনিস ও রাফাহ। দীর্ঘ সময়ের সামরিক অভিযান, বিমান হামলা ও স্থল অভিযানে এসব অঞ্চলের জনবসতি ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মরদেহ এবং আহত মানুষের বিপুল সংখ্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রকৃত প্রাণহানি কি আরও বেশি? প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ৬১৮ এবং আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯২৫। তবে এই হিসাবকে চূড়ান্ত প্রাণহানির সংখ্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের নিচে এখনো অনেক মানুষের মরদেহ চাপা পড়ে থাকার তথ্য রয়েছে। ফলে উদ্ধারকাজ এগিয়ে গেলে এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রাণহানির সরকারি পরিসংখ্যানে আরও পরিবর্তন আসতে পারে। আলজাজিরার ইনফোগ্রাফিকে ব্যবহৃত তথ্যের উৎস হিসেবে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এসব তথ্য ২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর পর্যন্ত হালনাগাদ করা হয়েছে। গাজার এই পরিসংখ্যান কেবল নিহত ও আহত মানুষের সংখ্যা নয়; এটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মধ্যে একটি জনপদের মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহ দলিল।

নিজস্ব প্রতিবেদক নভেম্বর ৮, ২০২৬ 0

অমাবস্যার অন্ধকারে ইরানে হামলার ছক? ট্রাম্পের বৈঠক ঘিরে বাড়ছে যুদ্ধের শঙ্কা: পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি তেহরানের

যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়ার সতর্কবার্তা, ইরানে নতুন হামলার হুমকিতে বাড়ছে উদ্বেগ

ইসরাইলে ইহুদি-আরব অংশীদারত্বের সরকার গঠনের দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: ওয়াশিংটন: ইরানের বিরুদ্ধে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এমন অভিযান শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে কয়েকটি আরব উপসাগরীয় দেশকে প্রস্তুতি নেওয়ার বার্তা দিয়েছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, গোলাবারুদ ও যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখাসহ সামরিক তৎপরতা জোরদার করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক সরকারগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে বুধবার (২৮ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য জানিয়েছে। তবে ইরানে হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনা থাকতে পারে। তবে তেহরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর পথও এখনো খোলা রয়েছে। আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা নতুন করে সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেও আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সম্ভাব্য হামলা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক প্রস্তুতি ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেক্সাস থেকে একটি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে—এমন কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন সেনাদের গোলাবারুদের মজুত পুনরায় পূরণ করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য অভিযানের জন্য বোমারু ও যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী মাসে আরও একটি বিমানবাহী রণতরিনির্ভর আক্রমণকারী দল এবং মেরিন কোরের অভিযান পরিচালনাকারী বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বর্তমানে ওই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা প্রায় ২০টি যুদ্ধজাহাজের বহরের সঙ্গে নতুন সামরিক শক্তি যুক্ত হতে পারে। তবে নতুন আসা কিছু জাহাজ আগে থেকে মোতায়েন থাকা জাহাজের স্থলাভিষিক্ত হলে মোট যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা বাড়বে না। এসব প্রস্তুতি সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও এগুলোকে ইরানে হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত এবং কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতিই পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নেতানিয়াহুর বক্তব্যে ইরান প্রসঙ্গ, সংঘাত শেষ হয়নি ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও সংঘাতের বিষয়টি সামনে এনেছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নিউজ-এর পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ভোরে নির্বাচনের পর সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যের শুরুতেই ইরান প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি সবচেয়ে বড় দল হিসেবে অবস্থান করছিল। তবে তাঁর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোটের সমর্থন কমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জোট নিশ্চিত করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠীকে তাঁরা পতনের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন, তবে পরিস্থিতি এখনো শেষ হয়নি। তাঁর ভাষায়, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই হুমকি স্থায়ীভাবে দূর করার সক্ষমতা ইসরায়েলের রয়েছে। নেতানিয়াহুর বক্তব্যে ইরানকে ঘিরে ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক নেতানিয়াহুর বক্তব্যের কিছুক্ষণ আগে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকট তাঁকে পদত্যাগের আহ্বান জানান। মঙ্গলবার রাতে তিনি নেতানিয়াহুকে একজন ‘তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, তাঁর হাতে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ম্যান্ডেট বা জনগণের আস্থা নেই। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাতভর বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাসে পরিবর্তন আসে। এতে রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর সম্ভাব্য আসনসংখ্যার হিসাবও বদলে যায়। বিরোধী নেতাদের আশঙ্কা, ক্ষমতা ধরে রাখতে নেতানিয়াহু নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারেন। তাঁদের মতে, এর মাধ্যমে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরানোর উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করা কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোকে জরুরি সরকারে যোগ দিতে চাপ দেওয়া হতে পারে। তবে এগুলো বিরোধী নেতাদের আশঙ্কা; নেতানিয়াহু এমন উদ্দেশ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ব্যবহার করছেন—এমন কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। আইজেনকট প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তাঁদের চ্যালেঞ্জ করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কর্মকর্তাদের দৃঢ় থাকতে হবে। নেতানিয়াহুকে সরাসরি সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, নিজের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে ব্যবহার করার দুঃসাহস দেখানো উচিত হবে না। কূটনীতির পথ খোলা, তবে বাড়ছে সংঘাতের ঝুঁকি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি, ইসরায়েলি নেতৃত্বের কঠোর বক্তব্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি হিসেবে সামরিক সরঞ্জাম ও জনবল পুনর্বিন্যাসের খবর পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে। তবে সামরিক প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনাও অব্যাহত রয়েছে। তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হলে নতুন সংঘাত এড়ানোর সুযোগ থাকতে পারে। বিপরীতে আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা আরও জোরালো হতে পারে। এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত সামরিক অভিযান বেছে নেবে, নাকি আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলাফলের ওপরই পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ অনেকাংশে নির্ভর করছে। সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ওয়াইনেট নিউজের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তুত।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২৯, ২০২৬ 0

