Brand logo light
বাংলাদেশ

রাজাপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ঘিরে অভিযোগ, তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২১, ২০২৬ 0

অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগ, সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ; অভিযোগ অস্বীকার প্রধান শিক্ষকের, প্রতিবেদন জমার সময়সীমা ২৮ অক্টোবর-

মামুনুর রশীদ নোমানী, বরিশাল:

ঝালকাঠির রাজাপুর সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল্লাহ খানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ, শ্রেণিকক্ষে অশোভন মন্তব্য এবং ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়ে বড়াই করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগ, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিন তদন্তের জন্য দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের বরিশাল আঞ্চলিক উপ-পরিচালকের কার্যালয়।তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক শহিদুল্লাহ খান। 

এখন মূল প্রশ্ন—অভিযোগগুলোর বাস্তবতা কী, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কী ঘটেছিল এবং বিদ্যালয়ের ভেতরে তৈরি হওয়া অসন্তোষের পেছনে কী কারণ রয়েছে? এসব বিষয় সরেজমিনে যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার দায়িত্ব পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

তদন্ত কমিটিতে দুই প্রধান শিক্ষক

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বরিশাল অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন স্বাক্ষরিত ১৫৮৫ নম্বর স্মারকের আদেশে তদন্ত কমিটি গঠনের তথ্য জানা গেছে।

আদেশে বলা হয়েছে, ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার রাজাপুর সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, কয়েকজন শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে বিভিন্ন অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও অসন্তোষ নিয়ে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা সরেজমিনে যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির সদস্যরা হলেন—পিরোজপুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবর তালুকদার এবং ভান্ডারিয়া বন্দর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু নাসের।আদেশে কমিটিকে সরেজমিন তদন্ত শেষে ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবরের মধ্যে উপপরিচালকের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল্লাহ খান বলেন, “তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে কি না, তা আমি জানি না। আমি এখনো তদন্ত কমিটি গঠনের কোনো কাগজপত্র পাইনি।”

অন্যদিকে, তদন্ত কমিটি গঠনের আদেশের অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পরিচালক (মাধ্যমিক), ঝালকাঠির জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, রাজাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং রাজাপুর সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

শ্রেণিকক্ষে অশোভন মন্তব্যের অভিযোগ

স্থানীয় সূত্র ও অভিভাবকদের অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল্লাহ খানের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং অশোভন ও অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে কয়েকজন অভিভাবক রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর সোমবার বেলা ১১টার দিকে দশম শ্রেণির একটি ক্লাসে ছাত্রীদের উদ্দেশে অশোভন, অপ্রাসঙ্গিক ও সম্মানহানিকর কথাবার্তা বলার অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিজের পারিবারিক সম্পদ নিয়ে গর্ব করে কথা বলার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অভিভাবকদের দাবি, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবর্তে তিনি ব্যক্তিগত সম্পদের বিবরণ এবং শিক্ষার্থীদের চারিত্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁদের ভাষ্য, এ ধরনের আচরণ একটি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে এবং একই ধরনের আচরণ নিয়মিত ক্লাসেও করা হয়। তবে তদন্ত কমিটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

অভিযোগপত্রে দশম শ্রেণির অন্তত ১০ জন ছাত্রীর অভিভাবকের স্বাক্ষর রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তাঁরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দায় নির্ধারণ এবং প্রধান শিক্ষককে দ্রুত অন্যত্র বদলির দাবি জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের বক্তব্যেও অস্বস্তির অভিযোগ

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছে, শ্রেণিকক্ষে এসে প্রধান শিক্ষক নিজের মোটরসাইকেল, মুঠোফোন, গাড়ি ও বরিশালে ফ্ল্যাট থাকার কথা বলেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেল, আইফোন, স্যামসাং ফোন ও গাড়ি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গেও অশোভন কথাবার্তা বলা হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পাঠদানের সময় এ ধরনের আলোচনা তাঁদের অস্বস্তিতে ফেলে। 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে আচরণবিধি, পারস্পরিক সম্মান ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কোনো অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা এবং অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

অভিযোগের অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বরিশাল অঞ্চলের উপপরিচালক এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছেও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য: পরিবর্তনের কারণে অসন্তোষ

তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল্লাহ খান বলেন, বিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি নবম ও দশম শ্রেণিতে নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন। তাঁর দাবি, আগে গাইড বই অনুসরণ করে প্রশ্নপত্র তৈরি করা হতো, এখন বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র তৈরি করা হচ্ছে। আগে নিয়মিত ক্লাস হতো না বলেও দাবি করেন তিনি।

 

ইউএনওর কাছে অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস

রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, “অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

অভিভাবকদের অভিযোগ এবং প্রধান শিক্ষকের পাল্টা বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এখন তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া ও নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আগের কর্মস্থল নিয়েও অভিযোগের দাবি

স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, বরিশাল জিলা স্কুল, সদর গার্লস স্কুল ও আরজুমনি বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সময়ও শহিদুল্লাহ খানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। 

তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, একাধিক বিয়ে, পোশাক-পরিচ্ছদ, শরীরচর্চা, মুঠোফোন কিংবা ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা রয়েছে বলেও সূত্রগুলো দাবি করেছে।বর্তমান অনুসন্ধানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—শ্রেণিকক্ষে কী বলা হয়েছিল, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো অনুপযুক্ত আচরণ ঘটেছিল কি না।

মানববন্ধন নিয়েও পাল্টা অভিযোগ

এদিকে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যে একটি মানববন্ধন আয়োজন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগকারী অভিভাবকদের একাংশের দাবি, ঘটনা ধামাচাপা দিতে প্রধান শিক্ষক কয়েকজন শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীর ওপর চাপ সৃষ্টি করে মানববন্ধন করিয়েছেন। রাজাপুর সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন সচেতন অভিভাবক প্রধান শিক্ষককে দ্রুত প্রত্যাহার এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর জরুরি

অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের মধ্যে তদন্ত কমিটির কাজ শুধু অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; অভিযোগের প্রেক্ষাপটও নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে—

  • ১২ অক্টোবর দশম শ্রেণির ক্লাসে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কারা প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন;

  • অভিযোগে উল্লেখ করা সিসিটিভি ফুটেজ কী তথ্য দেয়;

  • একাধিক অভিভাবকের অভিযোগের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পৃথক বক্তব্যের মিল রয়েছে কি না;

  • প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগের কর্মস্থলে ওঠা অভিযোগগুলোর  ফলাফল ;

  • বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান, পরীক্ষা পদ্ধতি ও প্রশাসনিক পরিবর্তন নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে কোনো বিরোধ তৈরি হয়েছে কি না।

এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে অভিযোগের প্রকৃতি ও বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

 

অভিযোগ নয়, প্রমাণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত

একটি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষককে ঘিরে এমন অভিযোগ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তাই অভিযোগকারী অভিভাবকদের বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা, প্রধান শিক্ষকের আত্মপক্ষসমর্থন এবং প্রাসঙ্গিক নথি—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষ প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২৮ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ অনুযায়ী তদন্তের ফলাফল কী আসে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয় এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়—এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

 

Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
রাজাপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ঘিরে অভিযোগ, তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি

অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগ, সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ; অভিযোগ অস্বীকার প্রধান শিক্ষকের, প্রতিবেদন জমার সময়সীমা ২৮ অক্টোবর- মামুনুর রশীদ নোমানী, বরিশাল: ঝালকাঠির রাজাপুর সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল্লাহ খানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ, শ্রেণিকক্ষে অশোভন মন্তব্য এবং ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়ে বড়াই করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগ, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিন তদন্তের জন্য দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের বরিশাল আঞ্চলিক উপ-পরিচালকের কার্যালয়।তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক শহিদুল্লাহ খান।  এখন মূল প্রশ্ন—অভিযোগগুলোর বাস্তবতা কী, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কী ঘটেছিল এবং বিদ্যালয়ের ভেতরে তৈরি হওয়া অসন্তোষের পেছনে কী কারণ রয়েছে? এসব বিষয় সরেজমিনে যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার দায়িত্ব পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটিতে দুই প্রধান শিক্ষক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বরিশাল অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন স্বাক্ষরিত ১৫৮৫ নম্বর স্মারকের আদেশে তদন্ত কমিটি গঠনের তথ্য জানা গেছে। আদেশে বলা হয়েছে, ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার রাজাপুর সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, কয়েকজন শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে বিভিন্ন অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও অসন্তোষ নিয়ে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা সরেজমিনে যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন—পিরোজপুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবর তালুকদার এবং ভান্ডারিয়া বন্দর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু নাসের।আদেশে কমিটিকে সরেজমিন তদন্ত শেষে ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবরের মধ্যে উপপরিচালকের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল্লাহ খান বলেন, “তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে কি না, তা আমি জানি না। আমি এখনো তদন্ত কমিটি গঠনের কোনো কাগজপত্র পাইনি।” অন্যদিকে, তদন্ত কমিটি গঠনের আদেশের অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পরিচালক (মাধ্যমিক), ঝালকাঠির জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, রাজাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং রাজাপুর সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে পাঠানো হয়েছে। শ্রেণিকক্ষে অশোভন মন্তব্যের অভিযোগ স্থানীয় সূত্র ও অভিভাবকদের অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল্লাহ খানের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং অশোভন ও অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে কয়েকজন অভিভাবক রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর সোমবার বেলা ১১টার দিকে দশম শ্রেণির একটি ক্লাসে ছাত্রীদের উদ্দেশে অশোভন, অপ্রাসঙ্গিক ও সম্মানহানিকর কথাবার্তা বলার অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিজের পারিবারিক সম্পদ নিয়ে গর্ব করে কথা বলার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিভাবকদের দাবি, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবর্তে তিনি ব্যক্তিগত সম্পদের বিবরণ এবং শিক্ষার্থীদের চারিত্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁদের ভাষ্য, এ ধরনের আচরণ একটি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে এবং একই ধরনের আচরণ নিয়মিত ক্লাসেও করা হয়। তবে তদন্ত কমিটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। অভিযোগপত্রে দশম শ্রেণির অন্তত ১০ জন ছাত্রীর অভিভাবকের স্বাক্ষর রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তাঁরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দায় নির্ধারণ এবং প্রধান শিক্ষককে দ্রুত অন্যত্র বদলির দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের বক্তব্যেও অস্বস্তির অভিযোগ নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছে, শ্রেণিকক্ষে এসে প্রধান শিক্ষক নিজের মোটরসাইকেল, মুঠোফোন, গাড়ি ও বরিশালে ফ্ল্যাট থাকার কথা বলেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেল, আইফোন, স্যামসাং ফোন ও গাড়ি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গেও অশোভন কথাবার্তা বলা হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পাঠদানের সময় এ ধরনের আলোচনা তাঁদের অস্বস্তিতে ফেলে।  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে আচরণবিধি, পারস্পরিক সম্মান ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কোনো অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা এবং অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। অভিযোগের অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বরিশাল অঞ্চলের উপপরিচালক এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছেও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য: পরিবর্তনের কারণে অসন্তোষ তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল্লাহ খান বলেন, বিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি নবম ও দশম শ্রেণিতে নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন। তাঁর দাবি, আগে গাইড বই অনুসরণ করে প্রশ্নপত্র তৈরি করা হতো, এখন বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র তৈরি করা হচ্ছে। আগে নিয়মিত ক্লাস হতো না বলেও দাবি করেন তিনি।   ইউএনওর কাছে অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, “অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” অভিভাবকদের অভিযোগ এবং প্রধান শিক্ষকের পাল্টা বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এখন তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া ও নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগের কর্মস্থল নিয়েও অভিযোগের দাবি স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, বরিশাল জিলা স্কুল, সদর গার্লস স্কুল ও আরজুমনি বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সময়ও শহিদুল্লাহ খানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল।  তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, একাধিক বিয়ে, পোশাক-পরিচ্ছদ, শরীরচর্চা, মুঠোফোন কিংবা ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা রয়েছে বলেও সূত্রগুলো দাবি করেছে।বর্তমান অনুসন্ধানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—শ্রেণিকক্ষে কী বলা হয়েছিল, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো অনুপযুক্ত আচরণ ঘটেছিল কি না। মানববন্ধন নিয়েও পাল্টা অভিযোগ এদিকে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যে একটি মানববন্ধন আয়োজন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগকারী অভিভাবকদের একাংশের দাবি, ঘটনা ধামাচাপা দিতে প্রধান শিক্ষক কয়েকজন শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীর ওপর চাপ সৃষ্টি করে মানববন্ধন করিয়েছেন। রাজাপুর সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন সচেতন অভিভাবক প্রধান শিক্ষককে দ্রুত প্রত্যাহার এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর জরুরি অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের মধ্যে তদন্ত কমিটির কাজ শুধু অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; অভিযোগের প্রেক্ষাপটও নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে— ১২ অক্টোবর দশম শ্রেণির ক্লাসে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কারা প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন; অভিযোগে উল্লেখ করা সিসিটিভি ফুটেজ কী তথ্য দেয়; একাধিক অভিভাবকের অভিযোগের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পৃথক বক্তব্যের মিল রয়েছে কি না; প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগের কর্মস্থলে ওঠা অভিযোগগুলোর  ফলাফল ; বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান, পরীক্ষা পদ্ধতি ও প্রশাসনিক পরিবর্তন নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে কোনো বিরোধ তৈরি হয়েছে কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে অভিযোগের প্রকৃতি ও বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।   অভিযোগ নয়, প্রমাণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত একটি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষককে ঘিরে এমন অভিযোগ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তাই অভিযোগকারী অভিভাবকদের বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা, প্রধান শিক্ষকের আত্মপক্ষসমর্থন এবং প্রাসঙ্গিক নথি—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষ প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২৮ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ অনুযায়ী তদন্তের ফলাফল কী আসে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয় এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়—এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।  

