Brand logo light
ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

ইসরাইলে ইহুদি-আরব অংশীদারত্বের সরকার গঠনের দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক নভেম্বর ১, ২০২৬ 0

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন:

ইসরাইলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরির সম্ভাবনার মধ্যে ইহুদি ও আরব দলগুলোর অংশীদারত্বে সরকার গঠনের দাবিতে রাজপথে নামছেন দেশটির নাগরিকদের একটি অংশ। বিরোধী জোটের নির্বাচনী সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে পরিবর্তনপন্থি সরকার গঠনের আহ্বানে শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে দেশজুড়ে একাধিক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’ নামের একটি গোষ্ঠীর উদ্যোগে এসব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তেল আবিব, জেরুজালেম, বেরশেবা, হাইফা ও তাইবেতে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবারের নির্বাচনের পর ইহুদি ও আরব রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে সরকার গঠনের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, পরিবর্তনপন্থি জোটের নেতারা নির্বাচনী ফলাফলের প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি অংশীদারত্বমূলক সরকার গঠনে এগিয়ে আসবেন।

৬৭ আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিরোধী জোট, সমীকরণে আরব দল

নির্বাচনের ফলাফলে বিরোধী জোট পেয়েছে ৬৭টি আসন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন জোটের আসনসংখ্যা ৫৩। ফলে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিচারে সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে বিরোধীদের সামনে।

তবে বিরোধী জোটের ৬৭টি আসনের মধ্যে ৪৮টি এসেছে জায়নবাদী দলগুলো থেকে এবং ১৯টি এসেছে আরব-অজায়নবাদী দলগুলো থেকে। এই আসনবণ্টনই সরকার গঠনের আলোচনায় আরব দলগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে।

কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও সরকার গঠনের পথ পুরোপুরি মসৃণ নয়। এর আগে বিরোধী জোটের ইহুদি নেতাদের একাংশ আরব দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সহযোগিতা না করার অবস্থান জানিয়েছিলেন। ফলে নির্বাচনী ফলাফলকে সরকার গঠনের বাস্তব সমীকরণে রূপ দিতে বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

‘আরবদের ভোটের মূল্য ইহুদিদের ভোটের সমান’

বিক্ষোভের আয়োজকেরা বলছেন, নির্বাচনে পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেওয়া ইহুদি ও আরব নাগরিকদের সম্মিলিত সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রতিফলন পরবর্তী সরকারেও থাকতে হবে।

তাঁদের বক্তব্য, বিরোধী জোটের নেতাদের উচিত নিজেদের নির্বাচনী বিজয়কে স্বীকৃতি দিয়ে ইহুদি-আরব অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া।

এক বিবৃতিতে আয়োজকেরা বলেন, “এখন আমাদের অংশীদারত্ব পরিত্যাগ করার সময় নয়, বরং একে এমন রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়ার সময়, যা বাস্তবতা বদলে দেবে।”

তাঁরা আরও বলেন, “আরবদের ভোটের মূল্য ইহুদিদের ভোটের সমান। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আরব নাগরিকরাও পূর্ণ অংশীদার হওয়ার যোগ্য।”

সরকার গঠনে আরব দলগুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

নির্বাচনের পর ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে আরব দলগুলোর ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিরোধী জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে আরব-অজায়নবাদী দলগুলোর ১৯টি আসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তবে নির্বাচনী সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেই যে সরকার গঠন নিশ্চিত হবে, এমন নয়। বিশেষ করে আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা নিয়ে বিরোধী জোটের নেতাদের পূর্ববর্তী অবস্থান এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্য নতুন সরকার গঠনের সম্ভাবনাকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখেছে।

এমন পরিস্থিতিতে ‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’-এর বিক্ষোভ কর্মসূচি কেবল সরকার গঠনের দাবি নয়, বরং ইসরাইলের রাজনৈতিক কাঠামোয় আরব নাগরিকদের সমান অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নটিকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনী সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিরোধী জোট ইহুদি-আরব অংশীদারত্বের সরকার গঠনে সম্মত হয়, নাকি রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে নতুন সরকার গঠনের সমীকরণ আরও জটিল হয়ে ওঠে।

Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

View more
ইসরাইলে ইহুদি-আরব অংশীদারত্বের সরকার গঠনের দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: ইসরাইলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরির সম্ভাবনার মধ্যে ইহুদি ও আরব দলগুলোর অংশীদারত্বে সরকার গঠনের দাবিতে রাজপথে নামছেন দেশটির নাগরিকদের একটি অংশ। বিরোধী জোটের নির্বাচনী সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে পরিবর্তনপন্থি সরকার গঠনের আহ্বানে শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে দেশজুড়ে একাধিক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’ নামের একটি গোষ্ঠীর উদ্যোগে এসব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তেল আবিব, জেরুজালেম, বেরশেবা, হাইফা ও তাইবেতে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবারের নির্বাচনের পর ইহুদি ও আরব রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে সরকার গঠনের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, পরিবর্তনপন্থি জোটের নেতারা নির্বাচনী ফলাফলের প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি অংশীদারত্বমূলক সরকার গঠনে এগিয়ে আসবেন। ৬৭ আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিরোধী জোট, সমীকরণে আরব দল নির্বাচনের ফলাফলে বিরোধী জোট পেয়েছে ৬৭টি আসন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন জোটের আসনসংখ্যা ৫৩। ফলে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিচারে সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে বিরোধীদের সামনে। তবে বিরোধী জোটের ৬৭টি আসনের মধ্যে ৪৮টি এসেছে জায়নবাদী দলগুলো থেকে এবং ১৯টি এসেছে আরব-অজায়নবাদী দলগুলো থেকে। এই আসনবণ্টনই সরকার গঠনের আলোচনায় আরব দলগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও সরকার গঠনের পথ পুরোপুরি মসৃণ নয়। এর আগে বিরোধী জোটের ইহুদি নেতাদের একাংশ আরব দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সহযোগিতা না করার অবস্থান জানিয়েছিলেন। ফলে নির্বাচনী ফলাফলকে সরকার গঠনের বাস্তব সমীকরণে রূপ দিতে বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ‘আরবদের ভোটের মূল্য ইহুদিদের ভোটের সমান’ বিক্ষোভের আয়োজকেরা বলছেন, নির্বাচনে পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেওয়া ইহুদি ও আরব নাগরিকদের সম্মিলিত সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রতিফলন পরবর্তী সরকারেও থাকতে হবে। তাঁদের বক্তব্য, বিরোধী জোটের নেতাদের উচিত নিজেদের নির্বাচনী বিজয়কে স্বীকৃতি দিয়ে ইহুদি-আরব অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া। এক বিবৃতিতে আয়োজকেরা বলেন, “এখন আমাদের অংশীদারত্ব পরিত্যাগ করার সময় নয়, বরং একে এমন রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়ার সময়, যা বাস্তবতা বদলে দেবে।” তাঁরা আরও বলেন, “আরবদের ভোটের মূল্য ইহুদিদের ভোটের সমান। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আরব নাগরিকরাও পূর্ণ অংশীদার হওয়ার যোগ্য।” সরকার গঠনে আরব দলগুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ? নির্বাচনের পর ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে আরব দলগুলোর ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিরোধী জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে আরব-অজায়নবাদী দলগুলোর ১৯টি আসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে নির্বাচনী সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেই যে সরকার গঠন নিশ্চিত হবে, এমন নয়। বিশেষ করে আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা নিয়ে বিরোধী জোটের নেতাদের পূর্ববর্তী অবস্থান এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্য নতুন সরকার গঠনের সম্ভাবনাকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে ‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’-এর বিক্ষোভ কর্মসূচি কেবল সরকার গঠনের দাবি নয়, বরং ইসরাইলের রাজনৈতিক কাঠামোয় আরব নাগরিকদের সমান অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নটিকেও সামনে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনী সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিরোধী জোট ইহুদি-আরব অংশীদারত্বের সরকার গঠনে সম্মত হয়, নাকি রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে নতুন সরকার গঠনের সমীকরণ আরও জটিল হয়ে ওঠে।

নিজস্ব প্রতিবেদক নভেম্বর ১, ২০২৬ 0

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা

ট্রাম্পের ক্ষমতার পরীক্ষা ৩ নভেম্বর, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

ভারতের সঞ্চালন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু নেপালের

জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে উত্তাল ফ্রান্স, গ্রেপ্তার ১,৩০০