ট্রাম্পের ক্ষমতার পরীক্ষা ৩ নভেম্বর, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

ভারতের সঞ্চালন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু নেপালের

জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে উত্তাল ফ্রান্স, গ্রেপ্তার ১,৩০০

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে বড় হামলার ছক? ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও জ্বালানি অবকাঠামো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু; পাল্টা হামলা ও আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার হুঁশিয়ারি তেহরানের ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ভান্ডার এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো। তবে সামরিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার আলোচনা চললেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত হামলার অনুমোদন দেবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। মার্কিন কর্মকর্তা ও সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, স্বল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপক ও তীব্র হামলা চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। এ সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে—দেশটির ওপর নতুন করে হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে আরও তীব্রভাবে। প্রয়োজনে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে বড় প্রশ্ন হলো, নতুন সামরিক অভিযান কি ইরানকে আলোচনার টেবিলে ছাড় দিতে বাধ্য করবে, নাকি তা মধ্যপ্রাচ্যকে আরও দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে? হামলার প্রস্তুতি, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর একাধিকবার ইরানে বড় ধরনের হামলার প্রস্তাব সামনে এলেও ট্রাম্প সেগুলো অনুমোদন করেননি। অক্টোবরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বাহিনী সম্ভাব্য অভিযানের জন্য প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে হামলাটি স্থগিত করা হয়। নভেম্বরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার হওয়ার পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সম্ভাব্য প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে তিনটি বিমানবাহী রণতরি, হাজারো মেরিন সেনা, যুদ্ধবিমান ও বিশেষ বাহিনীর উপস্থিতি। তবে সামরিক শক্তি মোতায়েনের অর্থ এই নয় যে হামলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। রাজনৈতিক অনুমোদন, সম্ভাব্য পাল্টা আঘাত, সামরিক সরঞ্জামের মজুত এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর প্রভাব—সবকিছু বিবেচনা করেই ওয়াশিংটনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তীব্র হামলায় কি নতি স্বীকার করবে তেহরান? কিছু মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীর ধারণা, টানা তিন দিন ইরানে ব্যাপক পরিসরে হামলা চালিয়ে দেশটির অর্থনীতিকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা সম্ভব। এর মাধ্যমে তেহরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি ও অন্যান্য বিরোধপূর্ণ বিষয়ে আলোচনায় ছাড় দিতে বাধ্য করার কৌশল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু আগের সামরিক অভিযান প্রত্যাশিত ফল এনে দিতে পারেনি বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরও ইরানের সরকার টিকে রয়েছে। কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও মার্কিন নৌ অবরোধের চাপও তেহরানকে গুরুত্বপূর্ণ ছাড় দিতে বাধ্য করতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্টো সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নড়বড়ে হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, সামরিকভাবে বড় আঘাত হানার সক্ষমতা থাকলেও সেই আঘাত থেকে রাজনৈতিক সাফল্য নিশ্চিত করা আলাদা বিষয়। ইরানের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলেই দেশটির নেতৃত্ব আলোচনায় নতি স্বীকার করবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। পারমাণবিক স্থাপনা ও ‘মাদার অব অল বম্বস’ সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো। এর মধ্যে পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত ‘পিক্যাক্স’ নামে উল্লেখ করা একটি কেন্দ্রের কথাও প্রতিবেদনে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প সেখানে ২২ হাজার পাউন্ড ওজনের ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তবে অস্ত্রবিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ভূমির ওপর বিস্ফোরিত হওয়ার জন্য তৈরি এ ধরনের বোমা গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংস করতে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এখানে সামরিক পরিকল্পনার একটি