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২১, ২০২৬ 0

গণপূর্তে লটারি নিয়ে বিতর্ক : বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

বরিশাল পাউবোর প্রকৌশলী খাদিজার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

ফিরতে মরিয়া নথি রক্ষক শাহীন

বরিশাল সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন : আগে আবেদন করেও পিছিয়ে অন্যরা

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ, জমির শ্রেণি পরিবর্তনে রাজস্ব ফাঁকির দাবি

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে দলিল নিবন্ধন, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি এবং ঘুষের বিনিময়ে দলিল সম্পাদনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অসাধু দলিল লেখকদের একটি চক্রের যোগসাজশে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই না করে জমির দলিল নিবন্ধন করা হচ্ছে। এতে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে জমি কেনাবেচা করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে জমির প্রকৃত শ্রেণি গোপন করে নিবন্ধনমূল্য কম দেখানোর মাধ্যমে সরকারি ফি ও রাজস্ব কম দেওয়ার বিষয়টি। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের সাবেক হালে মৌজায় ৫৮ শতাংশ নালাজমিকে পতিত জমি দেখিয়ে একটি দলিল নিবন্ধনের অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দলিলে জমির নিবন্ধনমূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র চার লাখ টাকা। অভিযোগ অনুযায়ী, এভাবে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে নিবন্ধনের ফলে সরকার নির্ধারিত রাজস্বের একটি অংশ ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে সক্রিয় একটি প্রভাবশালী চক্রের কারণে অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি অফিসে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।  নালাজমি দেখানো হয়েছে পতিত, রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হলো জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে নিবন্ধনমূল্য কম দেখানোর অভিযোগ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের সাবেক হালে মৌজায় ৫৮ শতাংশ নালাজমি পতিত জমি হিসেবে দেখিয়ে দলিল নিবন্ধন করা হয়। দলিলে জমিটির নিবন্ধনমূল্য দেখানো হয় মাত্র চার লাখ টাকা। অভিযোগে বলা হয়েছে, জমির প্রকৃত মূল্য ছিল ২৬ কোটি ৪৬ হাজার টাকা। জমির প্রকৃত শ্রেণি ও মূল্য যথাযথভাবে নির্ধারণ করা হলে সরকার নির্ধারিত হারে বেশি রাজস্ব পাওয়ার সুযোগ ছিল বলে অভিযোগকারীদের দাবি। কিন্তু জমিটিকে পতিত দেখিয়ে আট শতাংশ রেজিস্ট্রেশন স্ট্যাম্প ফি ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারের কয়েক হাজার টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে—জমিটির প্রকৃত শ্রেণি কী ছিল, দলিল নিবন্ধনের সময় কোন মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল এবং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী কত টাকা রাজস্ব দেওয়ার কথা ছিল? এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর পেতে সংশ্লিষ্ট দলিল, ভূমির শ্রেণিসংক্রান্ত রেকর্ড, মৌজা মূল্যতালিকা, নিবন্ধন ফি ও স্ট্যাম্প শুল্কের হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ অনুযায়ী, সাব-রেজিস্ট্রারের আশীর্বাদপুষ্ট একটি অসাধু দলিল লেখকচক্র এ কাজে জড়িত। সাব-রেজিস্ট্রারের একান্ত সহকারী হিসেবে পরিচিত তাপস নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।  ঘুষ ছাড়া দলিল নিবন্ধন হয় না—ভুক্তভোগীদের অভিযোগ মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধন করতে গিয়ে ঘুষ দিতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তাঁদের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন জটিলতা তৈরি করা হয়। এতে জমির ক্রেতা-বিক্রেতাদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সাব-রেজিস্ট্রারসংকট এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে কর্মকর্তাদের দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সেবা পেতে সমস্যা হচ্ছে। দলিল লেখক সমিতির সদস্যদের দাবি, বরিশালের প্রতিটি উপজেলায় একজন করে স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার থাকা প্রয়োজন। উপজেলার চরএকরিয়া এলাকার জসিম বলেন, জমি বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। এ জন্য বায়নাও করেছেন। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রারের দপ্তরসংক্রান্ত জটিলতায় জমি বিক্রি করতে পারছেন না বলে তাঁর অভিযোগ। একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন উলানিয়া এলাকার আকবার। তিনি বলেন, নিজের একটি নালাজমি বিক্রি করে মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাড় করতে এবং নিজের চিকিৎসা করাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রারের দপ্তরসংক্রান্ত জটিলতায় জমি বিক্রি করতে পারছেন না। দুজনের বক্তব্যেই উঠে এসেছে একটি সাধারণ সমস্যা—জমি বিক্রি করে জরুরি পারিবারিক প্রয়োজন মেটাতে চাইলেও নিবন্ধনপ্রক্রিয়ার জটিলতায় আটকে যাচ্ছেন তাঁরা।   অতিরিক্ত সাব-রেজিস্ট্রার দিয়ে কার্যক্রম, ভোগান্তিতে সেবাপ্রার্থীরা স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার দিয়ে দলিল নিবন্ধনের কার্যক্রম চলছে। স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকায় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে বারবার দপ্তরে যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। দলিল লেখক সমিতির সদস্যদের মতে, প্রতিটি উপজেলায় নিয়মিত দায়িত্ব পালনের জন্য স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার থাকা প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকলে দলিল নিবন্ধনের কাজের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয় এবং সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি বাড়ে।   স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের আশীর্বাদপুষ্ট একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের দাবি, এই চক্রের প্রভাবের কারণে অফিসে বদলি হয়ে আসা কর্মকর্তারা বেশিদিন দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। চাপের মুখে কিছু কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব, স্থানীয় প্রভাবশালীদের সম্ভাব্য ভূমিকা এবং দলিল লেখকদের সঙ্গে অফিসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ছড়ানোর পর তৎপরতা গত ৫ ফেব্রুয়ারি মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর অফিসের কার্যক্রম এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনিয়মের অভিযোগ আড়াল করতে সাব-রেজিস্ট্রার বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ ও তৎপরতা চালাচ্ছেন। তবে ভিডিওটির সত্যতা, এতে দৃশ্যমান ব্যক্তিদের পরিচয়, ঘটনার সময় এবং লেনদেনের প্রকৃতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে ভিডিওটিকে ঘুষ লেনদেনের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার আগে এর উৎস ও প্রেক্ষাপট যাচাই করা প্রয়োজন। এর আগেও মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এসব প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। তাঁদের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি; বরং সংশ্লিষ্ট চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। জবাবদিহি কোথায়? সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জমির শ্রেণি, দলিলে ঘোষিত মূল্য, প্রযোজ্য স্ট্যাম্প শুল্ক ও নিবন্ধন ফি—প্রতিটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্যের মধ্যে অসংগতি থাকলে তা যাচাই করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। অভিযোগ সত্য হলে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা ও জনস্বার্থের সঙ্গেও সম্পর্কিত। এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তে অন্তত চারটি বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন: ১. ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর নিবন্ধিত ৫৮ শতাংশ জমির দলিল, জমির শ্রেণি এবং ঘোষিত মূল্য। ২. জমিটির প্রকৃত শ্রেণি ও প্রযোজ্য মৌজা মূল্যতালিকা অনুযায়ী সরকার কত টাকা রাজস্ব পাওয়ার কথা ছিল। ৩. দলিল নিবন্ধনের সময় সাব-রেজিস্ট্রার, সংশ্লিষ্ট সহকারী ও দলিল লেখকদের দায়িত্ব এবং ভূমিকা কী ছিল। ৪. গত ৫ ফেব্রুয়ারি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর উৎস, সত্যতা এবং এতে কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের প্রমাণ রয়েছে কি না। এসব বিষয়ে নথিভিত্তিক তদন্ত হলে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের পাশাপাশি সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি, দায়ী ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতাও চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। সাব-রেজিস্ট্রারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগের বিষয়ে জানতে মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা সম্ভব হলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যেতে পারে। মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে ওঠা ঘুষ, জমির শ্রেণি পরিবর্তন এবং রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং জমির ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত নিবন্ধনসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।   