উচ্চ কর, ব্যয়বৃদ্ধি ও সরকারি নীতির বিরুদ্ধে রাজপথে লাখো মানুষ; কয়েকটি শহরে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর- ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, উচ্চ কর এবং সরকারি নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। দিনের শেষ দিকে কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে দেশজুড়ে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিবিসির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়ে সরকার ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর হিসাবেও বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, শনিবারের বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ। অন্যদিকে, শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। তবে এই বিক্ষোভ কেবল জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ নেই। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে অর্থনৈতিক চাপ, উচ্চ কর, সরকারের প্রতি অনাস্থা এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়গুলো। অন্যদিকে, সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় জননিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক চাপ থেকে রাজপথে ক্ষোভ বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানির ব্যয় বৃদ্ধি এবং উচ্চ করের চাপ সাধারণ মানুষের জীবনকে ক্রমেই কঠিন করে তুলছে। তাঁদের মতে, সরকারের নীতিনির্ধারণে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। দীর্ঘদিনের অসন্তোষ থেকেই মানুষ রাজপথে নেমেছেন। প্যারিসে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জেলি নামের এক নারী বিবিসিকে বলেন, দীর্ঘদিনের হতাশা থেকেই মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। তাঁর অভিযোগ, সরকার মানুষের কথা শুনছে না। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া দুই মুখোশধারী কিশোরও নিজেদের প্রজন্মকে অবহেলিত মনে করার কথা জানায়। তাদের একজন বলেন, লুটপাট সমর্থনযোগ্য নয়। তবে দারিদ্র্য এবং পুলিশের সহিংসতাও মানুষের ক্ষোভের পেছনে ভূমিকা রাখছে। এসব বক্তব্যে অর্থনৈতিক অসন্তোষের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আস্থার সংকটের বিষয়টিও সামনে এসেছে। যদিও বিক্ষোভকারীদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা পুরো দেশের জনমতকে এককভাবে তুলে ধরে না, তবু আন্দোলনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উদ্বেগের উপস্থিতি স্পষ্ট। প্যারিস থেকে মার্সেই—সংঘর্ষ ছড়াল বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের বড় অংশ শান্তিপূর্ণ থাকলেও প্যারিস, মার্সেই, বোর্দো ও লিওঁসহ কয়েকটি শহরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ। মার্সেইয়ে ব্যারিকেডে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। বোর্দোতে সড়ক অবরোধের চেষ্টা চালানো হয়। লিওঁতে নিষিদ্ধ এলাকায় জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের সরাতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, প্যারিসে মিছিলের পেছনের অংশে কয়েক হাজার উগ্রপন্থী জড়ো হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জনকে দাঙ্গাকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাজধানী প্যারিসে ১৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এই সংখ্যা আগের সপ্তাহের একই দিনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন এবং গ্রেপ্তারের ঘটনা থেকে বোঝা যায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছিল। তারপরও কয়েকটি শহরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় বিক্ষোভ মোকাবিলার কৌশল এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আহত পুলিশ, গুরুতর জখম বিক্ষোভকারী সংঘর্ষে ৫৩ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, বিক্ষোভ চলাকালে কয়েকজনের গুরুতর আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, তুলুজ ও ক্লেরমঁ-ফেরঁ শহরে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ফ্রান্সইনফোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুলুজে ২০ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারীর কাছে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তাঁর এক হাতের কয়েকটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ধরনের ঘটনা বিক্ষোভের মধ্যে সহিংসতার ঝুঁকি এবং অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ ও দায় কার—এ বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। আগের সপ্তাহের বিক্ষোভে আরও বেশি গ্রেপ্তার ফ্রান্সে চলমান আন্দোলনের তীব্রতা বুঝতে আগের সপ্তাহের ঘটনাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহের বিক্ষোভে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। ওই বিক্ষোভের পর সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনায় ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুই হাজারের বেশি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফ্রান্সের চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ মিলিয়ন ইউরো। এই ক্ষয়ক্ষতি আন্দোলনের অর্থনৈতিক প্রভাবকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, অন্যদিকে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার কারণে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি—দুই ধরনের চাপই পরিস্থিতিকে কঠিন করে তুলছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাবের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। রাজনৈতিক চাপের মুখে মাখোঁ সরকার বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনেও। প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ও তাঁর সরকারের সমালোচনা করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। উগ্র ডানপন্থী ন্যাশনাল র‍্যালি এবং বামপন্থী লা ফ্রঁস ইনসুমিজের নেতারা চলমান পরিস্থিতির জন্য সরকারকে দায়ী করেছেন। তবে বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত সহিংসতা ও লুটপাটের সমালোচনাও করেছেন ডানপন্থী নেতারা। বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরকারের সমালোচনা হওয়ায় আন্দোলনটি এখন কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। অর্থনৈতিক নীতি, জনঅসন্তোষ মোকাবিলা এবং সরকারের প্রতি জনগণের আস্থার বিষয়গুলোও আলোচনায় এসেছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য ও বিক্ষোভকারীদের দাবির মধ্যে কতটা মিল রয়েছে, কিংবা আন্দোলনটি সরকারের নীতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আনতে পারবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ফ্রান্সের বাইরেও বিক্ষোভের প্রভাব ফ্রান্সের পাশাপাশি ইউরোপের আরও কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। স্পেনের বার্সেলোনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর ১২০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানা এবং বেলজিয়ামের ব্রাসেলসেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। ইতালির মিলানে বিক্ষোভ ঠেকাতে বড় ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে বিভিন্ন দেশের এসব বিক্ষোভের কারণ, দাবি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এক নয়। ফলে সব ঘটনাকে একই আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিবেচনা করার আগে প্রতিটি দেশের পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। সামনে কী অপেক্ষা করছে? জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরকারি নীতির বিরুদ্ধে ফ্রান্সে জনঅসন্তোষ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। একদিকে সরকারকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হচ্ছে, অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের অর্থনৈতিক উদ্বেগ ও নীতিগত অভিযোগেরও মোকাবিলা করতে হচ্ছে। শুধু গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তাব্যবস্থা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে কি না, তা নির্ভর করবে অসন্তোষের মূল কারণগুলো কীভাবে মোকাবিলা করা হয় তার ওপর। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—সরকার কি জীবনযাত্রার ব্যয় ও জনঅসন্তোষ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবে, নাকি অর্থনৈতিক চাপ ও রাজনৈতিক অনাস্থা ফ্রান্সে আরও বড় সংকটের জন্ম দেবে? এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত, বিক্ষোভকারীদের প্রতিক্রিয়া এবং দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের সংকট মোকাবিলার সক্ষমতার ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২৫, ২০২৬ 0