মৌলিক সীমাবদ্ধতা সামনে আসে। কোনো স্থাপনায় আঘাত হানা এবং তার ভেতরে থাকা সক্ষমতা স্থায়ীভাবে ধ্বংস করা এক বিষয় নয়। ভূগর্ভস্থ স্থাপনার গভীরতা, সুরক্ষা, অবকাঠামোর ধরন এবং বিকল্প স্থাপনা ব্যবহারের সক্ষমতা অভিযানের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে বড় বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনা আলোচনায় থাকলেও তা দিয়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর করা সম্ভব হবে কি না, সে প্রশ্নের উত্তর এখনো অনিশ্চিত। নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক হিসাব ও মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্ভাব্য হামলার সময় নির্ধারণে সামরিক বিবেচনার পাশাপাশি রাজনীতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন যুদ্ধে জড়াতে অনাগ্রহী ট্রাম্প অক্টোবরের একটি পরিকল্পিত অভিযান স্থগিত করেছিলেন। নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তাঁর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। প্রতিবেদনে ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নেতানিয়াহু পরাজিত হলে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে সম্ভাব্য ইরান-সংকটকে কাজে লাগিয়ে বিরোধীদের সঙ্গে জরুরি ঐক্য সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন নেতানিয়াহু—এমন ধারণাও দিয়েছেন কিছু বিশ্লেষক। ইসরায়েলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাজাল মুয়ালেমের মতে, নেতানিয়াহু পরিস্থিতিকে জরুরি সরকার গঠনের পক্ষে যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সন্দেহ ও অবিশ্বাসও বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে। জ্বালানির দামই কি ট্রাম্পের ওপর চাপ তৈরির হাতিয়ার? ইরান-সংঘাতের একটি বড় দুর্বলতা হলো, এর অর্থনৈতিক প্রভাব শুধু যুদ্ধরত দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে এবং জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। তেহরানের বিশ্লেষক পেইমান সালেহির বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে তেল ও জ্বালানির দাম বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফলে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি করা ওয়াশিংটনের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির একটি কার্যকর উপায় হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। ইরানের কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নতুন হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্যিক জাহাজ, জ্বালানি অবকাঠামো, ডেটা সেন্টার এবং সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেবলও হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ ধরনের হুমকি বাস্তবায়িত হলে সংকট শুধু তেলবাজারে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থা, ডিজিটাল সেবা, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে। প্রতিবেদনে হুতিদের হামলার কারণে সৌদি আরব থেকে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন—এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে সম্ভাব্য ইরান-অভিযানের সরাসরি সম্পর্ক কতটা, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের মহড়া: উসকানি, নাকি প্রতিরোধের বার্তা? ইরানে নতুন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ইরানের সীমান্তের কাছাকাছি গিয়ে ফিরে আসার একটি ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বুধবার, ২১ অক্টোবর, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর বরাত দিয়ে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানায়, গত সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী এ অভিযান চালায়। কয়েকটি যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও এতে অংশ নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিমানগুলো সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা পেরিয়ে ইরানের সীমান্তের কাছে পৌঁছালেও ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ না করে ইসরায়েলে ফিরে যায়। মার্কিন সূত্রের বরাতে চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইসরায়েল হয়তো আশা করেছিল, সীমান্তের কাছে যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি দেখে ইরানি বাহিনী গুলি চালাবে। তেমন ঘটনা ঘটলে সেটিকে পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হতে পারত। তবে এটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি দাবি; ইসরায়েলের প্রকৃত উদ্দেশ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে নেই। মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা অভিযানটিকে ইরানকে প্রতিরোধের বার্তা দেওয়ার সামরিক মহড়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রকে