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২০, ২০২৬ 0

বিমানের ক্যাটারিং বিভাগে জহিরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের দীর্ঘ তালিকা

আগৈলঝাড়া থানায় নারী এএসআইকে ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য ও চরিত্রহননের অভিযোগ

গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর দাবি স্থগিত

মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ইশরাকের পদত্যাগের খবর ঘিরে বিতর্ক: দপ্তরের দাবি, নির্দেশ দেওয়ার তথ্য ভিত্তিহীন

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক বিতর্ক; ডিএমপির তদন্ত চলছে, পদত্যাগের খবর অস্বীকার প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের- ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। এ ঘটনার পর তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হলেও তাঁর দপ্তর এ খবরকে অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। প্রতিমন্ত্রী নিজেও পদত্যাগের খবরকে গুজব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ফলে ঘটনাটি এখন শুধু মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র বহর, অভিযানে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় এবং সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পদত্যাগের নির্দেশের খবর, পাল্টা অস্বীকার রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ডেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাতে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে এ খবরের বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পদত্যাগ কিংবা পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর অস্বীকার করা হয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা দাবি করেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত খবর সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী তাঁর সরকারি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে পালন করছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাঁকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি এবং তাঁর পদত্যাগের প্রশ্নও ওঠে না। এ বিষয়ে ইশরাক হোসেনও সংবাদমাধ্যমকে গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের সিদ্ধান্ত দল থেকে নেওয়া হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। তবে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তার পক্ষে সরকার-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্য এবং প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের আনুষ্ঠানিক অস্বীকৃতি—দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা সরকারের অন্য কোনো দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না যাওয়ায় পদত্যাগসংক্রান্ত দাবিটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। কী ঘটেছিল গেন্ডারিয়ায়? শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুন্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যান ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে তিনি আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করছেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ তাঁর পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীদের কয়েকজনকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ধরতে দৌড়াতে দেখা যায়। তাঁদের একজন এক তরুণকে লাথি মারেন। ভিডিওতে কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার, আমি কিছু করিনি। আমি গরিব মানুষ স্যার।’ অন্য একটি ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্য নিয়ে আপত্তি না থাকলেও একজন প্রতিমন্ত্রীর প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযানে অংশ নেওয়া কতটা আইনসম্মত ও দায়িত্বশীল আচরণ, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ঘটনাস্থলে প্রতিমন্ত্রীর নিজস্ব নিয়োগ দেওয়া দুই দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলুর পাশাপাশি একজন সরকারি দেহরক্ষীও উপস্থিত ছিলেন। নিজস্ব নিয়োগ দেওয়া দেহরক্ষীদের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। ভিডিওর কিছু অংশে প্রতিমন্ত্রীর হাতে থাকা পিস্তল অস্পষ্ট করা হলেও অন্য অংশে অস্ত্রটি স্পষ্ট দেখা যায়। গুলি করার হুমকি দেওয়া ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আত্মরক্ষার যুক্তি ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে সমালোচনার মুখে রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিবৃতি দেন ইশরাক হোসেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। কর্মসূচিটি পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর বক্তব্য। ইশরাকের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়ার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারের অভিযোগ পেয়ে তিনি আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। জনবলসংকট