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে বড় হামলার ছক? ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

রিয়াদে হুতি গোষ্ঠীর হামলার ধাক্কা: ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে ব্যক্তিগত বিমানের ভাড়া, বাতিল সাড়ে ৫ হাজার ফ্লাইট

সৌদি আরবে ১০ মাসে ১৯০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, ৮০ জন বিদেশি: দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড,৩০৬ বন্দি

তরুণদের ক্ষোভকে পুঁজি করে মোদির বিকল্প হতে চান রাহুল

তরুণদের ক্ষোভ, শিক্ষাব্যবস্থার সংকট ও ভোটার তালিকা বিতর্ক—মোদিবিরোধী রাজনীতিতে নতুন করে সক্রিয় রাহুল গান্ধী- ইত্তেহাদ নিউজ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজনীতিতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। একের পর এক নির্বাচনি পরাজয়, নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন এবং সাংগঠনিক দুর্বলতার মধ্যেও বিরোধী রাজনীতির প্রধান মুখ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি। এবার তরুণদের অসন্তোষ, শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়ম এবং ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ার বিতর্ককে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক কৌশলে এগোচ্ছেন রাহুল। তার লক্ষ্য শুধু সরকারের সমালোচনা নয়; বরং তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভকে রাজনৈতিক সমর্থনে রূপান্তর করা, বিরোধী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে কংগ্রেসকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তরুণদের অসন্তোষ ও সরকারের বিরুদ্ধে জনমতকে কাজে লাগিয়ে তিনি কি সত্যিই মোদির কার্যকর রাজনৈতিক বিকল্প হয়ে উঠতে পারবেন? নাকি প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে সাংগঠনিক দুর্বলতা, নির্বাচনি চ্যালেঞ্জ এবং বিরোধী জোটের মতপার্থক্য তার পথ আটকে দেবে? ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর প্রপৌত্র, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নাতি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ছেলে রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই জড়িয়ে আছে নেহরু-গান্ধী পরিবারের উত্তরাধিকারের প্রশ্ন। কিন্তু সেই ঐতিহ্যকে নির্বাচনি সাফল্য ও স্বতন্ত্র নেতৃত্বে রূপান্তর করা তার জন্য সহজ হয়নি। এখন সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে তরুণদের সমস্যা, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিকে সামনে আনছেন তিনি। নির্বাচনি পরাজয় থেকে নতুন রাজনৈতিক অবস্থান এক দশকের বেশি সময় ধরে বিজেপির কাছে একাধিক নির্বাচনে পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে কংগ্রেস। এসব পরাজয় রাহুলের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে। রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি হয়েও সাধারণ ভোটারের আস্থা অর্জন এবং দলকে নির্বাচনি সাফল্যের পথে ফিরিয়ে নেওয়া তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে এই পরিস্থিতি বদলানোর লক্ষ্য নিয়ে দেশব্যাপী পদযাত্রা শুরু করেন রাহুল। ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ নামে পরিচিত কর্মসূচিতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মাইল পথ অতিক্রম করেন তিনি। ১৩৬ দিন ধরে চলা এই পদযাত্রার উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো এবং রাজনীতির বাইরে থাকা মানুষের কাছেও নিজেকে সহজে পৌঁছানো যায়—এমন একজন নেতা হিসেবে তুলে ধরা। কর্মসূচিটি তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জনসংযোগ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং সংবিধান রক্ষার বক্তব্যের মাধ্যমে কংগ্রেসের রাজনীতিকে নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন তিনি। এরপর ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেসের আসনসংখ্যা বাড়ে। অন্যদিকে, বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে জোটের সমর্থনে সরকার গঠন করতে হয় দলটিকে। নির্বাচনের পর বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পান রাহুল। এই ফলাফল তার রাজনৈতিক অবস্থানকে নতুন মাত্রা দেয়। তবে কংগ্রেসের আসন বৃদ্ধি এবং বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোকে রাহুলের স্থায়ী জনপ্রিয়তার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। ভবিষ্যৎ নির্বাচনে এই সমর্থন ধরে রাখা এবং তা আরও বিস্তৃত করাই হবে তার জন্য বড় পরীক্ষা। ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক: গণতান্ত্রিক অধিকার, নাকি রাজনৈতিক মেরুকরণ? রাহুলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতার অন্যতম প্রধান বিষয় ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা। মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় কারসাজির অভিযোগ তোলেন তিনি। বিহারের নির্বাচন নিয়েও একই ধরনের প্রশ্ন সামনে আনেন। তার দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়ার ঘটনা রাজনৈতিকভাবে প্রভাব ফেলেছে এবং এর মাধ্যমে ক্ষমতাসীনরা সুবিধা পেয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিপরীতে ভারতের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না। ফলে বিষয়টি এখন শুধু রাজনৈতিক অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি, সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভোটারদের প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় মুসলিমসহ বিজেপিবিরোধী হিসেবে বিবেচিত বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ভোটাররা তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে এমন অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার তথ্য, বাদ পড়া ভোটারদের পরিচয় ও পরিস্থিতি এবং নির্বাচন কমিশনের নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। রাহুলের রাজনৈতিক কৌশলে এই বিতর্কের গুরুত্ব রয়েছে। কারণ ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে তিনি নির্বাচনি ফলাফলের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকেও আলোচনার কেন্দ্রে আনতে চাইছেন। তবে অভিযোগ তোলা আর অনিয়মের প্রমাণ হাজির করা এক বিষয় নয়। অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য নথি ও যাচাইযোগ্য তথ্য উপস্থাপন করতে পারলে রাহুলের বক্তব্য রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে আরও শক্তিশালী ভিত্তি পেতে পারে। তরুণদের ক্ষোভ: রাহুলের জন্য রাজনৈতিক সুযোগ ভারতের তরুণদের মধ্যে শিক্ষাব্যবস্থা, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ রাহুলের রাজনৈতিক বক্তব্যে নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা বাতিল এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মতো ঘটনা নিয়ে সরকারের সমালোচনা করছেন তিনি। এসব বিষয়কে তরুণদের ন্যায্য সুযোগ, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং রাষ্ট্রের দায়িত্বের প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরছেন কংগ্রেস নেতা। লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক নীরজা চৌধুরীর মতে, সরকারের প্রতি মানুষের অসন্তোষ এবং রাজনীতিতে নতুন উদ্দীপনার অভাব রাহুলের বক্তব্যকে গ্রহণযোগ্যতা দিচ্ছে। তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে রাহুলের আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে। তবে তরুণদের অসন্তোষকে সরাসরি কংগ্রেসের পক্ষে ভোটে রূপান্তরিত হবে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ক্ষুব্ধ একজন শিক্ষার্থী সরকারের সমালোচনা করলেও তিনি কোন দলকে ভোট দেবেন, তা নির্ভর করতে পারে কর্মসংস্থান, স্থানীয় নেতৃত্ব, সামাজিক পরিচয়, অর্থনৈতিক প্রত্যাশা এবং বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির ওপর। অর্থাৎ, ক্ষোভ তৈরি হওয়া রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি সম্ভাবনা তৈরি করে; কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে নির্বাচনি সাফল্যে রূপ দিতে প্রয়োজন সংগঠন, বিশ্বাসযোগ্য কর্মসূচি এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক যোগাযোগ। এই জায়গাটিই রাহুলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ‘তরুণদের কণ্ঠস্বর’: মঞ্চে শিক্ষার্থী, সামনে শিক্ষাব্যবস্থার সংকট তরুণদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে চেন্নাইয়ের এক জনসভায় তাদের মঞ্চে উঠে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগ দেন রাহুল। ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ বা ‘তরুণদের কণ্ঠস্বর’ নামের প্রচারণার অংশ হিসেবে এই আয়োজন করা হয়। শিক্ষাব্যবস্থার সংকট, বৈষম্য ও রাজনৈতিক জবাবদিহির দাবিকে সামনে আনতে গত জুনে কর্মসূচিটি শুরু করেন তিনি। সভায় এক তরুণী তার বোনের আত্মহত্যার ঘটনা তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মেডিকেল কলেজে ভর্তির কঠিন পরীক্ষার চাপের মধ্যে তার বোন আত্মহত্যা করেছিলেন। আরেক বক্তা মুসলিম ও নারী হিসেবে বৈষম্যের অভিজ্ঞতার কথা জানান। এসব ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা রাজনৈতিক বক্তব্যে নতুন মাত্রা যোগ করে। কারণ শিক্ষাব্যবস্থার অনিয়ম বা বৈষম্যকে শুধু পরিসংখ্যানের