আগেই অবহিত করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এদিকে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অক্টোবরের শুরুতে নেতানিয়াহু ইরানে কয়েক দিনব্যাপী বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করতে সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্পের আপত্তির কারণে ১০ অক্টোবরের পরিকল্পিত হামলা বাতিল করা হয় বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনাগুলো থেকে বোঝা যায়, সামরিক প্রস্তুতি, প্রতিরোধের বার্তা এবং বাস্তব হামলার সিদ্ধান্ত—তিনটি বিষয়কে এক করে দেখা ঠিক হবে না। তবে সীমান্তের কাছে সামরিক তৎপরতা ও পাল্টাপাল্টি হুমকি ভুল হিসাবের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক অচলাবস্থা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে আলোচনা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু আলোচনার অগ্রাধিকার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ইরান চায়, প্রথমে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত একটি সমঝোতা হোক। এরপর পরবর্তী পর্যায়ে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে চায়। এই মতপার্থক্য কূটনৈতিক সমাধানের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক পক্ষ যেখানে নৌ চলাচল ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার দিচ্ছে, অন্য পক্ষ সেখানে পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করার প্রশ্নকে সামনে রাখছে। সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ডানা স্ট্রাউলের মতে, মধ্যপ্রাচ্য যখন আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে, তখন নতুন করে যুদ্ধ শুরু করলে পরিস্থিতির কী উন্নতি হবে, তার বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু দিতে পারেননি। ইরানি আলোচক দলের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদিও তিন দিনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার ধারণাকে অবাস্তব বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর হুঁশিয়ারি, ইরানের পাল্টা হামলা হবে আরও তীব্র, সৃজনশীল ও ভিন্ন ধরনের। দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক সংকট? যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য নতুন হামলার পরিকল্পনায় সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দ্রুত রাজনৈতিক ফল অর্জনের প্রত্যাশা রয়েছে। কিন্তু আগের সংঘাতের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা যতটা সহজ, তার পরিণতি নিয়ন্ত্রণ করা ততটা সহজ নয়। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা বা সামরিক অবকাঠামোয় বড় ধরনের আঘাত হানা হলেও তেহরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল কতটা নিরাপদ থাকবে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে—এসব প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর নেই। আরেকটি ঝুঁকি হলো, সীমান্তে সামরিক তৎপরতা বা কোনো বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ থেকে বৃহত্তর যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যেমন নতুন সামরিক ব্যয়ের মুখে পড়বে, তেমনি ইরান এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা ও অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সামরিক হামলা দিয়ে চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হতে পারে, কিন্তু সেই চাপকে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমঝোতায় রূপান্তর করা আলাদা চ্যালেঞ্জ। কূটনৈতিক আলোচনার বিশ্বাসযোগ্য পথ তৈরি না হলে নতুন অভিযান আগের সংকটেরই পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা ওয়াশিংটন, তেল আবিব ও তেহরানের হিসাবকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে সামরিক প্রস্তুতি ও কঠোর অবস্থানের বার্তা, অন্যদিকে জ্বালানির বাজার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক ঝুঁকি—সবকিছুই ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সত্যিই নতুন হামলা চালাবে কি না, তা নয় শুধু; বরং হামলা চালালে তার শেষ কোথায় এবং সেই সংঘাত থামানোর কার্যকর কূটনৈতিক পথ আদৌ প্রস্তুত আছে কি না।  

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২৩, ২০২৬ 0

রিয়াদে হুতি গোষ্ঠীর হামলার ধাক্কা: ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে ব্যক্তিগত বিমানের ভাড়া, বাতিল সাড়ে ৫ হাজার ফ্লাইট

সৌদি আরবে ১০ মাসে ১৯০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, ৮০ জন বিদেশি: দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড,৩০৬ বন্দি

তরুণদের ক্ষোভকে পুঁজি করে মোদির বিকল্প হতে চান রাহুল

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0