দূর করা এবং মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগও নিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে সমস্যার সমাধান হয়নি। বিবৃতিতে তিনি আরও দাবি করেন, অভিযানের আগে তিনি জানতে পারেন, মাদক কারবারিরা ভবনের ছাদ থেকে গুলি চালাতে পারে। একটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানার কাছে পৌঁছানোর পর ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি হইচই করতে করতে তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় নিজের ও অন্যদের নিরাপত্তার জন্য তিনি এবং তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয় বলেও তিনি জানান। ইশরাকের দাবি, তাঁর হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত। আত্মরক্ষার জন্যই সেটি প্রদর্শন করা হয়েছিল এবং এতে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। তবে তাঁর বক্তব্যের এসব দিকের স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের আচরণ এবং অস্ত্র প্রদর্শনের পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে কতটা নিশ্চিত করা যায়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিযানের আগে পুলিশকে জানানো হয়েছিল? ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, অভিযানে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় করা হয়েছিল কি না। ইশরাকের দাবি, মাদকবিরোধী কর্মসূচিটি পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শনিবার ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, প্রতিমন্ত্রী আগে থেকে পুলিশকে বিষয়টি জানাননি। পরে তাঁরা অভিযানের কথা জানতে পারেন। ইশরাকও শনিবার সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রায় ১০ মিনিট পর পুলিশকে সেখানে আসতে বলেন তিনি। দুটি বক্তব্যের মধ্যে সমন্বয়ের প্রশ্ন রয়েছে। কর্মসূচি নিয়ে আগে আলোচনা হয়েছিল বলে প্রতিমন্ত্রী যে দাবি করেছেন, তা থেকে নির্দিষ্ট অভিযান সম্পর্কে পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। একইভাবে, পুলিশকে আগে না জানানোর বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপটও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। অস্ত্রধারী নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ে কোনো জনপ্রতিনিধির এমন অভিযানে যাওয়ার আগে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং আইনগত দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের নীতিমালায় কী বলা আছে? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদ নিয়ে এ ঘটনায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র বহন ও ব্যবহার করা গেলেও অন্যের মনে ভয় বা বিরক্তির সৃষ্টি হতে পারে—এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। এ কারণে অস্ত্রটির লাইসেন্স বৈধ কি না, তার পাশাপাশি কোন পরিস্থিতিতে অস্ত্রটি প্রদর্শন করা হয়েছিল, তা আত্মরক্ষার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না এবং প্রদর্শনের ধরন নীতিমালার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল কি না—এসব বিষয়ও প্রাসঙ্গিক। ইশরাক নিজের অস্ত্রের বৈধতা ও আত্মরক্ষার যুক্তি তুলে ধরেছেন। তবে অস্ত্রের লাইসেন্স বৈধ হওয়া এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অস্ত্র প্রদর্শন আইনসম্মত হওয়া এক বিষয় নয়। এ ক্ষেত্রে ঘটনার প্রেক্ষাপট, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও এবং প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। ডিএমপির তদন্ত, আইন লঙ্ঘন হলে ব্যবস্থা অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। রোববার ডিএমপির গণমাধ্যম কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের ফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাকে আইন লঙ্ঘন হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি কেবল আত্মরক্ষার দাবি বা বৈধ লাইসেন্সের উল্লেখের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে আইনসম্মত বলেও ধরে নেওয়া যায় না। ভিডিওতে দেখা কর্মকাণ্ড, অভিযানের উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা এবং পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের সময়—সবকিছু মিলিয়ে তদন্তের ফলই এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। অভিযানে কী পাওয়া গেছে, প্রতিমন্ত্রীর দাবি নিজের বিবৃতিতে ইশরাক দাবি করেন, অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেখান থেকে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, নগদ অর্থ ও ছিনতাই করা মুঠোফোন জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগ, এসব তথ্য উপেক্ষা করে কয়েকটি গণমাধ্যম ঘটনার খণ্ডিত চিত্র তুলে ধরেছে। তিনি মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথাও বলেছেন। তবে অভিযানে জব্দ করা সামগ্রীর তালিকা, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপ কিংবা সংশ্লিষ্ট মামলার তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো বিস্তারিত