বিষয় হিসেবে না দেখে, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতাও সামনে আসে। তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বৃহত্তর সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিলেও তা দিয়ে এককভাবে সমস্যার ব্যাপকতা বা কোনো নির্দিষ্ট নীতির দায় নির্ধারণ করা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য, পরীক্ষাব্যবস্থার নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য। রাহুলের রাজনৈতিক উদ্যোগের তাৎপর্য এখানেই—তিনি তরুণদের নিজেদের কথা বলার সুযোগ দিয়ে তাদের অভিজ্ঞতাকে রাজনৈতিক আলোচনার অংশ করতে চাইছেন। তার ‘পিতৃতন্ত্র ধ্বংস করো’ স্লোগানও সভায় উপস্থিত তরুণদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ১৮ বছর বয়সী রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ঋতিকা র‍্যাচেল প্রবীণের মতে, ভারতের মতো দেশে কোনো রাজনৈতিক নেতার মুখে পিতৃতন্ত্র ভাঙার কথা শোনা নতুন ও উৎসাহব্যঞ্জক অভিজ্ঞতা। এ ধরনের বক্তব্য তরুণ নারী ও বৈষম্যের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া জনগোষ্ঠীর কাছে রাহুলের রাজনৈতিক অবস্থানকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। কিন্তু বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে দলীয় রাজনীতি ও নীতিনির্ধারণে এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন কতটা ঘটে, তার ওপর। রাহুলের নেতৃত্বের সীমাবদ্ধতা কতটা কাটল? রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সমর্থকেরা তাকে সংবিধান, সামাজিক ন্যায়বিচার ও ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া নেতা হিসেবে তুলে ধরেন। সমালোচকেরা প্রশ্ন তোলেন তার নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা, নির্বাচনি কৌশল এবং রাজনৈতিক বক্তব্যকে সাংগঠনিক শক্তিতে রূপান্তরের সক্ষমতা নিয়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক যোগেন্দ্র যাদব, যিনি ২০০৭ সাল থেকে রাহুলকে চেনেন এবং তার সঙ্গে বিভিন্ন প্রচারণায় কাজ করেছেন, তাকে বই ও নতুন ধারণার প্রতি আগ্রহী ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে যাদবের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাহুল কিছুটা লাজুক এবং সহজাত বক্তা নন। জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাকে অনেক ক্ষেত্রে অস্বস্তিতে পড়তে দেখা যায়। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে রাহুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় হয়েছেন। সংক্ষিপ্ত ভিডিওতে হাস্যরসের সঙ্গে রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরছেন তিনি। সাধারণ পোশাক, শরীরচর্চা এবং ব্যক্তিগত জীবনসংক্রান্ত পোস্টের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে নিজের আরেকটি দিক সামনে আনছেন। আগস্টে ইনস্টাগ্রামের ‘আস্ক মি এনিথিং’ পর্বে নিজের শরীরচর্চার রুটিন নিয়ে কথা বলেন রাহুল। মার্শাল আর্ট, সাঁতার, দৌড়, শক্তিবর্ধক ব্যায়াম ও যোগব্যায়ামের পাশাপাশি উচ্চ প্রোটিন ও কম শর্করাযুক্ত খাবার গ্রহণের কথা জানান তিনি। এই ধরনের যোগাযোগের লক্ষ্য হতে পারে তরুণদের কাছে আরও পরিচিত ও সহজে পৌঁছানো যায়—এমন একজন নেতা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরা। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা এবং নির্বাচনে ভোট পাওয়ার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। অনলাইনে সাড়া কতটা বাস্তব রাজনৈতিক সমর্থনে রূপ নিচ্ছে, তা যাচাইয়ের জন্য আরও বিস্তৃত তথ্য প্রয়োজন। রাজপথের প্রতিবাদ: রাজনৈতিক বার্তা, নাকি প্রতীকী উপস্থিতি? সরকারবিরোধী প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও সাম্প্রতিক সময়ে রাহুলের উপস্থিতি আলোচনায় এসেছে। জুলাইয়ে বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রাকে সঙ্গে নিয়ে মোদির সরকারি বাসভবনের বাইরে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। ওই সময় পুলিশ তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে—এমন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। চলতি মাসেও পুলিশের বাধার মুখে তার প্রতিবাদ এবং ব্যারিকেডের ওপর উঠে যাওয়ার দৃশ্য আলোচনায় আসে। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও দক্ষিণ এশীয় রাজনীতি বিশ্লেষক আশুতোষ ভার্শনির মতে, এ ধরনের দৃশ্য রাহুলকে মোদি ও বিজেপির বিরুদ্ধে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরতে সহায়তা করেছে। প্রতিবাদের এসব দৃশ্য রাজনৈতিক যোগাযোগের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ এগুলোর মাধ্যমে রাহুল নিজেকে শুধু সংসদীয় বিতর্কে অংশ নেওয়া বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নয়, রাজপথে সক্রিয় প্রতিবাদী হিসেবেও উপস্থাপন করছেন। তবে প্রতিবাদে উপস্থিতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে পড়া কিংবা জনসভায় সমর্থকদের উচ্ছ্বাস—কোনোটিই এককভাবে নির্বাচনি সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না। এসব কর্মকাণ্ড ভোটারের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হচ্ছে এবং তা কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াচ্ছে কি না, সেটিই হবে মূল বিবেচ্য বিষয়। ভার্শনির মূল্যায়নেও এই অনিশ্চয়তা রয়েছে। এসব তৎপরতা রাহুলের রাজনৈতিক অবস্থানকে দৃশ্যমান করলেও মোদিকে ক্ষমতা থেকে সরাতে তা যথেষ্ট হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি বনাম হিন্দু জাতীয়তাবাদ তরুণদের সমর্থন অর্জনের পাশাপাশি বিজেপির হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিপরীতে নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরছেন রাহুল। বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ভারতের সংবিধানের একটি কপি হাতে নিয়ে অংশ নেওয়াও তার রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতীক হয়ে উঠেছে। কংগ্রেসের স্বাধীনতাসংগ্রামের ঐতিহ্য তুলে ধরে তিনি সংবিধানের গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ রক্ষার কথা বলছেন। এখানে রাহুলের কৌশল দুটি ধারায় এগোচ্ছে। একদিকে শিক্ষার্থী, নারী ও বৈষম্যের শিকার জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতাকে সামনে আনা হচ্ছে; অন্যদিকে এসব ইস্যুকে সংবিধান, নাগরিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহির বৃহত্তর প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। এই কৌশলের মাধ্যমে তিনি বিজেপিবিরোধী বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে একটি অভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানে আনার চেষ্টা করছেন। তবে ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে সমর্থন পাওয়া এবং সেই সমর্থনকে নির্বাচনি জোটের মধ্যে কার্যকরভাবে ধরে রাখা এক বিষয় নয়। বিরোধী দলগুলোর মধ্যে নেতৃত্ব, আসন ভাগাভাগি এবং আঞ্চলিক স্বার্থ নিয়ে মতপার্থক্য থাকলে জাতীয় পর্যায়ে ঐক্য ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। ফলে রাহুলের রাজনৈতিক সাফল্য শুধু তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার ওপর নয়, বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রক্ষার সক্ষমতার ওপরও নির্ভর করবে। ‘মোদি বনাম রাহুল’: রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন সমীকরণ? নীরজা চৌধুরীর মতে, রাহুল এখন শুধু বিরোধী দলের নেতা নন; মোদির রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই ‘মোদি বনাম রাহুল’ রূপ নিচ্ছে। বিরোধী জোটের শরিক একটি দলের নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্যও মনে করেন, বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে জাতীয় পর্যায়ে কংগ্রেসের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, বিজেপি রাজনৈতিক পরিসরে এমনভাবে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছে যে পুরো ব্যবস্থার ওপরই দলটির প্রভাব তৈরি হয়েছে। রাহুলের বক্তব্যেও এই রাজনৈতিক সংঘাতের ধারণা স্পষ্ট। ভারতের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জাতীয় পরিচয় হুমকির মুখে বলে দাবি করেছেন তিনি। গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল বলেন, জনমত, মনস্তাত্ত্বিক লড়াই, আইনি প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সংঘাত চলছে। তার দাবি, কংগ্রেস এসব ক্ষেত্রেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং অগ্রগতি অর্জন করছে। তবে ‘মোদি বনাম রাহুল’ রাজনৈতিক বয়ানটি কতটা বিস্তৃত জনসমর্থনের প্রতিফলন, তা নির্ধারণ করতে ভোটের ফলাফল, জনমত জরিপ এবং বিভিন্ন রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা প্রয়োজন। ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে জাতীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি আঞ্চলিক দল, স্থানীয় ইস্যু এবং রাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক সমীকরণও নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুতরাং, রাহুলের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হওয়া মানেই বিজেপির আধিপত্যের অবসান—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বিজেপির পাল্টা বক্তব্য ও রাহুলের সামনে চ্যালেঞ্জ রাহুলের বক্তব্য ও রাজনৈতিক তৎপরতার জবাবে বিজেপি নেতারা সমালোচনা অব্যাহত রেখেছেন। তাদের মতে, তরুণদের একটি অংশের সমর্থন পেলেও রাহুলের অতিরঞ্জিত বক্তব্য অন্য ভোটারদের দূরে সরিয়ে দিতে পারে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, দলটি বড় ধরনের পরাজয়ের দিকে এগোচ্ছে এবং নেতিবাচক রাজনীতি কংগ্রেসের কোনো কাজে আসবে না। এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে মূল প্রশ্নটি হলো, রাহুলের বর্তমান রাজনৈতিক সক্রিয়তা কংগ্রেসের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনে কতটা ভূমিকা রাখছে। প্রথমত, তরুণদের মধ্যে শিক্ষাব্যবস্থা ও পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার মতো বিষয়েও তাদের প্রত্যাশা রয়েছে। এসব প্রশ্নে বিশ্বাসযোগ্য নীতিগত অবস্থান তুলে ধরতে না পারলে প্রতিবাদী রাজনীতির প্রভাব সীমিত হতে পারে। দ্বিতীয়ত, কংগ্রেসের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও রাজ্যভিত্তিক নেতৃত্বের শক্তি বাড়ানো জরুরি। জাতীয় পর্যায়ে রাহুলের বক্তব্য আলোচনায় এলেও ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, স্থানীয় নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এবং নির্বাচনি ব্যবস্থাপনা ছাড়া সেই জনপ্রিয়তা ধরে রাখা কঠিন। তৃতীয়ত, বিরোধী জোটের ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপির বিরুদ্ধে অভিন্ন অবস্থান থাকলেও বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক স্বার্থ ও নির্বাচনি কৌশল এক নয়। এই পার্থক্য সামাল দিতে না পারলে বিরোধী ভোটের কার্যকর সমন্বয় বাধাগ্রস্ত হতে পারে। চতুর্থত, ভোটার তালিকা নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও নথি উপস্থাপন করাও গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ; কিন্তু অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জরুরি। ২০২৯ সালের নির্বাচন: সুযোগ আছে, নিশ্চয়তা নেই ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাহুল গান্ধীর বর্তমান রাজনৈতিক তৎপরতা কংগ্রেসের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। তরুণদের অসন্তোষ, শিক্ষাব্যবস্থার সংকট, বৈষম্য এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক—এসব বিষয় বিরোধী রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। কিন্তু রাজনৈতিক সুযোগ আর নির্বাচনি বিজয় এক নয়। রাহুলের সামনে এখন তিনটি বড় কাজ: তরুণদের ক্ষোভকে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমর্থনে রূপান্তর করা, কংগ্রেসের সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যে কার্যকর ঐক্য বজায় রাখা। একই সঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে তথ্যনির্ভর অবস্থান এবং বিকল্প নীতির স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরতে হবে। শুধু মোদিবিরোধী অবস্থান নয়, ক্ষমতায় গেলে কীভাবে শিক্ষাব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, নাগরিক অধিকার ও প্রশাসনিক জবাবদিহির উন্নতি ঘটানো হবে—সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিতে হবে কংগ্রেসকে। রাহুলের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তাকে পরিচিতি দিয়েছে; কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হলে সেই পরিচিতিকে জনআস্থা ও নির্বাচনি সাফল্যে রূপান্তর করতে হবে। ভারতের রাজনীতিতে তিনি মোদির কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠবেন কি না, তার উত্তর এখনো অনিশ্চিত। আপাতত তরুণদের কণ্ঠস্বরকে সামনে আনা, সংবিধান ও ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে অবস্থান নেওয়া এবং রাজপথের প্রতিবাদকে রাজনৈতিক বার্তায় রূপ দেওয়ার মধ্য দিয়ে সেই বিকল্প হয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন রাহুল গান্ধী। শেষ পর্যন্ত তার সাফল্য নির্ধারিত হবে শুধু তিনি কত জোরে সরকারের সমালোচনা করছেন, তা দিয়ে নয়; বরং কতটা বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প হাজির করতে পারছেন এবং সেই বিকল্পের পক্ষে কত বিস্তৃত জনসমর্থন সংগঠিত করতে পারছেন, তার ওপর।  

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২০, ২০২৬ 0

মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: দূতাবাসের অজানা থাকার দাবি, দায় এড়ানোর সুযোগ কতটা?

টিকাদানে ঘাটতি ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ।

হামের বিরুদ্ধে লড়ছে বাংলাদেশ, বিশ্বের জন্য সতর্কবার্তা

মার্কিন নৌ-অবরোধের মধ্যে ওমান উপসাগরে ইরানের জ্বালানিবাহী ট্যাংকার চলাচল

মার্কিন অবরোধের ফাঁক গলে জ্বালানি রপ্তানি ইরানের, নতুন করে হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0