তথ্য এখানে পাওয়া যায়নি। ফলে জব্দ ও আটকের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে তাঁর দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন। মাদকবিরোধী অভিযানের সাফল্য মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু আটক বা জব্দের সংখ্যা নয়, বরং উদ্ধার করা সামগ্রীর নথিভুক্তি, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক অস্বস্তি ও জবাবদিহির প্রশ্ন ঘটনাটি বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি করেছে বলে সরকার ও দল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির এক সদস্য সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাটি শুধু ইশরাকের ব্যক্তিগত বিষয় হয়ে থাকেনি; প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদেরও বিব্রত করেছে। একজন প্রতিমন্ত্রীর আচরণের দায় মন্ত্রিসভাকেও নিতে হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর ১৩টি স্থানে আকস্মিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি আবাসিক এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সেবার মান নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেন তিনি। কোথাও পরিস্থিতির উন্নয়নে সময়সীমাও বেঁধে দেন। প্রধানমন্ত্রীর ওই পরিদর্শনের দিন বিকেলেই ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে। দল ও সরকার-সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের মতে, এতে প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন ঘিরে তৈরি হওয়া ইতিবাচক আলোচনা আড়ালে পড়ে যায়। এই প্রেক্ষাপটে প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবরকে কেউ কেউ সরকারের অভ্যন্তরে আচরণ ও জবাবদিহির প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের সম্ভাব্য বার্তা হিসেবে দেখেছেন। তবে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছে। তাই এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। গণমাধ্যমের দায়িত্ব ও তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পদত্যাগের খবরকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোকে খবর প্রত্যাহার করে সঠিক তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়। অন্যদিকে, পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এসব সূত্রের পরিচয়, বক্তব্যের নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ প্রকাশ্যে না থাকায় দাবিটি যাচাই করা কঠিন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাংবাদিকতার জন্য জরুরি হলো, অভিযোগ, সূত্রের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাল্টা বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যকে পৃথকভাবে উপস্থাপন করা। বিশেষত মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া সংবাদটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে সহায়ক। সামনে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রয়োজন গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের ঘটনাটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। প্রথমত, অভিযানের আগে পুলিশের সঙ্গে কী ধরনের সমন্বয় হয়েছিল? দ্বিতীয়ত, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা কতটা বাস্তব ছিল এবং অস্ত্র প্রদর্শনের পরিস্থিতি কী ছিল? তৃতীয়ত, অভিযানে জব্দ করা সামগ্রী ও আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে পুলিশের নথিতে কী তথ্য রয়েছে? চতুর্থত, ডিএমপির তদন্তে অস্ত্র ব্যবহারের নীতিমালা লঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় কি না? এর পাশাপাশি, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রকাশিত খবর এবং তাঁর দপ্তরের অস্বীকৃতির মধ্যকার বিরোধও স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে। মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কিন্তু সেই কাজের বৈধতা, পদ্ধতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একজন জনপ্রতিনিধি ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো অভিযানে অংশ নিলে তাঁর উদ্দেশ্যের পাশাপাশি অনুসৃত প্রক্রিয়াও জনস্বার্থে যাচাইযোগ্য হওয়া প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, ডিএমপি তদন্ত শুরু করেছে এবং পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর অস্বীকার করেছে। তদন্তের ফল ও সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে, ঘটনাটির আইনগত ও রাজনৈতিক পরিণতি কোন দিকে যায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৯, ২০২৬ 0

মুলাদী সরকারি কলেজে দুই ছাত্রীকে মারধর ও জুতাপেটার অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

বরিশালের ডেফুলিয়ায় জিয়াউর রহমানের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত ৫০ একর জমি বেহাতের অভিযোগ

বরিশালে সওজের কম্পিউটার অপারেটর ফারুকের কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তির তথ্য ফাঁস

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0